Category: লাইফস্টাইল

লাইফস্টাইল

  • এক টিকাতেই ভালো হবে সর্দি-কাশি

    এক টিকাতেই ভালো হবে সর্দি-কাশি

    সাধারণ সর্দি-জ্বর-কাশি বা শ্লেষ্মাজনিত কারণে হওয়া সারা বছরের চেনা ‘ফ্লু’ শীত বা বসন্ত এলেই কেমন বদলে যায়। চারিত্রিক বদল ঘটিয়ে অনেকের শরীরে হানা দেয় ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস। ফলে সর্দি-কাশির প্রকোপ তো বাড়েই, হাঁপানি বা সিওপিডির রোগীরাও প্রচণ্ড কষ্ট পান। কারও কারও তো এই রোগ রূপ নেয় নিউমোনিয়ার দিকে। তবে ফ্লুর এই বাড়বাড়ন্ত কমাতে একটিমাত্র ডোজের এমন এক টিকা তৈরির পথে আছেন মার্কিন বিজ্ঞানীরা, যা সব ধরনের কাশি, সর্দি ও ফ্লু-এর পাশাপাশি ফুসফুসের ব্যাকটেরিয়াঘটিত সংক্রমণ থেকেও সুরক্ষা দিতে পারে। শুধু তাই নয়, নাক দিয়ে টেনে নেওয়ার যোগ্য এই টিকা সাহায্য করতে পারে অ্যালার্জি উপশমেও।

    বিবিসি জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির একটি গবেষক দল এই টিকা উদ্ভাবন করেছেন। এই টিকাকে তারা বলছেন ‘ইউনিভার্সাল ভ্যাকসিন’ বা ‘সর্বজনীন টিকা’। এরই মধ্যে তারা টিকাটি অন্য প্রাণীদের ওপর পরীক্ষা করেছেন। তবে এখনও মানুষের ওপর ক্লিনিকাল ট্রায়াল বাকি আছে।

    অর্থাৎ গবেষণাটি এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে থাকলেও এটি সত্যিই উত্তেজনাপূর্ণ এবং বিরাট অগ্রগতি হতে পারে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।গবেষণা-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যে পদ্ধতিতে তারা এই সর্বজনীন টিকা তৈরি করেছেন তা গত দুইশ বছরেরও বেশি সময় ধরে টিকা যেভাবে তৈরি করা হয়েছে, সে ধারার আমূল ব্যতিক্রম। অষ্টাদশ শতকে এডওয়ার্ড জেনারের হাত ধরে যে টিকাদান পদ্ধতির সূচনা, সেখানে প্রতিটি টিকা শরীরকে একটি নির্দিষ্ট সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করার প্রশিক্ষণ দেয়। যেমন, হামের টিকা কেবল হাম থেকে রক্ষা করে। জলবসন্তের টিকা কেবল জলবসন্ত থেকে রক্ষা করে। কিন্তু নতুন পদ্ধতিতে তৈরি টিকাটি প্রচলিত পদ্ধতিতে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে প্রশিক্ষণ দেয় না, বরং রোগ প্রতিরোধ কোষগুলোর পারস্পরিক যোগাযোগের ধরন অনুকরণ করে। নতুন তৈরি টিকাটি নাকে স্প্রে হিসেবে দেওয়া হয়। এটি আমাদের ফুসফুসে শ্বেত রক্তকণিকা যাকে ম্যাক্রোফেজ বলা হয়, সেগুলোকে সতর্ক করে দেয় যাতে যে কোনো সংক্রমণ প্রবেশের চেষ্টা করলেই সেগুলোকে দ্রুত বাধা দেওয়া যায়। প্রাণীদের ওপর পরীক্ষায় এই টিকার প্রভাব প্রায় তিন মাস স্থায়ী ছিল।

    গবেষকরা আরও জানান, নতুন তৈরি টিকাটি প্রয়োগে বিভিন্ন প্রাণীর ফুসফুসে শ্বেত রক্তকণিকার উচ্চতর সতর্ক অবস্থা শ্বাসের মাধ্যমে শরীরে ভাইরাস প্রবেশের হার ১০০ থেকে হাজার গুণ কমিয়ে দিয়েছে।

  • নীরবে শরীরে বাসা বাঁধছে হেপাটাইটিস, সাবধান করলেন চিকিৎসক

    নীরবে শরীরে বাসা বাঁধছে হেপাটাইটিস, সাবধান করলেন চিকিৎসক

    আপনি হয়তো প্রতিদিনের মতো কাজ করছেন, স্বাভাবিক খাবার খাচ্ছেন, ঠিকঠাক ঘুমাচ্ছেন তবু অজান্তেই আপনার লিভার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কোনও ব্যথা নেই, জ্বর নেই, বড় কোনো উপসর্গও নেই। কিন্তু শরীরের ভেতরে নীরবে কাজ করে যাচ্ছে হেপাটাইটিস ভাইরাস। লক্ষণ প্রকাশ পেতে পেতে অনেক সময় দেরি হয়ে যায় তখন দেখা দেয় সিরোসিস, লিভার ফেইলিওর, এমনকি লিভার ক্যানসার।

    দেয়া সাক্ষাৎকারে মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসক ডা. সৌরদীপ চৌধুরী জানিয়েছেন, ভারতে হেপাটাইটিস বি ও সি–এর সংক্রমণ বড় জনস্বাস্থ্য সংকট হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই রোগটি নিয়ে মানুষ খুব কমই জানে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো অনেকেই জানেন না যে তারা সংক্রমিত। কারণ এই ভাইরাস বহু বছর সুপ্ত অবস্থায় থাকতে পারে। শরীরে বড় ধরনের ক্ষতি না হওয়া পর্যন্ত কোনো স্পষ্ট লক্ষণ নাও দেখা দিতে পারে।

    হেপাটাইটিস কীভাবে ছড়ায়

    হেপাটাইটিস বি ও সি সাধারণত ছড়ায়—

    • দূষিত সূঁচ বা সিরিঞ্জ ব্যবহারে
    • রক্ত সঞ্চালনের সময় স্ক্রিনিং না করা রক্তের মাধ্যমে
    • অপারেশন বা ডেন্টাল চিকিৎসায় অপরিষ্কার যন্ত্রপাতি ব্যবহারে
    • ট্যাটু বা পিয়ার্সিংয়ের সময় জীবাণুমুক্ত সরঞ্জাম ব্যবহার না করলে
    • মায়ের শরীর থেকে শিশুর মধ্যে

    একটি বড় ভুল ধারণা হলো একসঙ্গে খাওয়া, আলিঙ্গন, কাশি বা সাধারণ স্পর্শে হেপাটাইটিস ছড়ায়। চিকিৎসকদের মতে, এটি সম্পূর্ণ ভুল এবং এই ভ্রান্ত ধারণাই অযথা সামাজিক লজ্জা তৈরি করে।

    চিকিৎসা না নিলে যেসম সমস্যা হয়: চিকিৎসা ছাড়া দীর্ঘদিন হেপাটাইটিস বি বা সি থাকলে—

    • লিভারে ফাইব্রোসিস ও সিরোসিস হতে পারে
    • হেপাটোসেলুলার কার্সিনোমা (লিভার ক্যানসার) হতে পারে
    • লিভার ফেইলিওরের ঝুঁকি বাড়ে

    চিকিৎসা

    হেপাটাইটিস ভয়াবহ রোগ তবে এটা সঠিক সময়ে চিকিৎসা নিলে সুস্থ থাকা সম্ভব। হেপাটাইটিস সি এখন ওষুধে সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য ৮ থেকে ১২ সপ্তাহের ওরাল মেডিকেশনেই সেরে ওঠা সম্ভব। তবে শর্ত একটাই সময়মতো শনাক্ত করতে হবে। হেপাটাইটিস বি–এর ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা প্রয়োজন হতে পারে।

    ডা. সৌরদীপ চৌধুরীর মতে, টিবি বা এইচআইভির মতো দৃশ্যমান প্রচার না থাকায় হেপাটাইটিস নিয়ে সচেতনতা কম। নিয়মিত স্ক্রিনিংয়ের অভাব, সামাজিক কুসংস্কার ও ভুল ধারণার কারণে অনেকে পরীক্ষা করান না। অনেকেই ভাবেন শুধু মদ্যপানকারীদেরই লিভারের রোগ হয়, যা একেবারেই সঠিক নয়।

    বর্তমানে হেপাটাইটিস পরীক্ষা খুবই সহজ একটি সাধারণ রক্তপরীক্ষাই যথেষ্ট। খরচও তুলনামূলক কম। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জীবনে কখনো ইনজেকশন, অপারেশন, রক্ত সঞ্চালন বা বড় কোনো চিকিৎসা পদ্ধতির মধ্যে দিয়ে গেলে অন্তত একবার হেপাটাইটিস পরীক্ষা করানো উচিত। হেপাটাইটিস বি প্রতিরোধে ভ্যাকসিন রয়েছে। আর হেপাটাইটিস সি নিরাময়যোগ্য তাই দেরি না করে পরীক্ষা করাই বুদ্ধিমানের কাজ।

    হেপাটাইটিস নীরব ঘাতক। লক্ষণ না থাকলেও এটি ধীরে ধীরে লিভারকে ধ্বংস করতে পারে। তাই সুস্থ অনুভব করলেই যে সব ঠিক আছে এমনটা ধরে নেয়া বিপজ্জনক। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, সচেতনতা এবং সঠিক চিকিৎসাই পারে এই নীরব সংকট থেকে রক্ষা করতে। হেপাটাইটিস বি প্রতিরোধে ভ্যাকসিন নেয়াও গুরুত্বপূর্ণ।

  • পায়খানায় এই ৪টি লক্ষণ দেখলেই সতর্ক হোন, হতে পারে কোলোরেক্টাল ক্যান্সার!

    পায়খানায় এই ৪টি লক্ষণ দেখলেই সতর্ক হোন, হতে পারে কোলোরেক্টাল ক্যান্সার!

    কোলোরেক্টাল ক্যান্সার এখন বিশ্বব্যাপী দ্রুত বাড়তে থাকা এক জনস্বাস্থ্য সংকট। শুধু বয়স্ক নয়, তরুণদের মধ্যেও এ রোগের আক্রান্তের হার উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। সমস্যাটি আরও জটিল হয় কারণ শুরুর পর্যায়ে এই ক্যান্সার সাধারণত নিঃশব্দে থাকে, কিংবা এমন কিছু হজমজনিত পরিবর্তন দেখা দেয় যা সহজেই অন্য সাধারণ অসুস্থতার সঙ্গে মিলে যায়। জেএএমএ নেটওয়ার্ক–এ প্রকাশিত গবেষণায় দেখা যায়, কিছু উপসর্গ বিশেষভাবে প্রাথমিক পর্যায়ের কোলোরেক্টাল ক্যান্সারের সঙ্গে সম্পর্কিত।

    নিচে এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংকেত তুলে ধরা হলো, যেগুলো মলের মাধ্যমেই শরীর আগে থেকেই জানান দেয়।

    কেন আগেভাগে শনাক্ত করা এত গুরুত্বপূর্ণ?

    আমেরিকান ক্যান্সার সোসাইটির তথ্যে দেখা যায়, কোলোরেক্টাল ক্যান্সার যদি রোগ ছড়িয়ে পড়ার আগেই ধরা পড়ে, তাহলে ৫ বছরের সার্ভাইভাল রেট প্রায় ৯০ শতাংশ। কিন্তু রোগ ছড়িয়ে পড়লে এ হার কমে দাঁড়ায় আঞ্চলিক পর্যায়ে প্রায় ৭৩ শতাংশ এবং দূরবর্তী অঙ্গ আক্রান্ত হলে মাত্র ১৩ শতাংশে নেমে আসে।

    অর্থাৎ সময়ের আগেই শনাক্ত করতে পারলেই চিকিৎসা সফলতার সম্ভাবনা বহুগুণ বাড়ে এবং সম্পূর্ণ সেরে ওঠার সুযোগও তৈরি হয়।

    মলে দেখা দিলে যেগুলো হতে পারে কোলোরেক্টাল ক্যান্সারের প্রাথমিক সংকেত
    ১. পেন্সিলের মতো সরু বা ফিতা-আকৃতির মল

    হঠাৎ এবং স্থায়ীভাবে মল সরু, ফিতার মতো বা পেন্সিলের মতো পাতলা হয়ে গেলে তা সতর্কতার কারণ। আমেরিকান ক্যান্সার সোসাইটি জানায়, কয়েক দিনের বেশি এমন পরিবর্তন থাকলে তা অন্ত্রের ভেতরে টিউমারের কারণে পথ সংকুচিত হওয়ার ইঙ্গিত হতে পারে। মেও ক্লিনিকের তথ্যমতে, কোলন বা রেকটামের ভেতর দেয়ালে টিউমার বড় হতে থাকলে মলের স্বাভাবিক পথ সঙ্কুচিত হয়, ফলে মল স্বাভাবিক আকৃতি হারায়।

    ২. মলে অতিরিক্ত শ্লেষ্মা

    অন্ত্র স্বাভাবিকভাবেই অল্প পরিমাণ শ্লেষ্মা উৎপন্ন করে যা কোলনের ভেতরকার অংশ লুব্রিকেট করতে সাহায্য করে। কিন্তু মলে চোখে পড়ার মতো পরিমাণে শ্লেষ্মা দেখা গেলে তা অন্ত্রের সমস্যার সংকেত হতে পারে। এনসিবিআই এর মেডিকেল নির্দেশনায় বলা হয়েছে, মলদ্বার দিয়ে রক্তপাত বা অতিরিক্ত শ্লেষ্মা নিঃসরণ হতে থাকলে তা গুরুত্ব দিয়ে পর্যবেক্ষণ করা উচিত।

    ৩. মলে রক্ত

    উজ্জ্বল লাল বা গাঢ় তারের মতো রক্ত উভয়ই কোলোরেক্টাল ক্যান্সারের অন্যতম প্রাথমিক উপসর্গ। গবেষণা বলছে, প্রাথমিক পর্যায়ের ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ রোগীর ক্ষেত্রেই কোনো না কোনোভাবে রেকটাল ব্লিডিং দেখা যায়।

    হেমোরয়েড, অ্যানাল ফিশার বা হজমজনিত সংক্রমণের কারণেও রক্ত দেখা দিতে পারে, তবে রক্তপাত যদি বারবার ঘটে বা অন্য সতর্ক লক্ষণও দেখা দেয়, তবে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

    ৪. দীর্ঘদিনের ডায়রিয়া বা কোষ্ঠকাঠিন্য

    বারবার ডায়রিয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য, বা কখনো ডায়রিয়া আবার কখনো কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো পরিবর্তন কোলোরেক্টাল ক্যান্সারের শুরুতে দেখা দিতে পারে। মোফিট ক্যান্সার সেন্টারের তথ্যমতে, বিশেষ করে ৫০ বছরের বেশি বয়সী ব্যক্তিদের এ ধরনের স্থায়ী মলত্যাগের পরিবর্তনকে আরও গুরুত্বসহকারে দেখা প্রয়োজন।

    যদিও খাদ্যাভ্যাস, সংক্রমণ বা আইবিএস অনেক বেশি সাধারণ কারণ, তবুও উপসর্গ দীর্ঘস্থায়ী হলে কোলোনোস্কোপির মতো পরীক্ষার প্রয়োজন হয়।

    তরুণদের মধ্যেও বাড়ছে কোলন ক্যান্সারের ঝুঁকি

    দ্য লানসেট অনকোলজি–তে প্রকাশিত বড় ধরনের গবেষণায় দেখা গেছে, ২৫ থেকে ৪৯ বছর বয়সী মানুষের মধ্যে ৫০টি দেশের মধ্যে অন্তত ২৭টি দেশে প্রাথমিক পর্যায়ের কোলোরেক্টাল ক্যান্সারের হার বাড়ছে। জীবনযাপনও এই ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে। এমডিপিআই এর গবেষণায় বলা হয়েছে, অল্প বয়সে অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ, অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়া এবং স্থূলতা প্রধান ঝুঁকির কারণ হিসেবে উঠে এসেছে। গবেষকদের আশঙ্কা, খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন, শারীরিক কার্যক্রম কমে যাওয়া এবং মেটাবলিক রোগ বাড়তে থাকলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সচেতনতা, আগেভাগে স্ক্রিনিং এবং জীবনযাপনে পরিবর্তন আনলেই এই ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।

    মলে ছোট ছোট পরিবর্তনও অনেক সময় বড় রোগের বার্তা দেয়। অবহেলা না করে সতর্ক থাকা, নিয়মিত স্বাস্থ্যপরীক্ষা করা এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়াই কোলোরেক্টাল ক্যান্সার প্রতিরোধ ও প্রাথমিক শনাক্তকরণের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

  • পানি পানের পরপরই প্রস্রাব অনুভব হয়? সতর্ক করে যা বললেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক

    পানি পানের পরপরই প্রস্রাব অনুভব হয়? সতর্ক করে যা বললেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক

    পানি পানের কিছুক্ষণের মধ্যেই কারও কারও প্রস্রাবের তাগিদ মনে হয়। বিষয়টি খুবই স্বাভাবিক ভেবে অনেকেই এড়িয়ে যান। পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পানের পর প্রস্রাব হওয়া স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। বিশেষ করে শরীর যদি পানিশূন্য থাকে বা হঠাৎ করে একসঙ্গে বেশি পানি পান করতে হয়, তাহলে কিডনি দ্রুত শরীর থেকে অতিরিক্ত পানি বের করে দিতে চায়।

    এ ক্ষেত্রে ঠিক তখনই সমস্যা দেখা দেয়, যখন অল্প পরিমাণ পানি পানের পরও ঘনঘন প্রস্রাবের তাগিদ জাগে। এমনকি কখনো কখনো এটি নিয়মিত ঘটতে থাকে। কেন এ ধরনের সমস্যা হয়, এ ব্যাপারে ভারতীয় একটি  সঙ্গে কথা বলেছেন দেশটির থানের কিমস হাসপাতালের কনসালট্যান্ট ইউরোলজিস্ট ডা. আকিল খান।

    ডা. আকিল খান জানিয়ছেন, এ ধরনের লক্ষণ অনেক সময় মূত্রাশয় বা মূত্রতন্ত্রের অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়ার ইঙ্গিত দিয়ে থাকে। যা কখনোই অবহেলা করা ঠিক নয়। বরং এসব খতিয়ে দেখা উচিত। এই চিকিৎসকের মতে―অতিরিক্ত সক্রিয় মূত্রাশয় এ সমস্যার একটি সাধারণ কারণ। এ অবস্থায় মূত্রাশয়ের পেশিগুলো স্বাভাবিকের তুলনায় অতিরিক্ত সংকুচিত হয়। এ কারণে মূত্রাশয় পুরোপুরি না ভরলেও প্রস্রাব করার তাগিদ দেয়।

    এছাড়া মূত্রনালীর সংক্রমণ বা ইউটিআই হলে প্রস্রাব করার সময় জ্বালা, অস্বস্তি ও ঘনঘন বাথরুমে যাওয়ার মতো অনুভূতি হয়। কখনো কখনো প্রস্রাবের পরও মূত্রাশয় খালি হয়নি মনে হয়। ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় যেমন- চা, কফি কিংবা ফিজি ড্রিঙ্কস মূত্রাশয়কে উত্তেজিত করে সমস্যা তীব্র করতে পারে। একইভাবে অ্যালকোহলও মূত্রাশয়ের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।

    এ চিকিৎসক আরও জানিয়েছেন, অনিয়ন্ত্রিত রক্তে শর্করার মাত্রা ঘন ঘন প্রস্রাবের অন্যতম একটি কারণ। ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের শরীর অতিরিক্ত শর্করা বের করে দেয়ায় অতিরিক্ত প্রস্রাব তৈরি হয়। এতে পানি পানের পরপরই প্রস্রাবের অনুভব হয়। মানসিক চাপ ও উদ্বেগের সঙ্গেও সংশ্লিষ্ট এই সমস্যা। দীর্ঘদিন ধরে মানসিক চাপে থাকা হলে মূত্রাশয় অতিরিক্ত সংবেদনশীল হয় এবং প্রস্রাব কম থাকলেও বেশ চাপ অনুভব হয়ে থাকে।

    ডা. আকিল খান ব্যাখ্যা করেন, হঠাৎ খুব বেশি পানি পান করলে মূত্রাশয়ের ওপর চাপ সৃষ্টি হয়। এ সময় কিডনি শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য দ্রুত কাজ করে এবং অতিরিক্ত পানি নিঃসরণ করে। এ জন্য সারাদিন অল্প অল্প করে নিয়মিত বিরতি নিয়ে পানি পান করলে সমস্যা খানিকটা কমে। তবে কিছু লক্ষণ আছে, যেসব কখনো হালকাভাবে নেয়া ঠিক নয়। ঘনঘন প্রস্রাবের সঙ্গে যদি ব্যথা বা জ্বালাপোড়া হয়, প্রস্রাবে রক্ত আসে, তলপেটে অস্বস্তি থাকে বা জ্বর আসে, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। ঘুমের মধ্যে বারবার প্রস্রাব অনুভব হওয়াও একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত। এটি সংক্রমণ, মূত্রাশয়ের প্রদাহ, পুরুষদের ক্ষেত্রে প্রোস্টেট সমস্যা বা ডায়াবেটিসের মতো বিপাকীয় রোগের কারণ হতে পারে। এ ক্ষেত্রে অবশ্যই চিকিৎসকের দ্বারস্থ হতে হবে।