পানি পানের পরপরই প্রস্রাব অনুভব হয়? সতর্ক করে যা বললেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক

পানি পানের কিছুক্ষণের মধ্যেই কারও কারও প্রস্রাবের তাগিদ মনে হয়। বিষয়টি খুবই স্বাভাবিক ভেবে অনেকেই এড়িয়ে যান। পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পানের পর প্রস্রাব হওয়া স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। বিশেষ করে শরীর যদি পানিশূন্য থাকে বা হঠাৎ করে একসঙ্গে বেশি পানি পান করতে হয়, তাহলে কিডনি দ্রুত শরীর থেকে অতিরিক্ত পানি বের করে দিতে চায়।

এ ক্ষেত্রে ঠিক তখনই সমস্যা দেখা দেয়, যখন অল্প পরিমাণ পানি পানের পরও ঘনঘন প্রস্রাবের তাগিদ জাগে। এমনকি কখনো কখনো এটি নিয়মিত ঘটতে থাকে। কেন এ ধরনের সমস্যা হয়, এ ব্যাপারে ভারতীয় একটি  সঙ্গে কথা বলেছেন দেশটির থানের কিমস হাসপাতালের কনসালট্যান্ট ইউরোলজিস্ট ডা. আকিল খান।

ডা. আকিল খান জানিয়ছেন, এ ধরনের লক্ষণ অনেক সময় মূত্রাশয় বা মূত্রতন্ত্রের অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়ার ইঙ্গিত দিয়ে থাকে। যা কখনোই অবহেলা করা ঠিক নয়। বরং এসব খতিয়ে দেখা উচিত। এই চিকিৎসকের মতে―অতিরিক্ত সক্রিয় মূত্রাশয় এ সমস্যার একটি সাধারণ কারণ। এ অবস্থায় মূত্রাশয়ের পেশিগুলো স্বাভাবিকের তুলনায় অতিরিক্ত সংকুচিত হয়। এ কারণে মূত্রাশয় পুরোপুরি না ভরলেও প্রস্রাব করার তাগিদ দেয়।

এছাড়া মূত্রনালীর সংক্রমণ বা ইউটিআই হলে প্রস্রাব করার সময় জ্বালা, অস্বস্তি ও ঘনঘন বাথরুমে যাওয়ার মতো অনুভূতি হয়। কখনো কখনো প্রস্রাবের পরও মূত্রাশয় খালি হয়নি মনে হয়। ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় যেমন- চা, কফি কিংবা ফিজি ড্রিঙ্কস মূত্রাশয়কে উত্তেজিত করে সমস্যা তীব্র করতে পারে। একইভাবে অ্যালকোহলও মূত্রাশয়ের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।

এ চিকিৎসক আরও জানিয়েছেন, অনিয়ন্ত্রিত রক্তে শর্করার মাত্রা ঘন ঘন প্রস্রাবের অন্যতম একটি কারণ। ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের শরীর অতিরিক্ত শর্করা বের করে দেয়ায় অতিরিক্ত প্রস্রাব তৈরি হয়। এতে পানি পানের পরপরই প্রস্রাবের অনুভব হয়। মানসিক চাপ ও উদ্বেগের সঙ্গেও সংশ্লিষ্ট এই সমস্যা। দীর্ঘদিন ধরে মানসিক চাপে থাকা হলে মূত্রাশয় অতিরিক্ত সংবেদনশীল হয় এবং প্রস্রাব কম থাকলেও বেশ চাপ অনুভব হয়ে থাকে।

ডা. আকিল খান ব্যাখ্যা করেন, হঠাৎ খুব বেশি পানি পান করলে মূত্রাশয়ের ওপর চাপ সৃষ্টি হয়। এ সময় কিডনি শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য দ্রুত কাজ করে এবং অতিরিক্ত পানি নিঃসরণ করে। এ জন্য সারাদিন অল্প অল্প করে নিয়মিত বিরতি নিয়ে পানি পান করলে সমস্যা খানিকটা কমে। তবে কিছু লক্ষণ আছে, যেসব কখনো হালকাভাবে নেয়া ঠিক নয়। ঘনঘন প্রস্রাবের সঙ্গে যদি ব্যথা বা জ্বালাপোড়া হয়, প্রস্রাবে রক্ত আসে, তলপেটে অস্বস্তি থাকে বা জ্বর আসে, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। ঘুমের মধ্যে বারবার প্রস্রাব অনুভব হওয়াও একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত। এটি সংক্রমণ, মূত্রাশয়ের প্রদাহ, পুরুষদের ক্ষেত্রে প্রোস্টেট সমস্যা বা ডায়াবেটিসের মতো বিপাকীয় রোগের কারণ হতে পারে। এ ক্ষেত্রে অবশ্যই চিকিৎসকের দ্বারস্থ হতে হবে।