বিবিসি জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির একটি গবেষক দল এই টিকা উদ্ভাবন করেছেন। এই টিকাকে তারা বলছেন ‘ইউনিভার্সাল ভ্যাকসিন’ বা ‘সর্বজনীন টিকা’। এরই মধ্যে তারা টিকাটি অন্য প্রাণীদের ওপর পরীক্ষা করেছেন। তবে এখনও মানুষের ওপর ক্লিনিকাল ট্রায়াল বাকি আছে।
অর্থাৎ গবেষণাটি এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে থাকলেও এটি সত্যিই উত্তেজনাপূর্ণ এবং বিরাট অগ্রগতি হতে পারে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।গবেষণা-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যে পদ্ধতিতে তারা এই সর্বজনীন টিকা তৈরি করেছেন তা গত দুইশ বছরেরও বেশি সময় ধরে টিকা যেভাবে তৈরি করা হয়েছে, সে ধারার আমূল ব্যতিক্রম। অষ্টাদশ শতকে এডওয়ার্ড জেনারের হাত ধরে যে টিকাদান পদ্ধতির সূচনা, সেখানে প্রতিটি টিকা শরীরকে একটি নির্দিষ্ট সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করার প্রশিক্ষণ দেয়। যেমন, হামের টিকা কেবল হাম থেকে রক্ষা করে। জলবসন্তের টিকা কেবল জলবসন্ত থেকে রক্ষা করে। কিন্তু নতুন পদ্ধতিতে তৈরি টিকাটি প্রচলিত পদ্ধতিতে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে প্রশিক্ষণ দেয় না, বরং রোগ প্রতিরোধ কোষগুলোর পারস্পরিক যোগাযোগের ধরন অনুকরণ করে। নতুন তৈরি টিকাটি নাকে স্প্রে হিসেবে দেওয়া হয়। এটি আমাদের ফুসফুসে শ্বেত রক্তকণিকা যাকে ম্যাক্রোফেজ বলা হয়, সেগুলোকে সতর্ক করে দেয় যাতে যে কোনো সংক্রমণ প্রবেশের চেষ্টা করলেই সেগুলোকে দ্রুত বাধা দেওয়া যায়। প্রাণীদের ওপর পরীক্ষায় এই টিকার প্রভাব প্রায় তিন মাস স্থায়ী ছিল।
গবেষকরা আরও জানান, নতুন তৈরি টিকাটি প্রয়োগে বিভিন্ন প্রাণীর ফুসফুসে শ্বেত রক্তকণিকার উচ্চতর সতর্ক অবস্থা শ্বাসের মাধ্যমে শরীরে ভাইরাস প্রবেশের হার ১০০ থেকে হাজার গুণ কমিয়ে দিয়েছে।