Category: সারাদেশ

সারাদেশ

  • সমুচা আনতে ভুলে যাওয়ায় বিচার বসিয়ে স্বামীকে মারধর, অতঃপর…

    সমুচা আনতে ভুলে যাওয়ায় বিচার বসিয়ে স্বামীকে মারধর, অতঃপর…

    স্ত্রীর আবদার অনুযায়ী সমুচা আনতে ভুলে যাওয়ায় মারধরের শিকার হয়েছেন এক স্বামী। তুচ্ছ এক ঘটনা থেকে সৃষ্ট পারিবারিক বিরোধ নাটকীয়ভাবে গড়িয়েছে গ্রাম্য সংঘর্ষ পর্যন্ত।

    চাঞ্চল্যকর এ ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের উত্তর প্রদেশে। বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে এনডিটিভি।

    ভারতীয় সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, সংঘর্ষের পর আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ছাড়া, স্বামীকে মারধর করা স্ত্রীর পরিবারের চার সদস্যের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগও আনা হয়েছে।

    স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, ৩০ আগস্ট উত্তর প্রদেশের সেহরাপুরের বাসিন্দা শিবম তার স্ত্রী সঙ্গীতার জন্য সমুচা আনতে ভুলে যান। সামান্য এ ব্যাপারটি নিয়ে শুরু হওয়া তর্ক-বিতর্ক দ্রুতই ধারণ করে তীব্র আকার।

    পরের দিন সঙ্গীতা তার বাবা-মা এবং তার মামাকে স্বামীর বাড়ি ডেকে পাঠায়। ৩১ আগস্ট প্রাক্তন গ্রামপ্রধান অবধেশ শর্মার উপস্থিতিতে একটি সালিশ ডাকা হয়। কিন্তু সালিশটি সহিংস হয়ে ওঠে। এক পর্যায়ে স্ত্রী ও তার আত্মীয়রা শিবমকে মারধর করেন। এর জেরে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে দুইপক্ষ। এতে শিবমের পরিবারের সদস্যরাও আহত হন।

     

    এদিকে এ ঘটনায় শিবমের মা বিজয় কুমারী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। কর্তৃপক্ষ ভারতীয় আইনের ‘ন্যায় সংহিতা’র প্রাসঙ্গিক ধারায় এফআইআর নথিভুক্ত করে, যার মধ্যে হত্যাচেষ্টার অভিযোগও রয়েছে।

    এদিকে সালিশে হামলার একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, ভুক্তভোগী স্বামী ও তার পরিবারের সদস্যদের মারধর করা হচ্ছে।

     

     

  • বাসর রাত তাই চিৎকার করেনি ফুলি, র”ক্তক্ষরণেই মৃ”ত্যু

    বাসর রাত তাই চিৎকার করেনি ফুলি, র”ক্তক্ষরণেই মৃ”ত্যু

    সময় রাত ২টা ৪৫ মিনিট। ডিউটি ডাক্তার সবে মাত্র বিশ্রাম নেয়ার জন্য ঘুম ঘুম চোখে বিছানায়। ইমারজেন্সি থেকে কল আসল। চোখের পাতায় ঘুম ঠেসে, ইমারজেন্সিতে এসে চমকে যাওয়ার মত অবস্থা। মহিলা রোগী, পরনের চাদর রক্তে ভেজা। মুখের রঙ ফ্যাকাসে, সাদা। কাপড় দেখেই বোঝা যাচ্ছে নতুন বিয়ে হয়েছে।

    রোগীর নাম ফুলি (ছদ্দ নাম)। হিস্ট্রি নেয়ার জন্য ডাক্তার জানতে চাইল, কি হয়েছে? রোগীর সাথে সদ্য বিবাহিত জামাই, জা এবং আরও ৪/৫ জন এসেছে।

    ডাক্তারের প্রশ্ন শুনেই রোগীর বর চোরের মত, রুম থেকে বের হয়ে গেল। রোগীর সঙ্গে আসা এক মহিলা তেজের সাথে বলল, ‘ডাক্তার হইছেন, বুঝেন না কেরে, সব বলতে হইবো। ওদের গ্রামে গাছের মাথায় বাধা মাইকটিতে একটির পর একটি বিয়ের গান বেজে চলছে। বিয়ে বাড়িতে সবাই ব্যস্ত। বর পক্ষের যারা এসেছে, কথা বার্তায় অভিজাত ও ব্যক্তিত্ব দেখানোর চেষ্টায় ব্যস্ত। দর কষাকষি করার পরে, কনে পক্ষ থেকে যৌতুক হিসেবে যা পাওয়া গেছে, তা নেহাতই কম নয়।
    কিন্তু কম হয়ে গেছে কনের বয়স। বাচ্চা মেয়ে, নাম ফুলি বেগম, সবে মাত্র ১৪ পেরিয়ে ১৫ বছরে পড়েছে। মেয়ের বাবাও মোটামুটি ভাবে লাল শাড়ি পড়িয়ে মেয়েকে বিদায় দিতে পেরে খুশি। মেয়ে হলে তো বিদায় দিতেই হবে। ক্লাস সেভেন পর্যন্ত মেয়েকে পড়িয়েছে। কম কি! তাছাড়া, শোনা যাচ্ছে ছেলেও নাকি ভাল।

    বাড়ির উঠোনে বসে মুখে পান চিবোতে চিবোতে ছেলের মামা বলল, ‘এমন ছেলে কোথায় পাবেন মিয়া। তাছাড়া, ছেলে মানুষের একটু দোষ থাকলেও সমস্যা নেই, বিয়ের পর ঠিক হয়ে যাবে। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে মেয়েকে নিয়ে আসা হল তার নতুন ঘরে। যে মেয়েটি সবে মাত্র জীবনের সংজ্ঞা শিখতে শুরু করেছে, শৈশব থেকে কৈশোরে পা রাখতে যাচ্ছে, কিছু বুঝে ওঠার আগেই, তার আজ বাসর রাত।

    পুরুষতান্ত্রিক এই সমাজে সতীত্ব যাচাই করার উৎসব। আর বিয়ে তো একটি সামাজিক বৈধতা মাত্র। সমাজ অনেক এগিয়েছে ঠিকই, কিন্তু বিয়ের সময় মেয়ের মতামতটা এখনও গৌন। মেয়ের যদি মতামত না নেওয়া হয় বা পরিবারের কারও ধমকে মতামত দানের পর বিয়ে হয়, তাহলে তাকে ধর্ষণ না বলে উপায় নেই। ফুলির ইচ্ছে করছে, চিৎকার করতে, কিন্তু বাসর ঘরে চিৎকার করা যে উচিত নয়, এতটুকু বুঝতে শিখেছে ফুলি। হাত পা ছুঁড়ে বরের লালসার যজ্ঞ থেকে বেরিয়ে আসার মিথ্যে চেষ্টা।
    সমাজ বিধীত ‘বর’, যখন আদিম পশুত্ব থেকে বাসস্তবে ফিরে আসে, তখন ফুলি রক্তে ভেজা। তখনও ফিনকির মত রক্ত যাচ্ছে। ক্রমান্বয়ে সাদা ফাক্যাসে হয়ে আসছে মুখের রঙ! ফুলি এখন হাসপাতালের বেডে অচেতন হয়ে শুয়ে আছে। তাকে যখন হাসপাতালে নিয়ে আসা হচ্ছে, ফুলির চোখ পড়েছিল শ্বশুরবাড়ির লোকজনের ওপর। তারা যে কানাকানি করে কথা বলছিল, ব্যাঙ্গাত্তক হাসি তামাশা করছিল।

    যেন সব দোষ ফুলির। লজ্জায় কারও দিকে তাকাতেও ভয় করে। তারপর ইঞ্জিন চালিত গাড়ীর প্রচন্ড শব্দ। আরও এলোমেলো কিছু মুহূর্ত। কিছুক্ষণ পর, সাদা এপ্রোন পড়া একজন ডাক্তার এসে তার হাত ধরেছে। মনে আছে শুধু এটুকুই। ডাক্তার নার্সকে সাথে নিয়ে, ফুলি বেগমকে পরীক্ষা করলেন। ভয়াবহ রকমের পেরিনিয়াল টিয়ার (যৌনাঙ্গ ও তার আশ পাশ ছিঁড়ে গেছে)। তখনও রক্ত যাচ্ছে প্রচুর। হাতে পালস দেখা হল। খুবই কম। জরুরি ভিক্তিতে রোগীকে রক্ত দেয়া দরকার। জরুরি অবস্থায় অপারেশন করে ছিঁড়ে যাওয়া অংশ ঠিক করতে হবে। এই ভয়াবহ সংকটাপন্ন রোগীকে নিয়ে হিমসিম খাওয়ার অবস্থা কর্তব্যরত ডাক্তারের। ম্যাডামকে ফোন করা হল…
    সকালে রোগীর শ্বশুরবাড়ির লোক সবাই উধাও। ফুলির বাবা আসলেন সেই ভোরে, রক্ত জোগাড় হল কোন রকমে। ছয়দিন পর, রোগীর সেপ্টিসেমিয়া ডেভলপ করলো। ইনফেকশন রক্তে ছড়িয়ে গেছে। ভাল অ্যান্টিবায়োটিক দরকার।

    রোগীর বাবা এসে বললেন, তারা আর খরচ চালাতে পারবেন না। ডাক্তার পরামর্শ দিলেন, কোন সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করাতে, তাহলে ঔষুধ কেনার খরচ কিছুটা বাচবে। কিন্তু, হাসপাতাল মানে তো, কাজকর্ম রেখে একজনকে রোগীর পাশে থাকতে হবে। রিলিজ দিয়ে বাসায় নিয়ে যেতে চাচ্ছেন, যা হবার হবে। রিলিজ নিয়ে ফুলিকে বাসায় নেয়া হল।

    আরও বেশি অসুস্থ হওয়ায় চারদিন পরে আবার হাসপাতালে ভর্তি করা হল। পরদিন ভোর ভোর সময়। একবার চোখ খুলে আবার বন্ধ করলো ফুলি। সেই বন্ধ শেষ বন্ধ। এই সমাজের প্রতি ঘৃনায় চোখ জ্বল জ্বল করছিল কি না কেউ দেখতে পারেনি। ভোরের স্বল্প আলোয় বিদায় জানালো জীবনের নিষ্ঠুরতাকে। ফুলি ‘একিউট রেনাল ফেইলরে’ মারা গেছে।

    ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে ডায়ালাইসিসের জন্য বলা হয়েছিল, তারা রোগী নিয়ে এত ঝামেলা করতে পারবে না। শ্বশুরবাড়ি থেকে সেই বাসর রাতের পর, কেউ আসেনি। তাদেরই বা এত চিন্তা কি, একটা বউ মরলে দশটা বউ পাওয়া যায়!

    ফুলি একা নয়, এ রকম ঘটনা প্রায়ই দেখা যায়।

    এই ঘটনা গুলো চক্ষু লজ্জার ভয়ে প্রকাশ হয় না। কিন্তু সচেতনতা জরুরি।

  • স্ত্রীকে ১৭ টুকরো করে শহরের নানা জায়গায় ফেলেন

    স্ত্রীকে ১৭ টুকরো করে শহরের নানা জায়গায় ফেলেন

    স্ত্রীকে খুনের পর তার দেহ ১৭ টুকরো করে শহরের বিভিন্ন প্রান্তে ফেলে দেন স্বামী। ভারতের মহারাষ্ট্রের ভিওয়ানিতে এমনই একটি ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে।

    শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) ভারতীয় গণমাধ্যম আনন্দবাজার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করেছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। কিন্তু ওই ব্যক্তি কেন স্ত্রীকে খুন করলেন, তা এখনও স্পষ্ট নয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

     

    পুলিশ সূত্রে খবর, গত কয়েক দিন ধরেই শহরের নানা প্রান্ত থেকে দেহাংশ উদ্ধারের খবর আসছিল। কোথাও হাত, কোথাও পা, কোথাও কোমরের অংশ— এভাবে গত কয়েক দিন ধরেই নানা জায়গা থেকে দেহাংশ উদ্ধারের খবর পাচ্ছিল পুলিশ। ‘সিরিয়াল কিলার’-এর তত্ত্বও ঘোরাফেরা করতে শুরু করে। ফলে শহরে আতঙ্কও বাড়ছিল।

    গত ৩০ আগস্ট দেহাংশ উদ্ধার হওয়ার প্রথম খবর আসে পুলিশের কাছে। একটি কসাইখানার কাছ থেকে এক মহিলার কাটা মাথা উদ্ধার হয়। সমস্ত থানাগুলোকে সতর্ক করা হয়। কোথাও কোনো নিখোঁজ ডায়েরি হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হয়। তখন জানা যায়, ভৈওয়াড়া থানা এলাকায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি হয়েছে। এক মহিলা তার কন্যার নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ দায়ের করেছেন। সেই সূত্র ধরে খুন হওয়া মহিলার পরিচয় জানতে পারে পুলিশ। তার পরই মহিলার স্বামীকে আটক করা হয়।

     

    জিজ্ঞাসাবাদের সময় অভিযুক্ত খুনের কথা স্বীকার করেছেন বলে তদন্তকারীদের দাবি। অভিযুক্তের নাম তহ্বা। তার স্ত্রী মুস্কান মহম্মদকে খুনের অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ জানতে পেরেছে, মুস্কানকে খুনের পর তার দেহ ১৭ টুকরো করে ফেলে দেন তহ্বা।

     

     

     

  • স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করায় যে কাণ্ড করলেন স্ত্রী

    স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করায় যে কাণ্ড করলেন স্ত্রী

    নরসিংদীর শিবপুরে দ্বিতীয় বিয়ে করায় মো. হাসান মোল্লা (২৮) নামে এক ব্যক্তির পুরুষাঙ্গ কেটে ফেলেছেন প্রথম স্ত্রী।

    মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে শিবপুর উপজেলার পুটিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম মুনসেফেরচর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।

    আহত হাসান মোল্লা (২৮) ওই গ্রামের শফিজ উদ্দিন মোল্লার পুত্র।

    জানা যায়, হাসান মোল্লা স্ত্রীর অনুমতি ব্যতীত দ্বিতীয় বিয়ে করার কারণে তার ওপর ক্ষিপ্ত ছিলেন প্রথম স্ত্রী তানিয়া আক্তার (২৫)। হাসান মোল্লা পেশায় একজন ট্রাক ড্রাইভার। ডিউটি শেষে সকালে বাড়িতে এসে ঘুমিয়ে পড়লে তার স্ত্রী তানিয়া কৌশলে তার পুরুষাঙ্গ কেটে ফেলেন। এ সময় তার চিৎকারে শুনে প্রতিবেশীরা তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় অভিযুক্তকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে এলাকাবাসী।

    শিবপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আফজাল হোসাইন বলেন, অভিযুক্ত নারী পুলিশের হেফাজতে আছে, লিখিত অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।