Category: লাইফস্টাইল

লাইফস্টাইল

  • বিদ্যুৎ বিল বেশি আসে কি না, নিজেই যেভাবে যাচাই করবেন

    বিদ্যুৎ বিল বেশি আসে কি না, নিজেই যেভাবে যাচাই করবেন

    বর্তমানে অনেকেই অভিযোগ করছেন যে বিদ্যুৎ ব্যবহার স্বাভাবিক থাকা সত্ত্বেও মাস শেষে অতিরিক্ত বিল আসছে। কিন্তু কেন এমন হচ্ছে, তার সহজ সমাধান অনেকেই জানেন না। মাত্র এক মিনিটেই আপনি নিজে বুঝে নিতে পারবেন আপনার মিটারে কোনো সমস্যা আছে কি না।

    আপনার বিদ্যুৎ মিটারে একটি ছোট বাতি থাকে, যাকে বলা হয় “পালস বাতি”। এই বাতিটি শুধুমাত্র তখনই জ্বলে-নিভে, যখন আপনার ঘরে বিদ্যুৎ ব্যবহার হয়। যদি বিদ্যুৎ ব্যবহার না হয় বা আপনার সার্কিট বন্ধ থাকে, তাহলে এই বাতি জ্বলার কথা নয়।

    যাচাই করার সহজ পদ্ধতিটি হলো:

    ১. বাড়ির মূল মেইন সুইচ (MCB) বন্ধ করে দিন—অর্থাৎ ঘরে বিদ্যুৎ ব্যবহার সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করুন। ২. এরপর মিটারের সামনে গিয়ে ভালোভাবে লক্ষ্য করুন যে পালস বাতিটি জ্বলে-নিভে কি না। ৩. যদি কারেন্ট বন্ধ থাকার পরেও পালস বাতিটি জ্বলে-নিভে, তাহলে বুঝতে হবে আপনার মিটারটি নষ্ট হয়ে গেছে এবং এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে পালস দিয়ে অতিরিক্ত ইউনিট দেখাচ্ছে।

    যদি মিটার নষ্ট বলে নিশ্চিত হন, তবে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। আপনাকে যা করতে হবে: মিটারের সামনে দাঁড়িয়ে এক মিনিটের একটি ভিডিও করুন, যেখানে স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে যে বাড়ির কারেন্ট বন্ধ থাকা সত্ত্বেও মিটার চলছে। আপনার সর্বশেষ বিদ্যুৎ বিলের কপি সংগ্রহ করুন। এই উভয় প্রমাণ নিয়ে নিকটস্থ বিদ্যুৎ অফিসে যোগাযোগ করুন এবং অবিলম্বে মিটার পরিবর্তনের জন্য অনুরোধ জানান।

    যদি আপনি পরীক্ষা করে দেখেন যে কারেন্ট বন্ধ থাকলে পালস বাতি একদমই জ্বলে না, তাহলে বুঝতে হবে মিটারে কোনো ত্রুটি নেই। সেক্ষেত্রে, বিল বেশি আসার সম্ভাব্য কারণ হতে পারে—ঘরের ভেতরের ওয়্যারিংয়ে লিকেজ বা শর্টসার্কিট, অথবা ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি থেকে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ব্যবহার।

    এই অবস্থায় একজন দক্ষ ইলেকট্রিশিয়ান দিয়ে পুরো ঘরের লাইন চেক করিয়ে নেওয়া উচিত। ভুল জায়গায় লোড পড়ে থাকলে, সেটিই অজান্তে বেশি বিলের কারণ হতে পারে। বিদ্যুৎ বিল বেশি আসছে কি না, সেটা যাচাই করতে এখন আর অফিসে ছুটতে হবে না। মাত্র এক মিনিটের একটি সহজ পরীক্ষায় আপনি নিজেই বুঝতে পারবেন আপনার মিটার ঠিক আছে কি না। আর সমস্যার উৎস বুঝে নিলেই সহজে সমাধানও মিলবে।

  • ঘুমের মধ্যে হঠাৎ পায়ের রগে বা পেশিতে হঠাৎ টান ধরলে যা করবেন

    ঘুমের মধ্যে হঠাৎ পায়ের রগে বা পেশিতে হঠাৎ টান ধরলে যা করবেন

    ঘুমের মধ্যে পায়ের রগে টান লাগলে, তৎক্ষণাৎ টান ধরা পেশি ম্যাসাজ করুন, আলতো করে স্ট্রেচ করুন (যেমন পায়ের আঙুল টেনে ধরুন), গরম সেঁক দিন অথবা উঠে হেঁটে দেখুন; পর্যাপ্ত জল পান করা, পটাশিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া এবং সঠিক ভঙ্গিতে শোয়ার অভ্যাস করা এর প্রতিরোধে সাহায্য করে।
    তাৎক্ষণিক করণীয়
    • ম্যাসাজ ও স্ট্রেচিং: যে পেশিতে টান লেগেছে, সেটিতে আলতো করে মালিশ করুন। এরপর পায়ের আঙুলগুলো ধরে শরীরের দিকে টেনে আনুন (পায়ের পাতা উপর দিকে তুলে ধরুন) বা হালকা স্ট্রেচিং করুন। এটি পেশি শিথিল করতে সাহায্য করে।
    • হাঁটা: উঠে দাঁড়ান এবং ধীরে ধীরে হাঁটুন। এতে পেশি প্রসারিত হয় এবং আরাম লাগে।
    • গরম সেঁক: একটি গরম জলের বোতল বা হট ওয়াটার ব্যাগ দিয়ে সেঁক দিতে পারেন। গরম সেঁক রক্ত সঞ্চালন বাড়াতে সাহায্য করে।
    • বিশ্রাম: টান ধরা পেশির উপর চাপ দেবেন না। 
    প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা
    • জল পান: পর্যাপ্ত জল পান করুন, কারণ ডিহাইড্রেশন পেশিতে টান ধরার একটি বড় কারণ।
    • খাবার: পটাশিয়াম (কলা), ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম (বাদাম, সবুজ শাক) সমৃদ্ধ খাবার খান।
    • সঠিক ভঙ্গি: চিৎ হয়ে শোয়ার সময় পায়ের নিচে বালিশ দিন বা পেটের উপর ভর দিয়ে শোয়া এড়িয়ে চলুন, যা পেশির উপর চাপ কমাতে পারে।
    • নিয়মিত ব্যায়াম ও স্ট্রেচিং: ঘুমাতে যাওয়ার আগে হালকা স্ট্রেচিং করুন, বিশেষ করে পায়ের পেশির জন্য। 
    যদি এই সমস্যা ঘন ঘন হয় বা এর সাথে অন্য কোনো উপসর্গ থাকে, তাহলে ডাক্তার দেখান
  • প্রস্রাব করলেই ফেনায় ভরে যাচ্ছে? কোন বিপদের লক্ষণ জানেন?

    প্রস্রাব করলেই ফেনায় ভরে যাচ্ছে? কোন বিপদের লক্ষণ জানেন?

    হঠাৎ প্রস্রাবে ফেনা লক্ষ করলে কী করা উচিত? কেন হয় এমনটা? তাহলে কি অজান্তেই শরীরে বাসা বাঁধছে কোনও মারণ রোগ? কী বলছেন চিকিৎসক প্রতিম সেনগুপ্ত?
    Forthy Urine: প্রস্রাব করলে বেশি ফেনা হচ্ছে? সাবধান, বড় বিপদের ইঙ্গিত হতে পারে
    ধরুন আপনি সকালে ঘুম থেকে উঠে বাথরুমে গিয়েছেন। সেখানে গিয়ে টয়লেট করতে গিয়ে হয়তো দেখলেন একঝাঁক সাবানের ফেনার মতো সৃষ্টি হয়েছে। দিনের অন্য কোনও সময়েও এমনটা হতে পারে। এই রকম কিছু দেখলে স্বাভাবিক ভাবেই ভয় পেয়ে যান অনেকে। কেউ আবার বিষয়টিকে পাত্তাই দেন না। কেন হয় এমনটা? তাহলে কি অজান্তেই শরীরে বাসা বাঁধছে কোনও মারণ রোগ? হঠাৎ প্রস্রাবে ফেনা লক্ষ করলে কী করা উচিত? সব কিছু নিয়ে নিজের ইউটিউব চ্যানেলে বিস্তারিত জানিয়েছেন চিকিৎসক প্রতিম সেনগুপ্ত। কী বলছেন তিনি?
    প্রতিম সেনগুপ্ত জানান, ইউরিন আমাদের শরীরের একটি সাধারণ বায়োলজিক্যাল প্রোডাক্ট। এর মধ্যে দিয়ে শরীরের বহু মেটাবলিক বর্জ্য পদার্থ বেরিয়ে যায়।
    এই বর্জ্য পদার্থের মধ্যে নানা ধরনের উপাদান থাকে। যেমন – ইলেক্ট্রলাইটস, প্রোটিন ইত্যাদি। প্রতিম বাবু বলেন, “ইউরিনের সঙ্গে প্রোটিন বেরোনোর একটা নির্দিষ্ট মাপ রয়েছে। কিন্ত যদি দেখা যায় ইউরিন করার সময় অনেকটা ফেনা হচ্ছে এবং সেটা দীর্ঘক্ষণ থাকছে তাহলে বুঝতে হবে ইউরিনের মান এবং পরিমাপে সমস্যা রয়েছে।”
    কেন ফেনা হয় প্রস্রাবে?
    প্রস্রাবের মধ্যে থাকা নানা ধরনের উপাদান ফেনা উৎপাদনের জন্য দায়ী। সেই সব উপাদানের মধ্যে আছে প্রোটিন, ফসফেট, ইউরেট। প্রতিম বাবু বলেন, “যখন দেখা যায় এই রকম ফেনা হচ্ছে, হতে পারে কিডনির যতটা প্রোটিন ফিল্টার করা প্রয়োজন ছিল, তার থেকেও বেশি প্রোটিন ফিল্টার করছে। যত বেশি ফেনা হবে তার মানে তত বেশি প্রোটিন নির্গত হচ্ছে।”
    কী হয় এর ফলে?
    কিডনি ঠিক করে কাজ করছে না, এটা তারই পূর্ব লক্ষণ। প্রতিম বাবু জানান, ইউরিন বা ক্রিয়েটেনিন বাড়ার অনেক আগে আমাদের শরীরে প্রোটিন লিকেজ শুরু হয়।
    কী করবেন?
    এমন কিছু ঘটলে প্রথমে একজন নেফ্রোলজিস্টের পরামর্শ নিন। ফেনা হওয়ার আসল কারণ জানাটা সবার প্রথম জরুরি। হতে পারে প্রোটিন লিক ছাড়া অন্য কোনও কারণে ফেনা হচ্ছে। কিছু টেস্ট করে আগে সেটা দেখা প্রয়োজন। প্রতিম বাবু বলেন, “যদি দেখা যায় প্রোটিনের পরিমাণ প্রস্রাবে ঠিক আছে, কিন্তু ফেনা হচ্ছে তাহলে খুব একটা চিন্তার কারণ নেই। যদি রিপোর্টে দেখা যায় মাত্রাতরিক্ত প্রোটিন নির্গত হচ্ছে তাহলে ভাবতে হবে।”
    কেন প্রস্রাবের সঙ্গে প্রোটিন নির্গত হয়?
    প্রস্রাবের সঙ্গে প্রোটিন নির্গত হওয়ার অনেকগুলি কারণ থাকতে পারে।
    ১। গ্লোমেরুলার ডিজিজ – গ্লোমেরুলার অসুখ বা অন্য কোনও কারণে গ্লোমেরুলার ইমপ্যাক্টের কারণে হতে পারে। গ্লোমেরুলাইটিস যদি হয় তাহলে তা গ্লোমেরুলাস বা কিডনির ঝিল্লির উপরে প্রভাব ফেলে। তখন স্বাভাবিক ভাবেই সঠিক ভাবে ফিল্টারেশন হওয়া শক্ত হয়ে পড়ে।
    ২। হাইপার টেনশনের কারণে প্রোটিন লিকেজ হতে পারে।
    ৩। যদি ডায়াবেটিসের সমস্যা থাকে তাহলেও এই সমস্যা দেখা যায়। সেক্ষেত্রে সুগার কমানোর ব্যবস্থা করতে হবে। ভারতে মূলত এই সমস্যাটি সবচেয়ে বেশি।
    প্রতিদিনের জীবনে কী পরিবর্তন আনতে হবে?
    কেবল ওষুধ খেলেই হবে না। তার সঙ্গে নিজের জীবনধারার দিকেও নজর দিতে হবে।
    ১। বিশেষ করে মাথায় রাখতে হবে ঘুম ভালো হচ্ছে কিনা। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে, সিমপ্যাথেটিক এবং প্যারাসিমপ্যাথেটিক নার্ভাস সিস্টেমের সামঞ্জস্য তৈরিতে একটা সমস্যা হয়। এতে কিডনির ঝিল্লিতে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয় ফলে, প্রোটিন লিকেজ বেড়ে যায়। অন্তত ৮ ঘন্টা ঘুমোতেই হবে।
    ২। ব্লাড প্রেশারকে নিয়ন্ত্রণে রাখতেই হবে। নাহলে প্রোটিন লিকেজ বন্ধ হবে না।
    ৩। যদি নুন খুব বেশি পরিমাণে খান, তাহলে এটা গ্লোমেরুলা টক্সিক প্রোটিন লিকেজ বাড়িয়ে দেয়। এই অভ্যাস শরীরে জল শোষণ বাড়িয়ে দেয় ফলে হাত-পা ফুলে যাওয়া থেকে শুরু করে কিডনির ক্ষতি হয়।
    সুতরাং, মনে রাখবেন ইউরিনে ফেনা হওয়াটা কিন্তু ভালো লক্ষণ নয়। তাই এমন কিছু হলে অবহেলা করবেন না। চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। নাহলে অচিরেই নিজের আরও বড় বিপদ ডেকে আনতে পারেন।

  • দাঁ’তের গ’র্ত কেন হয়, আর গ’র্ত হলে আপনি কী করবেন জেনে নিন

    দাঁ’তের গ’র্ত কেন হয়, আর গ’র্ত হলে আপনি কী করবেন জেনে নিন

    দাঁতের মধ্যে নানা কারণে গর্ত হতে পারে। যেমন দন্তক্ষয় বা ডেন্টাল ক্যারিজ, দাঁত ভেঙে গিয়ে গর্ত হওয়া বা রুট ক্যানেল চিকিৎসার জন্য গর্ত হওয়া। দাঁতের মধ্যে গর্ত বা ক্যাভিটি হলে তাতে ময়লা, খাদ্যকণা ইত্যাদি জমে, সংক্রমণ হয়। দাঁতে ব্যথা করে ও শিরশির অনুভূতি শুরু হয়। শিশুদের এই গর্ত বা ক্যাভিটি হলে তারা ব্যথায় কষ্ট পায় ও কিছু খেতে গেলেই দাঁত শিরশির করে ওঠে।
    দাঁতের গর্তের অন্যতম কারণ দন্তক্ষয় বা ডেন্টাল ক্যারিজ। ডেন্টাল ক্যারিজ প্রাথমিক অবস্থায় খুবই ছোট কালো গর্তের মতো দেখায়। এ অবস্থায় কোনো ব্যথা বা অসুবিধা না থাকায় রোগীরা, বিশেষ করে শিশুরা বুঝতে পারে না যে গর্ত তৈরি হচ্ছে। জটিলতা হওয়ার পরই কেবল ধরা পড়ে। তবে দাঁত ভেঙে গেলে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে রোগী সেটা বুঝতে পারে। এ ছাড়া রুট ক্যানেল চিকিৎসার পর রোগী যদি পরসেলিন ক্রাউন বা মুকুট পরে না নেয়, তবে গর্ত বেড়ে যায়। পরে রুট ক্যানেল এবং ভেতরের জিনিসপত্র সব বেরিয়ে আসে।

    চিকিৎসা কী
    দাঁতের গর্তের লক্ষণ দেখা দেওয়া মাত্র দেরি না করে শূন্য জায়গাটা ভর্তি বা ফিলিং করে নেওয়া উচিত। কারণ, ডেন্টাল ক্যারিজ যদি ধীরে ধীরে ডেন্টিন থেকে আরও গভীরে অর্থাৎ পাল্প চেম্বার পর্যন্ত চলে যায়, তবে ব্যথার তীব্রতা বেড়ে যায়। চিকিৎসাব্যবস্থাও জটিল হয়ে পড়ে। ভাঙা দাঁতকে আজকাল ফিলিং ম্যাটেরিয়াল বা লাইট কিউর দিয়ে সুন্দরভাবে পূরণ করা যায়, যা দেখতে অবিকল স্বাভাবিক রঙের হয়। রুট ক্যানেল চিকিৎসা করা দাঁতের ক্রাউন বা মুকুট বসাতে দেরি করা উচিত নয়।

    ক্যাভিটি প্রতিরোধের ৫ উপায়
    * সঠিক নিয়মে প্রতিদিন দুই বেলা দাঁত ব্রাশ করা
    * চিনিযুক্ত পানীয় বা আঠালো খাবার, অম্লযুক্ত খাবার, কফি ইত্যাদি এড়িয়ে চলা বা খাওয়ার পর কুলি করে মুখ ধুয়ে ফেলা
    * শুধু ব্রাশ নয়, সুতা বা ফ্লস দিয়ে দাঁতের ফাঁক পরিষ্কার করা
    * ধূমপান বর্জন
    * নিয়মিত দাঁত পরীক্ষা করা

    দন্ত বিভাগ, বারডেম হাসপাতাল