• BDS রেকর্ডে জমির মালিকের নাম তুলতে না পারলে বিপদ, জরুরি সতর্কতা জমির মালিকদের

    BDS রেকর্ডে জমির মালিকের নাম তুলতে না পারলে বিপদ, জরুরি সতর্কতা জমির মালিকদের

    বাংলাদেশে শুরু হয়েছে BDS (Bangladesh Digital Survey) জরিপ, যা সম্পূর্ণ ডিজিটাল ও আধুনিক পদ্ধতিতে সম্পন্ন করা হচ্ছে। আগের CS, SA, RS রেকর্ডে যত ভুল হয়েছে, তা ঠিক করার শেষ সুযোগ এই জরিপ। তাই জমির মালিকদের অবশ্যই সতর্ক থাকা জরুরি, নইলে ভবিষ্যতে বড় সমস্যার মুখোমুখি হতে হবে।

    জমির মালিকদের জন্য ৬টি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা

    ১️. সব কাগজপত্র গুছিয়ে রাখুন 

    • দলিল, খতিয়ান, নামজারি (মিউটেশন), কর রশিদ, উত্তরাধিকার সনদ – সব একত্রে রাখুন। জরিপ টিম প্রমাণ চাইলে হাতড়াতে হবে না।

    ২️. জমির দখল নিশ্চিত করুন 

    • জরিপে শুধু কাগজ নয়, জমিতে বাস্তব দখলও গুরুত্বপূর্ণ। জমি ফাঁকা থাকলে বা অন্যের দখলে থাকলে নাম ওঠাতে সমস্যা হবে।

    ৩️. সঠিক তথ্য প্রদান করুন 

    • জরিপ কর্মকর্তাকে ভুল তথ্য দিলে পরবর্তীতে বিপদ ডেকে আনতে পারে। স্বচ্ছভাবে জমির আসল তথ্য দিন।

    ৪️. প্রতিবেশীর সীমানা মেলান 

    • পাশের জমির মালিকদের সঙ্গে সীমানা ঠিক করুন। সীমানা নিয়ে দ্বন্দ্ব থাকলে জরিপে ভুল হবে, পরে মামলা-মোকদ্দমা শুরু হতে পারে।

    ৫️. ভুল দেখলে সঙ্গে সঙ্গে আপত্তি জানান

    • আপনার নাম বাদ পড়লে বা জমির পরিমাণ কম-বেশি হলে চুপ থাকবেন না। সঙ্গে সঙ্গে লিখিত আপত্তি জমা দিন।

    ৬️. ডিজিটাল রেকর্ডের গুরুত্ব বুঝুন

    • একবার নাম সঠিকভাবে উঠলে এই ডিজিটাল রেকর্ড ভবিষ্যতে পরিবর্তন করা কঠিন। ভুল করলে ভবিষ্যতে সন্তানরাই ঝামেলায় পড়বে।

    মনে রাখবেন – BDS জরিপে সতর্ক থাকলেই জমির মালিকানা নিরাপদ ও ঝামেলামুক্ত থাকবে। অবহেলা করলে, জমির আসল মালিক হলেও মালিকানা হারানোর ঝুঁকি থাকবে।

  • পুরাতন দলিল হারিয়ে গেছে? জানুন বের করার সহজ উপায় ও খরচ

    পুরাতন দলিল হারিয়ে গেছে? জানুন বের করার সহজ উপায় ও খরচ

    অনেক সময় হঠাৎ করেই একটি পুরাতন জমির দলিল খুঁজে বের করা প্রয়োজন হয়ে পড়ে। হতে পারে দলিলটি ২০ কিংবা ৩০ বছর আগের, এমনকি আরও পুরোনো। দলিলটি হয়তো দুর্ঘটনায় নষ্ট হয়ে গেছে বা কোথাও হারিয়ে গেছে, কিংবা আপনার কাছে শুধু দলিলের কপি ছিল—এখন তাও নেই। এমন পরিস্থিতিতে আইনি জটিলতা, মামলা মোকাদ্দমা বা জমি সংক্রান্ত বিরোধের মীমাংসার জন্য দলিলটি বের করা একান্ত প্রয়োজনীয় হয়ে পড়ে।

    এই সমস্যার সমাধানে ও সহজ উপায়ে দলিল তল্লাশির নিয়মকানুন নিয়ে সম্প্রতি একটি ভিডিওতে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন অ্যাডভোকেট মোঃ আমির হামজা লিমন। তিনি জানান, দলিল হারিয়ে গেলে বা তথ্য না থাকলেও রেজিস্ট্রি অফিসের নির্ধারিত পদ্ধতিতে ও আইনি বিধি অনুসরণ করে দলিল খুঁজে বের করা সম্ভব।

    আইন কী বলে দলিল তল্লাশি নিয়ে?

    রেজিস্ট্রেশন আইন, ১৯০৮ এর ৫৭(১) ধারা অনুযায়ী, যে কেউ নির্ধারিত ফি পরিশোধ সাপেক্ষে স্থাবর সম্পত্তি সংক্রান্ত রেজিস্টার বহি (১ নম্বর ও ২ নম্বর) এবং সংশ্লিষ্ট সূচিবহি পরিদর্শন করতে পারেন। একই আইনের ৬২ ধারায় বলা আছে, এই পরিদর্শনের ভিত্তিতে দলিলের সার্টিফায়েড কপি (নকল) সংগ্রহের সুযোগ রয়েছে। এছাড়াও উইল বা অছিয়ত দলিলের ক্ষেত্রেও তল্লাশি ও কপি সংগ্রহের জন্য ৩ ও ৪ নম্বর বহির তথ্য খোঁজা যায়।

    ৫৭(৪) ধারা অনুযায়ী, দলিল যদি ৩ বা ৪ নম্বর বহিতে লিপিবদ্ধ থাকে, তবে সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের মাধ্যমেই তল্লাশি করতে হবে।

    তল্লাশির ফি ও পদ্ধতি

    দলিল খুঁজে পাওয়ার জন্য সূচিপত্র ও রেজিস্টার বহি তল্লাশির ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট ফি পরিশোধ করতে হয়। উদাহরণস্বরূপ—

    • একটি নির্দিষ্ট বছরের জন্য তল্লাশি ফি: ২০ টাকা
    • অতিরিক্ত বছরের জন্য প্রতি বছর: ১৫ টাকা
    • রেজিস্টার বহির প্রতিটি পৃষ্ঠা পরিদর্শনের ফি: ১০ টাকা

    তবে ফি’র সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে—একটি নির্দিষ্ট নাম বা সম্পত্তি সংক্রান্ত ভুক্তির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ফি ১৫০ টাকা।

    দলিল খুঁজে পাওয়ার দুটি অবস্থা

    এই ক্ষেত্রে দুটি ভিন্ন অবস্থা তৈরি হতে পারে। প্রথমত, আপনার কাছে যদি মূল দলিল থাকে, তবে সেটির শেষ পাতার উল্টো পৃষ্ঠায় দলিল নম্বর, সাল এবং কোন রেজিস্টার বইয়ের কোন পাতায় তা সংরক্ষিত আছে, সে সংক্রান্ত বিস্তারিত উল্লেখ থাকে। এই তথ্য দিয়ে সরাসরি রেজিস্ট্রি অফিস থেকে দলিলের নকল পাওয়া যায়—তল্লাশির প্রয়োজন পড়ে না।

    কিন্তু যদি আপনার কাছে দলিল না থাকে বা কোন তথ্য না থাকে, তবে তল্লাশি আবশ্যক। এই ক্ষেত্রে রেজিস্ট্রি অফিসে ‘সূচিবহি’ নামে পৃথক দুটি রেকর্ড থাকে—একটি দলিলে উল্লিখিত ক্রেতা-বিক্রেতার নাম অনুযায়ী, অপরটি মৌজার নাম অনুযায়ী জমির বিবরণভিত্তিক। নির্ধারিত ফি জমা দিয়ে আপনি নিজে বা আপনার আইনজীবীর মাধ্যমে এই সূচিপত্র তল্লাশি করে আপনার কাঙ্ক্ষিত দলিলটি চিহ্নিত করতে পারবেন।

    বিনা ফিতে কবে পাওয়া যায়?

    যদি দলিলের নকল চাওয়ার আবেদনের সঙ্গে নিবন্ধিত মূল দলিল বা তার সত্যায়িত অনুলিপি দাখিল করেন, তাহলে তল্লাশি ফি লাগবে না। এছাড়াও মামলা সংক্রান্ত নথিপত্র পরিদর্শনের জন্য আবেদন করলে কেবল একবার ফি প্রদান করলেই যথেষ্ট।

    অ্যাডভোকেট আমির হামজা লিমনের মতে, পুরাতন দলিল হারিয়ে গেলে হতাশ না হয়ে নির্ধারিত নিয়ম অনুসারে রেজিস্ট্রি অফিসে তল্লাশি করলেই দলিল উদ্ধার সম্ভব। আইনের বিধান অনুসারে যে কেউ বৈধ প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় ফি দিয়ে দলিলের নকল তুলতে পারেন। জমি সংক্রান্ত আইনি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুরাতন দলিল পুনরুদ্ধার একান্ত প্রয়োজন এবং এ কাজে আইনই রয়েছে সাধারণ মানুষের সহায় হয়ে।

  • শুভ মহালয়া রোববার, এদিন ছুটি নিয়ে যা জানা গেল

    শুভ মহালয়া রোববার, এদিন ছুটি নিয়ে যা জানা গেল

    শারদীয় দুর্গাপূজা ও সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে এ বছর ১ থেকে চার অক্টোবর পর্যন্ত টানা চার দিনের ছুটি উপভোগ করবেন সরকারি চাকরিজীবীরা। তবে, আগামী রোববার (২১ সেপ্টেম্বর) শুভ মহালয়ার মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গোৎসব শুরু হবে। এদিন সরকারি কোনো ছুটি নেই। একইসঙ্গে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন অধিদপ্তরের ছুটির তালিকায়ও নেই মহালয়ার ছুটি। তবে অনেক সনাতন ধর্মাবলম্বী এদিন ঐচ্ছিক ছুটি নিয়ে থাকেন।

    সরকারি ছুটির তালিকা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, দুর্গাপূজা ও সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে চলতি বছর সরকারি চাকরিজীবীরা টানা ৪ দিনের ছুটি পাবেন। ১ অক্টোবর (বুধবার) মহানবমী উপলক্ষে নির্বাহী আদেশে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। পরদিন ২ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) বিজয়া দশমী উপলক্ষে রয়েছে সাধারণ ছুটি। তালিকায় শুভ মহালয়ার কোনো ছুটি নেই।

    শুভ মহালয়া মানে হলো দেবীপক্ষের সূচনালগ্ন, যা পিতৃপক্ষের অবসানের পর শুরু হয় এবং দুর্গাপূজার উৎসবের সূচনা করে।

    এদিনে দেবী দুর্গা পৃথিবীতে অবতরণ করেন বলে বিশ্বাস করা হয়, তাই মহালয়া হলো এমন এক পবিত্র দিন, যেখানে পূর্বপুরুষদের স্মরণ ও শ্রদ্ধা জানানো হয় এবং দেবী দুর্গার আগমনের জন্য অপেক্ষা করা হয়।

     

  • হোটেলের বিছানার চাদর-বালিশ সাদা হয় কেন

    হোটেলের বিছানার চাদর-বালিশ সাদা হয় কেন

    আমাদের সকলেরই জীবনের কোনো না কোনো সময়ের কিছুটা অংশ হোটেলে কেটেছে। বিভিন্ন প্রয়োজনেই আমরা হোটেলে অবস্থান করে থাকি। একটু লক্ষ করলেই দেখা যায় হোটেলের বিছানার চাদর এবং বালিশের ওয়ার সব সময়ই সাদা। কিন্তু কখনও মনে প্রশ্ন জেগেছে কি, এ রকম কেন করা হয়? হয়তো আপনি ভাবছেন এ আবার কী কথা! কিন্তু না, এর পেছনে রয়েছে যুক্তিগ্রাহ্য কারণ।

    ১৯৯০-এর দশকে হোটেলের কক্ষে সাদা চাদর, বালিশ ও তোয়ালের ব্যবহার শুরু হয়। একে জনপ্রিয় করে তোলে ওয়েস্টিন ও শেরাটন। দুই হোটেলের ভাইস প্রেসিডেন্ট অব ডিজাইন এরিন হুভার মনে করেন, সাদা বিছানা অতিথিদের মাঝে ভ্রম সৃষ্টি করে। এ দেখে তারা মনে করেন রুমটি মাত্রই পরিষ্কার করে গুছিয়ে রাখা হয়েছে। এতে দর্শনার্থীরা আরামবোধ করে।

    সাদা রং মনের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। মনে শুভ্রতা ও পরিচ্ছন্নতার তাড়না আসে। এ ছাড়া আলোর নিয়ম অনুসারে, সাদা রং আলোর প্রতিফলন ঘটায়। এতে রুম আরও উজ্জ্বল দেখায়।

    অনেকে সাদা রং বিলাসিতার প্রতীক বলে মনে করেন। তাই হোটেল রুমের বিছানায় সাদা চাদর ব্যবহার করা হয়। সাদা চাদর-বালিশ একটু নোংরা হলে তা একসঙ্গে ভিজিয়ে তা ধোয়া যায়। অন্য রঙের হলে একটা থেকে অন্যটায় রং লেগে যাওয়ার শঙ্কা থাকে। ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব হোটেল ম্যানেজমেন্ট (আইআইএইচএম) কলকাতা’র ‘হাউস কিপিং’- এর অধ্যাপক তরুণ সরকার জানান, নয়ের দশকের শুরুতে ওয়েস্টিন হোটেল গ্রুপ তাদের হোটেলের ঘরগুলোতে সাদা বালিশ-চাদর-তোয়ালের ব্যাপক ব্যবহার শুরু করে।

    তিনি আরও জানান, ১৯৭০-’৮০ সালেও ইউরোপ এবং আমেরিকার বেশ কয়েকটি নামী হোটেলে সাদা চাদর-বালিশ ব্যবহারের চল ছিল।

    তবে ১৯৯০-এর গোড়ায় ওয়েস্টিন এবং শেরাটন হোটেলের ডিজাইন বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট এরিন হুভার-ই ওয়েস্টিন হোটেল গ্রুপের ঘরগুলোতে সাদা চাদর-বালিশ ব্যবহারের পরামর্শ দেন। এ ক্ষেত্রে বেশ কয়েকটি যুক্তিও দিয়েছিলেন হুভার।