• ভারত থেকে কলার ভেলায় ভেসে এলো শিশুর মরদেহ, সঙ্গে চিরকুট

    ভারত থেকে কলার ভেলায় ভেসে এলো শিশুর মরদেহ, সঙ্গে চিরকুট

    ভারতে সাপে কাটা একটি শিশুর মরদেহ কলাগাছের ভেলায় করে নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়। ওই শিশুর মরদেহ কুড়িগ্রামে দুধকুমার নদে এসে পৌঁছেছে। রোববার সকাল সাড়ে ৯টায় সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের দুধকুমার নদে গারুহারা ঘাটে ভেলা‌টি ভাসতে দেখেন স্থানীয়রা।

    সোমবার (২৮ জুলাই) ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন যাত্রাপুর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল গফুর।

    মরদেহের সঙ্গে থাকা মোবাইল নম্বরে ফারুক খান নামে এক শিক্ষার্থী ফোন করে জানতে পারেন, শিশুটির মামা পরিচয়দানকারী অনকু দাস জানিয়েছেন শিশুটি ১০ জুলাই সাপের কামড়ে মারা যায়।

    নতুন করে জীবন ফিরে পাবে- এমন আশায় লাশটি নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়। এসব কথা জানার পর স্থানীয়রা আর লাশটি না আটকিয়ে আবারও নদীতে ভাসিয়ে দেন।

    স্থানীয় বা‌সিন্দারা জানান, কলাগাছের কয়েকটি গুঁড়ি দিয়ে তৈরি এক‌টি ভেলায় চাটাইয়ের ওপর প্রায় ৬ বছর বয়সি এক‌টি শিশুর ম‌রদেহ ভাসতে দেখেন তারা। লাশটি চাদর, মশা‌রি এবং প‌লি‌থিন দিয়ে ঢেকে রাখা।

    শুধু মু‌খটা দেখা যাচ্ছে। ভেলাতে শিশু‌টির ছ‌বি সম্বলিত নাম-ঠিকানা ও এক‌টি ফোন নাম্বার উল্লেখ করা ছিল।

    উল্লেখিত ঠিকানায় দেখা যায়- শিশু‌টির নাম সুমীত দাস, তার পিতার নাম আকুমনি দাস, মায়ের নাম পদ্মা দাস। সেখানে ঠিকানা উল্লেখ করা ছিল- ‌ডেকাবঘাট লালবা‌ড়ি, আসাম, ভারত।

    যাত্রাপুরের গারুহারা এলাকার কলেজ শিক্ষার্থী ফারুক খান বলেন, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কলাগাছের ভেলায় এক‌টি লাশটি ভাসতে দেখেন স্থানীয়রা। খবর পেয়ে আমি সেখানে যাই। পরে লাশের সঙ্গে এক‌টি চিরকুট দেখতে পাই। ওই চিরকুটে এক‌টি ভারতীয় ফোন নম্বর ছিল। ওই নাম্বারে হোয়াটসঅ্যাপ যোগাযোগ করলে অপরপ্রান্ত থেকে সাড়া পাই- অনকু দাস নামে এক ব্যক্তি শিশু‌টির মামা প‌রিচয় দেন।

    পরে তি‌নি জানান, গত ১০ জুলাই শিশু‌টি সাপের কামড়ে মারা গেলে তাকে কলাগাছের ভেলায় ভা‌সিয়ে দেওয়া হয়েছে।

    এ বিষয়ে যাত্রাপুর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল গফুর বলেন, কলাগাছের ভেলায় ভেসে আসা শিশুটির খবর শুনেছি। লাশটি আবার ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছে।

     

  • বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের অভিযোগ এনসিপি সদস্যের বিরুদ্ধে

    বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের অভিযোগ এনসিপি সদস্যের বিরুদ্ধে

    রাজধানীর হাজারীবাগে এক নারীকে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক সদস্যের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারীর পক্ষে হাজারীবাগ থানায় মামলা করতে গেলে থানা মামলা নিচ্ছে না বলে দুই দিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা চলছে।

    তবে পুলিশ বলছে, এই ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে। প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে মামলা নেওয়া হবে।

    ভুক্তভোগী নারীর ভগ্নিপতি গণমাধ্যমকে জানান, ৮ বছর ধরে ওই ছেলের সঙ্গে তার শ্যালিকার সম্পর্ক। বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে গত জুন মাসে তার শ্যালিকাকে ধর্ষণ করেন এনসিপি নেতা। ওই ছেলের বাড়ি হাজারীবাগে হওয়ায় তিনি শনিবার (২৬ জুলাই) হাজারীবাগ থানায় মামলা করতে যান। কিন্তু এনসিপির নেতা হওয়ায় থানা মামলা নেয়নি।

    এ বিষয়ে হাজারীবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, যার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তার বাড়ি হাজারীবাগে। কিন্তু যে বাসায় ধর্ষণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে, সেটা কামরাঙ্গীরচর এলাকার মধ্যে পড়েছে। তাই ভুক্তভোগীকে কামরাঙ্গীরচরে যেতে বলা হয়েছে। মামলা না নেওয়ার অভিযোগটি সঠিক নয়।

    ভুক্তভোগী নারী ও তার পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, অভিযুক্ত ব্যক্তি হাজারীবাগ থানার এনসিপির নেতা।

    পুলিশ জানিয়েছে, এনসিপির কয়েকজন নেতাকর্মী থানায় এসেছিলেন। তাদের দাবি, ধর্ষণের সঙ্গে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে মামলা হলেও তাদের আপত্তি নেই। কিন্তু তাকে যেন ফাঁসানো না হয়।

    তবে কামরাঙ্গীরচর থানার ওসি আমিনুর রহমান আশ্বস্ত করেছেন, তদন্তে ধর্ষণের অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেলেই মামলা নেওয়া হবে।

     

  • হাতের তালু অনবরত ঘামতে থাকে যে ভি’টামিনের অভাবে, জেনে নিন

    হাতের তালু অনবরত ঘামতে থাকে যে ভি’টামিনের অভাবে, জেনে নিন

    অনেকে আছেন যাদের হাতের তালু অনবরত ঘামে—এমনকি ঠান্ডা পরিবেশেও! এ সমস্যা শুধু অস্বস্তিকরই নয়, সামাজিক ও পেশাগত জীবনেও অপ্রত্যাশিত বিড়ম্বনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের সমস্যা অনেক সময় ভিটামিনের অভাব থেকে সৃষ্টি হয়ে থাকে। বিশেষ করে ভিটামিন ডি ও ভিটামিন বি১২–এর ঘাটতি হলে এমন উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

    কোন ভিটামিনের অভাবে হাতের তালু ঘামে?

    ১. ভিটামিন ডি (Vitamin D): ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয় এবং স্নায়ুতে অস্বাভাবিক উত্তেজনার সৃষ্টি করে। এতে শরীরের কিছু নির্দিষ্ট অংশ, বিশেষ করে তালু বা পায়ের তলা ঘেমে যেতে পারে। এছাড়া শিশুদের ক্ষেত্রে মাথার তালু ঘামাও ভিটামিন ডি-এর ঘাটতির লক্ষণ হতে পারে।

    ২. ভিটামিন বি১২ (Vitamin B12): স্নায়বিক ভারসাম্য রক্ষায় ভিটামিন বি১২ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর ঘাটতির ফলে হাত-পায়ে ঝিনঝিনে ভাব, দুর্বলতা, ও ঘাম হওয়া — বিশেষ করে তালুতে ঘাম — দেখা দিতে পারে। নিরামিষভোজীদের মধ্যে এই ঘাটতি বেশি দেখা যায়।

    ৩. ভিটামিন বি১ ও বি৬: এই দুটি ভিটামিনও স্নায়ুতন্ত্রে প্রভাব ফেলে এবং ঘাম নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ। ঘাটতি হলে হাতের তালুতে অতিরিক্ত ঘাম হতে পারে।

    চিকিৎসা ও প্রতিকার

    রক্ত পরীক্ষা: প্রথম ধাপ হলো প্রয়োজনীয় ভিটামিনের মাত্রা রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া।

    সাপ্লিমেন্ট: ঘাটতি থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা উচিত।

    খাবার: সঠিক খাবারের মাধ্যমে ভিটামিনের ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব।

    কোন খাবারে পাওয়া যায়

    ভিটামিন ডি: রোদ, চর্বিযুক্ত মাছ, ডিমের কুসুম, ফোর্টিফায়েড দুধ

    ভিটামিন বি১২: মাংস, ডিম, দুধ, সামুদ্রিক মাছ

    ভিটামিন বি৬/বি১: বাদাম, সবুজ শাকসবজি, কলা, ছোলা

    বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু ঘাম নয়, যদি তালুর ঘামের সঙ্গে সঙ্গে শরীর দুর্বল লাগে, মনমরা ভাব হয় বা স্নায়বিক সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে দ্রুত রক্ত পরীক্ষা করা উচিত। অনেক সময় এই ঘাম আসলে শরীরের ভিতরের একটি সিগন্যাল।

    আপনার যদি অনবরত হাতের তালু ঘামার সমস্যা থাকে, তবে সেটিকে অবহেলা না করে যথাসময়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসা গ্রহণ করাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।

  • যে ভিটামিনের অভাবে শি’শু লম্বা হয় না, জেনে নিন

    যে ভিটামিনের অভাবে শি’শু লম্বা হয় না, জেনে নিন

    শিশুর বৃদ্ধি (লম্বা হওয়া) সঠিকভাবে না হওয়ার অন্যতম কারণ হলো কিছু গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিন ও খনিজের অভাব। বিশেষ করে, নিম্নলিখিত ৩টি ভিটামিন শিশুর উচ্চতা বৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    ১. ভিটামিন ডি: এটি হাড়ের বৃদ্ধির জন্য অপরিহার্য, কারণ এটি ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস শোষণে সাহায্য করে। ভিটামিন ডি-এর অভাবে হাড় দুর্বল হয়ে যায় এবং শিশুদের রিকেটস রোগ হতে পারে, যা উচ্চতা বৃদ্ধিকে বাধাগ্রস্ত করে। এর প্রধান উৎস হলো রোদ। তাছাড়া ডিমের কুসুম, দুগ্ধজাত খাবার, মাছ (স্যামন, টুনা)।

    ২. ভিটামিন এ: কোষ বিভাজন ও বৃদ্ধিতে সাহায্য করে, যা উচ্চতা বৃদ্ধির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ভিটামিন এ-এর অভাবে শিশুদের বৃদ্ধি ধীর হয়ে যেতে পারে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যেতে পারে। এর উৎস হলো- গাজর, মিষ্টি আলু, দুধ, ডিম, পেঁপে, সবুজ শাকসবজি।

    ৩. ভিটামিন কে: এটি হাড়ের গঠন ও ক্যালসিয়ামের কার্যকারিতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। ভিটামিন কে-এর অভাবে হাড় দুর্বল হয়ে যেতে পারে এবং শিশুর বৃদ্ধি ব্যাহত হতে পারে। এর উৎস হলো পালংশাক, ব্রকলি, বাঁধাকপি, সবুজ শাকসবজি, দুধ। অতিরিক্ত কিছু পুষ্টি উপাদান। শুধু এই ভিটামিনগুলোই নয়, ক্যালসিয়াম, জিঙ্ক ও প্রোটিন-এর অভাবেও শিশুর উচ্চতা স্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি নাও হতে পারে।

    তবে শিশু যদি বৃদ্ধি নিয়ে সমস্যায় থাকে, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া ভালো। পাশাপাশি, সুষম খাদ্য ও পর্যাপ্ত শারীরিক কার্যকলাপ (যেমন ব্যায়াম, খেলাধুলা) শিশুর উচ্চতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।