• নতুন পে-স্কেল নিয়ে বিপাকেই পড়েছে সরকার

    নতুন পে-স্কেল নিয়ে বিপাকেই পড়েছে সরকার

    সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন পে-স্কেল নিয়ে বিপাকেই পড়েছে সরকার। নির্বাচিত নতুন সরকার এসে পে-স্কেল বাস্তবায়ন করবে, সরকারের এমন ঘোষণায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

    সরকার বলছে, অর্থ সংকটের কারণে এবং সময় স্বল্পতার জন্য নতুন পে-স্কেল এখন বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। তারা একটা সুপারিশ দিয়ে যাবেন নির্বাচিত সরকারের কাছে। নতুন সরকার এসে তা বাস্তবায়ন করবে।

    কিন্তু কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মনে করে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর এটা ঝুলে যেতে পারে। এজন্য অন্তর্বর্তী সরকারকেই তা বাস্তবায়নের জন্য চাপ দিয়ে যাচ্ছে।

    অর্থ বিভাগের একটি সূত্র জানায়, নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের মতো আর্থিক সক্ষমতা বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের নেই। এজন্য অন্তত ৮০ থেকে ১০৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন। আবার নির্বাচনের জন্যও সরকারের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে খরচ বাড়ছে। ফলে সব দিক দিয়েই আর্থিক চাপে আছে সরকার। এজন্য তারা নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন থেকে পিছিয়ে যাচ্ছে।

    গত মঙ্গলবার জ্বালানি উপদেষ্টা বলেছেন, নতুন পে-স্কেল এই সরকার বাস্তবায়ন করতে পারবে না। এর আগে অবশ্য অর্থ উপদেষ্টা একাধিকবার বলেছেন, তারা পে-স্কেল বাস্তবায়ন করতে পারবেন না, তবে একটা সুপারিশ করে যাবেন।

    এ নিয়ে সচিবালয় ও এর বাইরে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। পে-স্কেল বাস্তবায়নের জন্য তারা আন্দোলনে নামারও হুমকি দিয়েছেন। যদিও তারা নির্দিষ্ট হারে ভাতা প্রাপ্য হচ্ছেন। কিন্তু সেটাকে তারা যথেষ্ট মনে করছেন না।

    একদিকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের বেতন বৈষম্য দূর করার দাবি, অন্যদিকে ক্রমবর্ধমান রাজস্ব ঘাটতি ও মূল্যস্ফীতির চাপ এই দুইয়ের মাঝে ভারসাম্য রক্ষা করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবিত পে-স্কেল কার্যকর হলে সরকারের বার্ষিক ব্যয় উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেড়ে যাবে। বর্তমানে রাজস্ব আদায়ে কাক্সিক্ষত গতি না থাকায় নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে, নির্বাচন পরবর্তী অর্থনৈতিক বাস্তবতায় ব্যয় সংকোচনের চাপ আরও বেড়েছে।

    সরকারি কর্মচারীদের বিভিন্ন সংগঠন বলছে, বিদ্যমান পে-স্কেলে জীবনযাত্রার ব্যয় মেটানো কঠিন হয়ে পড়েছে। খাদ্যপণ্য, বাসাভাড়া ও চিকিৎসা ব্যয়ের ঊর্ধ্বগতিতে মধ্যম ও নিম্ন স্তরের কর্মচারীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তাদের দাবি, দ্রুত একটি বাস্তবসম্মত ও সময়োপযোগী পে-স্কেল বাস্তবায়ন করতে হবে।

    অন্যদিকে অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে বলছেন, পর্যাপ্ত রাজস্ব সংস্কার ছাড়া বড় পরিসরে বেতন বাড়লে বাজেট ঘাটতি ও মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়তে পারে। এতে সামষ্টিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কাও রয়েছে। এ অবস্থায় সরকার বিকল্প পথ খুঁজছে বলে জানা গেছে। ধাপে ধাপে পে-স্কেল বাস্তবায়ন, নির্ধারিত ভাতা বৃদ্ধি অথবা নিম্ন গ্রেডে তুলনামূলক বেশি সুবিধা দেওয়ার মতো প্রস্তাব আলোচনায় আছে। তবে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

    এ প্রসঙ্গে বিশ্বব্যাংক ঢাকা অফিসের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ডক্টর জাহিদ হোসেন বলেন, পে-স্কেল ইস্যুতে সরকার কঠিন সমীকরণের মুখে রয়েছে। জনকর্মচারীদের ন্যায্য দাবি মেটানো আর অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার মাঝখানে সঠিক সিদ্ধান্তই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

    সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিভিন্ন সংগঠন বলছে, বিদ্যমান পে-স্কেলে বর্তমান বাজারমূল্যে জীবনধারণ করা কঠিন। খাদ্যপণ্যের দাম, বাসাভাড়া, শিক্ষা ও চিকিৎসা ব্যয় বাড়লেও সেই অনুপাতে বেতন-ভাতা বাড়েনি। এতে নিম্ন ও মধ্যম স্তরের কর্মচারীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে তারা দাবি করেন।

    একাধিক সংগঠনের নেতারা জানান, দ্রুত নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন না হলে আন্দোলনে যাওয়ার বিকল্প থাকবে না। তাদের ভাষ্য, রাষ্ট্র পরিচালনার অন্যতম স্তম্ভ সরকারি কর্মচারীরা আর্থিক অনিশ্চয়তায় ভুগলে প্রশাসনিক কার্যক্রমও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    অন্যদিকে, অর্থনীতিবিদরা বলছেন, কাঠামোগত রাজস্ব সংস্কার ও ব্যয় ব্যবস্থাপনা জোরদার না করে বড় পরিসরে বেতন বাড়ালে বাজেট ঘাটতি আরও বাড়তে পারে। এতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়বে এবং সামষ্টিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

    বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সরকার হয়তো ধাপে ধাপে পে-স্কেল বাস্তবায়নের পথে হাঁটতে পারে। বিকল্প হিসেবে নির্বাচিত ভাতা বৃদ্ধি, নিম্ন গ্রেডে তুলনামূলক বেশি সুবিধা দেওয়া বা সময়সীমা নির্ধারণ করে আংশিক বাস্তবায়নের বিষয়গুলো আলোচনায় রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি।

  • কমলো ৮০ হাজার টাকা, স্বর্ণের দামে বিশাল পতন

    কমলো ৮০ হাজার টাকা, স্বর্ণের দামে বিশাল পতন

    আন্তর্জাতিক বাজারে টানা ঊর্ধ্বগতির পর হঠাৎ বড় দরপতন দেখা গেছে স্বর্ণের দামে। একদিনেই বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমেছে প্রায় ৮ দশমিক ২২ শতাংশ, যা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে অন্যতম বড় পতন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

    বাংলাদেশ সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) দিবাগত রাত ২টা ৩০ মিনিটে স্পট গোল্ডের দাম নেমে আসে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৮৯০ ডলারে। এর আগের দিন প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ছিল প্রায় ৫ হাজার ২০০ ডলার। এমনকি বৃহস্পতিবার সকালে স্বর্ণের দাম ৫ হাজার ৫৫০ ডলারের ওপরে উঠে বিশ্ববাজারে ইতিহাসের সর্বোচ্চ রেকর্ড গড়ে।

    রেকর্ড দামে পৌঁছানোর মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে বিশ্ববাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম কমেছে প্রায় ৬৬০ ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ ৮০ হাজার ৫০০ টাকারও বেশি। স্বল্প সময়ের মধ্যে এমন বড় দরপতন বিশ্ব স্বর্ণবাজারে অস্থিরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

    খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর মধ্যে গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে টানাপোড়েন, ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং সামগ্রিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে সাম্প্রতিক সময়ে স্বর্ণের দাম দ্রুত বেড়ে রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছিল। তবে সেই উচ্চতা স্পর্শ করার পর গত দুই দিন ধরেই দরপতনের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

    বিশ্লেষকেরা বলছেন, বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার সময়ে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা বাড়ে এবং এতে দাম দ্রুত বাড়তে থাকে। কিন্তু স্বল্প সময়ে উল্লেখযোগ্য মুনাফা হওয়ায় অনেক বিনিয়োগকারী এখন লাভ তুলে নিতে শুরু করেছেন। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের ডলার শক্তিশালী হওয়া এবং সুদের হার দীর্ঘ সময় উচ্চ থাকতে পারে—এমন ইঙ্গিতও স্বর্ণের দামে চাপ সৃষ্টি করছে। এসবের সঙ্গে স্বাভাবিক মূল্য সংশোধন যুক্ত হয়ে সাম্প্রতিক দরপতন ঘটেছে।

    বিশ্ববাজারে এই বড় দরপতনের প্রভাব দ্রুতই দেশের বাজারে পড়েছে। ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই স্বর্ণের দামে বড় ধরনের ওঠানামা দেখা যাচ্ছে।

    গত বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সকালে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) এক ধাপে ভরিপ্রতি স্বর্ণের দাম ১৬ হাজার ২১৩ টাকা বাড়ায়। এতে ভালো মানের এক ভরি স্বর্ণের দাম দাঁড়ায় ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকা, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। তবে ২৪ ঘণ্টা না যেতেই দাম কমানোর ঘোষণা দেয় সংস্থাটি। শুক্রবার সকালে ভরিপ্রতি সর্বোচ্চ ১৪ হাজার ৬০০ টাকা কমানো হলে ভালো মানের স্বর্ণের দাম নেমে আসে ২ লাখ ৭১ হাজার টাকায়। নতুন এই দাম শুক্রবার সকাল ১০টা ৪৫ মিনিট থেকে কার্যকর হয়।

    বাজুসের সর্বশেষ তালিকা অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৭১ হাজার ৩৬৩ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৫৯ হাজার টাকা, ১৮ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২২ হাজার ২৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৮২ হাজার ৮৩৩ টাকা।

    রুপার দামও নতুন করে নির্ধারণ করা হয়েছে। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৭ হাজার ৭৫৭ টাকা, ২১ ক্যারেটের রুপা ৭ হাজার ৪০৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের রুপা ৬ হাজার ৩৫৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম ৪ হাজার ৭৮২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

  • এইমাত্র: রোজার মাসে স্কুল ছুটি নিয়ে নতুন ঘোষণা

    এইমাত্র: রোজার মাসে স্কুল ছুটি নিয়ে নতুন ঘোষণা

    পুরো রমজান মাসে স্কুল বন্ধ রাখতে সরকারকে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. ইলিয়াছ আলী মন্ডল। সোমবার (৫ জানুয়ারি) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবকে এই নোটিশ পাঠান তিনি। নোটিশে বলা হয়, বাংলাদেশের ৯৮ শতাংশ নাগরিক মুসলমান। বাংলাদেশ স্বাধীনতার পর থেকে রমজান মাসে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকে এটিই আইন, প্রথা ও নীতি এবং ওইভাবে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রমজান মাসে বন্ধ থাকে।

    সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, আইন ছাড়া কিছুই করা যাবে না, অনুচ্ছেদ ১৫২(১) অনুযায়ী আইন অর্থ বাংলাদেশে আইনের ক্ষমতা সম্পন্ন যেকোনো প্রথা ও রীতি। তাই প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় রমজান মাসে খোলা রাখার সরকারের বিতর্কিত সিদ্ধান্ত অসাংবিধানিক।

    নোটিশে আরও বলা হয়, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুলের কোমলমতি শিশু-কিশোররা সারাদিন স্কুলে যাতায়ত করে, ক্লাস করে ক্লান্ত হয়ে রোজা রাখতে কষ্টের সম্মুখীন হয়ে রোজা রাখবার অভ্যাস হতে দূরে থাকার সম্ভাবনা দেখা দেয়। যা ধর্মীয় আচার চর্চার অন্তরায়। এ ছাড়া রমজান মাসে স্কুল চালু রাখলে শহরগুলোতে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়, যাতে নগরবাসীকে চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হয়, যা কারও কাম্য নয়। রমজান মাসে স্কুল বন্ধ না রাখলে হাইকোর্টে রিট করা হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়।

    সম্প্রতি ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক ও নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং সব সরকারি ও বেসরকারি কলেজের বাৎসরিক ছুটির তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।

    সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আগের বছরের তুলনায় ১২ দিন ছুটি কমানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। নতুন ছুটির তালিকা অনুযায়ী, পবিত্র রমজান মাসের প্রায় পুরোটা সময় বিদ্যালয় খোলা থাকবে, যা নিয়ে শিক্ষক-অভিভাবকদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে।

    অন্যদিকে মাধ্যমিক ও নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছুটির তালিকার তথ্য অনুযায়ী, আগের বছরের তুলনায় এবার ১২ দিন ছুটি কমেছে। শবে মেরাজ, জন্মাষ্টমী, আশুরাসহ বেশ কয়েকটি দিনের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। পাশাপাশি পবিত্র রমজান মাসের অর্ধেকের বেশি সময় স্কুল খোলা রাখা হবে। তবে সব সরকারি ও বেসরকারি কলেজের ছুটির তালিকার তথ্য অনুযায়ী- এতে ৭২ দিন ছুটি রাখা হয়েছে। এর মধ্যে পবিত্র রমজান মাসের পুরো সময় কলেজ বন্ধ থাকবে।

  • পে-স্কেলের সভা শেষে এলো বড় সুখবর

    পে-স্কেলের সভা শেষে এলো বড় সুখবর

    নবম জাতীয় পে-স্কেল প্রণয়নকে কেন্দ্র করে পূর্ণ কমিশনের সভা শেষ হয়েছে। সভায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি পেনশনভোগীদের জন্য বড় সুখবরের কথা জানিয়েছেন কমিশনের কর্মকর্তারা। আজ বুধবার (২১ জানুয়ারি) বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটে এ সভা শেষ হয়।

    সভা সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবিত নবম জাতীয় পে-স্কেলে পেনশনভোগীদের পেনশনের হার উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাড়ানোর সুপারিশ করা হচ্ছে। এতে বিভিন্ন স্তরের পেনশনভোগীদের জন্য ভিন্ন ভিন্ন হারে পেনশন বৃদ্ধির প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

    সূত্র অনুযায়ী, যারা বর্তমানে মাসে ২০ হাজার টাকার কম পেনশন পান, তাদের পেনশন শতভাগ বা দ্বিগুণ বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে। মাসিক ২০ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা পেনশনপ্রাপ্তদের ক্ষেত্রে পেনশন বৃদ্ধির হার ৭৫ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে। আর যারা মাসে ৪০ হাজার টাকার বেশি পেনশন পান, তাদের পেনশন ৫৫ শতাংশ বাড়ানোর সুপারিশ করা হচ্ছে।

    এছাড়া প্রবীণ পেনশনভোগীদের জন্য চিকিৎসা ভাতা বাড়ানোর প্রস্তাবও রাখা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, ৭৫ বছরের বেশি বয়সী পেনশনভোগীদের চিকিৎসা ভাতা ১০ হাজার টাকা নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে, যা বর্তমানে ৮ হাজার টাকা। অন্যদিকে, ৫৫ বছরের কম বয়সী পেনশনভোগীদের জন্য চিকিৎসা ভাতা ৫ হাজার টাকা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

    কমিশন সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, দীর্ঘ আলোচনা ও পর্যালোচনার পর এসব সুপারিশ চূড়ান্ত করা হয়েছে। পে-কমিশনের প্রতিবেদন সরকারের কাছে জমা দেওয়ার পর তা যাচাই-বাছাই ও অনুমোদনের প্রক্রিয়া শেষে পেনশন ও বেতন কাঠামোর নতুন সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হবে।

    সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছেন, এ সুপারিশ বাস্তবায়িত হলে সরকারি পেনশনভোগীদের আর্থিক নিরাপত্তা আরও জোরদার হবে এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির চাপ অনেকটাই লাঘব হবে।