• দুই দফায় ভরিতে ৩০ হাজার টাকার বেশি কমলো স্বর্ণের দাম

    দুই দফায় ভরিতে ৩০ হাজার টাকার বেশি কমলো স্বর্ণের দাম

    রেকর্ড উচ্চতার পর হঠাৎই বড় পতন হল স্বর্ণবাজারে। টানা দুই দিনের ব্যবধানে দেশে ভরিপ্রতি স্বর্ণের দাম কমেছে ৩০ হাজার ৪০০ টাকা। দেশের স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) সর্বশেষ শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে স্বর্ণের ভরিতে ১৫ হাজার ৭৬২ টাকা কমিয়ে মূল্যবান ধাতুটির নতুন দাম প্রকাশ করে। এর আগে শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সকালে ১৪ হাজার ৬৩৮ টাকা কমিয়ে স্বর্ণের দাম প্রকাশ করে বাজুস।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য কমেছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

    নতুন নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী, সবচেয়ে ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেট হলমার্ককৃত স্বর্ণের প্রতি গ্রামের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২১ হাজার ৯১৫ টাকা। সেই হিসেবে দেশীয় পরিমাপ অনুযায়ী প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৫৫ হাজার ৬১৭ টাকা।

    একইসঙ্গে ২১ ক্যারেট হলমার্ককৃত স্বর্ণের প্রতি গ্রামের দাম ২০ হাজার ৯২০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা ভরিপ্রতি হিসেব করলে দাঁড়ায় ২ লাখ ৪৪ হাজার ১০ টাকা। অন্যদিকে ১৮ ক্যারেট স্বর্ণের বর্তমান গ্রামপ্রতি মূল্য ১৭ হাজার ৯৩০ টাকা অনুযায়ী প্রতি ভরির দাম পড়বে ২ লাখ ৯ হাজার ১৩৫ টাকা। এ ছাড়া সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের প্রতি গ্রামের দাম ধরা হয়েছে ১৪ হাজার ৭৩৫ টাকা, যার ভরিপ্রতি বাজারমূল্য দাঁড়াবে ১ লাখ ৭১ হাজার ৮৬৯ টাকা।

     

    এদিকে, বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস আরও জানায়, স্বর্ণের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে আবশ্যিকভাবে সরকার-নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট ও বাজুস-নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি ৬ শতাংশ যুক্ত করতে হবে। তবে গহনার ডিজাইন ও মানভেদে মজুরির তারতম্য হতে পারে।

    এর আগে শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) স্বর্ণের ভরিতে ১৪ হাজার ৬৩৮ টাকা কমিয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে বাজুস। তখন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৭১ হাজার ৩৬৩ টাকায়। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৫৮ হাজার ৯৯৯ টাকা ও ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২২ হাজার ২৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ বেচাকেনা হচ্ছে ১ লাখ ৮২ হাজার ৮৩৩ টাকায়।

    চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ১৮ বার সমন্বয় করা হয়েছে স্বর্ণের দাম। যেখানে দাম ১৩ দফা বাড়ানো হয়েছে; কমানো হয়েছে ৫ দফা। আর গত ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল; যেখানে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল, আর কমানো হয়েছিল ২৯ বার।

     

    স্বর্ণের দাম কমানোর সঙ্গে কমানো রয়েছে রুপার দামও। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভরিতে ৪৫৫ টাকা কমে বর্তমানে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৭ হাজার ৩০২ টাকায়। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৬ হাজার ৯৪০ টাকা ও ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৫ হাজার ৯৪৯ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপা বেচাকেনা হচ্ছে ৪ হাজার ৪৩২ টাকায়।

    চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ১৪ দফা সমন্বয় করা হয়েছে রুপার দাম। যেখানে দাম ৯ দফা বাড়ানো হয়েছে; কমানো হয়েছে বাকি ৫ দফা। আর ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ১৩ বার সমন্বয় করা হয়েছিল রুপার দাম। যার মধ্যে বেড়েছিল ১০ বার, আর কমেছিল মাত্র ৩ বার

  • দুই দিন বন্ধ থাকবে সব ব্যাংক

    দুই দিন বন্ধ থাকবে সব ব্যাংক

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষ্যে আগামী ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি (বুধবার ও বৃহস্পতিবার) দেশের সব তফসিলি ব্যাংক বন্ধ থাকবে। রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংক বিশেষ ছুটি ঘোষণা করে এই সিদ্ধান্ত জানিয়েছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষ্যে দেশে সরকারি ছুটি ঘোষণা করায় ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি (বুধবার ও বৃহস্পতিবার) দেশের সব তফসিলি ব্যাংক বন্ধ থাকবে। এ সময় ব্যাংকিং কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ থাকবে এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ছুটিতে থাকবেন।

    এর আগে গত ২৫ জানুয়ারি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে আগামী ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি সারাদেশে নির্বাচনকালীন নির্বাহী আদেশে ছুটি ঘোষণা করে সরকার। পাশাপাশি শিল্পাঞ্চলের শ্রমিক ও কর্মচারীদের আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি বিশেষ ছুটি দেয়া হয়েছে।

     

    প্রসঙ্গত, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। সেদিন সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

  • পে স্কেলের দাবিতে ৭ দফা, নতুন কর্মসূচি ও বিক্ষোভ

    পে স্কেলের দাবিতে ৭ দফা, নতুন কর্মসূচি ও বিক্ষোভ

    নবম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ এবং সাত দফা দাবির প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ শনিবার কঠোর আন্দোলনের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।

    এরই ধারাবাহিকতায় পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ ও ১ জানুয়ারি থেকে বাস্তবায়নের দাবিতে সারা দেশে সরকারি, আধা সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত দপ্তরগুলোতে কর্মচারীরা দুই ঘণ্টার অবস্থান কর্মসূচি ও বিক্ষোভ সমাবেশ পালন করেছেন।

    রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত এসব কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। একই কর্মসূচি আগামী সোম ও মঙ্গলবারও পালন করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

    আন্দোলনকারীরা জানান, সরকারি কর্মচারীরা দীর্ঘদিন ধরে পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন। এ লক্ষ্যে সরকার একটি কমিশন গঠন করে, যার প্রতিবেদন ইতোমধ্যে সরকারের হাতে জমা পড়েছে। তবে গেজেট প্রকাশে বিলম্ব এবং সরকার এই কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন করবে না—এমন বক্তব্য জ্বালানি উপদেষ্টার কাছ থেকে আসার পর থেকেই সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

    আজ সকাল থেকে সারা দেশের অফিসগুলোয় ২ ঘণ্টার জন্য সেবা কার্যক্রম বন্ধ থাকে। এতে জনগণ ব্যাপক ভোগান্তির শিকার হন।

    গত ৩০ জানুয়ারি বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদের পক্ষ থেকে ১ থেকে ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তিন দিন টানা দুই ঘণ্টা করে অবস্থান কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

  • এক হাজারের বেশি টাকা পাঠানো যাবে না বিকাশ,রকেট ও নগদে

    এক হাজারের বেশি টাকা পাঠানো যাবে না বিকাশ,রকেট ও নগদে

    ভোটের আগে টাকা দিয়ে প্রভাব বিস্তারের আশঙ্কায় মোবাইল ব্যাংকিং ও ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ে বড় ধরনের লাগাম টানার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ৮ থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি—এই ছয় দিন বিকাশ, নগদ, রকেটসহ সব মোবাইল ব্যাংকিং সেবায় দিনে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পাঠানো যাবে। প্রতিটি লেনদেনের সীমা হবে মাত্র এক হাজার টাকা। অর্থাৎ বড় অঙ্কের লেনদেন কার্যত বন্ধই থাকছে।

    একই সময়ে আরো কঠোর হচ্ছে ব্যাংকিং চ্যানেল। ইন্টারনেট ব্যাংকিং ব্যবহার করে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি টাকা পাঠানোর সুবিধা পুরোপুরি বন্ধ রাখার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ব্র্যাক ব্যাংকের আস্থা, সিটি ব্যাংকের সিটিটাচ, ডাচ্‌-বাংলা ব্যাংকের নেক্সাস পে—সব অ্যাপেই এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হতে পারে।

    বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) সূত্র জানায়, নির্বাচন কমিশনের অনুরোধেই এই উদ্যোগ।

    লক্ষ্য একটাই—ভোটার প্রভাবিত করতে অর্থের অপব্যবহার ঠেকানো।

    এরই মধ্যে নগদ টাকা উত্তোলন ও জমায় কড়া নজরদারি শুরু হয়েছে। কোনো হিসাবে এক দিনে ১০ লাখ টাকা বা তার বেশি লেনদেন হলে তা বাধ্যতামূলকভাবে বিএফআইইউকে জানাতে হবে। রিপোর্টে গড়মিল ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকও শাস্তির মুখে পড়তে পারে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্রের বরাতে জানা যায়, নির্বাচন কমিশনের চাহিদা অনুযায়ী শিগগিরই এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি হবে। প্রয়োজন হলে লেনদেনের সীমা আরো কমবেশি হতে পারে।

    বর্তমানে যেখানে এমএফএসে দিনে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত লেনদেন সম্ভব, সেখানে হঠাৎ এই কড়াকড়িতে গ্রাহক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। নির্বাচন ঘিরে ডিজিটাল টাকার গতিপথ যে এবার নজিরবিহীন নিয়ন্ত্রণে পড়ছে, তা বলাই বাহুল্য।