• রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কবে, কীভাবে হবে

    রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কবে, কীভাবে হবে

    নতুন সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের মাধ্যমে জাতীয় সংসদের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরাও এরই মধ্যে শপথ নিয়েছেন। বিএনপি সরকারের যাত্রা শুরু করার পর এই সরকারের আমলে রাষ্ট্রপতি কে হবেন বা কবে হবেন তা নিয়ে নানা আলোচনা চলছে।

    ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা সরকারের আমলেই রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিয়েছিলেন মো: সাহাবুদ্দিন। গণঅভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনা সরকার পতনের পর রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের দাবি ওঠে ছাত্র-জনতার পক্ষ থেকে। তবে তার কাছেই নতুন নির্বাচিত সরকার শপথ গ্রহণ করেছেন।

    ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার সরকারের আমলে রাষ্ট্রপতি মো: সাহাবুদ্দিন দায়িত্ব আসেন। তার মেয়াদ রয়েছে ২০২৮ সালের এপ্রিল মাস পর্যন্ত। ফলে ওই পদে থাকা অবস্থায় নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করার আইনগত সুযোগ নেই।

    যে কারণে তিনি যদি পদত্যাগ না করেন কিংবা অভিশংসন না করা পর্যন্ত নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে কেউ শপথ নিতে পারবেন না বলে জানাচ্ছেন সংবিধান বিশ্লেষকরা।

    আইনজীবী কাজী জাহেদ ইকবাল বলেন, এ নিয়ে সংবিধানেই বলা আছে যে রাষ্ট্রপতির পদ কিভাবে শূন্য হবে। পদ শূন্য হওয়ার পরই এই নিয়ে কার্যক্রম শুরু করবে নতুন সংসদ।

    বাংলাদেশের বিদ্যমান সংবিধানে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা খুবই সীমিত। যে কারণে রাষ্ট্র ব্যবস্থা সংস্কারের জুলাই সনদে প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য আনতে বেশ কিছু প্রস্তাবনাও আনা হয়েছে। সেসব প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বেশ কিছুটা বাড়বে।

    তিন কারণে শূন্য হয় রাষ্ট্রপতি পদ

    বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ রাষ্ট্রপতি। সংবিধান অনুযায়ী, একজন রাষ্ট্রপতির মেয়াদ পাঁচ বছর। সর্বোচ্চ দু’বার দায়িত্ব পালন করতে পারেন তিনি।

    ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা সরকারের আমলে ২০২৩ সালের এপ্রিলে দায়িত্ব নেয়া মো: সাহাবুদ্দিনের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ২০২৮ সালের এপ্রিলে।

    ২০২৪ এ গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের শপথও যেমন পড়িয়েছেন মো: সাহাবুদ্দিন, তেমনি তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের শপথ পাঠ করিয়েছেন তিনি।

    যদিও ২০২৪ সালের অক্টোবরে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের দাবিতে জোরাল আন্দোলন করেছিল বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা-কর্মীরা। তবে শেষ পর্যন্ত তাকে অপসারণ কিংবা তার পদত্যাগের ঘটনা ঘটেনি।

    তবে গত ডিসেম্বর মাসে বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে দেয়া একটি সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি মো: সাহাবুদ্দিন বলেছিলেন, ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর তিনি সরে যেতে চান। কারণ অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে তিনি ‘অপমাণিত বোধ’ করছেন।

    সেখানে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি সরে যেতে চাই, আমি সরে যেতে আগ্রহী। নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত আমি আমার দায়িত্ব পালন করে যাওয়া উচিত। সাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রপতির পদে থাকায় আমি আমার দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি।’

    বিশ্লেষকদের অনেকে ধারণা করছেন, মো: সাহাবুদ্দিনের কাছে শপথ নেয়া বিএনপি সরকার গঠনের পর রাষ্ট্রপতি পদে পরিবর্তন আসবে। নতুন রাষ্ট্রপতি কে হবেন তা নিয়ে নানা আলোচনাও চলছে।

    গতকাল মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে সংসদ সদস্যরা শপথ গ্রহণ করেছেন। এরপরই নতুন সংসদে নতুন স্পিকার দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। স্পিকারের কাছে রাষ্ট্রপতি যদি পদত্যাগপত্র জমা দেন তাহলে অভিশংসনের প্রয়োজন হবে না। রাষ্ট্রপতি আগেই সরে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করায় এক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হবে না বলেই বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন।

    নতুন সরকার ও সংসদ সদস্যরা দায়িত্ব নেয়ার পর রাষ্ট্রপতির পরিবর্তনের প্রশ্নটি সামনে আসতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

    নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন যেভাবে

    সংবিধানের ৫০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি তার পদে প্রবেশের তারিখ থেকে পাঁচ বছর দায়িত্ব পালন করবেন। কোনো ব্যক্তি দু’বারের বেশি রাষ্ট্রপতির পদে অধিষ্ঠিত থাকতে পারবেন না।

    সংবিধান বিশ্লেষক জাহেদ ইকবাল বলেন, ‘শারীরিক অসুস্থতা, মানসিক কারণ কিংবা গুরুত্বর কোন অসদাচরণজনিত কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হতে পারে।’

    মেয়াদ শেষ, পদত্যাগ কিংবা অভিসংশনজনিত কারণে রাষ্ট্রপতি পদ শূন্য হলে এই নির্বাচনের আয়োজন করে থাকে নির্বাচন কমিশন।

    সংবিধান অনুযায়ী, সংসদ সদস্যের ভোটেই নির্বাচিত হন রাষ্ট্রপতি। এক্ষেত্রে কারো বয়স ৩৫ বছরের কম ও সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য না হলে কেউ রাষ্ট্রপতি হতে পারবেন না।

    একসময় বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতি শাসিক সরকার ব্যবস্থায় সরাসরি ভোটে রাষ্ট্রপতি হওয়ার বিধান ছিল। তবে ১৯৯১ সালে পুনরায় সংসদীয় ব্যবস্থায় ফিরে যাওয়ার পরে সেই পদ্ধতি বাতিল হয়।

    বাংলাদেশের বিদ্যমান সংবিধান অনুযায়ী, এখন দেশটির রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন সংসদ সদস্যদের ভোটে।

    নিয়ম অনুযায়ী, বাংলাদেশের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ‘নির্বাচনী কর্মকর্তা’ হিসেবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পরিচালনা করেন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হলে স্পিকারের সাথে আলোচনা করে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন।

    সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি পদের মেয়াদ অবসানের কারণে পদ শূন্য হইলে মেয়াদ-সমাপ্তির তারিখের পূর্ববর্তী নব্বই হইতে ষাট দিনের মধ্যে শূন্য পদ পূরণের জন্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

    আইনজীবী ও সংবিধান বিশ্লেষক কাজী জাহেদ ইকবাল বলেন, ‘এক্ষেত্রে দু’জন সংসদ সদস্যের প্রয়োজন হবে। একজন থাকবেন প্রস্তাবক আরেকজন সমর্থক।’

    রাষ্ট্রপতি পদে একক প্রার্থী হলে বিধান অনুযায়ী ভোটগ্রহণের প্রয়োজন পড়ে না।

    তফসিল ঘোষণার পর সংসদ অধিবেশন চলাকালীন সময়ে এই নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। তবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রয়োজনীয় সময়ে যদি অধিবেশন না থাকে, তাহলে নির্বাচন কমিশন স্পিকারের সাথে আলোচনা করে প্রজ্ঞাপন জারি করে ভোটগ্রহণের কমপক্ষে সাতদিন আগে অধিবেশন আহ্বান করবে।

    রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতার ভারসাম্যের প্রশ্ন

    বাংলাদেশের বিদ্যমান সংবিধানে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা কতখানি তা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে নানা প্রশ্ন সামনে এসেছে।

    এক্ষেত্রে বিশ্লেষকরা মনে করেন, রাষ্ট্রপতির তেমন কোনো নির্বাহী ক্ষমতা নেই। তাই অনেকেই পদটিকে ‘আলঙ্কারিক’ হিসেবেও আখ্যা দেন। তবে রাজনৈতিক সঙ্কট কিংবা নির্বাচনের সময়ে রাষ্ট্রপতি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারেন।

    গণঅভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনা বাংলাদেশ থেকে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পরে রাষ্ট্রপতি পদের গুরুত্ব বাড়ে। কারণ সংসদ ভেঙে দেয়া হলে শাসন ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতি একমাত্র সাংবিধানিক কর্তৃপক্ষ হিসাবে বহাল থাকেন।

    সংবিধানের ৪৮ অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতির দু’টি ক্ষমতার কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা আছে। এ ধারা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগ করতে পারেন।

    প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্রেই রাষ্ট্রপতির কারো পরামর্শ নেয়ার প্রয়োজন নেই- এটা আইনে বলা আছে। কিন্তু বাংলাদেশে বিগত সময়ে এই বিষয়গুলোর খুব একটা চর্চা দেখা যায়নি বলেই মনে করেন রাজনৈতিক ও সংবিধান বিশ্লেষকরা।

    রাষ্ট্র সংস্কারে অন্তর্বর্তী সরকারের ঐকমত্য কমিশনের ধারাবাহিক আলোচনার পর জুলাই সনদ প্রস্তুত হয়েছে। গণভোটের ‘হ্যাঁ’ জয়ের ফলে যে সংস্কার প্রস্তাবগুলোর বাস্তবায়নের পথ খুলেছে, তারমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রস্তাব হলো প্রধানমন্ত্রীর একচ্ছত্র ক্ষমতা কিছুটা কমার পাশাপাশি রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা কিছু ক্ষেত্রে বাড়বে।

    বিদ্যমান সংবিধান অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে রাষ্ট্রপতিকে কাজ করতে হয়। তবে জুলাই সনদের প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে মানবাধিকার কমিশন, তথ্য কমিশন, প্রেস কাউন্সিল, আইন কমিশন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ও এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে কারো পরামর্শ বা সুপারিশ ছাড়াই নিজ এখতিয়ারে রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দিতে পারবেন।

    আইনজীবী কাজী জাহেদ ইকবাল বলেন, ‘রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বাড়ানো কিংবা রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য তৈরির যে বিষয়গুলো জুলাই সনদে রয়েছে এটার জন্য আগে সংবিধান সংশোধন করতে হবে।’

    তার মতে, সংবিধান সংশোধন করে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিষয়টি এখনো সময় সাপেক্ষ বিষয়। তার আগ পর্যন্ত ক্ষমতার ভারসাম্যের বিষয়টি নিশ্চিত হবে না।

    সংসদ সদস্যরা শপথ নেয়ার পর জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন কবে শুরু হবে সেটি এখনো নিশ্চিত করা হয়নি। সেই অধিবেশন শুরুর আগে রাষ্ট্রপতি পদে পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

  • শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পুনঃভর্তি ফি নেয়া যাবে না: শিক্ষা মন্ত্রণালয়

    শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পুনঃভর্তি ফি নেয়া যাবে না: শিক্ষা মন্ত্রণালয়

    দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আর্থিক অনিয়ম রোধ, স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং জবাবদিহিতা জোরদারের লক্ষ্যে নতুন ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আর্থিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নীতিমালা’ প্রকাশ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। নীতিমালায় বলা হয়েছে, কোনো প্রতিষ্ঠানে ভর্তি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে কোনোভাবেই পুনঃভর্তি ফি আদায় করা যাবে না।

    শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পুনঃভর্তি ফি নেয়া যাবে না: শিক্ষা মন্ত্রণালয়

    সোমবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) েমন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ এ নীতিমালা জারি করে।


    নীতিমালায় আরও বলা হয়, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (স্কুল, স্কুল অ্যান্ড কলেজ, উচ্চ মাধ্যমিক কলেজ ও ডিগ্রি কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক স্তর)-এর ক্ষেত্রে ‘টিউশন ফি নীতিমালা ২০২৪’ অনুযায়ী নির্ধারিত টিউশন ফি গ্রহণ করা যাবে। এর বাইরে নতুন কোনো খাত সৃষ্টি করে অর্থ আদায় করা যাবে না বলে নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে।


    নীতিমালায় বলা হয়েছে, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের যাবতীয় আয়-ব্যয়ের ক্ষেত্রে প্রচলিত সরকারি আর্থিক বিধি-বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে। পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও প্রতিষ্ঠান প্রধানের যৌথ স্বাক্ষরে প্রতিষ্ঠানের হিসাব পরিচালিত হবে এবং তহবিলের আয়-ব্যয়ের হিসাব প্রতিষ্ঠান প্রধানকে সংরক্ষণ করতে হবে।


    পরিচালনা কমিটির মাধ্যমে কোনো ধরনের আর্থিক অনিয়ম বা দুর্নীতি হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা দায়বদ্ধ থাকবেন এবং তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত বিধিবিধান অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আর্থিক অনিয়মের জন্য পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও প্রতিষ্ঠান প্রধান যৌথভাবে দায়ী থাকবেন বলেও নীতিমালায় উল্লেখ রয়েছে।

    আয় ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নামে তফসিলি ব্যাংকে হিসাব খুলতে হলে সরকারি মালিকানাধীন ব্যাংককে অগ্রাধিকার দিতে হবে। শিক্ষার্থীদের প্রদত্ত সব প্রকার ফি, দান-অনুদান ও সম্পত্তি থেকে প্রাপ্ত আয় নির্ধারিত ব্যাংক হিসাব অথবা সোনালী পেমেন্ট গেটওয়ে (SPG) কিংবা সরকারি মালিকানাধীন অন্যান্য ব্যাংকের পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে গ্রহণ করতে হবে।

    তবে জরুরি প্রয়োজনে বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষেত্রে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা সাপেক্ষে নগদ অর্থ গ্রহণ করা যাবে। সেক্ষেত্রে আদায়কৃত অর্থ দুই কর্মদিবসের মধ্যে ব্যাংক হিসাবে জমা দিতে হবে।

    মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আয়-ব্যয়ের খাতে কোনো সংযোজন, বিয়োজন বা পরিবর্তন করতে হলে তাদের অনুমোদন প্রয়োজন হবে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড বা বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত খাতে আদায়কৃত অর্থ যথাযথ প্রক্রিয়ায় জমা দিতে হবে।
  • রোজা ও ঈদের ছুটি কবে, জানালো মাউশি

    রোজা ও ঈদের ছুটি কবে, জানালো মাউশি

    নিম্ন মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় পুরো রমজান বন্ধ রাখার যে নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট, তা স্থগিত হয়ে গেছে। ফলে আগামী ৮ মার্চ থেকেই স্কুলে ঈদুল ফিতরের ছুটি শুরু হবে।

    মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) একাধিক সূত্র আজ মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মাউশির এক কর্মকর্তা বলেন, ‘হাইকোর্টের আগের নির্দেশনা স্থগিত হয়ে যাওয়ায় স্কুলের ক্লাস কার্যক্রম যথাযথভাবে চলবে। ৭ মার্চ পর্যন্ত ক্লাস হবে। ৮ মার্চ থেকে স্কুলে ঈদের ছুটি শুরু হবে।’

    এর আগে গত রবিবার এক রিট মামলার শুনানি শেষে পুরো রোজার মাস স্কুল বন্ধ রাখার আদেশ দিয়েছিল হাইকোর্ট।

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন, গণভোট ও শিবরাত্রী ব্রত উপলক্ষে প্রাথমিক, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজগুলো টানা পাঁচ দিন বন্ধ ছিল। সোমবার থেকে প্রতিষ্ঠানগুলোতে ক্লাস শুরু হয়েছে।

    তবে নির্বাচনের ছুটির মধ্য দিয়ে মাদ্রাসাগুলোর শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ঈদের ছুটি শুরু করেছেন। মাদ্রাসার ছুটির তালিকা ও বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী, আগামী ২৮ মার্চ পর্যন্ত ছুটি চলবে।

    অপরদিকে, কলেজের ছুটির তালিকা ও বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী, বুধবার থেকে কলেজগুলোয় ঈদের ছুটি শুরু হচ্ছে। ক্লাস শুরু হবে ২৯ মার্চ থেকে।

  • দেশবাসীর উদ্দেশে বাংলাদেশ ব্যাংকের সতর্কতা

    দেশবাসীর উদ্দেশে বাংলাদেশ ব্যাংকের সতর্কতা

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসল টাকার আদলে তৈরি ‘নমুনা নোট’ ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা ও অবৈধ কার্যক্রম চালানোর ঘটনায় দেশবাসীকে সতর্ক করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) এক জরুরি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ সতর্কবার্তা জারি করে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিপার্টমেন্ট অব কমিউনিকেশন অ্যান্ড পাবলিকেশন জানায়, সম্প্রতি ফেসবুক ও ইউটিউবসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে কিছু ভিডিও ও ছবি ছড়িয়ে পড়েছে। এসব কনটেন্টে আসল নোটের ডিজাইন ও আকার হুবহু অনুকরণ করে বড় আকৃতির ‘নমুনা নোট’ প্রদর্শন করা হচ্ছে। একটি অসাধু চক্র এসব নোট ব্যবহার করে মিথ্যা প্রচারণা চালাচ্ছে এবং সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে অবৈধ বিপণন কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাজারে কিংবা জনসমাগমস্থলে আসল টাকার সদৃশ কোনও কাগজ বা নোট ব্যবহার করে প্রচারণা চালানো সম্পূর্ণ অবৈধ। এ ধরনের কর্মকাণ্ড জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে এবং তা দণ্ডবিধি, ১৮৬০ অনুযায়ী গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে। আইন লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করা হয়।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংক সাধারণ জনগণকে আসল নোটের আদলে কোনও কাগজ তৈরি, ব্যবহার বা প্রচার থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছে। একইসঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত যেকোনও আর্থিক তথ্য যাচাই ছাড়া বিশ্বাস না করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, জালিয়াতি এড়াতে এবং নিরাপদ লেনদেন নিশ্চিত করতে সর্বসাধারণকে সচেতন থাকতে হবে। আসল নোটের নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য ও চেনার উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে বাংলাদেশ ব্যাংকের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট পরিদর্শনের পরামর্শ দেওয়া হয়।

    আর্থিক বিষয়ে বিভ্রান্তি এড়াতে নির্ভরযোগ্য ও দাফতরিক উৎসের তথ্যের ওপর নির্ভর করারও আহ্বান জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।