• স্তনে ব্যথা হওয়ার কারণগুলো জানেন না অনেকেই

    স্তনে ব্যথা হওয়ার কারণগুলো জানেন না অনেকেই

    নারীদেহের একটি স্পর্শকাতর অঙ্গ স্তন। নানা শারীরিক জটিলতার সঙ্গে এটি সম্পর্কযুক্ত। নানা কারণে নারীর স্তনে ব্যথা হয়। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় যা ‘মাস্টালজিয়া’ নামে পরিচিত। প্রায় সববয়সী নারীই এই সমস্যায় ভুগতে পারেন।

    হালকা অস্বস্তি থেকে শুরু করে এই ব্যথা তীব্র ও তীক্ষ্ম হতে পারে। বেশিরভাগ নারীই স্তন ব্যথার ব্যাপারটিকে এড়িয়ে যান। খুব একটা গুরুত্ব দেন না কিংবা লজ্জায় লুকিয়ে রাখেন। অথচ এই অঙ্গটির ব্যথা একজন নারীর জীবনযাত্রার মানকে প্রভাবিত করতে পারে।


    স্তন ব্যথার নানা প্রকারভেদ রয়েছে। কেন এই ব্যথা হয়? স্তন ব্যথার লক্ষণ কী? চলুন এসম্পর্কিত তথ্য জেনে নিই এই প্রতিবেদনে-

     

    স্তনে ব্যথার প্রকারভেদ:

    ফ্রিকোয়েন্সি বা স্পন্দনহারের ওপর ভিত্তি করে, স্তন ব্যথাকে দুটি প্রধান বিভাগে ভাগ করা যায়:


    ১. চক্রাকার: এই ধরনের ব্যথার সঙ্গে মাসিক চক্র সম্পর্কিত। উভয় স্তনে এই ব্যথা হয়। প্রায়ই মাসিক বা পিরিয়ড শুরু হওয়ার কদিন আগে স্তন ব্যথা শুরু হয় এবং পিরিয়ড শুরু হওয়ার পর কমে যায়। ২০-৪০ বছর বয়সী নারীদের মধ্যে এই সমস্যা সবচেয়ে বেশি দেখা যায়।

    ২. অ-চক্রীয়: এমন ব্যথার সঙ্গে পিরিয়ডের কোনো সম্পর্ক নেই। যেকোনো স্তনে এই ব্যথা দেখা দিতে পারে। এটি ধ্রুবক বা বিরতিহীন হতে পারে। একই স্থানে ব্যথা হতে পারে আবার ছড়িয়ে যেতে পারে। আঘাত, অস্ত্রোপচারের হস্তক্ষেপ, সংক্রমণ ইত্যাদি কারণে স্তনে অ-চক্রীয় ব্যথা হতে পারে।

     

    স্তনে ব্যথার লক্ষণ:

    স্তনে ব্যথার নানা উপসর্গ রয়েছে। এর কিছু লক্ষণ হলো:

    • স্তন অঞ্চলে কোমলতা বা ব্যথা
    • জ্বালাপোড়া বা কাঁপার অনুভূতি
    • স্তনে নিবিড়তা
    • তীক্ষ্ণ ব্যথা
    • স্তন ফোলা বা ভারী হওয়া
    • অস্বস্তি যা বগল বা বাহুতে ছড়িয়ে পড়তে পারে

     

    স্তনে ব্যথার কারণ:

    ১. হরমোনের ওঠা-নামার কারণে স্তনে ব্যথা হতে পারে: 

    স্তন ব্যথার সঙ্গে হরমোনের পরিবর্তনের সম্পর্ক রয়েছে। পিরিয়ডের সময় হরমোনের ওঠানামার কারণে স্তনে ব্যথা বা কোমলতা দেখা দিতে পারে, বিশেষ করে পিরিয়ডের আগে। কিশোরী মেয়েদের পিরিয়ড হওয়ার আগে ও পরে স্তনে হালকা ব্যথা হয়। দেহে হরমোনের পরিবর্তনের কারণেই এ ব্যথা হয়ে থাকে। এতে ভয়ের কোনো কারণ নেই। পিরিয়ড শেষ হয়ে গেলে এ ব্যথা আর থাকে না।

    এছাড়াও গর্ভাবস্থার প্রথম দিকে হরমোনের পরিবর্তনের কারণে স্তনে ব্যথা বা সংবেদনশীলতা হতে পারে। অনেকসময় মেনোপজের সময় হরমোনের মাত্রা কমে যাওয়ায় স্তনে ব্যথা হতে পারে। কিছুক্ষেত্রে জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি, পিল বা হরমোন থেরাপির কারণে স্তনে ব্যথা হতে পারে।

     

    ২. আঘাতের কারণে স্তনে ব্যথা হতে পারে:

    আঘাতের কারণে কিংবা অন্য অন্য কারণেও স্তনে ব্যথা হতে পারে। বুকের পেশীতে চাপের কারণে এমন ব্যথা হতে পারে। আবার ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া বা ফাঙ্গাসের কারণে স্তনের সংক্রমণ হতে পারে। যা স্তনে ব্যথা বা প্রদাহ সৃষ্টি করে।

    ৩. গর্ভধারণের সময় নারীদের স্তনে ব্যথা হতে পারে:

    গর্ভকালীন গর্ভধারণের সময় নারীরা স্তনে ব্যথা অনুভব করতে পারেন। সাধারণত গর্ভবতীর গর্ভাবস্থা তিন মাস চলাকালীন স্তনে ব্যথা হওয়া শুরু হয়। তখন স্তনের আকার বৃদ্ধি পায় এবং অনেক সময় স্তনের ওপর দিয়ে নীলশিরা দেখা যায়। কারণ তখন দেহে অনেক বেশি পরিমাণে রক্ত প্রবাহ হতে থাকে ও হরমোনের পরিবর্তন ঘটে। অনেকসময় নারীদের স্তনে প্রদাহজনিত সমস্যা হয়। ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া অথবা ফাঙ্গাসের আক্রমণে এমনটা হয়ে থাকে। গর্ভাবস্থায় এই বিষয়ে অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে। কারণ এই ব্যথা থেকে জ্বরও আসতে পারে। এমনটা হলে দ্রুত ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।

     

    ৪. স্তনে সিস্ট হলে ব্যথা হতে পারে:

    স্তনের ভেতর এক ধরনের সিস্ট হতে পারে। এই সিস্টের ভেতর তরল জাতীয় পদার্থ থাকে যার নাম ব্রিজসিস্ট। স্তনের গ্রন্থি যখন বৃদ্ধি পায় তখন অনেকসময় এ সিস্ট দেখা দেয়। সিস্টের কারণে স্তনে ব্যথা হয়। এই সিস্টের আকার বৃদ্ধি পেলে স্তনে হাত দিলেও সিস্ট অনুভব করা যায়। এমনটা হলে যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

    ৫. স্তন্যদানের সময় ব্যথা হতে পারে:

    মা হওয়ার পর সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়ানোর সময়ও অনেকের স্তনে ব্যথা হয়ে থাকে। এজন্য বাচ্চাকে দুধ খাওয়ানোর আগে ও পরে সব সময় স্তন পরিষ্কার করে নেওয়া ভালো। এতে ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া অথবা ফাঙ্গাস হওয়ার আশঙ্কা থাকে না। অনেক সময় স্তনে ঘা হয়ে থাকে যার কারণেও স্তনে ব্যথা হয়। স্তনের নিপল বা বোঁটায় ব্যাকটেরিয়া দেখা দিলে এবং বাচ্চাকে দুধ খাওয়ানোর সময় ভাইরাস আক্রমণ করলে ব্যথা হতে পারে।

     

    এছাড়াও বুকে ব্যথার একটি মারাত্মক কারণ হলো স্তন ক্যানসার। দীর্ঘদিন ধরে যদি স্তনে ব্যথা হয়, সেসঙ্গে স্তনে চাকা অনুভব করেন, স্তনের বোঁটা থেকে পুঁজ বের হয় তাহলে দ্রুত একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

    (এই লেখাটি স্বাস্থ্য সচেতনতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে লেখা। এ বিষয়ে নিশ্চিত হতে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত)

  • ৫% সুদে ৩০ লাখ টাকা লোন, কিস্তি শুরু দেড় বছর পর

    ৫% সুদে ৩০ লাখ টাকা লোন, কিস্তি শুরু দেড় বছর পর

    পরিবেশবান্ধব বহুতল ভবনে ফ্ল্যাট কেনায় জামানত ছাড়াই ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত নিম্ন ও মধ্যবিত্তদের ঋণ দেবে ব্যাংক। এই ঋণের সুদহার পাঁচ থেকে সর্বোচ্চ ছয় শতাংশ।

    ২৪ জুলাই বাংলাদেশ ব্যাংকের সাসটেইনেবল ফাইন্যান্স ডিপার্টমেন্ট থেকে জারি করা সার্কুলারে পরিবেশবান্ধব খাতে বিদ্যমান ৪০০ কোটি টাকা পুনঃঅর্থায়ন কর্মসূচির আওতায় ফ্ল্যাট কেনায় ঋণের বিষয়টি নতুন করে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

    সার্কুলারে বলা হয়েছে, পরিবেশবান্ধব বহুতল ভবনে ফ্ল্যাট কেনার ঋণে ১৮ মাসের গ্রেস পিরিয়ডসহ ১০ বছর মেয়াদে ঋণ পাবেন। অর্থাৎ কিস্তি পরিশোধ শুরু হবে দেড় বছর পর থেকে। ব্যক্তির পাশাপাশি ক্ষুদ্র ইউনিট সমন্বিত বহুতল বিশিষ্ট পরিবেশবান্ধব আবাসন নির্মাণেও ঋণ দেওয়া হবে। এক্ষেত্রে আবাসন কোম্পানি ৩০ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবেন। কোম্পানির জন্যও সুদহার, ঋণের মেয়াদ ও গ্রেসপিরিয়ড হবে অভিন্ন।

    সার্কুলারে আরও বলা হয়, পরিবেশবান্ধব খাতে চুক্তিবদ্ধ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এতদিন চার শতাংশ সুদে তহবিল পেত। এখন পাবে তিন শতাংশ সুদে। ব্যাংকগুলো গ্রাহক পর্যায়ে পাঁচ থেকে সর্বোচ্চ ছয় শতাংশ সুদে ঋণ দেবে।

    এক্ষেত্রে পাঁচ বছরের কম মেয়াদি ঋণে সর্বোচ্চ সুদ হার হবে পাঁচ শতাংশ, পাঁচ থেকে আট বছরের কম মেয়াদে সাড়ে পাঁচ শতাংশ এবং আট বছরের বেশি মেয়াদে ছয় শতাংশ।

    এছাড়া পুনঃঅর্থায়ন কর্মসূচির আওতায় বনায়ন (সামাজিক, সমন্বিত বা কৃষি), ছাদের কৃষি বা উল্লম্ব চাষ বা বাগান, বায়োফ্লক মাছ চাষ, জৈব চাষ, খাঁচায় মাছ চাষ, কেঁচো কম্পোস্ট সার উৎপাদনেও ঋণ দেবে ব্যাংকগুলো।

  • কানে চুল গজানো কিসের ই’ঙ্গিত? বিশেষজ্ঞরা যা বলছেন!

    কানে চুল গজানো কিসের ই’ঙ্গিত? বিশেষজ্ঞরা যা বলছেন!

    সাধারণভাবে কানে চুল হওয়া কোনো বিশেষ রোগের লক্ষণ নয়। এটা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক শারীরিক ব্যাপার। তবে কিছু কারণ থাকে—

    ১. জেনেটিক কারণ (বংশগত)

    অনেক পুরুষের কানে চুল হওয়ার প্রধান কারণ বংশগত। পরিবারে যাদের আছে, তা২. বয়স বাড়া

    বয়স বাড়ার সাথে সাথে পুরুষদের কানে, নাকে ও ভ্রুতে চুল বাড়া একটা স্বাভাবিক শারীরিক পরিবর্তন। বিশেষ করে ৩০–৪০ বছর পর থেকে বেশি দে৩. হরমোন (অ্যান্ড্রোজেন) বৃদ্ধি

    টেস্টোস্টেরন বা অ্যান্ড্রোজেন লেভেল বেশি হলে শরীরের কিছু জায়গায় (নাক, কান, বুকে) চুল বাড়তে পারে।

    এটা কোনো সমস্যা না—শুধুই হরমোনের স্বাভাবিক৪. স্বাস্থ্য সমস্যা নয়

    অনেকে মনে করেন কানে চুল মানেই কোনো রোগ বা সমস্যা—

    ➡️ আসলে না। এটা শুনে মনে হলেও এর সাথে কিডনি/হার্ট/ডায়াবেটিসের কোনো সম্পসংক্ষেপে:

    কানে চুল হওয়া = বয়স, জেনেটিক, বা হরমোনের স্বাভাবিক প্রভাব।

    এটা কোনো খারাপ স্বাস্থ্য লক্ষণ না।র্ক নেই। প্রভাব।খা যায়দের হলে এটাও স্বাভাবিক

  • ঢাকাসহ সারাদেশের জন্য বড় দুঃসংবাদ

    ঢাকাসহ সারাদেশের জন্য বড় দুঃসংবাদ

    চলছে বছরের শীতলতম মাস জানুয়ারি। দেশ জুড়ে বইছে শৈত্যপ্রবাহ। ঘন কুয়াশা আর হাঁড় হিম করা শীতে কাঁপছে পুরো দেশ। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে এসেছে এক অঙ্কে।

    বিজ্ঞাপন
    আজ শনিবার (৩ জানুয়ারি) দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। উত্তরের জেলা সিরাজগঞ্জ ও নওগাঁয় রেকর্ড হয়েছে এ তাপমাত্রা।

    এর মধ্যেই আবহাওয়া অধিদপ্তরের খবর, চলতি মাসে মোট পাঁচটি শৈত্য প্রবাহ বয়ে যেতে পারে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। তাপমাত্রা নেমে যেতে পারে চার ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত।

     

    আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মো. মমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, চলতি মাসে ২ থেকে ৩টি শৈত্যপ্রবাহ হবে মৃদু থেকে মাঝারি তাপমাত্রার (৮-১০ ডিগ্রি থেকে ৬-৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস)। এবং ১ থেকে ২টি শৈত্যপ্রবাহ হবে মাঝারি থেকে তীব্র (৬-৮ ডিগ্রি থেকে ৪-৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস)।

    মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের নদ-নদী অববাহিকাসহ কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে পড়তে পারে ঘন কুয়াশা, অন্যত্র হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশার সম্ভাবনাও রয়েছে। কখনও কখনও এই কুয়াশা স্থায়ী থাকতে পারে দুপুর পর্যন্ত। ঘন কুয়াশার কারণে দিন এবং রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য কমে শীতের অনুভূতি আরও বাড়বে।

    বিজ্ঞাপন

    আরও পড়ুন

    বাংলাদেশে শীতকালে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল কোন কোন বছরে?
    উল্লেখ্য, দেশের ইতিহাসে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা দেখা গিয়েছিল ২০১৮ সালে। ওই বছরের জানুয়ারি মাসে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় দুই দশমিক ছয় ডিগ্রি সেলসিয়াস। ওই একই বছর উত্তরাঞ্চলের বিভাগ রংপুরের সৈয়দপুরের তাপমাত্রাও রেকর্ড ভেঙেছিল, তাপমাত্রা গিয়ে ঠেকেছিলো দুই দশমিক নয় ডিগ্রি সেলসিয়াসে। ২০১৮ সালে উত্তরাঞ্চলের জেলা নীলফামারীর ডিমলা, কুড়িগ্রামের রাজারহাট এবং দিনাজপুরের তাপমাত্রা ছিল তিনের ঘরে। সেগুলো হলো যথাক্রমে— তিন, তিন দশমিক এক এবং তিন দশমিক দুই ডিগ্রি সেলসিয়াস।

    এর আগে, ২০১৩ সালে বাংলাদেশে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। সেসময় রংপুর, দিনাজপুর ও সৈয়দপুরের তাপমাত্রা ছিল যথাক্রমে তিন দশমিক পাঁচ, তিন দশমিক দুই ও তিন ডিগ্রি সেলসিয়াস। এই তালিকায় আছে রাজশাহীও।

    ২০০৩ সালে সেখানকার তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় তিন দশমিক চার ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা এখন পর্যন্ত রেকর্ড হওয়া সর্বনিম্ন তাপমাত্রার মাঝে অন্যতম।