আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে মাদরাসাগুলোতে পবিত্র রমজানের ছুটি শুরু হচ্ছে, তবে স্কুলগুলিতে এবার ১৫ রমজান পর্যন্ত ক্লাস চলবে। এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন অনেক শিক্ষক। ক্ষুব্ধ শিক্ষকদের একটি অংশ মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি)-তে আবেদন করেছেন যাতে স্কুলের রমজানের ছুটি পুনরায় সমন্বয় করা হয়।
মাউশির এক কর্মকর্তা গত রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন যে, রমজানের ছুটি সমন্বয়ের বিষয়ে আবেদনটি ইতোমধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। তিনি জানান, অধিকাংশ মাধ্যমিক শিক্ষার্থী রোজা পালন এবং নিয়মিত নামাজ আদায় করে, তাই বিষয়টি বিবেচনায় রেখে মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
ওই কর্মকর্তা বলেন, “এটি মূলত শিক্ষকদের পক্ষ থেকে করা একটি আবেদন। রোজা রেখে নিয়মিত ক্লাস চালানো এবং তারাবির নামাজ আদায় করা শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের জন্য কষ্টসাধ্য। অতীতেও এমন সমন্বয় ছিল, তাই এবারও তা কার্যকর হওয়ার আশা রয়েছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপর নির্ভর করছে।”
সূত্র জানায়, এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের আবেদনের ভিত্তিতে এই চিঠি পাঠানো হয়েছে। জোটের সদস্য সচিব অধ্যক্ষ দেলাওয়ার হোসেন আজিজী এ আবেদন করেছেন।
এ আবেদনের প্রেক্ষিতে পুরো রমজান মাসে সরকারি-বেসরকারি নিম্ন মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক স্কুল বন্ধ রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিচারপতি ফাহমিদা ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ডিসেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ থেকে প্রকাশিত বার্ষিক ছুটির তালিকায় রমজান মাসে ৫ মার্চ পর্যন্ত প্রায় ১৫ দিন স্কুল খোলা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের পক্ষে নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত থাকা কঠিন হয়ে ওঠে। এছাড়া মার্চ, মে এবং ডিসেম্বরের নির্দিষ্ট সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোকে বার্ষিক ছুটির অংশ হিসেবে গণনা করা হয়েছে।