গোয়েন্দা জরিপে চাঞ্চল্যকর তথ্য! ২০০ আসনে জয়ের পথে বিএনপি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা ও সরকারের একাধিক নিরাপত্তা ইউনিটের পরিচালিত জরিপে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) বিপুল ব্যবধানে এগিয়ে থাকার তথ্য উঠে এসেছে। যদিও নিরাপত্তাজনিত কারণে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল প্রকাশ করেনি, তবে সংশ্লিষ্ট মহলের বিভিন্ন বিশ্লেষণ ও প্রতিবেদন থেকে নির্বাচনের একটি সম্ভাব্য চিত্র পাওয়া যাচ্ছে।

সারাদেশের সামগ্রিক চিত্র একাধিক স্বতন্ত্র অনলাইন জরিপ এবং অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা মূল্যায়নে দেখা গেছে, বিএনপি ২০০টির কাছাকাছি আসনে জয়লাভ করে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পথে রয়েছে। এই লড়াইয়ে বিএনপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উঠে এসেছে জামায়াতে ইসলামী। অনেক স্থানে স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও বড় ধরনের চমক দেখাতে পারেন বলে আভাস দেওয়া হয়েছে।

উত্তরবঙ্গের জেলাভিত্তিক সম্ভাব্য ফলাফল গোয়েন্দা প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোতে দলগুলোর অবস্থান নিম্নরূপ:

পঞ্চগড়: পঞ্চগড়-১ আসনে বিএনপি প্রার্থী ব্যারিস্টার নওশাদ জমির সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন। পঞ্চগড়-২ আসনে বিএনপির ফরহাদ হোসেন আজাদ এগিয়ে থাকলেও জামায়াতের সফিউল আলমের সঙ্গে তাঁর তীব্র লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।

ঠাকুরগাঁও: ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নিরঙ্কুশ জনপ্রিয়তায় এগিয়ে আছেন। তবে ঠাকুরগাঁও-২ আসনে জামায়াত প্রার্থী আব্দুল হাকিম শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছেন। ঠাকুরগাঁও-৩ আসনে বিএনপি, জাতীয় পার্টি ও জামায়াতের ত্রিমুখী লড়াইয়ের শেষে বিএনপি প্রার্থীর জয়ের পাল্লা ভারী।

দিনাজপুর: জেলার ৬টি আসনের মধ্যে ৪টিতেই বিএনপির আধিপত্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দিনাজপুর-৪ আসনে জামায়াতের এবং দিনাজপুর-৫ আসনে বিএনপির একজন বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থীর জয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।

নীলফামারী ও লালমনিরহাট: এই জেলাগুলোতে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে লালমনিরহাটের তিনটি আসনের মধ্যে দুটিতে বিএনপি এগিয়ে রয়েছে।

রংপুর: জাতীয় পার্টির এই দুর্গেও এবার পরিবর্তনের হাওয়া। রংপুরের ৬টি আসনের মধ্যে ৩টিতে বিএনপি এবং ২টিতে জামায়াত এগিয়ে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

নিরাপত্তা পরিকল্পনা ও সতর্কবার্তা গোয়েন্দা সংস্থাগুলো মূলত নির্বাচনের দিন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতেই এই জরিপগুলো পরিচালনা করেছে। প্রতিবেদনে শঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে যে, হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হওয়া আসনগুলোতে উত্তেজনা বাড়তে পারে। তবে সামগ্রিকভাবে ভোটারদের মধ্যে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা প্রবল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।