২১ জানুয়ারি সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম জানান, এবার নির্বাচন শেষে ফলাফল ঘোষণায় কিছুটা সময় লাগতে পারে।
১০ ফেব্রুয়ারি বিদেশি সাংবাদিকদের জন্য স্থাপিত মিডিয়া সেন্টারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ইসি সচিব বলেন, রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে থাকা পোস্টাল ব্যালটের ফলাফল অন্য কেন্দ্রগুলোর তুলনায় দেরিতে পৌঁছাতে পারে। পোস্টাল ব্যালটের কাঠামোগত কারণে সেগুলো যাচাই-বাছাইতে বাড়তি সময় লাগবে বলেও জানান তিনি।
ইসি সচিব আরো বলেন, পোস্টাল ব্যালটে ভোটারের ঘোষণাপত্রে সই যাচাই করতে একাধিক ধাপ পার হতে হয়। ঘোষণাপত্রে সঠিক সই থাকলেই ব্যালট বৈধ ধরা হবে; সই অনুপস্থিত থাকলে ব্যালট বাতিল হবে। যাচাই শেষে বৈধ ব্যালটগুলো আলাদা করে সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ফল নির্ধারণে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এই ধাপগুলোই সময় বাড়াবে বলে মনে করছে ইসি।
নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ফলাফল একসঙ্গে ঘোষণা করা হবে। কেন্দ্রেও একই সঙ্গে ভোট গণনা শুরু করা হবে।
অন্য নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, নির্বাচন শেষে যত দ্রুত সম্ভব ফলাফল প্রকাশ করা হবে। তার আশা—১৩ ফেব্রুয়ারির প্রথম ভাগেই ভোটের চূড়ান্ত ফল জানা যাবে।
ইসি কর্মকর্তারা জানান, ভোটগ্রহণ শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তার নির্ধারিত কক্ষে পোস্টাল ব্যালট গণনা শুরু হবে। এজন্য প্রতিটি আসনে একজন করে মোট ৩০০ প্রিসাইডিং অফিসার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রার্থীদের মনোনীত এজেন্টও উপস্থিত থাকতে পারবেন। ঘোষণাপত্র যাচাই—খাম খোলা, সই মিলানো, বৈধ ব্যালট ছাঁটাই, এসব একাধিক ধাপ অনুসরণ করেই গণনা সম্পন্ন হবে।
ইসি সচিবালয়ের সাবেক অতিরিক্ত সচিব ও নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সদস্য জেসমিন টুলী বলেন, নির্বাচন কমিশন সর্বোচ্চ চেষ্টা চালালে শুক্রবার সন্ধ্যার আগেই চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা সম্ভব। এর আগেই বিভিন্ন কেন্দ্র ও আসনের ফল আসতে শুরু করবে এবং ধাপে ধাপে তা প্রকাশ করা হবে।
এদিকে ইসি জানিয়েছে, সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে কত শতাংশ ভোট পড়েছে, তা দুই ঘণ্টা পরপর প্রতি কেন্দ্র থেকে সংগ্রহ করা হবে। ভোটের অগ্রগতি ডিজিটাল সিস্টেমে আপলোড করা হবে, যা কমিশন তাৎক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণ করবে।
জানা গেছে, ১৯৭৭ সালের প্রথম গণভোটের ফল ঘোষণা করতে ৩০ ঘণ্টা সময় লেগেছিল। এবার জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ২ হাজার ২৮ জন প্রার্থী, অংশ নিয়েছে ৫০টি রাজনৈতিক দল। ভোটাররা আজ দুটি ব্যালটে ভোট দেবেন—সংসদ নির্বাচনের ব্যালট সাদাকালো, আর গণভোটের ব্যালট গোলাপি রঙের।