আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ শিরোনামে ৯ দফা সংবলিত নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে বিএনপি। যেখানে সাধারণ মানুষের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর পাশাপাশি সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সবচেয়ে আকর্ষণীয় ঘোষণা হিসেবে এসেছে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি।
ইশতেহারে বিএনপি বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়েছে জনপ্রশাসন সংস্কারের ওপর। দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সরকার গঠন করলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন পে-স্কেল কার্যকর করা হবে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই সময়ে সরকারি কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে এটি একটি বড় পদক্ষেপ হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। শুধু বেতন বৃদ্ধিই নয়, প্রশাসনে মেধা, সততা ও দক্ষতাকে অগ্রাধিকার দিয়ে একটি ‘মেরিটোক্রেসি’ বা মেধাভিত্তিক কাঠামো গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেছেন দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
বেকারত্ব দূরীকরণ এবং সরকারি সেবা গতিশীল করতে বিএনপি প্রায় ৫ লাখ শূন্য পদে দ্রুত ও স্বচ্ছ নিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। দলটির মতে, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার উদ্যোগগুলো যথেষ্ট নয়। তাই একটি ‘প্রশাসনিক সংস্কার কমিশন’ গঠন করে পুরো জনপ্রশাসনকে ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতে সরকারি কর্ম কমিশনকে (পিএসসি) আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করার কথা বলা হয়েছে ইশতেহারে।
ডিজিটাল যুগে প্রশাসনকে আরও জনবান্ধব করতে ই-গভর্ন্যান্স চালুর বিষয়টি ইশতেহারে স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দক্ষতা বাড়াতে দেশে ও বিদেশে উন্নত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার পাশাপাশি একটি যুগোপযোগী ‘সিভিল সার্ভিস আইন’ প্রণয়নেরও অঙ্গীকার করা হয়েছে। এর মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয় প্রভাবমুক্ত রেখে পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করা হবে বলে আশা করছে দলটি।