তিমির বমির দাম কেন কোটি টাকা

শুনতে অবাক লাগলেও সত্য তিমি মাছের বমি আন্তর্জাতিক বাজারে অত্যন্ত মূল্যবান। এই বিরল পদার্থের নাম অ্যাম্বারগ্রিস, যা সুগন্ধি শিল্পে ‘ভাসমান সোনা’ নামে পরিচিত। সীমিত প্রাপ্যতা ও অনন্য গুণাগুণের কারণে এর দাম পৌঁছে যায় কোটি টাকায়।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞানীদের মতে, স্পার্ম হোয়েল বা দন্তযুক্ত তিমির পাকস্থলীতে কখনও কখনও স্কুইডের শক্ত অংশ আটকে যায়। দীর্ঘ সময় ধরে ওই কণাগুলোর সঙ্গে পাকস্থলীর রাসায়নিক নিঃসরণের বিক্রিয়ায় ধীরে ধীরে তৈরি হয় মোমসদৃশ, পিচ্ছিল এক ধরনের পদার্থ এটাই অ্যাম্বারগ্রিস। অনেক ক্ষেত্রে তিমি এটি বমির মাধ্যমে বের করে দেয়, যা পরে সমুদ্রপৃষ্ঠ ভেসে উপকূলে এসে জমে শক্ত হয়ে যায়।

নবগঠিত অ্যাম্বারগ্রিসের গন্ধ শুরুতে তিতা বা মলজাতীয় হলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি শক্ত হয়ে একধরনের মিষ্টি, উষ্ণ ও মাটির ঘ্রাণযুক্ত সুবাসে রূপ নেয়। এই বিশেষ সুগন্ধি বৈশিষ্ট্যের কারণেই পারফিউম শিল্পে এর চাহিদা ব্যাপক। বিশেষজ্ঞদের মতে, অ্যাম্বারগ্রিস সুগন্ধিকে দীর্ঘস্থায়ী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

কোথায় ব্যবহার হয়?

সুগন্ধি শিল্পে: বিশ্বখ্যাত পারফিউমে অ্যাম্বারগ্রিস সুগন্ধির স্থায়িত্ব ও গভীরতা বাড়াতে ব্যবহৃত হয়।

বিজ্ঞাপন

ঔষধি গবেষণায়: কিছু ঐতিহ্যবাহী ও আধুনিক চিকিৎসা গবেষণায় এর সম্ভাব্য ব্যবহার নিয়ে কাজ চলছে।

সীমিত উৎপাদন, দীর্ঘ প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া এবং আন্তর্জাতিক চাহিদার কারণে অ্যাম্বারগ্রিসের মূল্য কয়েক কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে।

বিজ্ঞাপন
উচ্চ মূল্যের লোভে অনেক সময় অবৈধভাবে তিমি শিকার বা অ্যাম্বারগ্রিস পাচারের ঘটনা ঘটে। বিশ্বের বহু দেশে এর সংগ্রহ ও বিক্রি আইনত নিষিদ্ধ। সম্প্রতি ভারতের রাজস্ব গোয়েন্দা অধিদপ্তর তামিলনাড়ুর তুতিকোরিন উপকূল থেকে ১৮.১ কেজি অ্যাম্বারগ্রিস উদ্ধার করে, যার কালোবাজারি মূল্য ধরা হয় প্রায় ৩১.৬৭ কোটি টাকা।