শিশু সাজিদ কখন মারা গেছে, যা জানাল চিকিৎসক

রাজশাহীর তানোরে সরু গর্ত দিয়ে মাটির গভীরে পড়ে যাওয়া শিশু সাজিদকে ৩২ ঘণ্টা পর উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস। পরে রাত ৯টার ৩৫ মিনিটে হাসপাতালে নেওয়া হলে তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. বার্নাবাস হাসদা জানিয়েছেন, শিশু সাজিদকে রাত ৯টা ৩৫ মিনিটে তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হয়। তবে শিশুটিকে এর আগেই মারা গেছে। অতিরিক্ত ঠান্ডা এবং অক্সিজেন না পাওয়ায় শিশু সাজিদের মৃত্যু হয়েছে বলে জানান তিনি।

প্রায় ৩২ ঘণ্টা পর বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) রাত ৯-১৫ মিনিটের দিকে গভীর নলকূপের জন্য খনন করা গর্তে পড়ে যাওয়া দুই বছর বয়সী শিশুটিকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস। ফায়ার সার্ভিসের অপারেশন ডিরেক্টর লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী জানান, শিশুটিকে ৬০ ফুট নিচ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

তবে শিশুর নানা আইয়ূব আলী বলেন, উদ্ধারের সময় সাজিদ বেঁচে ছিল। ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা বলছিলেন সে বেঁচে আছে। আমি নিজে দেখেছি সে বেঁচে ছিল। কিন্তু হাসপাতালে আসার পর মারা গেল। মরদেহ তার বাড়ি তানোর কুড়িরহাট পূর্বপাড়া নেওয়া হয়েছে।

রাত ১০টার দিকে তাজুল ইসলাম জানান, আমরা যখন শিশু সাজিদকে অচেতন অবস্থায় পাইপের ভেতর থেকে তুললাম, তখন আমাদেরও আবেগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হলেও পরে জানা যায়-শিশুটি আর নেই। তার পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এ কর্মকর্তা।

এ উদ্ধার অভিযানকে অত্যন্ত জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ বলে ব্যাখ্যা করে তাজুল বলেন, এটি সাধারণ কোনো উদ্ধার কার্যক্রম ছিল না। আগুন নেভানো বা পানিতে ডুবে যাওয়া মানুষের উদ্ধার কাজের চেয়ে এটি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন ও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। পাইপটির ব্যাস ছিল মাত্র ৬ থেকে ৮ ইঞ্চি। ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই স্থানীয়রা আবেগের বশবর্তী হয়ে পাইপে নিজ উদ্যোগে উদ্ধার চেষ্টা চালান। এতে হিতে বিপরীত হয়ে পাইপের ভেতরে প্রচুর মাটি ও খড়কুটো জমে যায়, যার নিচে চাপা পড়ে শিশুটি।

তিনি বলেন, আমরা সার্চ ভিশন ক্যামেরা প্রবেশ করানোর পর দেখতে পাই পাইপের ভেতরে কেবল মাটি ও খড়কুটো-ভিকটিমের কোনো অস্তিত্ব বা হাত-পা দেখা যাচ্ছিল না। তখনই আমরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ি। তবুও শিশুটি বেঁচে আছে-এই আশায় সর্বোচ্চ সতর্কতা ও সেফটি মেনে উদ্ধার কাজ চালানো হয়।

জানা যায়, গত বুধবার দুপুরে উপজেলার পাঁচন্দর ইউনিয়নের কোয়েলহাট গ্রামে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। শিশু সাজিদ তার মা ও ভাইয়ের সঙ্গে বাড়ির পাশের একটি জমি পার হচ্ছিল। জমিটি খড় দিয়ে ঢাকা ছিল। সাজিদের মা জানতেন না যে খড়ের নিচেই রয়েছে একটি অরক্ষিত গভীর নলকূপের গর্ত। হাঁটার সময় হঠাৎ সাজিদ গর্তে পড়ে যায়। পেছন থেকে ‘মা মা’ চিৎকার শুনে মা ফিরে দেখেন সাজিদ নেই। খড় সরাতেই বেরিয়ে আসে মৃত্যুকূপ।

পরে বুধবার বিকেল থেকে ফায়ার সার্ভিসের বেশ কয়েকটি ইউনিট উদ্ধার অভিযান শুরু করে। এ পর্যন্ত প্রায় ৬০ ফুট গভীর পর্যন্ত খনন করার সন্ধান মেলে সাজিদের। উদ্ধার কাজে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় ফায়ার সার্ভিসের ৮টি ইউনিট টানা উদ্ধারকাজ চালায়।

স্থানীয়রা জানান, গত বছর স্থানীয় এক ব্যক্তি এখানে গভীর নলকূপ স্থাপনের চেষ্টা করেন। কিন্তু ১২০ ফুট নিচেও পানি না পাওয়ায় পাইপটি পরিত্যক্ত অবস্থায় মুখ খোলা রেখেই ফেলে রাখা হয়। গত বছরের বৃষ্টিতে গর্তটির মুখ আরও বড় হয়। কোনো সতর্কতামূলক ব্যবস্থা বা ঢাকনা না থাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।