Category: বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

  • ১৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য যে দেশে সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধের প্রস্তাব

    ১৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য যে দেশে সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধের প্রস্তাব

    আগামী জানুয়ারি থেকে ১৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার এবং হাই স্কুলে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব বিবেচনা করছে ফ্রান্স সরকার। ফরাসি কাউন্সিল অব স্টেট আগামী ৮ জানুয়ারি বিলটি পর্যালোচনা করবে বলে জানিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যম। খবর প্রস্তাবিত এই আইনে ১৫ বছরের কম বয়সি কিশোর-কিশোরীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রবেশ নিষিদ্ধ করার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে নতুন শিক্ষাবর্ষ তথা ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে হাই স্কুলে মোবাইল ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধের বিষয়েও জোর দেয়া হয়েছে।

    সরকারি সূত্র জানিয়েছে, বিলটি এমনভাবে প্রস্তুত করা হয়েছে যাতে তা ইউরোপীয় আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। এর আগে একই ধরনের ভিন্ন একটি উদ্যোগ ইউরোপীয় আইন মানতে ব্যর্থ হওয়ায় কার্যকর করা যায়নি।

     

    গত নভেম্বরে প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেন, তিনি ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষের শুরু থেকে হাই স্কুলেও মোবাইল ফোন ব্যবহারের নিষেধাজ্ঞা সম্প্রসারণ করতে চান। আর ১৫ বা ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপের পক্ষে তিনি।

    উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের একটি আইনের আওতায় নার্সারি স্কুল থেকে মিডল স্কুল পর্যন্ত মোবাইল ফোন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রয়েছে। যদিও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হয়েছে সরকার।

    সাম্প্রতিক বিভিন্ন একাডেমিক গবেষণায় দেখা গেছে, মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ফলে শিশু-কিশোরদের মধ্যে মানসিক স্বাস্থ্যের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। আর মোবাইল ফোনের কারণে মনোযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া বা অ্যাটেনশন স্প্যান কমে যাওয়ার মতো বিষয়টিও ক্রমেই বিপজ্জনক হয়ে উঠছে।

     

    অস্ট্রেলিয়া ও মালয়েশিয়াসহ বেশ কয়েকটি দেশ ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে। অস্ট্রেলিয়ায় গত ১০ ডিসেম্বর এ সংক্রান্ত বিধান কার্যকর হয়েছে। মালয়েশিয়া আগামী বছর এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।

  • ১ জানুয়ারি থেকে বন্ধ হচ্ছে যেসব সিম কার্ড

    ১ জানুয়ারি থেকে বন্ধ হচ্ছে যেসব সিম কার্ড

    জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সিম ব্যবহারে আরও কঠোর হচ্ছে সরকার। এক ব্যক্তির নামে থাকা মোবাইল সিম কার্ডের সংখ্যা কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ১ জানুয়ারি থেকে জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে একজন গ্রাহক সর্বোচ্চ পাঁচটি নতুন সিম নিবন্ধন করতে পারবেন। বর্তমানে যাদের নামে ছয় থেকে ১০টি সিম রয়েছে, সেগুলোর সংখ্যাও ধাপে ধাপে কমিয়ে পাঁচে নামিয়ে আনা হবে।

    বিজ্ঞাপন
    সরকারের এই সিদ্ধান্তে আগের মতোই আপত্তি জানিয়েছে মোবাইল ফোন অপারেটররা। তবে অনিয়ম ও অপব্যবহার রোধে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

    এদিকে সিম ব্যবহারের দিক থেকে বিশ্বের দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান এখন নবম। এ তালিকায় বাংলাদেশের পেছনে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, জাপান, জার্মানি, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, দক্ষিণ কোরিয়া, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামের মতো দেশ।

     

    বিটিআরসির পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, রাস্তাঘাটে সিম কেনার সময় কিছু অসাধু বিক্রেতা গ্রাহকের অজান্তেই বায়োমেট্রিক তথ্য সংরক্ষণ করছে। এসব তথ্য ব্যবহার করে অবৈধভাবে অতিরিক্ত সিম নিবন্ধন করা হচ্ছে। পর্যালোচনায় আরও উঠে এসেছে, অনেক ক্ষেত্রে একজন গ্রাহক এক দিনেই দুইটির বেশি সিম কিনছেন, যা স্বাভাবিক নয় বলে মনে করছে সংস্থাটি।

    বিটিআরসির সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের অক্টোবরে দেশে মোবাইল সিম ব্যবহারকারীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৮ কোটি ৭৯ লাখ ৭০ হাজার। এর মধ্যে গ্রামীণফোনের গ্রাহক ৮ কোটি ৫৯ লাখ, রবির ৫ কোটি ৭৫ লাখ, বাংলালিংকের ৩ কোটি ৭৯ লাখ এবং টেলিটকের গ্রাহক ৬৬ লাখ ৭০ হাজার।

    বিজ্ঞাপন
    এর আগে ২০২৪ সালের অক্টোবরে দেশে সিম ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিল ১৮ কোটি ৯৯ লাখ। ২০২৩ সালের অক্টোবরে ছিল ১৮ কোটি ৯৬ লাখ, ২০২২ সালে ১৮ কোটি ১৬ লাখ এবং ২০২১ সালে ১৮ কোটি ১৩ লাখ। গত এক দশকে দেশে সিম ব্যবহারকারী বেড়েছে প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি। ২০১৫ সালে যেখানে ব্যবহারকারী ছিল ১৩ কোটি ৩৭ লাখ, তা ২০২০ সালে বেড়ে দাঁড়ায় ১৭ কোটিতে।

    সিম ব্যবহারের অপব্যবহার ঠেকাতে সরকার ইতোমধ্যে একাধিক কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে গত আগস্টে এক ব্যক্তির নামে ১০টির বেশি সিম থাকলে অতিরিক্ত সিম ৩০ অক্টোবরের মধ্যে বাতিল বা মালিকানা পরিবর্তনের নির্দেশ দেয় বিটিআরসি। সংস্থার তথ্যমতে, দেশে বর্তমানে মোট নিবন্ধিত সিমের সংখ্যা ২৬ কোটি ৬৩ লাখ। এর মধ্যে প্রায় ১৯ কোটি সিম সক্রিয় এবং বাকি সিমগুলো নিবন্ধিত হলেও নিষ্ক্রিয় রয়েছে।

    বিজ্ঞাপন
    গত আগস্ট পর্যন্ত এক ব্যক্তির নামে ১০টির বেশি সক্রিয় সিম ছিল প্রায় ৬৭ লাখ। গত তিন মাসে এর মধ্যে প্রায় ১৫ লাখ সিম গ্রাহক স্বেচ্ছায় বাতিল করেছেন। তবে এখনো প্রায় ৫০ থেকে ৫৩ লাখ সিম বাতিল হয়নি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসব সিম বাতিল না করায় সংশ্লিষ্ট মোবাইল অপারেটরের মাধ্যমে সেগুলো বন্ধ করে দেওয়া হবে।

    এ বিষয়ে বিটিআরসির সিস্টেমস অ্যান্ড সার্ভিস বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস এম মনিরুজ্জামান বলেন, তিন মাস সময় দেওয়ার পরও যারা ডি-রেজিস্ট্রেশন করেননি, তাদের সক্রিয় সিম পর্যায়ক্রমে বাতিল করা হবে।

    অন্যদিকে বিটিআরসি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) এমদাদ উল বারী স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, পয়লা জানুয়ারি থেকে নতুন করে সিম নিবন্ধনের ক্ষেত্রে একজন গ্রাহকের নামে পাঁচটির বেশি সিম রাখার সুযোগ আর থাকবে না।

     

  • এবার এক ডোজ ক্যানসার ওষুধেই পাঁচ দিনে প্রায় গায়েব হলো মস্তিষ্কের টিউমার!

    এবার এক ডোজ ক্যানসার ওষুধেই পাঁচ দিনে প্রায় গায়েব হলো মস্তিষ্কের টিউমার!

    মাত্র এক ডোজ পরীক্ষামূলক ওষুধ প্রয়োগের পর এক নারীর মস্তিষ্কে থাকা মারাত্মক টিউমার মাত্র পাঁচ দিনের মধ্যেই প্রায় সম্পূর্ণ অদৃশ্য হয়ে গেছে! যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস জেনারেল ক্যান্সার সেন্টারে পরিচালিত এক যুগান্তকারী ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে এই চমকপ্রদ সাফল্য অর্জিত হয়েছে।

    বিজ্ঞানীরা বলছেন, এটি মস্তিষ্কের ক্যানসার চিকিৎসায় এক “টার্নিং পয়েন্ট” হতে পারে। পরীক্ষায় ব্যবহৃত নতুন ধরনের CAR-T সেল ইমিউনোথেরাপি রোগীর নিজস্ব প্রতিরোধ কোষকে পুনঃপ্রোগ্রাম করে টিউমার কোষ শনাক্ত ও ধ্বংস করতে সক্ষম করে।

    প্রচলিত চিকিৎসার তুলনায় এই থেরাপির বিশেষত্ব হলো — এটি একাধিক টিউমার মার্কার একসাথে টার্গেট করে, ফলে ক্যানসার কোষ শনাক্তকরণ থেকে পালিয়ে বাঁচতে পারে না। সাধারণত গ্লিওব্লাস্টোমা (glioblastoma) নামের এই মস্তিষ্কের ক্যানসার সবচেয়ে আক্রমণাত্মক ও চিকিৎসা-প্রতিরোধী রোগ হিসেবে পরিচিত।

    পরীক্ষার এক অবিশ্বাস্য ঘটনায় দেখা গেছে, এক রোগীর টিউমার ইনফিউশনের মাত্র পাঁচ দিনের মধ্যেই নাটকীয়ভাবে সঙ্কুচিত হয়ে প্রায় অদৃশ্য হয়ে যায়। আরেকজন রোগীর টিউমার ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ছোট হয় এবং ছয় মাস পর্যন্ত স্থিতিশীল থাকে — যা সাধারণত কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই আবার ফিরে আসে।

    যদিও পরবর্তীতে টিউমার কিছুটা ফিরে এসেছে, গবেষকরা একে “অভূতপূর্ব প্রতিক্রিয়া” হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন এবং বলছেন, এটি ভবিষ্যতে দীর্ঘস্থায়ী এমনকি সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য থেরাপির পথ খুলে দিতে পারে।

    বর্তমানে গবেষক দলটি এই চিকিৎসা আরও উন্নত করার পাশাপাশি, এর প্রভাবকে দীর্ঘমেয়াদে টিকিয়ে রাখার উপায় এবং অন্যান্য কঠিন টিউমারে প্রয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করছে।

    এই ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালটি চিকিৎসা বিজ্ঞানে এক আশাজাগানিয়া পদক্ষেপ, যা একসময়ে অনিরাময়যোগ্য বলে মনে করা গ্লিওব্লাস্টোমাকে হয়তো একদিন নিয়ন্ত্রণযোগ্য বা নিরাময়যোগ্য রোগে রূপান্তরিত করতে পারবে।

  • ফেসবুকের নতুন আপডেট: ৪ শর্ত মানলেই লাখো দর্শকের কাছে পৌঁছে যাবে পেজ

    ফেসবুকের নতুন আপডেট: ৪ শর্ত মানলেই লাখো দর্শকের কাছে পৌঁছে যাবে পেজ

    বর্তমান বিশ্বের জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক বিশাল এক আপডেট নিয়ে এসেছে। এই আপডেটের ফলে ফেসবুক নিজেই ব্যবহারকারীদের প্রোফাইল ও পেজ নতুন নতুন দর্শকের কাছে পৌঁছে দেবে । তবে এ জন্য মানতে হবে চারটি সুনির্দিষ্ট শর্ত

    বিশেষজ্ঞদের ভাষ্যমতে, এই চার শর্ত মেনে চললে কনটেন্ট ক্রিয়েটররা সহজেই ফলোয়ার বাড়াতে পারবেন এবং আয়ের সুযোগও তৈরি হবে।সেই চার শর্ত কী? তা জেনে নিন।

    ১. মূল বিষয়বস্তু তৈরি করুন:
    কোনোভাবেই অন্যের কনটেন্ট কপি না করে নিজস্ব ও মৌলিক কনটেন্ট তৈরি করতে হবে। ভিডিও, ব্লগ বা যেকোনো কনটেন্টে মৌলিকতা বজায় রাখতে হবে।

    ২. শেয়ারযোগ্য কনটেন্ট বানান:
    চিন্তা-ভাবনা করে এমন কনটেন্ট তৈরি করতে হবে যাতে দর্শক দেখার পর স্বেচ্ছায় অন্যদের সঙ্গে শেয়ার করতে আগ্রহী হয়। মজার, তথ্যবহুল বা উপকারী কনটেন্ট এর মধ্যে অন্যতম।

    ৩. ফেসবুকের নির্দেশনা মেনে চলুন:
    ফেসবুকের নীতিমালা ভঙ্গ করলে মনিটাইজেশন হারাতে হবে কিংবা ভিডিও ট্যাকডাউন হয়ে যেতে পারে। তাই অন্যের ভিডিও বা ছবি ব্যবহার না করে, হতাশাজনক বা ঘৃণাসৃষ্টিকারী কনটেন্ট এড়িয়ে যেতে হবে।

    ৪. বোনাস শর্ত: রিলস ভিডিও তৈরি করুন:
    ফেসবুক চায়, ধারাবাহিকভাবে আকর্ষণীয় ও মানসম্মত রিলস ভিডিও তৈরি করলে নতুন দর্শকের কাছে পৌঁছানো সবচেয়ে সহজ হয়। বিশেষ করে নতুন প্রোফাইল বা পেজের জন্য এটি কার্যকর।

    সময়ের অন্যতম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের দাবি, লং ভিডিওর তুলনায় রিলস নতুন দর্শকের কাছে দ্রুত পৌঁছে যায়। তাই নতুন কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য এটি বড় সুযোগ।

    বিশেষজ্ঞ মত:
    ডিজিটাল মার্কেটিং বিশেষজ্ঞদের ভাষ্যমতে, ফেসবুকের নতুন এই আপডেট অনেকের জন্য গেম চেঞ্জার হতে পারে। যারা নিয়ম মেনে মৌলিক কনটেন্ট তৈরি করবেন, বিশেষত রিলসের ওপর গুরুত্ব দেবেন, তাদের জন্য সাফল্যের সম্ভাবনা অনেক বেশি। ফেসবুক ব্যবহারকারীরা এখন নিয়মিতভাবে এই চার শর্ত মানলে সহজেই নতুন দর্শক, ফলোয়ার এবং আয়ের সুযোগ পেতে পারেন।