Category: ধর্ম

ধর্ম

  • রাতে সহবাসের পর গোসল না করে সেহেরি খেলে কি রোজা হবে?

    রাতে সহবাসের পর গোসল না করে সেহেরি খেলে কি রোজা হবে?

    রাতে সহবাসের পর গোসল না করে সেহেরি খেলে কি রোজা হবে?
    রমজানে রাতের বেলা স্বপ্নদোষ বা স্বামী স্ত্রী সহবাসের পর অনেক সময় গোসলের সময় থাকে না। কিন্তু এ দুই অবস্থায় গোসল করা ফরজ। এ ফরজ গোসল না করে যদি সেহরি খাওয়া হয় তাহলে কি রোজার কোনো ক্ষতি হবে। এই নিয়ে অনেকের মনে দ্বিধা দ্বন্দ্ব রয়েছে। আসুন জেনে রাখি মাসআলাটি।

    ফিকহবিদদের মতে, গোসল ফরজ হওয়া সত্ত্বেও গোসল না করেই সেহরি খেয়ে রোজা রাখলে রোজা সহি হবে। তবে ফজরের ওয়াক্ত থাকতেই গোসল করে সময় মতো নামাজ আদায় করে নিতে হবে। সব সময়ই মনে রাখতে হবে, গোসল ফরজ হওয়া সত্ত্বেও বিনা ওজরে গোসল না করে অপবিত্র অবস্থায় এক ওয়াক্ত নামাজের সময় অতিবাহিত হয়ে যাওয়া মারাত্মক গোনাহ। (মুসলিম হাদিস নং ২৫৯২, বাদায়ে, ১/১৫১)

    বিষয়টির প্রমাণ রাসুলের সহধর্মিণী উম্মুল মোমিনীন আয়েশা রা. বর্ণিত হাদিস— ﻛﺎﻥ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ ﻳﺪﺭﻛﻪ ﺍﻟﻔﺠﺮ ﻓﻲ ﺭﻣﻀﺎﻥ ﻭﻫﻮ ﺟﻨﺐ ﻣﻦ ﻏﻴﺮ ﺣﻠﻢ، ﻓﻴﻐﺘﺴﻞ ﻭﻳﺼﻮﻡ .

    রমজান মাসে স্বপ্নদোষ ব্যতীতই অপবিত্র অবস্থায় রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুবহে অতিক্রম করতেন। অত:পর তিনি গোসল করে রোজা রাখতেন। [বোখারি : ১৮২৯, মুসলিম : ১১০৯।] রাসুলের অপর স্ত্রী উম্মুল মোমিনীন উম্মে সালামা রা. বর্ণনা করেন:— ﻛﺎﻥ ﻳﺪﺭﻛﻪ ﺍﻟﻔﺠﺮ ﻭﻫﻮ ﺟﻨﺐ ﻣﻦ ﺃﻫﻠﻪ ﺛﻢ ﻳﻐﺘﺴﻞ ﻭﻳﺼﻮﻡ.

    সহবাসের ফলে না-পাকি অবস্থায় রাসুল সুবহে সাদিক অতিক্রম করতেন, অত:পর গোসল করে রোজা রাখতেন। [বোখারি : ১৯২৬]

    একই হুকুম-ভুক্ত হায়েজ ও নেফাসগ্রস্ত নারীরা। ফজর হওয়ার পূর্বেই যদি তারা পবিত্র হয়ে যায়, তবে গোসল না করেই নিয়ত করে নিবে।

  • রমজানের নতুন চাঁদ দেখার সময় এবার ঘটতে পারে বিরল ঘটনা

    রমজানের নতুন চাঁদ দেখার সময় এবার ঘটতে পারে বিরল ঘটনা

    বিশ্বজুড়ে মুসলমানরা আগামী মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় পবিত্র রমজান মাসের চাঁদ দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন। একই দিনে আরেকটি বিরল মহাজাগতিক ঘটনা ঘটতে পারে-একটি বলয়াকার সূর্যগ্রহণ। যদিও এই সূর্যগ্রহণ সংযুক্ত আরব আমিরাতে দৃশ্যমান হবে না। তবুও প্রশ্ন উঠেছে, সূর্যগ্রহণ কি রমজানের নতুন চাঁদ দেখায় কোনো প্রভাব ফেলবে?

    দুবাই অ্যাস্ট্রোনমি গ্রুপের জ্যোতির্বিদ খাদিজা আল হারিরি জানিয়েছেন, সূর্যগ্রহণের কারণে নতুন চাঁদ দেখায় কোনো প্রভাব পড়বে না। তিনি জানান, এই বলয়াকার সূর্যগ্রহণের সময় চাঁদ সূর্যের সামনে দিয়ে অতিক্রম করবে, তবে সূর্যকে পুরোপুরি ঢেকে দেবে না। ফলে সূর্যের চারপাশে একটি উজ্জ্বল বলয় দেখা যাবে, যাকে ‘রিং অব ফায়ার’ বলা হয়। খবর

    খাদিজা আল হারিরি বলেন, সূর্যগ্রহণটি হবে সূর্যাস্তের আগেই—সংযুক্ত আরব আমিরাতের সময় অনুযায়ী বিকেল চারটার দিকে। অথচ রমজানের চাঁদ দেখার চেষ্টা করা হয় সূর্যাস্তের পর। তাই এই সূর্যগ্রহণ চাঁদ দেখার প্রক্রিয়ায় কোনো বাধা তৈরি করবে না।

    ইসলামি ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, প্রতিটি মাস ২৯ বা ৩০ দিনের হয়ে থাকে এবং চাঁদ দেখার ওপরই নতুন মাসের সূচনা নির্ভর করে। যদি ১৭ ফেব্রুয়ারি চাঁদ দেখা যায়, তবে রমজান শুরু হবে পরদিন। আর যদি চাঁদ দেখা না যায়, তাহলে শাবান মাস ৩০ দিন পূর্ণ হবে এবং রমজান শুরু হবে ১৯ ফেব্রুয়ারি।

  • স্বামী স্ত্রী উ’লঙ্গ হয়ে একই বিছানায় ঘুমাতে পারবে কি? ইসলাম যা বলছে

    স্বামী স্ত্রী উ’লঙ্গ হয়ে একই বিছানায় ঘুমাতে পারবে কি? ইসলাম যা বলছে

    প্রশ্নটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। 🌿

    ইসলামে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের ক্ষেত্রে শালীনতা ও গোপনীয়তার বিষয়টি আল্লাহ তা’আলা বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন। কুরআনে বলা হয়েছে:

    > **”তারা (স্ত্রীরা) তোমাদের জন্য বস্ত্রস্বরূপ আর তোমরা তাদের জন্য বস্ত্রস্বরূপ।”**

    > (সূরা আল-বাকারা 2:187)

    📌 **মূল বিষয়গুলো:**

    1. **স্বামী-স্ত্রী উলঙ্গ হয়ে একসাথে থাকা**

    * স্বামী-স্ত্রীর একে অপরের সামনে উলঙ্গ হওয়া **হারাম নয়**। বরং স্বামী-স্ত্রীর জন্য একে অপরের দেহের প্রতিটি অঙ্গ বৈধ।

    * রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

    > *“তুমি তোমার স্ত্রীর কাছে যা ইচ্ছা তাই করতে পারো।”*

    > (মুসলিম শরীফে এর দলিল আছে যে স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক ভোগে কোনো সীমাবদ্ধতা নেই, হারাম কাজ ব্যতীত)।

    2. **একই বিছানায় ঘুমানো**

    * এতে কোনো সমস্যা নেই। স্বামী-স্ত্রীর জন্য একই বিছানায় উলঙ্গ হয়ে ঘুমানো **শরীয়ত সম্মত ও বৈধ**।

    3. **শর্ত**

    * তবে অন্য কেউ (সন্তান, আত্মীয়, অতিথি) যেন সেটি দেখতে না পায়। ইসলামে গোপনীয়তা রক্ষা করা ফরজ।

    * অন্যের সামনে (যেমন সন্তান বা তৃতীয় ব্যক্তি) উলঙ্গ থাকা **হারাম**।

    ✅ **সারসংক্ষেপ**: স্বামী-স্ত্রী চাইলে উলঙ্গ হয়ে একই বিছানায় ঘুমাতে পারবে। এতে ইসলাম কোনো নিষেধাজ্ঞা দেয়নি। শুধু শর্ত হলো, সেটা যেন তাদের গোপন বিষয়ই থাকে, অন্য কেউ যেন দেখে না ফেলে।

    আপনি কি চান আমি এ বিষয়ে **হাদিস ও আলেমদের ফতোয়া** থেকে সরাসরি কিছু রেফারেন্স দেখাই?

  • পা’য়খানার রাস্তার লো’ম কা’টা জায়েজ কিনা: ইসলাম যা বলছে

    পা’য়খানার রাস্তার লো’ম কা’টা জায়েজ কিনা: ইসলাম যা বলছে

    নিজস্ব প্রতিবেদন: ইসলামে শরীরের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়। নবী করিম (সা.) বগলের নিচ, নাভির নিচ এবং গোপনাঙ্গের পশম পরিষ্কার করতে নির্দেশ দিয়েছেন। এই বিষয়ে আনাস ইবনে মালেক (রা.)-এর একটি হাদিস সহিহ মুসলিম, সুনানে নাসাঈ এবং মুসনাদে আহমদ-সহ বহু হাদিস গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে, যেখানে রাসূল (সা.) এসব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ চল্লিশ দিনের মধ্যে করার সময়সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছেন।পায়খানার রাস্তার লোম (যেগুলো নাভীর নিচে এবং গোপনাঙ্গের আশেপাশে) কাটা বা পরিষ্কার করা জায়েজ আছে।

    এক্ষেত্রে ব্লেড, কাঁচি, হেয়ার রিমুভাল ক্রিম—যে কোনো উপায় গ্রহণযোগ্য। শরীয়ত এ ব্যাপারে নির্দিষ্ট কোনো পদ্ধতি বাধ্যতামূলক করেনি। যে পদ্ধতিতে নিরাপদ এবং স্বাস্থ্যসম্মতভাবে পশম অপসারণ সম্ভব, তা ব্যবহার করা জায়েজ।

    তবে ৪০ দিনের বেশি সময় এসব পশম না কাটলে তা গুনাহের কারণ হতে পারে। কিন্তু এ কারণে সালাত বাতিল বা অগ্রহণযোগ্য হবে—এমন কোনো প্রমাণ সহিহ হাদিসে পাওয়া যায় না। নামাজের বিশুদ্ধতা নির্ভর করে সালাতের ফরজ ও শর্ত সঠিকভাবে আদায় করার ওপর।

    এছাড়া অনেকে প্রশ্ন করেন—চুল ও নখ কাটার পর তা টয়লেটে ফেললে গুনাহ হয় কি না। ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে এটা গুনাহ নয়, তবে শরীরের অংশ হিসেবে এগুলোকে অপমানজনক স্থানে ফেলা অনুচিত। সাহাবিদের মধ্যে কেউ কেউ তা মাটির নিচে পুঁতে রাখার অভ্যাস করতেন। মাটি চাপা দেয়া উত্তম হলেও যদি কেউ তা ডাস্টবিনে ফেলে দেন, তবে গুনাহগার হবেন না—তবে এটি অনুত্তম কাজ হিসেবে বিবেচিত হবে।

    সর্বোপরি, ইসলাম শরীর ও আত্মার উভয়ের পবিত্রতায় গুরুত্ব দেয়। তাই দৈনন্দিন জীবনে ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার বিষয়টিকে অবহেলা না করে গুরুত্বের সঙ্গে পালন করা প্রত্যেক মুসলিমের দায়িত্ব।

    সোহাগ/