Category: জাতীয়

জাতীয়

  • এবার সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য কঠোর নির্দেশনা জারি!

    এবার সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য কঠোর নির্দেশনা জারি!

    আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির গণভোটকে কেন্দ্র করে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে নির্বাচন কমিশন। ভোট প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ কোনো পক্ষেই প্রচারণা চালানো থেকে তাদের বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই নির্দেশনা কার্যকর করতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে সব মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।

    জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনেই একযোগে এই গণভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের নির্দেশে অনেক সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণায় অংশ নিচ্ছিলেন। তবে নির্বাচন কমিশন বিষয়টি স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে গণভোটের কোনো পক্ষে প্রচার চালানো দণ্ডনীয় অপরাধ। বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে বিশেষ নির্দেশনা জারি করার পর প্রশাসন এখন তা বাস্তবায়নে সক্রিয় হয়েছে।

    মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদ এ প্রসঙ্গে গণমাধ্যমকে জানান যে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা বাস্তবায়নে সব পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দাপ্তরিকভাবে অবহিত করা হচ্ছে। যদিও গণমাধ্যমের মাধ্যমে বিষয়টি ইতিমধ্যে সবার নজরে এসেছে তবে এখন থেকে প্রশাসনিক আদেশের মাধ্যমে এটি নিশ্চিত করা হবে। কমিশনের দেওয়া প্রতিটি বিধিনিষেধ যেন অক্ষরে অক্ষরে পালিত হয় সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখা হচ্ছে।

    অন্যদিকে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এহছানুল হক মন্তব্য করেন যে আগে সুনির্দিষ্ট বিধি না থাকায় অনেকে প্রচারণায় অংশ নিয়েছিলেন। তবে এখন কমিশনের বিধিনিষেধ চলে আসায় কোনো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী আর ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোটের পক্ষে কোনো প্রচারাভিযান বা কর্মকাণ্ডে যুক্ত হবেন না। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরপেক্ষতা বজায় রাখাই এখন মূল লক্ষ্য।

  • আরো ৪৪ নেতাকে বহিষ্কার করলো বিএনপি

    আরো ৪৪ নেতাকে বহিষ্কার করলো বিএনপি

    দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য ও সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ময়মনসিংহ, সিলেট ও গাইবান্ধার বিভিন্ন উপজেলা ও ওয়ার্ডের বিভিন্ন পদধারী আরো ৪৪ নেতা-কর্মীকে বহিষ্কার করেছে বিএনপি। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত পৃথক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এসব তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়—দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার জন্য গাইবান্ধা জেলাধীন সাঘাটা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মতলেবুর রহমান রেজা, মো. আবুল কালাম আজাদ, মো. এনামুল হক শিল্পী ও সাঘাটা উপজেলা বিএনপির সদস্য মোছা. মুনমুন রহমানকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

    এদিকে সিলেট জেলাধীন জকিগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন সেলিম, যুগ্ম সম্পাদক মাসুক আহমদ, সদস্য রিপন আহমদ, পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হাসান আহমদ, কানাইঘাট উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি ওয়েছ আহমদ, সাংগঠনিক সম্পাদক খছরুজ্জামান পারভেজ, কোষাধ্যক্ষ আবুল বাশার, ২নং লক্ষ্মীপ্রসাদ পূর্ব ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম ও ৯নং রাজাগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুল হোসেন নিমারকে বিএনপির প্রাথমিক সদস্য পদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

    অন্য একটি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার জন্য ময়মনসিংহ উত্তর জেলাধীন হালুয়াঘাট উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কবী মোজাম্মেল হোসেন খান, সাজ্জাদ হোসেন খান হীরা, আ.ন.ম সাদেকুর রহমান নঈম, উপজেলা বিএনপির সদস্য মো. নুরুল আলম (নূর এ আলম), মো. সুজারুল ইসলাম ফকির, এখলাস উদ্দিন বিএসসি ও হাবিবুর রহমান।

    হালুয়াঘাট পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আলহাজ দেলোয়ার হোসেন বিপ্লব, মোল্লা মো. আলী সাবরী মনি (মোল্লা মনির), ডা. আবুল কাশেম মেম্বার, পৌর বিএনপির সদস্য মো. মতিউর রহমান মতি, মো. শরিফুল আলম, মো. হাবিবুর রহমান।

    ধোবাউড়া উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. কাছিম উদ্দিন বিশ্বাস, মো. নজরুল ইসলাম দুলাল, মো. মঞ্জুরুল হক মুঞ্জু, মো. মেজবাহ উদ্দিন মামুন ও মো. আব্দুস শহিদ মিয়া, ধোবাউড়া উপজেলা বিএনপির সদস্য মো. ওয়াজেদ আলী মাস্টার, মো. আজিজুল হক, মো. আব্দুর রশিদ মেম্বার, মো. কবিরুল ইসলাম টিটুল, খন্দকার আক্কাছ আলী, মো. শাখাওয়াত হোসেন, মো. আব্দুল হামিদ মেম্বার, মো. শামীম মিয়া, মো. মাসুদ সরকার, মো. মোশারফ হোসেন, মো. মারফত আলী মেম্বার ও মো. কামাল সরকারকে বিএনপির প্রাথমিক সদস্য পদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

  • পে-স্কেল নিয়ে সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত, যা হচ্ছে

    পে-স্কেল নিয়ে সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত, যা হচ্ছে

    সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন পে-স্কেল নিয়ে বিপাকেই পড়েছে সরকার। নির্বাচিত নতুন সরকার এসে পে-স্কেল বাস্তবায়ন করবে, সরকারের এমন ঘোষণায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

    সরকার বলছে, অর্থ সংকটের কারণে এবং সময় স্বল্পতার জন্য নতুন পে-স্কেল এখন বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। তারা একটা সুপারিশ দিয়ে যাবেন নির্বাচিত সরকারের কাছে। নতুন সরকার এসে তা বাস্তবায়ন করবে।

    কিন্তু কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মনে করে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর এটা ঝুলে যেতে পারে। এজন্য অন্তর্বর্তী সরকারকেই তা বাস্তবায়নের জন্য চাপ দিয়ে যাচ্ছে।

    অর্থ বিভাগের একটি সূত্র জানায়, নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের মতো আর্থিক সক্ষমতা বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের নেই। এজন্য অন্তত ৮০ থেকে ১০৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন। আবার নির্বাচনের জন্যও সরকারের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে খরচ বাড়ছে। ফলে সব দিক দিয়েই আর্থিক চাপে আছে সরকার। এজন্য তারা নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন থেকে পিছিয়ে যাচ্ছে।

    গত মঙ্গলবার জ্বালানি উপদেষ্টা বলেছেন, নতুন পে-স্কেল এই সরকার বাস্তবায়ন করতে পারবে না। এর আগে অবশ্য অর্থ উপদেষ্টা একাধিকবার বলেছেন, তারা পে-স্কেল বাস্তবায়ন করতে পারবেন না, তবে একটা সুপারিশ করে যাবেন।

    এ নিয়ে সচিবালয় ও এর বাইরে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। পে-স্কেল বাস্তবায়নের জন্য তারা আন্দোলনে নামারও হুমকি দিয়েছেন। যদিও তারা নির্দিষ্ট হারে ভাতা প্রাপ্য হচ্ছেন। কিন্তু সেটাকে তারা যথেষ্ট মনে করছেন না।

    একদিকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের বেতন বৈষম্য দূর করার দাবি, অন্যদিকে ক্রমবর্ধমান রাজস্ব ঘাটতি ও মূল্যস্ফীতির চাপ এই দুইয়ের মাঝে ভারসাম্য রক্ষা করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবিত পে-স্কেল কার্যকর হলে সরকারের বার্ষিক ব্যয় উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেড়ে যাবে। বর্তমানে রাজস্ব আদায়ে কাক্সিক্ষত গতি না থাকায় নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে, নির্বাচন পরবর্তী অর্থনৈতিক বাস্তবতায় ব্যয় সংকোচনের চাপ আরও বেড়েছে।

    সরকারি কর্মচারীদের বিভিন্ন সংগঠন বলছে, বিদ্যমান পে-স্কেলে জীবনযাত্রার ব্যয় মেটানো কঠিন হয়ে পড়েছে। খাদ্যপণ্য, বাসাভাড়া ও চিকিৎসা ব্যয়ের ঊর্ধ্বগতিতে মধ্যম ও নিম্ন স্তরের কর্মচারীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তাদের দাবি, দ্রুত একটি বাস্তবসম্মত ও সময়োপযোগী পে-স্কেল বাস্তবায়ন করতে হবে।

    অন্যদিকে অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে বলছেন, পর্যাপ্ত রাজস্ব সংস্কার ছাড়া বড় পরিসরে বেতন বাড়লে বাজেট ঘাটতি ও মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়তে পারে। এতে সামষ্টিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কাও রয়েছে। এ অবস্থায় সরকার বিকল্প পথ খুঁজছে বলে জানা গেছে। ধাপে ধাপে পে-স্কেল বাস্তবায়ন, নির্ধারিত ভাতা বৃদ্ধি অথবা নিম্ন গ্রেডে তুলনামূলক বেশি সুবিধা দেওয়ার মতো প্রস্তাব আলোচনায় আছে। তবে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

    এ প্রসঙ্গে বিশ্বব্যাংক ঢাকা অফিসের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ডক্টর জাহিদ হোসেন বলেন, পে-স্কেল ইস্যুতে সরকার কঠিন সমীকরণের মুখে রয়েছে। জনকর্মচারীদের ন্যায্য দাবি মেটানো আর অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার মাঝখানে সঠিক সিদ্ধান্তই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

    সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিভিন্ন সংগঠন বলছে, বিদ্যমান পে-স্কেলে বর্তমান বাজারমূল্যে জীবনধারণ করা কঠিন। খাদ্যপণ্যের দাম, বাসাভাড়া, শিক্ষা ও চিকিৎসা ব্যয় বাড়লেও সেই অনুপাতে বেতন-ভাতা বাড়েনি। এতে নিম্ন ও মধ্যম স্তরের কর্মচারীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে তারা দাবি করেন।

    একাধিক সংগঠনের নেতারা জানান, দ্রুত নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন না হলে আন্দোলনে যাওয়ার বিকল্প থাকবে না। তাদের ভাষ্য, রাষ্ট্র পরিচালনার অন্যতম স্তম্ভ সরকারি কর্মচারীরা আর্থিক অনিশ্চয়তায় ভুগলে প্রশাসনিক কার্যক্রমও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    অন্যদিকে, অর্থনীতিবিদরা বলছেন, কাঠামোগত রাজস্ব সংস্কার ও ব্যয় ব্যবস্থাপনা জোরদার না করে বড় পরিসরে বেতন বাড়ালে বাজেট ঘাটতি আরও বাড়তে পারে। এতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়বে এবং সামষ্টিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

    বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সরকার হয়তো ধাপে ধাপে পে-স্কেল বাস্তবায়নের পথে হাঁটতে পারে। বিকল্প হিসেবে নির্বাচিত ভাতা বৃদ্ধি, নিম্ন গ্রেডে তুলনামূলক বেশি সুবিধা দেওয়া বা সময়সীমা নির্ধারণ করে আংশিক বাস্তবায়নের বিষয়গুলো আলোচনায় রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি।

  • সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন ‘আশার আলো’

    সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন ‘আশার আলো’

    নতুন পে কমিশনের সুপারিশে বেতন বাড়ার আশায় দিন গুনছেন দেশের প্রায় ১৫ লাখ সরকারি চাকরিজীবী। দীর্ঘদিনের ঊর্ধ্বমূল্যের বাজারে নাভিশ্বাস ওঠা কর্মচারীদের জন্য এই ঘোষণা ‘আশার আলো’ হয়ে এলেও, এর বাস্তবায়ন এবং পরবর্তী বাজার পরিস্থিতি নিয়ে জনমনে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

    পে কমিশনের মূল সুপারিশগুলো:

    সুপারিশ অনুযায়ী, সরকারি কর্মচারীদের বেতন কাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে:

    * সর্বনিম্ন ধাপ: বর্তমান বেতন প্রায় আড়াই গুণ বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

    * সর্বোচ্চ ধাপ: বর্তমান ৭৮ হাজার টাকার পরিবর্তে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকার বেশি নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে।

    * অন্যান্য সুবিধা: বেতন বৃদ্ধির পাশাপাশি পেনশন ও বৈশাখি ভাতার পরিমাণও উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে।

    কর্মচারীদের প্রত্যাশা ও শঙ্কা:

    অবসরপ্রান্তিক কর্মচারী জমির উদ্দিন শেখের মতো অনেকেই এই খবরে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। সন্তানদের পড়াশোনা আর সংসারের খরচ মেলাতে যারা হিমশিম খাচ্ছেন, তাদের জন্য এটি বড় অবলম্বন। তবে সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, বেতন বাড়ার সাথে সাথে যদি বাড়িভাড়া ও নিত্যপণ্যের দাম পাল্লা দিয়ে বাড়ে, তবে এই বাড়তি আয়ের সুফল ভোগ করা সম্ভব হবে না।

    সাধারণ মানুষ ও বেসরকারি খাতের উদ্বেগ:

    সরকারি বেতন বাড়লে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়তে পারে—এমন আশঙ্কায় ভুগছেন বেসরকারি খাতের কর্মী ও সাধারণ মানুষ। দেশের ৮০ শতাংশ কর্মসংস্থান বেসরকারি খাতে হওয়ায়, সেখানে কোনো বেতন কাঠামো নিশ্চিত না করে কেবল সরকারি খাতে বেতন বাড়ানো জীবনযাত্রার ব্যয়কে আরও কঠিন করে তুলবে বলে তাদের ধারণা। তাদের দাবি, বেসরকারি খাতের জন্যও একটি ন্যূনতম মজুরি নীতিমালা থাকা জরুরি।

    অর্থনীতিবিদদের বিশ্লেষণ:

    অর্থনীতিবিদদের মতে, নতুন কাঠামো বাস্তবায়নে সরকারের অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। বিআইডিএসের সাবেক মহাপরিচালক মোস্তফা কে মুজেরি মনে করেন, রাজস্ব আদায় কম এবং বিনিয়োগে স্থবিরতা থাকায় এই বিশাল ব্যয়ের চাপ সরাসরি বাজারের ওপর পড়তে পারে। বাজার ব্যবস্থাপনায় কঠোর নিয়ন্ত্রণ না থাকলে এই বেতন বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়াবে।

    উল্লেখ্য, ২০২৫–২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে সরকার ইতোমধ্যে ২২ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত বরাদ্দ রেখেছে। তবে পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন কবে থেকে শুরু হবে, সেদিকেই তাকিয়ে আছেন সবাই।