Category: জাতীয়

জাতীয়

  • পে-স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে যা জানা যাচ্ছে

    পে-স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে যা জানা যাচ্ছে

    জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫, বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে-কমিশন-২০২৫ এবং সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিটি-২০২৫-এর দাখিল করা প্রতিবেদনের বেতন সম্পর্কিত বিষয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সুপারিশে কমিটি গঠন করেছে সরকার। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বলছেন, কর আদায় না বাড়িয়ে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন করা হলে ব্যাংক ঋণের বোঝা সরকারের আবারও বাড়বে।

    সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।


    আহসান এইচ মনসুর বলেন, এটা মূল্যস্ফীতিকে আরও উসকে দিতে পারে।


    এর আগে রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করে কমিটি গঠনের কথা জানানো হয়।

    সুপারিশ প্রণয়ন কমিটির প্রধান করা হয়েছে-মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে। এ কমিটির সদস্য হিসেবে আছেন-জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, অর্থ বিভাগের সচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সচিব, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব, আইন ও বিচার বিভাগের সচিব, হিসাব মহানিয়ন্ত্রক (সিজিএ)।  

    কমিটি জাতীয় বেতন কমিশন, ২০২৫; বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে-কমিশন, ২০২৫ এবং সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিটি, ২০২৫-এর দাখিলকৃত প্রতিবেদনের বেতন সম্পর্কিত বিষয়াদি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে পরবর্তী কার্যক্রম সংক্রান্ত সুপারিশ দেবে। 

    অর্থ বিভাগের সচিব কমিটিকে সাচিবিক সহায়তা প্রদান করবে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।

    গত ২১ জানুয়ারি রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে প্রতিবেদন হস্তান্তর করেছে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো প্রণয়নের উদ্দেশ্যে গঠিত জাতীয় বেতন কমিশন (পে-কমিশন)।
     

    প্রতিবেদনে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে আংশিক বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের সুপারিশ করা হয়। এটি ২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রথম দিন থেকে পুরোপুরি কার্যকর করার কথা জানানো হয়। বেতন কমিশন সর্বনিম্ন বেতন স্কেল ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন স্কেল ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করেছে।
     

    ২০টি স্কেলে বেতন সুপারিশ

     

    গ্রেড-১: বর্তমানে মূল বেতন (বেসিক) ৭৮ হাজার টাকা; প্রস্তাবিত জাতীয় বেতন স্কেলে এটি ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে।
     
    গ্রেড-২: বর্তমানে মূল বেতন ৬৬,০০০–৭৬,৪৯০ টাকা; নবম জাতীয় বেতন কমিশন ১,৩২,০০০–১,৫৩,০০০ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছে।
     
    গ্রেড-৩: বর্তমানে মূল বেতন ৫৬,৫০০–৭৪,৪০০ টাকা; নবম জাতীয় বেতন কমিশন ১,১৩,০০০–১,৪৮,৮০০ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছে।
     
    গ্রেড-৪: বর্তমানে মূল বেতন ৫০,০০০–৭১,২০০ টাকা; নবম জাতীয় বেতন কমিশন ১,০০,০০০–১,৪২,৪০০ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছে।
     
     
    গ্রেড-৫: বর্তমানে মূল বেতন ৪৩,০০০–৬৯,৮৫০ টাকা; নবম জাতীয় বেতন কমিশন ৮৬,০০০–১,৩৯,৭০০ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছে।
     
    গ্রেড-৬: বর্তমানে মূল বেতন ৩৫,৫০০–৬৭,০১০ টাকা; নবম জাতীয় বেতন কমিশন ৭১,০০০–১,৩৪,০০০ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছে।
     
    গ্রেড-৭: বর্তমানে মূল বেতন ২৯,০০০–৬৩,৪১০ টাকা; নবম জাতীয় বেতন কমিশন ৫৮,০০০–১,২৬,৮০০ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছে।
     
    গ্রেড-৮: বর্তমানে মূল বেতন ২৩,০০০–৫৫,৪৭০ টাকা; নবম জাতীয় বেতন কমিশন ৪৭,২০০–১,১৩,৭০০ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছে।
     
    গ্রেড-৯: বর্তমানে মূল বেতন ২২,০০০–৫৩,০৬০ টাকা; নবম জাতীয় বেতন কমিশন ৪৫,১০০–১,০৮,৮০০ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছে।
     
    গ্রেড-১০: বর্তমানে মূল বেতন ১৬,০০০–৩৮,৬৪০ টাকা; নবম জাতীয় বেতন কমিশন ৩২,০০০–৭৭,৩০০ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছে।
     
    গ্রেড-১১: বর্তমানে মূল বেতন ১২,৫০০–৩০,২৩০ টাকা; নবম জাতীয় বেতন কমিশন ২৫,০০০–৬০,৫০০ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছে।
     
    গ্রেড-১২: বর্তমানে মূল বেতন ১১,৩০০–২৭,৩০০ টাকা; নবম জাতীয় বেতন কমিশন ২৪,৩০০–৫৮,৭০০ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছে।
     
    গ্রেড-১৩: বর্তমানে মূল বেতন ১১,০০০–২৬,৫৯০ টাকা; নবম জাতীয় বেতন কমিশন ২৪,০০০–৫৮,০০০ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছে।
     
    গ্রেড-১৪: বর্তমানে মূল বেতন ১০,২০০–২৪,৬৮০ টাকা; নবম জাতীয় বেতন কমিশন ২৩,৫০০–৫৬,৮০০ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছে।
     
    গ্রেড-১৫: বর্তমানে মূল বেতন ৯,৭০০–২৩,৪৯০ টাকা; নবম জাতীয় বেতন কমিশন ২২,৮০০–৫৫,২০০ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছে।
     
    গ্রেড-১৬: বর্তমানে মূল বেতন ৯,৩০০–২২,৪৯০ টাকা; নবম জাতীয় বেতন কমিশন ২১,৯০০–৫২,৯০০ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছে।
     
    গ্রেড-১৭: বর্তমানে মূল বেতন ৯,০০০–২১,৮০০ টাকা; নবম জাতীয় বেতন কমিশন ২১,৪০০–৫১,৯০০ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছে।
     
    গ্রেড-১৮: বর্তমানে মূল বেতন ৮,৮০০–২১,৩১০ টাকা; নবম জাতীয় বেতন কমিশন ২১,০০০–৫০,৯০০ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছে।
     
    গ্রেড-১৯: বর্তমানে মূল বেতন ৮,৫০০–২০,৫৭০ টাকা; নবম জাতীয় বেতন কমিশন ২০,৫০০–৪৯,৬০০ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছে।
     
    গ্রেড-২০: বর্তমানে মূল বেতন ৮,২৫০–২০,০১০ টাকা; নবম জাতীয় বেতন কমিশন ২০,০০০–৪৮,৪০০ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছে।
  • পে স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে সবশেষ যা বললেন গভর্নর

    পে স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে সবশেষ যা বললেন গভর্নর

    বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর জানিয়েছেন, কর আদায় না বাড়িয়ে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন করা হলে সরকারের ওপর আবারও বাড়বে ব্যাংক ঋণের বোঝা। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, এতে উসকে দিতে পারে মূল্যস্ফীতি।

    সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করতে গিয়ে এ কথা বলেন তিনি।

    গভর্নর বলেন, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও আস্থার অভাবে প্রত্যাশার তুলনায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমেছে। সরকার বাজেটে কাটছাঁট করার পরও ব্যাংকখাত থেকে ঋণের হার বেড়েছে।

    তিনি জানান, ব্যাংকিং খাতকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার সংশোধন প্রয়োজন। সব কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতো বাংলাদেশ ব্যাংককেও চাপে থাকতে হয়, আশা করি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে আর্থিকখাত নিয়ে সংস্কারের বিষয়ে দলগুলো কথা রাখবেন।

  • বহুল প্রতীক্ষিত পূর্ণাঙ্গ পে স্কেল কার্যকরের তারিখ চূড়ান্ত

    বহুল প্রতীক্ষিত পূর্ণাঙ্গ পে স্কেল কার্যকরের তারিখ চূড়ান্ত

    সরকারি চাকরিজীবীদের বহুল প্রতীক্ষিত নতুন বেতন কাঠামো বা পে স্কেল বাস্তবায়নের সময়সূচি চূড়ান্তের পথে। বেতন কমিশন ও অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকেই আংশিকভাবে নতুন স্কেল কার্যকরের প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দিন অর্থাৎ ১ জুলাই থেকে এটি পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত হবে বলে জানানো হয়েছে।

    সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে গঠিত ২১ সদস্যের বেতন কমিশন তাদের সুপারিশমালা এরইমধ্যে চূড়ান্ত করেছে।

     

    আগামী ২১ জানুয়ারি অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদের কাছে এই আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। প্রতিবেদন জমার পর তা উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে এবং সেখান থেকে চূড়ান্ত অনুমোদনের প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

    এবারের পে-স্কেলে নিম্ন গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সুপারিশমালা অনুযায়ী বর্তমানে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮,২৫০ টাকা থাকলেও তা দ্বিগুণের বেশি বাড়িয়ে ১৮,০০০ টাকা করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

     

     

    একইসঙ্গে সর্বোচ্চ ধাপে বেতন ৭৮,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ২০ হাজার টাকার বেশি করার সুপারিশ করা হয়েছে। সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতনের অনুপাত ১:৮ রাখার প্রস্তাবও করা হয়েছে, যাতে বেতন বৈষম্য কমে আসে।

    নতুন এই বিশাল বেতন কাঠামো পুরোপুরি বাস্তবায়নে সরকারের বছরে অতিরিক্ত ৭০ থেকে ৮০ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই ব্যয়ের সংস্থান নিশ্চিত করতে ইতিমধ্যে চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে পরিচালন ব্যয় বাবদ অতিরিক্ত ২২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

    সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এটি আংশিক বাস্তবায়নের প্রাথমিক প্রস্তুতি হিসেবে বিবেচিত হবে।
    উল্লেখ্য, বর্তমানে দেশের প্রায় ১৫ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ২০১৫ সালের বেতন কাঠামো অনুযায়ী বেতন পাচ্ছেন। জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রায় ১০ বছর পর নতুন এই বেতন কাঠামো প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

  • আরও ১০ নেতাকে বহিষ্কার করল বিএনপি, তাদের তালিকা দেখে নিন

    আরও ১০ নেতাকে বহিষ্কার করল বিএনপি, তাদের তালিকা দেখে নিন

    দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য এবং সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ১০ জন নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বহিষ্কৃত নেতাদের বিএনপির প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

    বহিষ্কৃত নেতারা হলেন— ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য মো. মুসফিকুর রহমান, কেন্দ্রীয় কৃষকদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সাদিকুর রহমান, গফরগাঁও উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মফিজুর রহমান খায়রুল ও মো. জালাল উদ্দীন; নড়াইল সদর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মুজাহিদুল ইসলাম পলাশ, নড়াইল সদর পৌর বিএনপির সভাপতি মো. তেলায়েত হোসেন, লোহাগড়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী সুলতানুজ্জামান সেলিম, লোহাগড়া পৌর বিএনপির সভাপতি মিলু শরীফ, সাধারণ সম্পাদক মো. মশিয়ার রহমান সান্টু ও লোহাগড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. আহাদুজ্জামান বাটু।

    দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সংগঠনের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং নীতি পরিপন্থি কাজের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিতেই কেন্দ্র থেকে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এর আগে গতকাল ২৬ জানুয়ারি একই অভিযোগে বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলা বিএনপির সভাপতি মমিনুল হক টুলু বিশ্বাসকেও বহিষ্কার করেছিল দলটি।