Category: জাতীয়

জাতীয়

  • দেশবাসীর উদ্দেশে বাংলাদেশ ব্যাংকের সতর্কতা

    দেশবাসীর উদ্দেশে বাংলাদেশ ব্যাংকের সতর্কতা

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসল টাকার আদলে তৈরি ‘নমুনা নোট’ ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা ও অবৈধ কার্যক্রম চালানোর ঘটনায় দেশবাসীকে সতর্ক করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) এক জরুরি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ সতর্কবার্তা জারি করে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিপার্টমেন্ট অব কমিউনিকেশন অ্যান্ড পাবলিকেশন জানায়, সম্প্রতি ফেসবুক ও ইউটিউবসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে কিছু ভিডিও ও ছবি ছড়িয়ে পড়েছে। এসব কনটেন্টে আসল নোটের ডিজাইন ও আকার হুবহু অনুকরণ করে বড় আকৃতির ‘নমুনা নোট’ প্রদর্শন করা হচ্ছে। একটি অসাধু চক্র এসব নোট ব্যবহার করে মিথ্যা প্রচারণা চালাচ্ছে এবং সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে অবৈধ বিপণন কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাজারে কিংবা জনসমাগমস্থলে আসল টাকার সদৃশ কোনও কাগজ বা নোট ব্যবহার করে প্রচারণা চালানো সম্পূর্ণ অবৈধ। এ ধরনের কর্মকাণ্ড জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে এবং তা দণ্ডবিধি, ১৮৬০ অনুযায়ী গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে। আইন লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করা হয়।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংক সাধারণ জনগণকে আসল নোটের আদলে কোনও কাগজ তৈরি, ব্যবহার বা প্রচার থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছে। একইসঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত যেকোনও আর্থিক তথ্য যাচাই ছাড়া বিশ্বাস না করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, জালিয়াতি এড়াতে এবং নিরাপদ লেনদেন নিশ্চিত করতে সর্বসাধারণকে সচেতন থাকতে হবে। আসল নোটের নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য ও চেনার উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে বাংলাদেশ ব্যাংকের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট পরিদর্শনের পরামর্শ দেওয়া হয়।

    আর্থিক বিষয়ে বিভ্রান্তি এড়াতে নির্ভরযোগ্য ও দাফতরিক উৎসের তথ্যের ওপর নির্ভর করারও আহ্বান জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

  • রাষ্ট্রপতি পদে আলোচনায় যার নাম

    রাষ্ট্রপতি পদে আলোচনায় যার নাম

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নিরঙ্কুশ জয়ের পর দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথগ্রহণ করেছেন। এরপর পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে ২৫ জন ও প্রতিমন্ত্রী হিসেবে ২৪ জন শপথ গ্রহণ করেন। তাঁদের সবাইকে শপথবাক্য পাঠ করিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

    দীর্ঘ দেড় বছরের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শাসনের পর আজ থেকে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে ন্যস্ত হলো বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতা।

    মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে শপথপাঠ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে সকালে জাতীয় সংসদ ভবনে নবনির্বাচিত এমপিদের শপথ পড়ান প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন।

    এদিকে বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সম্ভাব্য পদত্যাগের খবরের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপ্রধানের নাম নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা।

    রাষ্ট্রপতি পদের জন্য সবচেয়ে জোরালোভাবে নাম আসছে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের।

    সদ্য গঠিত মন্ত্রিসভায় তাঁকে কোনো দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। এ ছাড়া আলোচনায় থাকা  মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। অন্যান্য সিনিয়র নেতার মধ্যে নজরুল ইসলাম খান ও ড. আব্দুল মঈন খান নতুন মন্ত্রিসভায় স্থান পাননি।

    ৭৯ বছর বয়সী এই প্রবীণ রাজনীতিক কুমিল্লা-১ আসন থেকে এবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।

    এর আগে চারবার সংসদ সদস্য হন তিনি (১৯৯১, ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ও ১২ জুন এবং ২০০১)। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের সাবেক এই অধ্যাপক ইতিপূর্বে জ্বালানি ও স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। মহান মুক্তিযুদ্ধে তার গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা এবং রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার কারণে রাষ্ট্রপতি পদে তাকেই সবচেয়ে যোগ্য মনে করছে দলটির নীতিনির্ধারকেরা।

    ২০২৩ সালে বগুড়ায় বিএনপির একটি বিভাগীয় সমাবেশে দলটির নেতা জি এম সিরাজ বলেছিলেন, বিএনপি সরকার গঠন করলে তারেক রহমান হবেন প্রধানমন্ত্রী। আর রাষ্ট্রপতি হবেন খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

    এদিকে বিএনপির একটি সূত্র বলছে, খন্দকার মোশাররফ দলের কার্যক্রমে কিছুটা কম সক্রিয়। নিজেকে কিছুটা আড়ালে রাখেন, যাতে তাঁকে নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি না হয়।

    অবশ্য নতুন রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। মন্ত্রীদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই স্পষ্ট হতে পারে, কে হচ্ছেন রাষ্ট্রপতি।

    এর আগে বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ইতিপূর্বে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, নির্বাচন-পরবর্তী নতুন সরকার দায়িত্ব নিলে তিনি সরে যেতে আগ্রহী। সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির মেয়াদ ৫ বছর হলেও রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ফলে তিনি মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই পদত্যাগ করতে পারেন।

    সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি পদের মেয়াদ পাঁচ বছর। সে হিসাবে ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত মেয়াদ আছে মো. সাহাবুদ্দিনের। যদিও সেই সময় পর্যন্ত তিনি পদে থাকছেন না, যা স্পষ্ট হয়েছে রয়টার্সের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎকারে।

  • পে স্কেল বাস্তবায়নের বিষয়ে সবশেষ যা জানা গেল

    পে স্কেল বাস্তবায়নের বিষয়ে সবশেষ যা জানা গেল

    নবম পে স্কেল প্রণয়নে গঠিত কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।

    প্রেস সচিব জানান, বৈঠকে নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

     

    এর আগে জাতীয় বেতন কমিশন ২০২৫, বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন ২০২৫ এবং সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিটি ২০২৫-এর দাখিল করা প্রতিবেদনের বেতন সম্পর্কিত বিষয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সুপারিশের জন্য এবং সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিটি ২০২৫-এর প্রতিবেদনের জন্য সুপারিশ প্রণয়ন কমিটি গঠন করে অন্তর্বর্তী সরকার।

     

    জানা যায়, এ কমিটি প্রতিবেদনের বেতন সম্পর্কিত বিষয়াদি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে পরবর্তী কার্যক্রম সংক্রান্ত সুপারিশ প্রণয়ন করে সরকারের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করবে। আর তাই সেই কাজের জন্যই প্রথম বৈঠকে বসেন কমিটির সদস্যরা।

     

    গত বছরের ২৭ জুলাই নবম জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করে অন্তর্বর্তী সরকার।

  • পে স্কেল নিয়ে অবিশ্বাস্য ঘোষণা দিলেন অর্থ উপদেষ্টা

    পে স্কেল নিয়ে অবিশ্বাস্য ঘোষণা দিলেন অর্থ উপদেষ্টা

    পরবর্তী সরকার চাইলেও পে-স্কেলের সিদ্ধান্ত বদলাতে পারবে না: অর্থ উপদেষ্টা

    নিজস্ব প্রতিবেদক: সরকারি কর্মচারীদের পে-স্কেল বাস্তবায়নের জোরালো দাবির মুখে বড় আশ্বাস দিলেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে তিনি জানান, পে-স্কেল বাস্তবায়নে কিছুটা সময় লাগলেও বর্তমান সরকার যে সিদ্ধান্ত নেবে, পরবর্তী নির্বাচিত সরকার তা পরিবর্তন করতে পারবে না।

    অর্থনীতির বর্তমান অবস্থা

    ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দেশের নড়বড়ে অর্থনীতি গত দেড় বছরে একটি স্থিতিশীল অবস্থানে এসেছে। অন্তর্বর্তী সরকার পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের জন্য একটি স্বস্তিদায়ক অর্থনৈতিক পরিবেশ রেখে যাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে।

    নির্বাচন ও বরাদ্দ প্রসঙ্গে

    নির্বাচন ও গণভোট নিয়ে কথা বলতে গিয়ে অর্থ উপদেষ্টা জানান, এবার নির্বাচনে বরাদ্দের পরিমাণ অন্যবারের চেয়ে বেশি লাগছে। সরকার গণভোটের জন্য আলাদা বাজেট রেখেছে, তবে এটি কোনো ‘হ্যাঁ-না’ ভোটের জন্য নয়। মূলত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার কারণেই এই বাড়তি বরাদ্দের প্রয়োজন হচ্ছে।

    চ্যালেঞ্জ ও উন্নয়ন প্রকল্প

    তিনি আরও জানান, আগের সরকারের নেওয়া অনেক অপ্রয়োজনীয় ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তৈরি প্রকল্প বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে সাময়িকভাবে কর্মসংস্থান কিছুটা কমেছে, যা বর্তমান সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তবে টেকসই উন্নয়নের স্বার্থেই এসব অপ্রয়োজনীয় ব্যয় ছাঁটাই করা হয়েছে।

    উল্লেখ্য, পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে আন্দোলনকারীরা বর্তমানে টানা তিন দিনের কর্মসূচি পালন করছেন, যার প্রেক্ষিতে অর্থ উপদেষ্টার এই বক্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।