Category: জাতীয়

জাতীয়

  • রাষ্ট্রপতি অপসারণের ব্যাপারে যা জানালেন প্রেসসচিব

    রাষ্ট্রপতি অপসারণের ব্যাপারে যা জানালেন প্রেসসচিব

    রাষ্ট্রপতির প্রেসসচিব মো. সরওয়ার আলম পুনরায় দায়িত্ব পালন করবেন। মঙ্গলবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাকে এক বছরের জন্য সচিব পদমর্যাদায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি পূর্বে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে রাষ্ট্রপতির প্রেসসচিব হিসেবে দায়িত্ব পেয়ে ছিলেন, পরে তা বাতিল হয়েছিল।

    সাংবাদিক ও বিশ্লেষক মোস্তফা ফিরোজ এই নিয়োগকে রাষ্ট্রীয় রীতিনীতি ও সাংবিধানিক নিয়ম-কানুন রক্ষার ইঙ্গিত হিসেবে দেখেছেন। তিনি বলেন, “নতুন সরকার চাইলে রাষ্ট্রপতির প্রেস ডিপার্টমেন্ট বন্ধ রাখতে পারত, কিন্তু তারা তা করেনি। এ থেকেই বোঝা যাচ্ছে, রাষ্ট্রপতিকে খুব সহসা সরানো হচ্ছে না।”

    Discover more
    Online News Portal
    Political analysis newsletters
    World news subscription service

    ফিরোজ আরও মন্তব্য করেন, এই পদায়ন অন্তর্বর্তী সরকারের কিছু অনিয়ম ও অন্যায় কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ হিসেবেও দেখা যেতে পারে। তিনি বলেন, “ড. ইউনূস যে অন্যায় কাজ করেছেন, তার একটা প্রতিবাদও জানানো হলো সরওয়ার আলমকে রাষ্ট্রপতির প্রেসসচিব হিসেবে পুনর্নিয়োগের মাধ্যমে।”

    এদিকে সম্প্রতি রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন বলেছেন, “বিএনপি চাইলে আমি থাকতে পারি, চাইলে চলে যেতে পারি।” রাষ্ট্রপতির প্রেসসচিব বলেন, বর্তমান নিয়োগের মাধ্যমে তাকে যথাযথ মর্যাদা ও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যা ইঙ্গিত দেয় যে রাষ্ট্রপতি অপসারণে বিএনপির এখন খুব একটা আগ্রহ নেই।

  • আসছে টানা ১০ দিনের ছুটির সুযোগ

    আসছে টানা ১০ দিনের ছুটির সুযোগ

    ২০২৬ সালে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে পাঁচ দিনের সরকারি ছুটি নির্ধারণ করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। সরকারের প্রকাশিত ছুটির গেজেট অনুযায়ী, চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২১ মার্চ (শনিবার) ঈদুল ফিতর উদযাপিত হতে পারে। তবে চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে ২০ বা ২১ মার্চ ঈদ পালিত হতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

    সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৯ মার্চ (বৃহস্পতিবার) থেকে ২৩ মার্চ (সোমবার) পর্যন্ত ঈদুল ফিতরের টানা পাঁচ দিনের ছুটি থাকবে। এর পরপরই ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের ছুটি এবং ২৭ ও ২৮ মার্চ সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় মাঝখানের ২৪ ও ২৫ মার্চ দুই দিনের নৈমিত্তিক ছুটি নিলে টানা ১০ দিনের দীর্ঘ অবকাশ উপভোগ করা সম্ভব।

    মার্চ মাসের ছুটির ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, ১৭ মার্চ (মঙ্গলবার) পবিত্র শবে কদরের সরকারি ছুটি থাকবে, যা চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল। ১৮ মার্চ (বুধবার) সাধারণ কর্মদিবস। ১৯ থেকে ২৩ মার্চ ঈদুল ফিতরের সরকারি ছুটি। ২৪ ও ২৫ মার্চ সাধারণ কর্মদিবস হলেও ব্যক্তিগত ছুটি নিলে তা ঈদের ছুটির সঙ্গে যুক্ত করা যাবে। ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের ছুটি এবং ২৭-২৮ মার্চ সাপ্তাহিক ছুটি থাকবে।

    এভাবে ২৪ ও ২৫ মার্চ নৈমিত্তিক ছুটি গ্রহণ করলে ১৯ মার্চ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত টানা ১০ দিনের ছুটি কাটানো সম্ভব হবে।

    সরকারি খাতের তুলনায় বেসরকারি খাতে, বিশেষ করে গার্মেন্টস সেক্টরে সাধারণত তিন থেকে চার দিনের ঈদ ছুটি দেওয়া হয়। তবে প্রতিষ্ঠানভেদে ওভারটাইম ও কাজের সমন্বয়ের মাধ্যমে ছুটি বাড়ানোর সুযোগ থাকে।

  • ‘ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা করার ঘোষণা’

    ‘ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা করার ঘোষণা’

    বাংলাদেশ মুসলিম লীগের সভাপতি ও সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মোহসিন রশীদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ এনে মামলা করার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, ইউনূসের কর্মকাণ্ড কেবল সংবিধান লঙ্ঘনেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা রাষ্ট্রদ্রোহের পর্যায়ে পড়ে। বর্তমান সরকার এ বিষয়ে পদক্ষেপ না নিলে তিনি নিজেই আইনগত ব্যবস্থা নেবেন বলেও জানান।

    সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সিনিয়র সাংবাদিক মঞ্জুরুল আলম পান্না–র ইউটিউব চ্যানেল ‘মানচিত্র’-এ অংশ নিয়ে মোহসিন রশীদ এসব কথা বলেন।

    তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর পদ শূন্য হওয়ার পর রাষ্ট্রপতিই একমাত্র সাংবিধানিক পদে অধিষ্ঠিত ব্যক্তি ছিলেন। সেই রাষ্ট্রপতির সঙ্গে যথাযথ যোগাযোগ না রাখা, নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তাকে অবহিত না করা এবং সাংবিধানিক শিষ্টাচার উপেক্ষা করা গুরুতর লঙ্ঘন। তার ভাষায়, “এটি শুধু সংবিধান লঙ্ঘন নয়, ইটস ট্রিজন।”

    মোহসিন রশীদ অভিযোগ করেন, রাষ্ট্রপতিকে তার সাংবিধানিক দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে দেওয়া হয়নি। তাকে ভয়-ভীতি দেখিয়ে মানসিক চাপে রাখা হয়েছে এবং রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো নথিতে সই করানো হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। রাষ্ট্রপতি সহযোগিতা না করলে রাষ্ট্রে অচলাবস্থা সৃষ্টি হতে পারত বলেও মন্তব্য করেন তিনি। রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের প্রতীক—তাকে যথাযথ সম্মান না দেখানো রাষ্ট্রের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার শামিল বলেও উল্লেখ করেন।

    তিনি আরও দাবি করেন, একজন সাবেক উপদেষ্টা রাষ্ট্রপতিকে ‘চোর’ আখ্যা দিয়েছিলেন—যার হাতে শপথ নেওয়া হয়েছে তাকেই চোর বলা হয়েছে। প্রেস উইং অপসারণ, বঙ্গভবন ঘেরাও এবং রাষ্ট্রপতিকে অপসারণের চেষ্টাকে তিনি রাষ্ট্রীয় শিষ্টাচারবিরোধী কর্মকাণ্ড হিসেবে উল্লেখ করেন। এসব ঘটনার সঙ্গে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সম্পৃক্ততা বা নীরব সমর্থন ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি বা কমিশন গঠনের দাবি জানান তিনি।

    Discover more
    World News Reporting
    Ekushe Padak Coverage
    Science and technology gadgets

    ইউনূসের নেতৃত্বাধীন উপদেষ্টা পরিষদের কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধেও তদন্তের আহ্বান জানান মোহসিন রশীদ। তিনি বলেন, রাষ্ট্র কোনো খেলার বিষয় নয়; রাষ্ট্রের ক্ষতি হয়েছে কি না, তা নিরপেক্ষভাবে অনুসন্ধান করা প্রয়োজন।

    সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ চ্যালেঞ্জ করার প্রসঙ্গ তুলে তিনি জানান, এ বিষয়ে তিনি আদালতে গিয়েছেন এবং রায়ের সার্টিফায়েড কপির জন্য আবেদন করেছেন। রায় হাতে পেলে তিনি রিভিউ করবেন বলেও জানান। ভবিষ্যতে যেন আর কোনো অবৈধ বা অসাংবিধানিক অন্তর্বর্তীকালীন সরকার না আসে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

    সরকার যদি কোনো তদন্ত কমিটি গঠন না করে, তবে তিনি নিজেই নোটিশ দিয়ে মামলার উদ্যোগ নেবেন এবং ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে পক্ষভুক্ত করবেন বলেও ঘোষণা দেন মোহসিন রশীদ।

  • হাসিনা সরকার পতনের দিন কী ঘটেছিল বঙ্গভবনে, জানালেন রাষ্ট্রপতি

    হাসিনা সরকার পতনের দিন কী ঘটেছিল বঙ্গভবনে, জানালেন রাষ্ট্রপতি

    রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন জানিয়েছেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আন্দোলনটা জনবিস্ফোরণে রূপ নেয়। সেদিন কেউই আঁচ করতে পারেনি যে কী হতে চলেছে। সম্প্রতি বঙ্গভবনে নিজ কার্যালয়ে বেসরকারি একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি সেই দিনের স্মৃতিচারণা করেন।

    রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘যখন বিক্ষোভকারীরা গণভবন অভিমুখে, তখন আমাকে জানানো হলো, যেকোনো মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গভবনে আসবেন। ১২টার সময় আমাকে জানানো হলো, উনি প্রস্তুতি নিচ্ছেন বঙ্গভবনে আসার। এর আগে আমরা আঁচই করতে পারিনি যে আসলে ঘটনা কী ঘটতে যাচ্ছে। তবে উনি যখন এখানে আসবেন বলছেন এবং হেলিকপ্টারও রেডি, তখন আমরা ঘটনার ভয়াবহতা সম্পর্কে ধারণা করতে পারি।’

    ‘এখানে সিকিউরিটি যারা ছিল, সবাই পজিশন নিয়ে নিল। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে জানানো হলো, না, উনি আসছেন না। আসছেন না যখন জেনেছি, তখন আমরাও সতর্ক ছিলাম। কিছুক্ষণ পরেই শুনলাম, উনি দেশ ছেড়েছেন। একসময় জানতে পারলাম, উনি অলরেডি দেশের বাইরে চলে গেছেন। সব মিলিয়ে ৩০ থেকে ৪০ মিনিটের মধ্যে সামগ্রিক ঘটনাপ্রবাহের খুব দ্রুত পরিবর্তন দেখতে পাচ্ছিলাম।’

    রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, ‘সেদিন বিকেল ৩টার দিকে প্রথমে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান আমাকে টেলিফোনে সব ঘটনা অবহিত করেন। সশস্ত্র বিভাগ থেকেও আমাকে জানানো হয়। পরে জানানো হলো, ওয়াকার সাহেব সাংবাদিকদের সামনে সম্পূর্ণ পরিস্থিতি নিয়ে একটা ব্রিফিং দেবেন।’

    ‘উনি ব্রিফিং দিলেন, আমরা টেলিভিশনে দেখলাম। উনি বললেন, প্রধানমন্ত্রী দেশত্যাগ করেছেন। তো দেশবাসী আশ্বস্ত হলো যে উনি অলরেডি দেশান্তরী হয়েছেন। তারপর আমাকে সেনাপ্রধান ফোন করে জানালেন যে তারা আসছেন। সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী প্রধান—তিনজনই বঙ্গভবনে এলেন। এসে আমার সঙ্গে উদ্ভূত সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনায় বসলেন।’

    ‘তখন আমাদের প্রায় কিংকর্তব্যবিমূঢ় অবস্থা। কী করা যায়, কিভাবে কী হবে—এসব নিয়ে আমরা আলোচনা করলাম প্রায় দুই থেকে তিন ঘণ্টা। সিদ্ধান্ত হলো, সব রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দকে ডাকা হবে। এই কাজে সেনাবাহিনীর টিম নিযুক্ত ছিল। তারপর উনারা চলে গেলেন। সেনা সদরে দেশের রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দকে একত্র করা হলো। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের মধ্যেও কেউ কেউ ছিল। তখন যাদের পাওয়া গেছে, তাদেরকে নিয়েই আবার তারা বঙ্গভবনে আসেন। আমরা আবার বৈঠকে বসি।’

    ‘বঙ্গভবনের এই বৈঠকে আমরা দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতার বিষয়টি সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছি। কিভাবে, কোন ধরনের সিদ্ধান্ত নিলে দেশের মানুষকে স্বস্তি ফিরিয়ে দেওয়া যায়, সে বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনার আয়োজন হয়। আমার সভাপতিত্বে সভা হলো। সেনাপ্রধান সঞ্চালনা করলেন। সেখানে তিনি পুরো পরিস্থিতির ব্যাখ্যা দিলেন।’

    রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘সেই বৈঠকে সম্মিলিতভাবে কয়েকটি প্রস্তাব আসে। বিশেষ করে, মূল তিনটি প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। এগুলো হলো—তত্ত্বাবধায়ক সরকার, সর্বদলীয় বা জাতীয় সরকার এবং অন্তর্বর্তী সরকার। যে নামেই ডাকা হোক না কেন, লক্ষ্য-উদ্দেশ্য থাকবে অভিন্ন। তত্ত্বাবধায়ক সরকার বললে হয়তো ওয়ান-ইলেভেনের মতো শোনায়। আবার সর্বদলীয় বা জাতীয় সরকার বললে দীর্ঘমেয়াদি সরকারও হয়ে যেতে পারে। তো, নানা বিবেচনায় আমাদের বিজ্ঞ রাজনীতিবিদরা সিদ্ধান্ত নেন যে অন্তর্বর্তী সরকারই গঠন করা উচিত।’

    ‘এই সিদ্ধান্ত হলো আর আমার ওপর দায়িত্ব পড়ল জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়ে জাতিকে আশ্বস্ত করার। আর তারা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে সব ঠিক করবেন সরকারের গঠন প্রণালীটা। এই সিদ্ধান্ত হওয়ার পর প্রফেসর আসিফ নজরুল সাংবাদিকদের কাছে পরিস্থিতির অগ্রগতি তুলে ধরেন। আমাকে ভাষণ দিতে হলো রাত ১১টার সময়। আর অন্তর্বর্তী সরকার গঠন প্রক্রিয়া তাদের হাতে ছেড়ে দেওয়া হলো। সেনাবাহিনী এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ আলাপ করে এটা করবেন। সেনাবাহিনী থাকবে, সহায়তা করবে সব কিছুতে।’