Category: জাতীয়

জাতীয়

  • “এখন নির্বাচন করা সম্ভব নয়”—সংশ্লিষ্ট মহলে কি হতে যাচ্ছে?

    “এখন নির্বাচন করা সম্ভব নয়”—সংশ্লিষ্ট মহলে কি হতে যাচ্ছে?

    “এখন নির্বাচন করা সম্ভব নয়”—সংশ্লিষ্ট মহল

    ভেনেজুয়েলায় আগামী ৩০ দিনের মধ্যে কোনো নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে না বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার (৫ জানুয়ারি) এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আগে দেশটিকে স্থিতিশীল করা জরুরি, এরপর নির্বাচন নিয়ে ভাবা যাবে। ট্রাম্প বলেন, ‘প্রথমে আমাদের দেশটাকে ঠিক করতে হবে। এখন নির্বাচন করা সম্ভব নয়। মানুষ ভোট দিতেই পারবে না।’

    তিনি আরও বলেন, ‘এতে কিছুটা সময় লাগবে। আমাদের ভেনেজুয়েলাকে আবার সুস্থ করে তুলতে হবে।’ এর আগে, শনিবার ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের মাধ্যমে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী, ফার্স্ট লেডি সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করা হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি জানান, প্রয়োজনে মার্কিন সেনা মোতায়েন করে আপাতত ভেনেজুয়েলার ওপর যুক্তরাষ্ট্র নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করবে।তবে ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার সঙ্গে যুদ্ধে নেই। তিনি বলেন, ‘না, আমরা যুদ্ধে নেই। আমরা যুদ্ধ করছি মাদক বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে, যারা তাদের কারাগারের অপরাধী, মাদকাসক্ত ও মানসিক রোগীদের আমাদের দেশে পাঠাচ্ছে।’

    সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আরও জানান, ভেনেজুয়েলার জ্বালানি খাত পুনর্গঠনে যুক্তরাষ্ট্র তেল কোম্পানিগুলোকে সহায়তা করতে পারে। তার মতে, দেশটির জ্বালানি অবকাঠামো পুনর্গঠনে ১৮ মাসেরও কম সময় লাগতে পারে।
    তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, এর চেয়েও কম সময়ে করা সম্ভব। তবে এতে বিপুল অর্থ ব্যয় হবে। তেল কোম্পানিগুলো এই অর্থ ব্যয় করবে, পরে আমরা বা আয়ের মাধ্যমে তাদের অর্থ ফেরত দেওয়া হবে।’
    এনবিসি নিউজ জানায়, ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নির্ধারণে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং হোয়াইট হাউসের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ স্টিফেন মিলারসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা যুক্ত থাকবেন।

    ট্রাম্প বলেন, ‘এটা সবার একটি দল। সবারই আলাদা আলাদা দক্ষতা রয়েছে।’ ভেনেজুয়েলার চূড়ান্ত কর্তৃত্ব কার হাতে থাকবে—এমন প্রশ্নে ট্রাম্প এক শব্দে উত্তর দেন, ‘আমি’। এদিকে, সোমবার নিউইয়র্কের একটি আদালতে নিকোলাস মাদুরো নার্কো-সন্ত্রাসবাদ ও কোকেন আমদানির ষড়যন্ত্রসহ একাধিক ফেডারেল অভিযোগে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। একই দিনে ভেনেজুয়েলার ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজকে অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ পড়ানো হয়।

    ট্রাম্প জানান, রদ্রিগেজ যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কাজ করছেন। তবে মাদুরো আটক হওয়ার আগে তার সহযোগীদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো যোগাযোগ ছিল না বলে দাবি করেন তিনি। রদ্রিগেজের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে কি না, সে বিষয়ে শিগগিরই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও জানান ট্রাম্প। মাদুরোকে সরানোর বিষয়ে কোনো গোপন সমঝোতা ছিল কি না—এমন প্রশ্নে ট্রাম্প বলেন, ‘অনেকে সমঝোতা করতে চেয়েছিল, কিন্তু আমরা এই পথেই এগোনোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’ তিনি জানান, রদ্রিগেজের সঙ্গে তিনি সরাসরি কথা বলেছেন কি না তা স্পষ্ট করেননি। তবে বলেন, মার্কো রুবিও স্প্যানিশ ভাষায় সাবলীল এবং তার সঙ্গে রদ্রিগেজের সম্পর্ক ‘খুবই দৃঢ়’। ট্রাম্প আরও ইঙ্গিত দেন, রদ্রিগেজ সহযোগিতা বন্ধ করলে ভেনেজুয়েলায় দ্বিতীয় দফা সামরিক অভিযান চালানো হতে পারে। তিনি বলেন, ‘আমরা প্রস্তুত আছি। এমনটা হওয়ার আশঙ্কাও আমরা শুরু থেকেই ধরেছিলাম।’

    এদিকে, ওয়াশিংটন পোস্টের একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার কারণে বিরোধীদলীয় নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদোকে নেতৃত্ব থেকে বাদ দিয়েছেন ট্রাম্প। এ অভিযোগ নাকচ করে ট্রাম্প বলেন, ‘তার ওই পুরস্কার পাওয়া উচিত হয়নি। তবে আমার সিদ্ধান্তের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই।’ কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই সামরিক অভিযান চালানোর বিষয়টি নিয়েও সমালোচনা উঠেছে। তবে ট্রাম্প বলেন, কংগ্রেস সবকিছু জানত এবং ভবিষ্যতে আবার সেনা পাঠাতে হলেও নতুন অনুমোদনের প্রয়োজন হবে না। তিনি বলেন, ‘কংগ্রেসে আমাদের ভালো সমর্থন রয়েছে। তারা জানত আমরা কী করছি। তাহলে তারা কেন

  • সারাদেশে এনআইডি সংশোধনে সুখবর

    সারাদেশে এনআইডি সংশোধনে সুখবর

    জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংশোধন প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সারা দেশের জেলা পর্যায়ে ‘ক্র্যাশ প্রোগ্রাম’ চালু করেছে। এ কার্যক্রমের আওতায় আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত সংশোধন আবেদনের দ্রুত নিষ্পত্তি নিশ্চিত করতে জেলা অফিসারদের বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

    জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের পরিচালক মো. আব্দুল হালিম খান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।

    ইসি সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে এনআইডি সংশোধন প্রক্রিয়ায় ধীরগতির অভিযোগ থাকায় নাগরিকদের হয়রানি এড়াতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট জেলা অফিসাররা প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত কাজ করে দ্রুত আবেদন নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করবেন। প্রক্রিয়াটি সহজ করতে অনলাইন আবেদন যাচাই, সরল নথি যাচাই এবং মাঠপর্যায়ে সরেজমিন যাচাই কার্যক্রমকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

    অফিস আদেশে জানানো হয়, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংশোধনের গতি বাড়াতে সারা দেশে বিশেষ ‘ক্র্যাশ প্রোগ্রাম’ চালু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ উদ্যোগের আওতায় ‘গ’ ক্যাটাগরির আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ৬৪ জেলার জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে। আগে শুধু আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তারাই ‘গ’ ক্যাটাগরির আবেদন নিষ্পত্তির ক্ষমতা রাখতেন। তবে এখন থেকে প্রতিটি জেলার জেলা নির্বাচন কর্মকর্তারাও এই কাজ করতে পারবেন, যাতে সেবা আরও দ্রুত ও কার্যকরভাবে দেওয়া সম্ভব হয়। ঢাকা, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহ অঞ্চলে এনআইডি সংশোধনের আবেদন সংখ্যা তুলনামূলক বেশি হওয়ায় এসব অঞ্চলের সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের কর্মকর্তাদেরও সংশোধন কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

    এতে বলা হয়, এ ছাড়া বৃহত্তর ১৯টি সিনিয়র জেলার ‘খ’ ক্যাটাগরির অনিষ্পন্ন আবেদন নিষ্পত্তির লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট অতিরিক্ত জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের বিশেষ ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে। বিশেষ করে ঢাকা ও চট্টগ্রাম জেলার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি উপজেলা ও থানা নির্বাচন কর্মকর্তাদেরও সংশ্লিষ্ট ‘খ’ ক্যাটাগরির আবেদন নিষ্পত্তির ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী, ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা নিজ নিজ অঞ্চলের সব অনিষ্পন্ন আবেদন আগামী ৩০ জুনের মধ্যে নিষ্পত্তি করবেন।

    অফিস আদেশে আরও জানানো হয়, আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তারা ‘গ’ ক্যাটাগরির আবেদনগুলো নিষ্পত্তিসহ বিশেষ কার্যক্রম (ক্র্যাশ প্রোগ্রাম) সফল করতে প্রয়োজনীয় সমন্বয় ও তত্ত্বাবধান করবেন বলেও অফিস আদেশে জানানো হয়। ঢাকা ও চট্টগ্রাম জেলার সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তারা নিজ দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বিশেষ কার্যক্রমের (ক্রাশ প্রোগ্রাম) সমন্বয় ও তত্ত্বাবধান করবেন। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা অবশ্যই পুরাতন আবেদনগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিষ্পত্তি করবেন। সেসঙ্গে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগে পরিচালক (পরিচালনা) বিশেষ কার্যক্রম (ক্রাশ প্রোগ্রাম) সামগ্রিক বিষয় মনিটরিং এবং প্রতি ১৫ দিন অন্তর অন্তর এ কাজের অগ্রগতির প্রতিবেদন এনআইডি মহাপরিচালককে অবগত করবেন।

  • নতুন নিষেধাজ্ঞার কবলে শেখ হাসিনা

    নতুন নিষেধাজ্ঞার কবলে শেখ হাসিনা

    ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মেঘনা-গোমতী সেতুর টোল আদায়ের কার্যাদেশে অনিয়ম, সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির অভিযোগে করা মামলায় ক্ষমতাচ্যুতির পর ভারতে পালিয়ে থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৭ জনের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত।

    দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রোববার (২১ ডিসেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের অবকাশকালীন বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন এ আদেশ দেন।

    দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া অপর ১৬ জন হলেন, সাবেক শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, সাবেক স্থানীয় সরকার মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন, সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সাবেক প্রতিমন্ত্রী (অর্থ ও পরিকল্পনা) এম এ মান্নান, সাবেক সচিব এম এ এন ছিদ্দিক, সাবেক অতিরিক্ত সচিব ফারুক জলিল, সাবেক উপসচিব মোহাম্মদ শফিকুল করিম, সাবেক প্রধান প্রকৌশলী ফিরোজ ইকবাল ও ইবনে আলম হাসান, সাবেক অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আফতাব হোসেন খান ও আব্দুস সালাম, সিএনএস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুনীর উজ জামান চৌধুরী, পরিচালক সেলিনা চৌধুরী ও ইকরাম ইকবাল।

    দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা তানজীর আহমেদ এতথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    দুদকের পক্ষে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও সংস্থার সহকারী পরিচালক তানজিল হাসান তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করেন।

    আবেদনে বলা হয়, ‘একক উৎসভিত্তিক দরপত্র’ আহ্বান করে কম্পিউটার নেটওয়ার্ক সিস্টেম লিমিটেড (সিএনএস) শতকরা ১৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ হারে সার্ভিস চার্জ (ভ্যাট ও আইটি ব্যতীত) ৫ বছর মেয়াদে কার্যাদেশ পাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে মোট ৪৮৯ কোটি ৪৩ লাখ ৭৩ হাজার টাকা বিল গ্রহণ করে। এতে সরকারের ৩০৯ কোটি ৪২ লাখ ৪৫ হাজার ৮৯০ টাকা আর্থিক ক্ষতি হয়। যা আসামিরা প্রতারণার মাধ্যমে পরস্পর যোগসাজশে নিজেরা লাভবান হয়ে আত্মসাৎ করেন। তার পরিপ্রেক্ষিতে আসামিদের মামলা দায়ের করা হয়। মামলার এজাহারনামীয় আসামিরা দেশত্যাগ করতে পারেন মর্মে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়। এতে মামলার তদন্ত কার্যক্রম বাধাগ্রস্তসহ গুরুত্বপূর্ণ আলামত বিনষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাদের বিদেশ গমন রহিত করা প্রয়োজন।

    গত ১২ অক্টোবর শেখ হাসিনাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে সংস্থাটির ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ঢাকা-১–এ দুদকের সহকারী পরিচালক তানজিল হাসান বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

    মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০১৬ সালে মেঘনা-গোমতী সেতুর টোল আদায়কারী হিসেবে কম্পিউটার নেটওয়ার্ক সিস্টেম (সিএনএস) লিমিটেডকে নিয়োগ দিতে আগের দরপত্র ‘ইচ্ছাকৃতভাবে বাতিল’ করে একক উৎসভিত্তিক দরপত্র আহ্বান করা হয়।

    অন্যান্য প্রতিষ্ঠানকে বাদ রেখে কেবল সিএনএস লিমিটেডের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে ৫ বছরের জন্য টোল আদায়ের চুক্তি করা হয়। এতে সার্ভিস চার্জের সুনির্দিষ্ট পরিমাণ ঠিক না করে হার বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। এই হার ছিল আদায় করা টোলের ১৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ (ভ্যাট ও আয়কর ব্যতীত)।

    দুদক বলছে, এ চুক্তির আওতায় সিএনএস লিমিটেড মোট ৪৮৯ কোটি ৪৩ লাখ ৭৩ হাজার টাকা বিল গ্রহণ করে। অন্যদিকে ২০১০-২০১৫ সাল পর্যন্ত একই সেতুর টোল আদায়ের জন্য এমবিইএল-এটিটি মাত্র ১৫ কোটি ৫৮ লাখ টাকায় কাজ করে। পরবর্তী সময়ে ২০২২-২০২৫ মেয়াদে ইউডিসি কনস্ট্রাকশন লিমিটেডকে ৬৭ কোটি ৫৪ লাখ টাকায় (ভ্যাট ও আয়করসহ) কার্যাদেশ দেওয়া হয়, যা পাঁচ বছরে রূপান্তর করলে দাঁড়ায় প্রায় ১১২ কোটি ৫৮ লাখ টাকা।

    দুদকের অনুসন্ধান অনুযায়ী, সিএনএস লিমিটেড কথিত ‘নতুন প্রযুক্তি স্থাপন ও অবকাঠামো ব্যয়’ বাবদ আরও ৬৭ কোটি ৪৩ লাখ টাকা দাবি করে।

    তুলনামূলক বিশ্লেষণে দুদক মনে করছে, সিএনএস লিমিটেডকে কার্যাদেশ দেওয়ার ফলে সরকারের মোট আর্থিক ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৩০৯ কোটি ৪২ লাখ ৪৫ হাজার ৮৯০ টাকা।

    দুদক বলছে, সিএনএস লিমিটেডের পরিচালক, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সদস্যরা পরস্পর যোগসাজশে এ অনিয়ম করেছেন।

  • বাজারে হঠাৎ পাল্টে গেল জ্বালানি তেলের দাম

    বাজারে হঠাৎ পাল্টে গেল জ্বালানি তেলের দাম

    শক্তিশালী মার্কিন অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং ভেনিজুয়েলা ও রাশিয়ার তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে।

    বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচার ৪ সেন্ট বা শূন্য দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৬২ দশমিক ৪২ ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুড ৩ সেন্ট বা শূন্য দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৫৮ দশমিক ৪১ ডলারে লেনদেন হয়েছে।

    এর আগে সোমবার বিশ্ববাজারে তেলের দাম ২ শতাংশেরও বেশি বেড়ে যায়। এদিন ব্রেন্ট ক্রুড দুই মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ দৈনিক বৃদ্ধি দেখায় এবং ১৪ নভেম্বরের পর ডব্লিউটিআইয়ের দাম সবচেয়ে বেশি বাড়ে। মঙ্গলবারও তেলের দাম আরও শূন্য দশমিক ৫ শতাংশের বেশি বেড়েছে।

    মঙ্গলবার মার্কিন বাণিজ্য বিভাগের ব্যুরো অব ইকোনমিক অ্যানালাইসিস তৃতীয় প্রান্তিকের জিডিপির প্রাথমিক হিসাব প্রকাশ করে জানায়, শক্তিশালী ভোক্তা ব্যয়ের কারণে মার্কিন অর্থনীতি প্রত্যাশার চেয়ে দ্রুতগতিতে বেড়েছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ত্রৈমাসিকে যুক্তরাষ্ট্রের মোট দেশজ উৎপাদন বার্ষিক ভিত্তিতে ৪ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে, যা ২০২৩ সালের তৃতীয় ত্রৈমাসিকের পর সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি।

    আইজি গ্রুপের বিশ্লেষক টনি সাইকামোর এক নোটে বলেন, ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার পটভূমিতে যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী তৃতীয় প্রান্তিকের জিডিপি তথ্য রাতারাতি তেলের দামে সমর্থন জুগিয়েছে।

    হাইটং ফিউচারস এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ভেনিজুয়েলার তেল রফতানিতে সম্ভাব্য ব্যাঘাত বাজারের মনোভাবকে সমর্থন করার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে রাশিয়া ও ইউক্রেনের একে অপরের জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর চলমান হামলাও তেলের দামে ঊর্ধ্বমুখী চাপ তৈরি করছে।

    বিশ্লেষকরা বলছেন, অন্যান্য প্রভাবশালী বিষয়ের কারণে বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল ভোক্তা দেশ যুক্তরাষ্ট্রের মজুতের তথ্য আপাতত বাজার খুব একটা গুরুত্ব দিচ্ছে না।

    মঙ্গলবার আমেরিকান পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউটের তথ্যের বরাত দিয়ে বাজার সূত্র জানায়, গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেলের মজুত ২৩ লাখ ৯০ হাজার ব্যারেল বেড়েছে। একই সময়ে পেট্রোলের মজুত বেড়েছে ১০ লাখ ৯০ হাজার ব্যারেল এবং ডিস্টিলেট মজুত বেড়েছে ৬ লাখ ৮৫ হাজার ব্যারেল।

    ছুটির কারণে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় দেরিতে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তথ্য প্রশাসন সোমবার তাদের সরকারি তথ্য প্রকাশ করবে। হাইটং ফিউচারস জানিয়েছে, ডিসেম্বরে ছুটির মৌসুমের প্রভাবে পরিশোধিত তেলের চাহিদা সাময়িকভাবে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ফলে মজুত বৃদ্ধির তথ্যের প্রতি বাজারের প্রতিক্রিয়া তুলনামূলকভাবে সীমিত থেকেছে।

    এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চলতি মাসের শুরুতে ভেনিজুয়েলায় প্রবেশ ও বের হওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞার আওতায় সব তেল ট্যাঙ্কার অবরোধের ঘোষণা দেন। এতে জাহাজ মালিকদের মধ্যে সতর্কতা বেড়েছে।

    মঙ্গলবার পর্যবেক্ষণ সংস্থা ট্যাংকারট্র্যাকার্স ডটকমজানায়, গত সপ্তাহে ভেনিজুয়েলা থেকে তেল বহনকারী পানামা-পতাকাবাহী একটি বড় অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজ যুক্তরাষ্ট্রের আরও কয়েকটি ট্যাঙ্কার আটকের পর ভেনিজুয়েলার জলসীমায় ফিরে এসেছে।

    এর আগে এই মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র একটি সুপারট্যাঙ্কার আটক করে এবং সপ্তাহান্তে আরও দুটি জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করে। এর ফলে এক ডজনেরও বেশি তেলবাহী জাহাজ ভেনিজুয়েলায় অবস্থান করে তাদের মালিকদের কাছ থেকে নতুন নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছে।