Category: আর্ন্তজাতিক

আর্ন্তজাতিক

  • যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর যৌথ মহড়া শুরু

    যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর যৌথ মহড়া শুরু

    বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও যুক্তরাষ্ট্রের প্যাসিফিক আর্মি কমান্ডের যৌথ মহড়া শুরু হয়েছে।

    শুক্রবার (২৫ জুলাই) সিলেটের জালালাবাদ সেনানিবাসে প্যারা কমান্ডো ব্রিগেডে ‘এক্সারসাইজ টাইগার লাইটনিং (টিএল)-২০২৫’ এর উদ্বোধন করা হয়। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এ তথ্য জানিয়েছে।

    আইএসপিআর জানায়, অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্যাসিফিক আর্মি কমান্ডের ডেপুটি কমান্ডিং জেনারেল মেজর জেনারেল অ্যাসকট এ উইন্টার। এই মহড়াটি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্যারা কমান্ডো ব্রিগেড এবং ইউনাইটেড স্টেটস আর্মি প্যাসিফিক কমান্ডের নেভাডা ন্যাশনাল গার্ডের যৌথ তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

    অনুশীলনটি মোট ৬ দিনের জন্য পরিচালিত হবে, যা আগামী ৩০ জুলাই পর্যন্ত চলবে।

    আইএসপিআর আরও জানায়, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তা বিধান, সন্ত্রাস দমন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং মানবিক সহায়তা ইত্যাদি বিষয়ে পারস্পরিক সহযোগিতা বিদ্যমান রয়েছে। বাংলাদেশ প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ যে কোনো বৈশ্বিক হুমকি মোকাবিলায় বদ্ধপরিকর এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য অংশীদারদের সঙ্গে সমবেতভাবে কাজ করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, কৌশলগত যৌথ আভিযানিক সক্ষমতা উন্নয়ন এবং প্রস্তুতি জোরদার করার লক্ষ্যে ২০২৫ সালে টাইগার লাইটনিং অনুশীলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

    মহড়ায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেভাডা ন্যাশনাল গার্ডের ৬৬ জন এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্যারা কমান্ডো ব্রিগেডের ১০০ জন সদস্য অংশগ্রহণ করছেন।

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে সেনাবাহিনী এয়ার ডিফেন্স পরিদপ্তরের পরিচালক, সামরিক প্রশিক্ষণ পরিদপ্তর এবং কমান্ডার, প্যারা কমান্ডো ব্রিগেড উপস্থিত ছিলেন।

    এই অনুশীলন অংশগ্রহণকারী সেনাসদস্যদের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়ণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। এটি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর মধ্যে বিদ্যমান সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করতে কার্যকরী অবদান রাখবে বলেও জানিয়েছে আইএসপিআর।

     

  • ভারত থেকে কলার ভেলায় ভেসে এলো শিশুর মরদেহ, সঙ্গে চিরকুট

    ভারত থেকে কলার ভেলায় ভেসে এলো শিশুর মরদেহ, সঙ্গে চিরকুট

    ভারতে সাপে কাটা একটি শিশুর মরদেহ কলাগাছের ভেলায় করে নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়। ওই শিশুর মরদেহ কুড়িগ্রামে দুধকুমার নদে এসে পৌঁছেছে। রোববার সকাল সাড়ে ৯টায় সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের দুধকুমার নদে গারুহারা ঘাটে ভেলা‌টি ভাসতে দেখেন স্থানীয়রা।

    সোমবার (২৮ জুলাই) ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন যাত্রাপুর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল গফুর।

    মরদেহের সঙ্গে থাকা মোবাইল নম্বরে ফারুক খান নামে এক শিক্ষার্থী ফোন করে জানতে পারেন, শিশুটির মামা পরিচয়দানকারী অনকু দাস জানিয়েছেন শিশুটি ১০ জুলাই সাপের কামড়ে মারা যায়।

    নতুন করে জীবন ফিরে পাবে- এমন আশায় লাশটি নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়। এসব কথা জানার পর স্থানীয়রা আর লাশটি না আটকিয়ে আবারও নদীতে ভাসিয়ে দেন।

    স্থানীয় বা‌সিন্দারা জানান, কলাগাছের কয়েকটি গুঁড়ি দিয়ে তৈরি এক‌টি ভেলায় চাটাইয়ের ওপর প্রায় ৬ বছর বয়সি এক‌টি শিশুর ম‌রদেহ ভাসতে দেখেন তারা। লাশটি চাদর, মশা‌রি এবং প‌লি‌থিন দিয়ে ঢেকে রাখা।

    শুধু মু‌খটা দেখা যাচ্ছে। ভেলাতে শিশু‌টির ছ‌বি সম্বলিত নাম-ঠিকানা ও এক‌টি ফোন নাম্বার উল্লেখ করা ছিল।

    উল্লেখিত ঠিকানায় দেখা যায়- শিশু‌টির নাম সুমীত দাস, তার পিতার নাম আকুমনি দাস, মায়ের নাম পদ্মা দাস। সেখানে ঠিকানা উল্লেখ করা ছিল- ‌ডেকাবঘাট লালবা‌ড়ি, আসাম, ভারত।

    যাত্রাপুরের গারুহারা এলাকার কলেজ শিক্ষার্থী ফারুক খান বলেন, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কলাগাছের ভেলায় এক‌টি লাশটি ভাসতে দেখেন স্থানীয়রা। খবর পেয়ে আমি সেখানে যাই। পরে লাশের সঙ্গে এক‌টি চিরকুট দেখতে পাই। ওই চিরকুটে এক‌টি ভারতীয় ফোন নম্বর ছিল। ওই নাম্বারে হোয়াটসঅ্যাপ যোগাযোগ করলে অপরপ্রান্ত থেকে সাড়া পাই- অনকু দাস নামে এক ব্যক্তি শিশু‌টির মামা প‌রিচয় দেন।

    পরে তি‌নি জানান, গত ১০ জুলাই শিশু‌টি সাপের কামড়ে মারা গেলে তাকে কলাগাছের ভেলায় ভা‌সিয়ে দেওয়া হয়েছে।

    এ বিষয়ে যাত্রাপুর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল গফুর বলেন, কলাগাছের ভেলায় ভেসে আসা শিশুটির খবর শুনেছি। লাশটি আবার ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছে।

     

  • কয়েক ঘন্টার জন্য বিয়ে করা যায় ইরানী নারীদের!

    কয়েক ঘন্টার জন্য বিয়ে করা যায় ইরানী নারীদের!

    মাত্র এক ঘণ্টার জন্য তরুণীদের বিয়ে করা যায় মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইরানে। এ ধরনের বিয়েকে বলা হয় মোতাহ বিয়ে।

    ইসলামে যেহেতু পতিতাবৃত্তি বা বিবাহবহির্ভূত শারীরিক সম্পর্ক হারাম। তাই এই ধরনের বিয়ে চালু রয়েছে দেশটিতে।

    ইরানে বিয়ে ছাড়া একসঙ্গে যুবক-যুবতীর থাকাকে বলা হয় ‘হোয়াইট ম্যারেজ’ বা সাদা বিয়ে। দেশটিতে কড়া ইসলামী আইনে নারী-পুরুষের এভাবে একসঙ্গে থাকা অবৈধ। কিন্তু তারপরও চলছে এই সাদা বিয়ে।

    ইরানে অনেক যুগলই তাড়াহুড়ো করে বিয়ে করতে চান না। এর কারণ হচ্ছে দেশটির ক্রমবর্ধমান বিবাহবিচ্ছেদের হার। কারণ দেশটিতে প্রতি পাঁচটি বিয়ের একটি বিচ্ছেদ হয়। এর মধ্যে রাজধানী তেহরানে বিবাহবিচ্ছেদের হার সবচেয়ে বেশি।

    ইরানের আইনে বিয়ের বাইরে কোনো নারী-পুরুষের শারীরিক সংস্পর্শ ঘটলে তা দণ্ডনীয় অপরাধ। এ কারণে যে যুগলরা এ রকম সাদা বিয়ে করেছেন -তারা এটা নানাভাবে গোপন রাখেন, যাতে লোকের চোখে তা ধরা না পড়ে।

    সাদা বিয়ে করেছেন এমন কোনো নারী যদি অত্যাচারিত হন তাহলে তিনি পুলিশের কাছে যেতে পারেন না, কারণ তাহলে তিনি ও তার সঙ্গী উভয়কেই ব্যভিচারের দায়ে গ্রেপ্তার করা হবে।

    তবে ইরানের তরুণ প্রজন্মকে বিয়েতে উৎসাহিত করতে চালু হয়েছে হামদানের মতো ডেটিং অ্যাপ । বিয়ের প্রাথমিক খরচ মেটাতে সুদমুক্ত ঋণও দেওয়া হচ্ছে।

    শুধু তাই নয়, বিয়ে নিয়ে বিচিত্র আচার প্রচলিত আছে ইরানে। দেশটিতে ১৩ বছর বয়সী মেয়ে এবং ১৫ বছর বয়সী ছেলেদের বিয়ে দেওয়া বৈধ।

    দেশটিতে বিয়ের আগে নারীকে কুমারীত্বের সার্টিফিকেট দিতে হয়। এ ছাড়া মেয়ের বয়স ১৩ বছর হলে পালক কন্যাকে বিয়ে করতে পারেন বাবা।

    ইরানের আছে হাজার বছরের ইতিহাস। তবে দেশটিতে ইসলামের ছোঁয়া লাগে সপ্তম শতকে। আরব মুসলিমরা ৬৩৬ খ্রিষ্টাব্দে পারস্য সাসানীয় সাম্রাজ্যে আক্রমণ শুরু করে। পরবর্তী ৫ বছরের মধ্যে তারা এলবুর্জ পর্বত ও কাস্পিয়ান সাগরের তীরবর্তী সমভূমি ব্যতীত সমগ্র ইরান করায়ত্ত করে। ৬৫১ সালে তারা সাসানিদ সাম্রাজ্যের পূর্ণ পতন ঘটাতে সক্ষম হয়।

    এর পর প্রায় দুই শতাব্দী ধরে ইরান আরব ইসলামিক সাম্রাজ্যের অধীনে। এ সময় মূল ইরানের বাইরে বর্তমান পশ্চিম আফগানিস্তানের হেরাতেও এই সাম্রাজ্যের বিস্তার ঘটে। ইসলামের খলিফারা প্রথমে মদীনা ও পরবর্তীকালে সিরিয়ার দামেস্ক ও শেষ পর্যন্ত ইরাকের বাগদাদ থেকে ইরান শাসন করতেন।