Category: আর্ন্তজাতিক

আর্ন্তজাতিক

  • এপস্টেইন ফাইলে শেখ হাসিনার নাম, চাঞ্চল্যকর আরও তথ্য ফাঁস

    এপস্টেইন ফাইলে শেখ হাসিনার নাম, চাঞ্চল্যকর আরও তথ্য ফাঁস

    যুক্তরাষ্ট্রের কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইন সম্পর্কিত নতুন ৩০ লাখের বেশি নথি প্রকাশ হয়েছে। যেখানে দেখা গেছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নাম।

    এবার ওইসব নথি থেকে বের হয়ে এসেছে বাংলাদেশের পলাতক ও দণ্ডিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামও।

    হাসিনার সঙ্গে এপস্টেইনের টিমের যোগাযোগ ছিল। তবে সরাসরি শেখ হাসিনার নাম সেখানে উল্লেখ করা হয়নি। এর বদলে বলা হয়েছে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।

    মেইলে বলতে দেখা যায়, জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে ২০ বছর ধরে কাজ করা নারী সহকারী লেসলি গ্রোফ এক মেইলে জানিয়েছেন, কোনো একটি অজানা বিষয়ে তার টিমের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী একমত হয়েছেন। তবে বিষয়টি কী, তা বলা হয়নি।

    মেইলটি পাঠানো হয়েছে, ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরের ২১ তারিখ রাত ১টার দিকে। মেইলের বিষয়বস্তুর নাম ছিল- জেফরি এপস্টেইন।

    এদিকে শুধু শেখ হাসিনার নামই নয়- এপস্টেইন নথিতে রয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও।

    এপস্টেইনের ওই ইমেইলে উল্লেখ আছে, ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী মোদি আমার পরামর্শ নেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে খুশি করতে ইসরায়েলে গিয়ে নাচ-গান করেন। এপস্টেইন আরও দাবি করেন যে, ‘এটি কাজ করেছিল’।

    ২০১৭ সালে মোদি সত্যিই ইসরায়েল সফর করেন- যা ছিল কোনো ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রথম ইসরায়েল সফর এবং তার কয়েক সপ্তাহ আগে তিনি ট্রাম্পের সঙ্গে ওয়াশিংটনে দেখা করেন।

    এপস্টেইনের সঙ্গে ভারতীয় ব্যবসায়ী অনিল আম্বানিরও যোগাযোগের উল্লেখ আছে নথিতে, যেখানে আম্বানি মোদির আমেরিকা সফরের আগে এপস্টেইনের সাহায্য চেয়েছিলেন বলে দাবি করা হয়।

    এপস্টেইন ছিলেন নিউইয়র্কের এক ধনী আর্থিক বিনিয়োগকারী, যিনি ছিলেন নাবালিকাদের যৌন নির্যাতন, মানব পাচার ও যৌন নিপীড়নের একাধিক অভিযোগে অভিযুক্ত।

    ২০০৮ সালে এপস্টেইন ফ্লোরিডায় অপ্রাপ্তবয়স্ক এক তরুণীর সঙ্গে যৌনকর্মে লিপ্ত হওয়ার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হলেও অত্যন্ত বিতর্কিত এক চুক্তির মাধ্যমে মাত্র ১৩ মাসের হালকা শাস্তি ভোগ করে মুক্তি পান।

    পরে জানা যায়, সেই চুক্তিটি ছিল বিচার বিভাগ ও স্থানীয় প্রসিকিউশনের অস্বাভাবিক ছাড়, যা এপস্টেইনকে আরও বহু গুরুতর অভিযোগ থেকে রক্ষা করেছিল। ২০১৯ সালে নিউইয়র্কে আবারও তার বিরুদ্ধে নাবালিকাদের যৌন পাচারের অভিযোগে বড় ধরনের মামলা হয়।

    এফবিআই ও ফেডারেল প্রসিকিউটররা জানান, এপস্টেইন ‘বহু বছর ধরে’ ১৪–১৭ বছর বয়সী কিশোরীদের বিশ্বজুড়ে তার বাড়ি ও ব্যক্তিগত বিমানে এনে শারীরিক নির্যাতন করতেন।

    তদন্তে উঠে আসে, তিনি প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ব্যবহার করে নিজের অপরাধমূলক চক্রকে দীর্ঘদিন আড়াল করে রেখেছিলেন।

    ২০১৯ সালের আগস্টে নিউইয়র্কের কারাগারে এপস্টেইনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। মেডিকেল পরীক্ষায় এটিকে আত্মহত্যা বলা হলেও, কারাগারের নিরাপত্তাজনিত ত্রুটি, নজরদারি ক্যামেরা বিকল হয়ে যাওয়া এবং প্রহরীদের দায়িত্বে অবহেলাসহ একাধিক অসঙ্গতি সামনে আসায় তার মৃত্যুকে ঘিরে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়।

    এপস্টেইনের সহযোগী ঘিষলেইন ম্যাক্সওয়েলকে ২০২০ সালে গ্রেপ্তার করা হয় এবং ২০২১ সালে তিনি নাবালিকাদের যৌন পাচারসহ কয়েকটি গুরুতর অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হন। বর্তমানে ঘিষলেইন ২০ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন।

  • এপস্টেইনের কাছে কাবার গিলাফ পাঠিয়েছিলেন আমিরাতের যে নারী ব্যবসায়ী

    এপস্টেইনের কাছে কাবার গিলাফ পাঠিয়েছিলেন আমিরাতের যে নারী ব্যবসায়ী

    সৌদি আরবের মক্কায় অবস্থিত পবিত্র কাবা শরিফের গিলাফের (কিসওয়া) কাপড়ের একটি চালান সংযুক্ত আরব আমিরাতের এক নারীর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয়েছিল। পরে ওই কাপড় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইনের কাছে পৌঁছানো হয়। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের প্রকাশিত এপস্টেইন ফাইলসের নতুন নথিতে এই তথ্য উঠে এসেছে।

    সদ্য প্রকাশিত নথিতে থাকা ই-মেইলে দেখা যায়, ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি ও মার্চের ওই চিঠিপত্রে দেখা যায়, আমিরাতি ব্যবসায়ী আজিজা আল-আহমাদি ‘আব্দুল্লাহ আল-মাআরি’ নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে কাজ করে কিসওয়ার তিনটি টুকরা পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। কিসওয়া হলো কালো রঙের সোনালি কারুকার্যখচিত কাপড়, যা ব্যবহার করে সৌদি আরবে ইসলামের পবিত্রতম স্থানে অবস্থিত কাবাকে আবৃত রাখা হয়।

    বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের কাছে কিসওয়ার গভীর ধর্মীয় তাৎপর্য রয়েছে। প্রতি বছর এই কাপড় কাবা থেকে খুলে নতুন কাপড় লাগানো হয়। আর আগের কিসওয়ার অংশগুলোকে অত্যন্ত মূল্যবান ধর্মীয় নিদর্শন হিসেবে গণ্য করা হয়।

    নথিতে থাকা ই-মেইলে দেখা যায়, কাপড়ের অংশগুলো সৌদি আরব থেকে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের কার্গো বিমানে করে ফ্লোরিডায় পাঠানো হয়। চালানটি যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছাতে ইনভয়েস, কাস্টমস ব্যবস্থা এবং দেশের ভেতরে সরবরাহ—সবকিছুর সমন্বয় করা হয়েছিল।

    বার্তাগুলোতে তিনটি আলাদা টুকরার বর্ণনা দেওয়া হয়েছে—একটি কাবার ভেতরের অংশ থেকে, একটি ব্যবহৃত বাইরের আবরণ থেকে এবং তৃতীয়টি একই উপকরণে তৈরি হলেও ব্যবহার করা হয়নি। ব্যবহার না হওয়া টুকরাটিকে ‘শিল্পকর্ম’ হিসেবে শ্রেণিভুক্ত করার উপায় হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

    ২০১৭ সালের মার্চে চালানটি এপস্টেইনের বাসভবনে পৌঁছায়। ওই সময় কারাভোগ শেষে এপস্টেইনকে যৌন অপরাধী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে নথিভুক্ত করা হয়।

    একটি ই-মেইলে আহমাদি সরাসরি এপস্টেইনকে উদ্দেশ করে কাপড়টির ধর্মীয় গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি লেখেন, কালো টুকরাটি বিভিন্ন মাজহাবের—সুন্নি, শিয়া ও অন্যদের; কমপক্ষে এক কোটি মুসলমান স্পর্শ করেছেন।

    তিনি আরও বলেন, তারা কাবার চারপাশে সাতবার তাওয়াফ করেন, এরপর প্রত্যেকে যতটা পারেন সেটিকে স্পর্শ করার চেষ্টা করেন এবং তাদের দোয়া, ইচ্ছা, অশ্রু ও আশা এই কাপড়ের ওপর রেখে যান—এই আশায় যে এরপর তাদের সব দোয়া কবুল হবে।

    এই চিঠিতে আহমাদি কীভাবে এপস্টেইনের সঙ্গে পরিচিত হন কিংবা কেন ওই টুকরাগুলো তার কাছে পাঠানো হয়েছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনও ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

    আরেক দফা পাঠানো ই-মেইলে দেখা যায়, ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে হারিকেন ইরমা ক্যারিবীয় অঞ্চলে আঘাত হানার পর আহমাদি এপস্টেইনের খোঁজ নেন। ওই ঝড়ে তার ব্যক্তিগত দ্বীপটি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

    কয়েক দিন ধরে আহমাদি বারবার এপস্টেইনের সেক্রেটারির সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্বীপে তার অবস্থা সম্পর্কে জানতে চান।

    সেক্রেটারি লেখেন, সবাই নিরাপদ আছেন। এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ… কিছু স্থাপনা ধ্বংস হয়েছে… গাছপালা নেই… ডক ও প্যাভিলিয়ন উড়ে গেছে… রাস্তা চলাচলের অনুপযোগী… বাইরে আরও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে ভেতরে ঠিক আছে…. অবস্থা খুব খারাপ। তবে সব আবার গড়ে তোলা যাবে! খোঁজ নেওয়ার জন্য ধন্যবাদ। জবাবে আহমাদি লেখেন, নতুন তাঁবু পাঠানোর প্রতিশ্রুতি রইল।

    আহমাদি কখনও এপস্টেইনের দ্বীপে গিয়েছিলেন কি না কিংবা সেখানে কী ঘটত, সে সম্পর্কে তিনি জানতেন কি না ই-মেইলে তা পরিষ্কার হওয়া যায়নি। ‘লিটল সেন্ট জেমস’ নামে পরিচিত ওই দ্বীপটি এপস্টেইনের যৌন পাচার কার্যক্রমের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হতো।

    আরেকটি বার্তায় এপস্টেইনের দীর্ঘদিনের সহকারী লেসলি গ্রফ আহমাদিকে একটি ডিএনএ পরীক্ষার কিট পাঠান। কী উদ্দেশ্যে এটি পাঠানো হয়েছিল, তা স্পষ্ট নয়।

    চিঠিপত্রে এপস্টেইন খুব কমই সরাসরি আহমাদির সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। একটি ই-মেইলে তিনি গ্রফের কাছে জানতে চান, নিউইয়র্ক ছাড়ার আগে আজ কি জেফরির বাড়িতে একটু ঢুঁ মারতে পারি? বিদায় ও জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাতে। আমার মাত্র ১৫ মিনিট লাগবে।

    এ ছাড়া গত শুক্রবার সন্ধ্যায় এফবিআইয়ের প্রকাশিত একটি স্মারকে বলা হয়, এপস্টেইন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে কাজ করতেন। এতে বলা হয়, এপস্টেইন ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এহুদ বারাকের ঘনিষ্ঠ ছিলেন এবং তার অধীনে গুপ্তচর হিসেবে প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন।

  • ‘রহস্যময়’ মিষ্টি খেয়ে ৩ দিনে তিনজনের মৃত্যু, তদন্তে মিলল চাঞ্চল্যকর তথ্য

    ‘রহস্যময়’ মিষ্টি খেয়ে ৩ দিনে তিনজনের মৃত্যু, তদন্তে মিলল চাঞ্চল্যকর তথ্য

    ভারতের মধ্যপ্রদেশ রাজ্যের ছিন্দওয়াড়া জেলায় মিষ্টি খেয়ে এক নারীসহ তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। শুরুতে খাদ্যে বিষক্রিয়ায় তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করলেও পরে পুলিশি তদন্তের বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। সেই নারীকে হত্যা করতে বিষমিশ্রিত মিষ্টির ফাঁদ পেতেছিলেন তারই শ্বশুর পক্ষের আত্মীয়রা। ওই নারীর পাশাপাশি সেই ষড়যন্ত্রের বলি হয়েছেন তার দাদা ও এক নিরাপত্তারক্ষীও।

    ঘটনার সূত্রপাত ৯ জানুয়ারি। ছিন্দওয়াড়ার জুননারদেও এলাকায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের (পিএইচইডি) অফিসের কাছে ঝুলন্ত অবস্থায় একটি পরিত্যক্ত ব্যাগ পাওয়া যায়। ব্যাগটিতে ছিল কিছু সবজি ও একটি মিষ্টির বাক্স। দীর্ঘ সময় কেউ সেটি দাবি না করায় কৌতূহলই শেষ পর্যন্ত প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে।

    বিষমিশ্রিত মিষ্টির প্রথম শিকার হন ৫০ বছর বয়সি দাশরু যাদুবংশী। তিনি ওই সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত নিরাপত্তারক্ষী ছিলেন। মিষ্টি খাওয়ার পর তীব্র বমি ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ১১ জানুয়ারি চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ময়নাতদন্ত না হওয়ায় ঘটনাটি প্রথমে রহস্যজনক দুর্ঘটনা বলেই মনে হয়েছিল।

     

    পরবর্তীতে ওই একই মিষ্টির বাক্সটি কাছাকাছি এক দোকানির পরিবার বাড়িতে নিয়ে যায়। এর কিছুক্ষণ পরই ২২ বছর বয়সি খুশবু কথুরিয়া, তার ৭২ বছর বয়সি দাদা এবং পরিবারের আরও কয়েকজন গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। চিকিৎসা দেয়া হলেও খুশবু ও তার দাদার মৃত্যু হয়। তবে খুশবুর মা ও বোন অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান।

    মাত্র তিন দিনে তিনটি মৃত্যু, সবগুলোর যোগসূত্র একটি পরিত্যক্ত মিষ্টির বাক্স। তদন্তের মোড় ঘুরে যায় যখন পুলিশ হত্যার পেছনের উদ্দেশ্য উদ্‌ঘাটন করে। তদন্তকারীদের মতে, ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে বিয়ের পর খুশবু তার শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে নির্যাতন ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগ করেছিলেন। এই অভিযোগে সমাজে তার শ্বশুরের পরিবার চরমভাবে অপমানিত হয়।

    এরপরই প্রতিশোধের পরিকল্পনা করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, খুশবুর শ্বশুর ঝাড়ু কাসার, দেবর শুভম এবং ননদ শিবানী মিলে তাকে চুপ করিয়ে দেয়ার ষড়যন্ত্র করেন।

     

    পুলিশের দাবি, অভিযুক্তরা মিষ্টির মধ্যে আর্সেনিক মিশিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে ব্যাগটি খুশবুর বাবার দোকানের কাছাকাছি রেখে যায়, যাতে খুশবু বা তার পরিবারের কেউ না কেউ সেটি খেয়ে ফেলে।

    ফরেনসিক পরীক্ষার পরই আসল সত্য সামনে আসে। ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরির রিপোর্টে বলা হয়, মিষ্টিতে আর্সেনিকের মাত্রা অনুমোদিত সীমার চেয়ে হাজার গুণ বেশি ছিল, যা একাধিক মানুষকে হত্যার জন্য যথেষ্ট। তদন্তকারীদের ধারণা, অভিযুক্তরা ভাবেনি যে প্রথমে পিএইচইডি-এর নিরাপত্তারক্ষীই মিষ্টি খেয়ে ফেলবেন।

    প্রযুক্তিগত ও সাইবার প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের শনাক্ত করে পুলিশ। অপরাধে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল ও মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১০৩(১) ধারা অনুযায়ী খুন ও ফৌজদারি ষড়যন্ত্রের মামলা হয়েছে। পরিকল্পনার সঙ্গে আর কেউ জড়িত ছিল কিনা বা আগে থেকে জানত কিনা, সে বিষয়ে এখনও তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

  • বাংলাদেশিদের ভারত ভ্রমণ, এবার যে নতুন আদেশ জারি

    বাংলাদেশিদের ভারত ভ্রমণ, এবার যে নতুন আদেশ জারি

    নতুন বছরের প্রথম দিন থেকেই ভারত-বাংলাদেশ স্থলপথে যাতায়াতকারী যাত্রীদের খরচ বেড়েছে। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি ২০২৬) সকাল থেকে বেনাপোল–পেট্রাপোল স্থলবন্দর ব্যবহারকারী যাত্রীদের কাছ থেকে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ ২০০ থেকে ৫০০ রুপি ‘প্যাসেঞ্জার ইউজার চার্জ’ (পিইউসি) আদায় শুরু করেছে।

    ভারত সরকারের স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ (ল্যান্ড পোর্টস অথরিটি অব ইন্ডিয়া—এলপিএআই) গত ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এ বিষয়ে ইন্টিগ্রেটেড চেকপোস্ট (আইসিপি) পেট্রাপোল বন্দরের ম্যানেজার কামলেশ সাইনি স্বাক্ষরিত একটি অফিস আদেশ জারি করা হয়।

    নির্দেশনা অনুযায়ী, জিএসটি-সহ নির্ধারিত যাত্রী পরিষেবা ফি হিসেবে ভারতীয়, বাংলাদেশি ও প্রতিবেশী দেশের নাগরিকদের কাছ থেকে ২০০ রুপি আদায় করা হচ্ছে। তৃতীয় দেশের নাগরিকদের ক্ষেত্রে এ ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০০ রুপি বা ৫ মার্কিন ডলার। তবে ১০ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য বিশেষ ছাড় দিয়ে ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০ রুপি। পাশাপাশি ভারত সরকারের তালিকাভুক্ত কিছু সরকারি সংস্থা ও কর্তৃপক্ষকে এ ফি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

    কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আধুনিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল ভবনে আন্তর্জাতিক যাত্রী পরিষেবার মান আরও উন্নত ও গতিশীল করতেই এই চার্জ চালু করা হয়েছে।

    একই সঙ্গে যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে চালু করা হয়েছে ডিজিটাল বুকিং ব্যবস্থা। যাত্রীরা ওয়েবসাইট অথবা মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে মোবাইল নম্বর বা ইমেইল ঠিকানা ব্যবহার করে লগইন করে স্লট বুক করতে পারবেন। অ্যাপটি অ্যান্ড্রয়েড প্লে স্টোর ও আইওএস স্টোরে পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া রেজিস্ট্রেশনের জন্য কিউআর কোড স্ক্যান করার সুবিধাও রাখা হয়েছে।

    তবে নতুন এই সিদ্ধান্তে যাত্রীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বেনাপোল আন্তর্জাতিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল ভবনের সামনে ভারতগামী যাত্রী আব্দুর রহিমসহ কয়েকজন যাত্রী জানান, নতুন বছরের শুরুতেই ভারতের পেট্রাপোল স্থলবন্দরে অতিরিক্ত ট্যাক্স আরোপে পাসপোর্ট যাত্রীদের আর্থিক চাপ আরও বেড়েছে।

    তাঁরা জানান, এর আগে বাংলাদেশ সরকার দফায় দফায় ট্রাভেল ট্যাক্স বাড়িয়ে যাত্রীপ্রতি সর্বশেষ এক হাজার টাকা এবং পোর্ট ট্যাক্স ৫৬ টাকা নির্ধারণ করেছে। এর ওপর ভারত সরকার নতুন করে ২০০ রুপি পোর্ট চার্জ আরোপ করায় বিশেষ করে রোগাক্রান্ত, গরিব ও অসহায় মানুষের জন্য এটি বাড়তি বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    পাসপোর্ট যাত্রী রোমানা বলেন, “নতুন বছরে আমরা আশা করেছিলাম ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে ভিসা জটিলতা কমবে এবং ট্যুরিস্ট ভিসাসহ সব ভিসা কার্যক্রম স্বাভাবিক হবে। কিন্তু তার পরিবর্তে নতুন করে প্যাসেঞ্জার ইউজার চার্জ আরোপ করায় হতাশা বেড়েছে।”

    বিষয়টি নিশ্চিত করে বেনাপোল চেকপোস্ট কাস্টমসের রাজস্ব কর্মকর্তা ফারহাদ হোসেন বলেন, “ভারত থেকে আসা অনেক যাত্রীর কাছ থেকেই নতুন করে ‘প্যাসেঞ্জার ইউজার চার্জ’ আদায় করা হচ্ছে বলে আমরা জানতে পেরেছি।”