Category: আর্ন্তজাতিক

আর্ন্তজাতিক

  • শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে আনতে কী করবে নতুন সরকার, জানালেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

    শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে আনতে কী করবে নতুন সরকার, জানালেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

    জুলাই অভ্যুত্থানকেন্দ্রিক মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে দেশে ফিরিয়ে আনতে নবনির্বাচিত সরকার আগের কূটনৈতিক প্রক্রিয়া চালিয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন নবনিযুক্ত পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ।

    বিজ্ঞাপন
    বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান তিনি।

    ব্রিফিংয়ে এক প্রশ্নের জবাবে নতুন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনাকে ফেরাতে আগের সেই প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। আরও নানা ইস্যু থাকবে, তা নিয়ে আলোচনাও চলবে ভারতের সঙ্গে।

    বাংলাদেশ এখন থেকে শক্ত অবস্থানে থেকে সব দেশের সঙ্গে যোগাযোগ ও বন্ধুত্ব রক্ষা করবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সব দেশের সঙ্গেই তো আমাদের ইস্যু আছে। এগুলো সমাধানের জন্য আমাদের দ্বিপক্ষীয় বা ত্রিপক্ষীয়ভাবে এগোতে হবে। আমরা এগোবো। আগেই বলেছি, সব রাষ্ট্রের সঙ্গে, সব সরকারের সাথে আমাদের সম্পর্ক থাকবে আমাদের স্বার্থ সুরক্ষিত করে। অবশ্যই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সেটা দেখবে। যেহেতু এই প্রক্রিয়া চলমান আছে, এটি চালিয়ে নিতে হবে।

    আরও পড়ুন

    সড়কে সমঝোতার ভিত্তিতে টাকা নেওয়া চাঁদা নয়: সড়ক পরিবহন মন্ত্রী
    শামা ওবায়েদ বলেন, অনেক দিন পর বাংলাদেশে একটি গণতান্ত্রিক সরকার এসেছে। একটি গণতান্ত্রিক সরকারের পররাষ্ট্রনীতি যেমন হওয়া উচিত, মেরুদণ্ড সোজা করে সব রাষ্ট্রের সাথে যোগাযোগ রেখে বন্ধুত্ব রাখা হবে। এখন থেকে বাংলাদেশকে ভিন্ন চোখে দেখতে হবে পুরো বিশ্বকে।

     

    Copied from: https://rtvonline.com/

  • বাংলাদেশিদের ভারত ভ্রমণ, এবার যে নতুন আদেশ জারি

    বাংলাদেশিদের ভারত ভ্রমণ, এবার যে নতুন আদেশ জারি

    নতুন বছরের প্রথম দিন থেকেই ভারত-বাংলাদেশ স্থলপথে যাতায়াতকারী যাত্রীদের খরচ বেড়েছে। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি ২০২৬) সকাল থেকে বেনাপোল–পেট্রাপোল স্থলবন্দর ব্যবহারকারী যাত্রীদের কাছ থেকে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ ২০০ থেকে ৫০০ রুপি ‘প্যাসেঞ্জার ইউজার চার্জ’ (পিইউসি) আদায় শুরু করেছে।

    ভারত সরকারের স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ (ল্যান্ড পোর্টস অথরিটি অব ইন্ডিয়া—এলপিএআই) গত ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এ বিষয়ে ইন্টিগ্রেটেড চেকপোস্ট (আইসিপি) পেট্রাপোল বন্দরের ম্যানেজার কামলেশ সাইনি স্বাক্ষরিত একটি অফিস আদেশ জারি করা হয়।

    নির্দেশনা অনুযায়ী, জিএসটি-সহ নির্ধারিত যাত্রী পরিষেবা ফি হিসেবে ভারতীয়, বাংলাদেশি ও প্রতিবেশী দেশের নাগরিকদের কাছ থেকে ২০০ রুপি আদায় করা হচ্ছে। তৃতীয় দেশের নাগরিকদের ক্ষেত্রে এ ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০০ রুপি বা ৫ মার্কিন ডলার। তবে ১০ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য বিশেষ ছাড় দিয়ে ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০ রুপি। পাশাপাশি ভারত সরকারের তালিকাভুক্ত কিছু সরকারি সংস্থা ও কর্তৃপক্ষকে এ ফি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

    কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আধুনিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল ভবনে আন্তর্জাতিক যাত্রী পরিষেবার মান আরও উন্নত ও গতিশীল করতেই এই চার্জ চালু করা হয়েছে।

    একই সঙ্গে যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে চালু করা হয়েছে ডিজিটাল বুকিং ব্যবস্থা। যাত্রীরা ওয়েবসাইট অথবা মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে মোবাইল নম্বর বা ইমেইল ঠিকানা ব্যবহার করে লগইন করে স্লট বুক করতে পারবেন। অ্যাপটি অ্যান্ড্রয়েড প্লে স্টোর ও আইওএস স্টোরে পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া রেজিস্ট্রেশনের জন্য কিউআর কোড স্ক্যান করার সুবিধাও রাখা হয়েছে।

    তবে নতুন এই সিদ্ধান্তে যাত্রীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বেনাপোল আন্তর্জাতিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল ভবনের সামনে ভারতগামী যাত্রী আব্দুর রহিমসহ কয়েকজন যাত্রী জানান, নতুন বছরের শুরুতেই ভারতের পেট্রাপোল স্থলবন্দরে অতিরিক্ত ট্যাক্স আরোপে পাসপোর্ট যাত্রীদের আর্থিক চাপ আরও বেড়েছে।

    তাঁরা জানান, এর আগে বাংলাদেশ সরকার দফায় দফায় ট্রাভেল ট্যাক্স বাড়িয়ে যাত্রীপ্রতি সর্বশেষ এক হাজার টাকা এবং পোর্ট ট্যাক্স ৫৬ টাকা নির্ধারণ করেছে। এর ওপর ভারত সরকার নতুন করে ২০০ রুপি পোর্ট চার্জ আরোপ করায় বিশেষ করে রোগাক্রান্ত, গরিব ও অসহায় মানুষের জন্য এটি বাড়তি বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    পাসপোর্ট যাত্রী রোমানা বলেন, “নতুন বছরে আমরা আশা করেছিলাম ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে ভিসা জটিলতা কমবে এবং ট্যুরিস্ট ভিসাসহ সব ভিসা কার্যক্রম স্বাভাবিক হবে। কিন্তু তার পরিবর্তে নতুন করে প্যাসেঞ্জার ইউজার চার্জ আরোপ করায় হতাশা বেড়েছে।”

    বিষয়টি নিশ্চিত করে বেনাপোল চেকপোস্ট কাস্টমসের রাজস্ব কর্মকর্তা ফারহাদ হোসেন বলেন, “ভারত থেকে আসা অনেক যাত্রীর কাছ থেকেই নতুন করে ‘প্যাসেঞ্জার ইউজার চার্জ’ আদায় করা হচ্ছে বলে আমরা জানতে পেরেছি।”

  • পরিচয় ফাঁস! সরিয়ে নেয়া হলো হাজারো এপস্টাইন কেলেঙ্কারির নথি

    পরিচয় ফাঁস! সরিয়ে নেয়া হলো হাজারো এপস্টাইন কেলেঙ্কারির নথি

    মার্কিন আদালত দণ্ডিত ও কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টাইন মামলার কয়েক মিলিয়ন নথি প্রকাশের পর এক নজিরবিহীন সংকটে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ। অভিযোগ উঠেছে, নথিপত্রগুলো থেকে ভুক্তভোগীদের নাম ও পরিচয় সঠিকভাবে আড়াল না করায় প্রায় একশ’ ভুক্তভোগীর জীবন চরম ঝুঁকিতে পড়েছে। এই ঘটনাকে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে ভুক্তভোগীদের গোপনীয়তা লঙ্ঘনের সবচেয়ে জঘন্য ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করেছেন আইনজীবীরা। দেশটিতে ব্যক্তির গোপনীয়তা অনেক গুরুত্ব দেয়া হয়।

    এই পরিস্থিতিতে ভুক্তভোগীদের গোপনীয়তা রক্ষা করতে না পারায় এবং তাদের পরিচয় ফাঁস হয়ে যাওয়ায় তীব্র সমালোচনার মুখে ওয়েবসাইট থেকে হাজার হাজার নথি সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে মার্কিন প্রশাসন।

    গত শুক্রবার প্রকাশিত নথিতে দেখা গেছে, অনেক ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীদের নাম কাটাকাটি করা হলেও তা স্পষ্ট পড়া যাচ্ছে। এছাড়া এমন অনেক নগ্ন ছবি এবং ই-মেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হয়েছে, যা থেকে ভুক্তভোগীদের শনাক্ত করা সম্ভব। ভুক্তভোগীরা এক বিবৃতিতে একে অমানবিক বলে অভিহিত করেছেন এবং জানিয়েছেন যে এর ফলে তারা নতুন করে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হচ্ছেন।

    epistaine 2

    জনপ্রিয় সার্ভাইভার অ্যানি ফারমার বিবিসিকে বলেন, বিচার বিভাগ ভুক্তভোগীদের পরিচয় উন্মুক্ত করে দিয়ে যে ক্ষতি করেছে, তার ভিড়ে নতুন তথ্যগুলোর দিকে মনোযোগ দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। আরেক ভুক্তভোগী লিসা ফিলিপস জানান, ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস হওয়ায় অনেকে প্রাণনাশের হুমকিও পাচ্ছেন।

    তীব্র চাপের মুখে সোমবার এক চিঠিতে বিচার বিভাগ ফেডারেল আদালতকে জানিয়েছে, যেসব নথিতে ত্রুটি পাওয়া গেছে সেগুলো সরিয়ে নেয়া হয়েছে। পরিচয় আড়াল করতে না পারার কারণ হিসেবে প্রযুক্তিগত বিভ্রাট বা মানুষের ভুলকে দায়ী করা হয়েছে।

    বিচার বিভাগ জানিয়েছে, প্রকাশিত কয়েক মিলিয়ন পৃষ্ঠার মধ্যে মাত্র ০.১ শতাংশ পৃষ্ঠায় এমন ত্রুটি পাওয়া গেছে। বর্তমানে একটি বিশেষ দল দিনরাত কাজ করছে যাতে নতুন করে সঠিকভাবে তথ্যগুলো আড়াল করে পুনরায় প্রকাশ করা যায়।

    মার্কিন কংগ্রেসের উভয় কক্ষে পাস হওয়া একটি আইনের অধীনে এই নথিগুলো প্রকাশ করা সরকারের জন্য বাধ্যতামূলক ছিল। সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমলে পাস হওয়া এই আইনে স্পষ্ট উল্লেখ ছিল যে, জনস্বার্থে তথ্য প্রকাশ করা হলেও ভুক্তভোগীদের পরিচয় কোনোভাবেই প্রকাশ করা যাবে না।

    নারীবাদী আইনজীবী গ্লোরিয়া অলরেড জানান, অনেক ভুক্তভোগী যারা আগে কখনো জনসমক্ষে আসেননি, এই ভুলের কারণে তাদের নামও এখন প্রকাশ্যে চলে এসেছে। আইনজীবীরা আদালতের কাছে দাবি জানিয়েছেন যেন পুরো ওয়েবসাইটটি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়।

    বিচার বিভাগ গত শুক্রবার এপস্টাইন ফাইলসের প্রায় ৩০ লাখ পৃষ্ঠা, এক লক্ষ ৮০ হাজার ছবি এবং দুই হাজার ভিডিও প্রকাশ করে। এর আগে নির্ধারিত সময়সীমা পার হওয়ার ছয় সপ্তাহ পর এই বিশাল তথ্যভাণ্ডার উন্মুক্ত করা হয়, যা এখন নতুন বিতর্কের জন্ম দিল।

  • নির্বাচনের আগে ৩ জেলায় না যাওয়ার পরামর্শ যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের

    নির্বাচনের আগে ৩ জেলায় না যাওয়ার পরামর্শ যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের

    বাংলাদেশের তিন জেলা ভ্রমণ না করার জন্য পরামর্শ দিয়েছে যুক্তরাজ্য এবং যুক্তরাষ্ট্র। সাম্প্রতিক পরিস্থিতি ও জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে গতকাল ২২ জানুয়ারি যুক্তরাজ্যের ফরেন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিস (এফসিডিও) এবং তার আগে ২০ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাভেল অ্যাডভাইজরিতে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

    যুক্তরাজ্যের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এজন্য ২২ জানুয়ারি থেকে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হয়েছে। এ সময়ে বেশকিছু এলাকায় জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ভ্রমণের বিরুদ্ধে পরামর্শ দিয়েছে এফসিডিও।

    নির্দেশনায় আরো বলা হয়েছে, এ সময়ে পার্বত্য চট্টগ্রামে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ভ্রমণ না করতে বলা হয়েছে। এর কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব এলাকার প্রত্যন্ত অঞ্চলে সহিংসতা এবং অন্যান্য অপরাধমূলক কার্যকলাপের নিয়মিত খবর পাওয়া যায়। এই এলাকাটি নিম্নলিখিত জেলাগুলো নিয়ে গঠিত। এগুলো হলো রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি এবং বান্দরবান।

    সন্ত্রাসবাদ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাজ্যের ফরেন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিস (এফসিডিও) বাংলাদেশে সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে সতর্কতা জারি করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, এই সময়ে সন্ত্রাসীরা হামলা চালানোর চেষ্টা করতে পারে। এসব হামলা নির্বিচারে ঘটতে পারে এবং বিদেশি নাগরিকদের যাতায়াতের স্থানও এর লক্ষ্য হতে পারে।

    এফসিডিওর মতে, সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোর মধ্যে রয়েছে সরকারি ও বেসরকারি ভবন, রেস্তোরাঁ ও ক্যাফে, গণপরিবহন ব্যবস্থা, জনাকীর্ণ এলাকা, ধর্মীয় উপাসনালয় এবং রাজনৈতিক সমাবেশস্থল।

    সংস্থাটি স্মরণ করিয়ে দিয়েছে যে, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে বাংলাদেশে গণঅভ্যুত্থানের সময় দেশজুড়ে ব্যাপক সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে, যাতে বহু মানুষ নিহত ও আহত হন। এফসিডিও জানায়, আগামী ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্থিতিশীল নয়। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নিয়মিত সভা-সমাবেশ ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছে, যা দ্রুত সহিংস রূপ নিতে পারে এবং সংঘর্ষের আশঙ্কা তৈরি করছে।

    সংস্থাটি দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির প্রতি সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে রাজনৈতিক সমাবেশ, বিক্ষোভ ও বড় জমায়েত এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে। কোথাও বিক্ষোভ শুরু হলে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলা, স্থানীয় গণমাধ্যমের খবর নিয়মিত অনুসরণ করা এবং ভ্রমণ সতর্কতা হালনাগাদ হলে ই-মেইল নোটিফিকেশন গ্রহণের পরামর্শও দিয়েছে এফসিডিও।

    এদিকে বাংলাদেশ ভ্রমণ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর তাদের ট্রাভেল অ্যাডভাইজরিতে কোনো স্তর পরিবর্তন না এনে হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করেছে। এতে অপহরণ, অস্থিরতা, অপরাধ ও সন্ত্রাসবাদের ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে বাংলাদেশ ভ্রমণে পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানানো হয়েছে।

    অ্যাডভাইজরিতে বলা হয়, ২০২৪ সালের গ্রীষ্মের পর অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের মাধ্যমে সহিংসতা ও অস্থিরতা কিছুটা কমলেও মাঝে মাঝে বিক্ষোভ হচ্ছে, যা হঠাৎ সহিংস রূপ নিতে পারে। তাই যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের সব ধরনের সমাবেশ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

    বড় শহরগুলোতে ছিনতাই, চুরি, হামলা ও অবৈধ মাদক ব্যবসা সাধারণ অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ভিড়পূর্ণ এলাকায় পকেটমারের মতো ছোটখাটো অপরাধের ঝুঁকি রয়েছে বলেও সতর্ক করা হয়েছে, যদিও বিদেশিদের বিশেষভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে—এমন প্রমাণ নেই।

    সন্ত্রাসবাদ প্রসঙ্গে অ্যাডভাইজরিতে বলা হয়, বাংলাদেশে সন্ত্রাসী হামলার ঝুঁকি রয়েছে। পাশাপাশি পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে অপহরণসহ গুরুতর নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবান জেলায় ভ্রমণে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি রাখা হয়েছে।

    এ ছাড়া নিরাপত্তাজনিত কারণে বাংলাদেশে কর্মরত যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কর্মীরা কূটনৈতিক এলাকা ছাড়া অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ করতে পারবেন না বলে জানানো হয়েছে। ঢাকার বাইরে জরুরি সেবা দিতে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সক্ষমতা সীমিত বলেও উল্লেখ করা হয়।

    ভ্রমণকারীদের জন্য নির্দেশনায় বলা হয়েছে—বিক্ষোভ ও রাজনৈতিক সমাবেশ এড়িয়ে চলা, স্থানীয় গণমাধ্যম পর্যবেক্ষণ করা, জরুরি অবস্থায় নিজস্ব প্রস্থান পরিকল্পনা রাখা এবং অপরাধের শিকার হলে নিরাপদ স্থানে গিয়ে স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে জানানো উচিত। পাশাপাশি ভ্রমণের আগে বিমা গ্রহণ ও যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের স্মার্ট ট্রাভেলার এনরোলমেন্ট প্রোগ্রামে (STEP) নিবন্ধনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।