Category: সারাদেশ

সারাদেশ

  • স্কুলছাত্রী নিয়ে উধাও শিক্ষক, সন্তানের পোস্ট ফেসবুকে ভাইরাল

    স্কুলছাত্রী নিয়ে উধাও শিক্ষক, সন্তানের পোস্ট ফেসবুকে ভাইরাল

    বরগুনার আমতলীতে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীকে নিয়ে উধাও হয়েছেন নিয়াজ মোর্শেদ নাদিম (৪০) নামে এক স্কুলশিক্ষক। এ ঘটনার পর ওই শিক্ষকের ৮ বছরের ছেলে আবেগঘন পোস্ট দেওয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে গেছে।

    জানা গেছে, গত ১৭ সেপ্টেম্বর বুধবার আমতলী পৌরসভার প্রাণিসম্পদ অফিসপাড়া এলাকার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মো. মজিবর রহমান ও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকা নার্গিস বেগমের ছেলে নাদিম দীর্ঘদিন ধরে বাসায় শিক্ষার্থীদের আইসিটি বিষয়ে প্রাইভেট পড়াতেন। এ সময়  স্থানীয় একটি বালিকা বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে রেখে গোপনে ওই ছাত্রী নিয়ে উধাও হন তিনি।

    ফেসবুক পোস্টে শিশু আরহাম তার বাবাকে উদ্দেশ করে লিখেছে— বাবা, তুমি তো অনেক সুখে আছো, তাই না? কিন্তু আমাদের এ কেমন জীবনে রেখে গেলে?

     

    আরহাম আরও লেখে- জন্মের পর থেকে আমাকে নিয়ে তুমি কোলে কোলে ঘুরাতে, আবদার না করলেও সবকিছু এনে দিতে। এখন আমরা দুই ভাইবোন হাত ধরে রাস্তায় ঘুরি, কিছু চাইতে আর মুখ খুলি না। তুমি তো মারা যাওনি বাবা, তাহলে হারিয়ে গেলে কেন?

    নিজেদের অনিশ্চিত ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে আরহাম লেখে- আমরা কী খাব, কিভাবে পড়াশোনা করব, তুমি কি একবারও ভাবনি? দোয়া করি বাবা, পৃথিবীটা যেন তোমার কাছে জান্নাত হয়ে যায়।

     

  • জুস খেয়ে নাতির মৃত্যু, দাদিকে গণপিটুনি

    জুস খেয়ে নাতির মৃত্যু, দাদিকে গণপিটুনি

    নাটোরের বড়াইগ্রামে দাদির বিরুদ্ধে জুসের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে খাইয়ে দুই বছরের নাতিকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।

    শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকালে উপজেলার ইকড়ি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। সন্ধ্যায় হাসপাতালে নেওয়ার পথে শিশুটির মৃত্যু হয়।

    মৃত শিশুর নাম নুর ইসলাম (২)। সে গুরুদাসপুর উপজেলার সোনাবাজু পূর্বপাড়া গ্রামের শাকিল আহম্মেদ ও পায়েল খাতুন দম্পতির একমাত্র সন্তান। শিশুটির লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।

    অভিযুক্ত দাদির নাম সখিনা বেগম (৪৫)। তিনি একই গ্রামের আব্দুর মোতালেবের স্ত্রী। শিশুটির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা তাকে ঘরের জানালায় বেঁধে গণপিটুনি দেয় বলে জানা গেছে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে বড়াইগ্রামের রোলভা গ্রামের জাহাঙ্গীর হোসেনের মেয়ে পায়েল খাতুনের সঙ্গে সোনাবাজু গ্রামের আব্দুল মোতালেবের ছেলে শাকিল হোসেনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই শাশুড়ি-পুত্রবধূর সম্পর্কের টানাপোড়েন চলছিল। প্রায়ই পুত্রবধূকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করতেন সখিনা। সর্বশেষ তিন মাস আগে মারধরের ঘটনায় স্ত্রীকে নিয়ে শ্বশুরবাড়ি চলে যান শাকিল।

    শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) শাকিল স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ইকড়ি গ্রামে মামা শাহাদাত শাহের বাড়িতে বিয়ের অনুষ্ঠানে যান। একই অনুষ্ঠানে শাশুড়ি সখিনাও উপস্থিত ছিলেন।

    পুত্রবধূ পায়েলের দাবি, শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তিনি ছেলে নুর ইসলামকে ঘুম পাড়িয়ে বাইরে গেলে শাশুড়ি শিশুটিকে ঘুম থেকে তুলে জুস খাওয়ান। এরপর অসুস্থ হয়ে পড়ে নুর ইসলাম। দ্রুত তাকে বড়াইগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক বিষক্রিয়ার কথা জানিয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন। সেখানে নেওয়ার পথে শিশুটি মারা যায়।

    পায়েলের অভিযোগ, সংসার ভাঙার পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই শাশুড়ি জুসের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে ছেলেকে খাইয়েছেন।

    তবে অভিযুক্ত সখিনা বেগম বলেন, আমার ছেলে নিজেই জুস কিনে দিয়েছে। সেই জুস আমি নিজেও খেয়েছি, নাতিকে খাইয়েছি, এমনকি মেয়ের ঘরের নাতিকেও খাইয়েছি। আমাদের কিছু হয়নি। সে কীভাবে মারা গেল জানি না। পারিবারিক কলহের কারণে আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে ছেলের বউ।

    বড়াইগ্রাম থানার ওসি গোলাম সারোয়ার হোসেন বলেন, ঘটনাটিকে আপাতত অপমৃত্যু হিসেবে মামলা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। শিশুর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন অপেক্ষা করছি। প্রতিবেদন হাতে পেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • তালাবদ্ধ ঘর থেকে উদ্ধার বাবার নির্মম নির্যাতনে রুগ্ন শিশু

    তালাবদ্ধ ঘর থেকে উদ্ধার বাবার নির্মম নির্যাতনে রুগ্ন শিশু

    নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার কাশিপুর এলাকায় অমানবিক নির্যাতনের শিকার ৪ বছর বয়সী হোসেন নামের এক শিশুকে তালাবদ্ধ ঘর থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। দীর্ঘদিন ধরে শিশুটিকে তার বাবা শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করছিল বলে জানায় পুলিশ।

    রোববার সন্ধ্যা পৌনে ৭টায় শিশুটিকে উদ্ধারের বিষয়টি জনকণ্ঠের এ প্রতিবেদককে নিশ্চিত করেছেন ফতুল্লা মডেল থানার ওসি মো. শরীফুল ইসলাম। এর আগে শনিবার রাতে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। তবে এসময় শিশুটির বাবা সোহেল পালিয়ে যান।

    স্থানীয়রা জানায়, ২-৩ বছর আগে শিশুটির বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ ঘটে। বিচ্ছেদের পর শিশুটিকে তার মা নিয়ে যান। কিন্তু  শিশুটির বাবা কয়েক মাস পর জোরপূর্বক শিশুটিকে তার কাছে নিয়ে আসেন। তখন থেকেই শিশুটিকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে আসছিলেন সোহেল। বাসা থেকে বের হলে তিনি শিশুটিকে ঘরে তালাবদ্ধ করে চলে যেতেন। দিনের অধিকাংশ সময়ই শিশুটিকে অনাহারে থাকতে হতো। কান্না করলে তার ওপর চলতো নির্যাতন।

    ওই এলাকারই স্থানীয় বাসিন্দ ব্যবসায়ী শাওন জানান, উদ্ধার হওয়া শিশুটির বাড়ির পাশেই তার দোকান। দুই থেকে তিন মাস আগে তিনি জানতে পারেন যে, চার বছর বয়সী এক শিশুকে তার বাবা সারাদিন ঘরে তালাবদ্ধ করে বাড়ির বাইরে বের হোন। পেটের ক্ষুধায় কান্না করলেও শিশুটিকে খাবার দেওয়া হতো না। কখনো কখনো শিশুটিকে জুস বা চিপস কিনে দিতো শিশুটির মাদকাসক্ত বাবা সোহেল। তবে অধিকাংশ সময় শিশুটিকে মারধর করা হতো।

    গত দুদিন আগে এক দোকানে শিশুটিকেসহ তার বাবাকে দেখতে পেয়ে স্থানীয় এক নারী শিশুটির এই অবস্থা দেখতে পেয়ে কারণ জিজ্ঞেস করলে তাকেও মারধর করেন সোহেল। এ ঘটনা জানার পর তিনি ভালো করো খোঁজ নিয়ে শিশুটির ওপর নির্যাতনের বিষয়ে সত্যতা জানতে পারেন। পরবর্তীতে তিনি ‘অপরিচিতা’ নামের ঢাকার একটি সামাজিক সংস্থার সঙ্গে কথা বলেন। তখন তারা তাকে স্থানীয় থানা পুলিশকে অবগত করতে বলেন। পরে শনিবার বিকেলে তিনি ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে বিষয়টি অবগত করেন।

    ফতুল্লার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শরিফুল ইসলাম জানান, স্থানীয়দের মাধ্যমে তিনি বিষয়টি জানতে পারেন। পরবর্তীতে ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় রাত ১০টার দিকে স্থানীয়দের সহায়তায় ঘরের তালা ভেঙে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। প্রথমে তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। শিশুটির শরীরের একাধিক স্থানে ক্ষত রয়েছে। রোববার সকালে জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বললে তারা এসে শিশুটিকে নিয়ে যান।

    জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের শিশু সুরক্ষা সমাজ কর্মী মোসাম্মৎ তাছলিমা আক্তার জানান, চিকিৎসা শেষে শিশুটির বয়স অনুযায়ী সরকারি ছোট মনি নিবাসে শিশুটিকে রাখা হবে। শিশুটি বর্তমানে খুবই অসুস্থ। পুষ্টিহীনতা এবং শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হওয়ায় শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়েছে। এর ফলে তার চিকিৎসাটা এখন বেশি জরুরি।

    নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাসলিমা শিরিন সাংবাদিকদের জানান, বিষয়টি জানতে পেরে তিনি ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে ব্যবস্থা নিতে বলেছেন। পুলিশ শিশুটিকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। শিশুটি বর্তমানে জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের কাছে রয়েছে। তার সুচিকিৎসাসহ সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

  • সরিয়ে নেয়া হয়েছে লাইফ সাপোর্ট,না ফেরার দেশে তোফায়েল আহমেদ

    সরিয়ে নেয়া হয়েছে লাইফ সাপোর্ট,না ফেরার দেশে তোফায়েল আহমেদ

    কোথায় হবে দাফন সিদ্ধান্ত সকালে, সরিয়ে নেয়া হয়েছে লাইফ সাপোর্ট

    বিশেষ প্রতিনিধি ঃ
    চলে গেলেন ভোলার তোফায়েল আহমেদ। স্কয়ার হসপিটাল সূত্রে মৃত্যুর সংবাদ নিশ্চিত হলেও লাইফ সাপোর্টের যন্ত্রপাতি খোলার সিদ্ধান্তহীনতায় ছিলেন তার পরিবার। পরিবারের সিদ্ধান্ত আসলেই খোলা হবে লাইভ সাপোর্টের যন্ত্রপাতি। এবং তাকে কোথায় দাফন করা হবে এ ব্যাপারে ও এখন পর্যন্ত সুস্পষ্ট কোন তথ্য দিতে পারেননি তার পরিবার। পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে সকলের সাথে যোগাযোগ করেই সিদ্ধান্ত জানানো হবে। তাকে ভোলায় না বনানী কবরস্থানে দাফন করা হবে তা নিয়ে ধুম্রজাল চললেও পরিবারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত ভোলাতেই তার মায়ের পাশে তাকে দাফন করা হবে বলে জানিয়েছেন। তবে আগামীকাল সকালেই সকল সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলেই পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।
    তবে লাইফ সাপোর্টের যন্ত্রপাতি এখন খোলা হবে নাকি আগামীকাল খোলা হবে এ নিয়েই সিদ্ধান্ত হীনতায় ছিলেন হসপিটাল কর্তৃপক্ষ তার পরিবার। অবশেষে লাইফ সাপোর্ট থেকে সরিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন পরিবারের লোকজন। এদিকে রাত দশটা থেকে সামাজিক মাধ্যম জুড়ে এই কিংবদন্তির মৃত্যুর খবর নিয়ে একেক জন একেক রকম খবর দিচ্ছিলেন। এ থেকে ভোলা জুড়ে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হলেও অবশেষে লাইফ সাপোর্ট খুলে নেওয়ার সিদ্ধান্তে সকল কল্পনা জল্পনার অবসান ঘটলো। তার মৃত্যুতে ভোলার আওয়ামী সমর্থিত লোকজনের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তবে তার দাফনের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া ব্যক্তিরা আত্মগোপনে থাকায় এবং তার ভাতিজা আলী আজম মুকুল জেলে থাকায় সিদ্ধান্ত দিতে দেরি হয়েছে বলিও পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এদিকে তার মৃত্যুর খবর ভোলায় আসলেও কোন প্রকার প্রতিক্রিয়া দেখাতে দেখা যায়নি তার সাথে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করা সুবিধাবাদী আওয়ামী নেতাদের। পরিবার সূত্রে বলা হয়েছে যারা এতদিন ধরে এই বর্ষিয়ান নেতা থেকে সকল প্রকার সুযোগ সুবিধা নিয়েছেন গত পাঁচই আগস্টের পর থেকে সেই সুযোগ-সুবিধা নেয়া নেতারা এই কিংবদন্তির কোন প্রকার খোঁজখবরই রাখেননি তারা।

    সুত্র; Bhola News দৈনিক ভোলা নিউজ