Category: সারাদেশ

সারাদেশ

  • দেশজুড়ে সরকারের জরুরি প্রজ্ঞাপন জারি!

    দেশজুড়ে সরকারের জরুরি প্রজ্ঞাপন জারি!

    আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে সাধারণ নাগরিকদের কাছে থাকা সব বৈধ আগ্নেয়াস্ত্র জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে গত রবিবার (১৮ জানুয়ারি) জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, আগামী ৩১ জানুয়ারির মধ্যে আগ্নেয়াস্ত্রগুলো নিকটস্থ থানায় জমা দিতে হবে।

    নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুসরণে আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্সধারীদের জন্য অস্ত্র বহন ও প্রদর্শন সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ থাকবে। তবে বৈধভাবে মনোনয়নপত্র দাখিলকারী ও গৃহীত জাতীয় সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী এবং তাঁদের জন্য অনুমোদিত সশস্ত্র দেহরক্ষীদের (রিটেইনার) ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না। তারা নিজ নিজ নিরাপত্তার প্রয়োজনে অস্ত্র বহন করতে পারবেন।

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করে জানিয়েছে, সরকারের এই আদেশ লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এই নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়নের জন্য দেশের সব পুলিশ সুপার এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনের আগে ও পরে আইনশৃঙ্খলার অবনতি রোধ এবং সাধারণ ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই আগ্নেয়াস্ত্র জমার এই প্রথাগত কিন্তু কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে মন্ত্রণালয়।

  • হঠাৎ পাল্টে গেল এলপিজি বাজার, জানা গেল আসল কারণ

    হঠাৎ পাল্টে গেল এলপিজি বাজার, জানা গেল আসল কারণ

    দেশের তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) খাত এখন ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন সময় পার করছে। এক দিকে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ সঙ্কট ও জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার প্রভাব, অন্য দিকে দেশে এলসি খোলার জটিলতাসহ সবমিলিয়ে এলপিজির আমদানি কমে যাওয়ায় বাজারে ভয়াবহ ঘাটতি তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলায় সরকার নির্ধারিত এক হাজার ৩০৬ টাকার সিলিন্ডার দুই হাজার থেকে দুই হাজার ৫০০ টাকায়ও মিলছে না। অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে আবার মাটির চুলা, কেরোসিন স্টোভ বা বৈদ্যুতিক চুলায় ফিরে যাচ্ছে।

    বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেছেন, রমজানে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে জানুয়ারিতে অন্তত দেড় লাখ টন এলপিজি আমদানি করে ফেব্রুয়ারিতে বাজারে পৌঁছানো জরুরি। সময়মতো এই পরিমাণ আমদানি না হলে রোজার মাসে বড় ধরনের সঙ্কট সৃষ্টি হতে পারে।

    বিইআরসির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে দেশে এলপিজি আমদানি হয়েছিল ১২ লাখ ৭৫ হাজার টন। ২০২৪ সালে তা বেড়ে ১৬ লাখ ১০ হাজার টনে উঠলেও ২০২৫ সালে আমদানি নেমে আসে ১৪ লাখ ৬৫ হাজার টনে অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে আমদানি কমেছে প্রায় দেড় লাখ টন। বিশেষ করে বছরের শেষ তিন মাসে আমদানির পতন সবচেয়ে বেশি, যা সরাসরি বাজারে সঙ্কট তৈরি করেছে।

    সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চাহিদা যেখানে প্রতি বছর ১০ শতাংশের বেশি হারে বাড়ছে, সেখানে আমদানি কমে যাওয়া বাজারকে কার্যত অচল করে দেয়। বিইআরসি বলছে, দেশে লাইসেন্সধারী ৫২ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২৩টির আমদানির সক্ষমতা থাকলেও গত বছর নিয়মিত আমদানি করেছে মাত্র ৮টি প্রতিষ্ঠান। বড় কয়েকটি কোম্পানি এলসি জটিলতার কারণে আমদানি বন্ধ রাখায় সঙ্কট আরো গভীর হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

    খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, সঙ্কটের মূল কারণ এলসি খোলার জটিলতা এবং ইরান থেকে আসা এলপিজিবাহী জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা। চট্টগ্রামের একাধিক আমদানিকারক জানান, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ব্যাংকিং খাতে অনিশ্চয়তার কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান সময়মতো এলসি খুলতে পারেনি। ফলে আমদানি চেইনে বড় ছেদ পড়েছে।

    চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক পরিচালক ও এলপিজি ব্যবসায়ী মাহফুজুল হক বলেন, তাদের এলপিজির বড় উৎস মধ্যপ্রাচ্য। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞায় কয়েকটি জাহাজ আটকে যাওয়ায় বাংলাদেশমুখী সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। এলসি খোলা থাকলেও জাহাজ সঙ্কটে সময়মতো পণ্য আনা সম্ভব হয়নি বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, আগে ইরান থেকে একটি বেসরকারি চ্যানেলে উল্লেখযোগ্য এলপিজি আসত, সেটিও বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাজারে হঠাৎ বড় ঘাটতি দেখা দিয়েছে।

    এ দিকে বাস্তবে ভোক্তাদের অবস্থা সবচেয়ে নাজুক। ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও বরিশালে সিলিন্ডার মিলছে না দিনের পর দিন। মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা তামান্না আক্তার জানান, এক হাজার ৩০৬ টাকার সিলিন্ডার কিনতে হয়েছে দুই হাজার ৩০০ টাকায়। মিরপুর, রূপনগরের আরাফাতুল ইসলাম ১২ কেজি সিলিন্ডার কিনেছেন দুই হাজার ৭০০ টাকায়। রাজধানির অনেক পরিবার গ্যাস না পেয়ে নতুন করে কেরোসিন স্টোভ কিনছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

    এ দিকে ব্যবসায়ীরা বলছেন, প্রায় ৭০ শতাংশ সিলিন্ডার এখন খালি। যেটুকু আসে, ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই শেষ হয়ে যায়। সরবরাহ না থাকায় হোটেল-রেস্তোরাঁ ও মেসগুলো সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে বলে তিনি জানান।

    সঙ্কটের প্রভাব পড়েছে পরিবহন খাতেও। বাংলাদেশে প্রতি মাসে গড়ে এক লাখ ৪০ হাজার টন এলপিজি ব্যবহৃত হয়, যার প্রায় ১৫ হাজার টন যায় অটোগ্যাসে। কিন্তু সরবরাহ না থাকায় দেশের প্রায় সব অটোগ্যাস স্টেশন বন্ধ হয়ে গেছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ সিএনজি ফিলিং স্টেশন ও কনভার্সন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন। এতে প্রায় দেড় লাখ এলপিজিচালিত যানবাহনের মালিক বিপাকে পড়েছেন বলে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

    সংগঠনের সভাপতি সেরাজুল মাওলা বলেছেন, মোট ব্যবহারের অন্তত ১০ শতাংশ অটোগ্যাস খাতে নিশ্চিত না করলে পুরো খাত ধসে পড়বে এবং মালিকরা আবার পেট্রোল-অকটেনে ফিরে যেতে বাধ্য হবেন, যা পরিবেশ ও জ্বালানি ভারসাম্যের জন্য ক্ষতিকর।

    কনজুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি এ এইচ এম শফিকুজ্জামান বলছেন, সরকারি দাম ১,৩০০ টাকা হলে ভোক্তা কেন ২,৫০০ টাকা দেবে। তিনি এলপিজিকে অত্যাবশ্যক পণ্য ঘোষণা ও স্বচ্ছ মূল্যকাঠামো নিশ্চিতের দাবি জানান।

    এ দিকে বিইআরসি স্বীকার করেছে, খুচরা পর্যায়ে দাম নিয়ন্ত্রণ কঠিন। কমিশনের সদস্য মিজানুর রহমান বলেন, শীতকালে চাহিদা বাড়ে, জাহাজ সঙ্কটও আছে। তবে এসব সমস্যা সাময়িক। অভিযান ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।

    কিন্তু বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা। বাজারে কয়েকটি বড় কোম্পানির আধিপত্য থাকায় ছোট অপারেটররা টিকতে পারছে না। জেএমআই চেয়ারম্যান আবদুর রাজ্জাক সতর্ক করে বলেছেন, ২৭ অপারেটরের মধ্যে মাত্র পাঁচটির আমদানির সক্ষমতা রয়েছে। এই ভারসাম্যহীনতা চললে পুরো বাজার অস্থির হয়ে পড়বে।

    বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সঙ্কট শুধু আমদানির নয়, নীতিগত সমন্বয়হীনতারও। অধ্যাপক এম তামিম বলছেন, এলপিজি খাতে একক ও শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণ কাঠামো দরকার। বর্তমানে লাইসেন্স, আমদানি অনুমোদন, মূল্য নির্ধারণ সবখানে বহুমুখী সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়া কাজ করছে, যা দ্রুত প্রতিক্রিয়া নেয়াকে বাধাগ্রস্ত করছে।

    সরকারের সংশ্লিষ্টরা দফতর থেকে বলা হচ্ছে, এলসি খোলায় অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে এবং আমদানি অনুমতি বাড়ানো হয়েছে। জ্বালানি উপদেষ্টা ফৌজুল কবির খান জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে জি-টু-জি ভিত্তিতে সরকারি পর্যায়ে এলপিজি আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে। এতে বেসরকারি খাতের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ কমে আসবে বলে তিনি মনে করেন।

    তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, বাংলাদেশে এলপিজির বার্ষিক চাহিদা এখন প্রায় ২০ লাখ টন, যা অদূর ভবিষ্যতে সাড়ে ৩৫ লাখ টনে পৌঁছাতে পারে। এমন দ্রুত বর্ধনশীল বাজারে পরিকল্পনাহীনতা যে কতটা বিপজ্জনক, বর্তমান সঙ্কট তার বড় উদাহরণ।

    সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রমজান সামনে রেখে দেড় লাখ টন জরুরি আমদানি নিশ্চিত করা না গেলে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হতে পারে। ভোক্তাপর্যায়ে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত, এলসি প্রক্রিয়া সহজীকরণ, জাহাজ সঙ্কটে বিকল্প রুট খোঁজা এবং অটোগ্যাস খাতে ন্যূনতম বরাদ্দ নিশ্চিত এই চারটি পদক্ষেপ এখন সবচেয়ে জরুরি বলে তারা মনে করছেন। এলপিজি খাতের এই অস্থিরতা শুধু রান্নাঘর নয়, পরিবহন, ক্ষুদ্র ব্যবসা ও সামগ্রিক জ্বালানি নিরাপত্তাকেই বড় ঝুঁকিতে ফেলবে, যার মাশুল দিতে হবে সাধারণ মানুষকে এমনটাই মনে করছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।

  • রেকর্ডভাঙা গরমের বছর হতে পারে ২০২৬

    রেকর্ডভাঙা গরমের বছর হতে পারে ২০২৬

    ২০২৬ সাল বিশ্ব ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণ চারটি বছরের একটি হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড ক্লাইমেট চেঞ্জ কানাডা। দেশটির জলবায়ু বিষয়ক ওয়েবসাইট ক্লাইমেটডাটা.সিএ-তে প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, চলতি বছরটি রেকর্ডভাঙা উষ্ণ বছরগুলোর তালিকায় থাকা প্রায় নিশ্চিত।

    বিজ্ঞাপন
    বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, শিল্পবিপ্লব-পূর্ব সময়ের (১৮৫০-১৯০০) তুলনায় ২০২৬ সালে বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা ১ দশমিক ৩৫ থেকে ১ দশমিক ৫৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বাড়তে পারে। এ ক্ষেত্রে প্রায় ১২ শতাংশ সম্ভাবনা রয়েছে যে বৈশ্বিক উষ্ণতা ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের গুরুত্বপূর্ণ সীমা অতিক্রম করবে।

    বিজ্ঞানীরা বলছেন, কয়লা, তেল ও গ্যাস পোড়ানোর ফলে সৃষ্ট কার্বন নিঃসরণই বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রধান কারণ। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোর অতিরিক্ত তাপমাত্রা বৃদ্ধির পেছনে ২০২৩–২৪ সালের শক্তিশালী এল নিনো আবহাওয়া ঘটনাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

    প্যারিস জলবায়ু চুক্তি অনুযায়ী, বৈশ্বিক উষ্ণতা ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে রাখা এবং সম্ভব হলে ১ দশমিক ৫ ডিগ্রির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। যদিও কোনো একক বছরে ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সীমা অতিক্রম করাকে চুক্তি লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য করা হয় না, তবুও বিজ্ঞানীরা একে স্পষ্টভাবে উদ্বেগজনক প্রবণতা হিসেবে দেখছেন।

    আরও পড়ুন

    মালয়েশিয়ায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য দূতাবাসের জরুরি বিজ্ঞপ্তি
    বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা অনুযায়ী, বৈশ্বিক তাপমাত্রা আরও বাড়লে তাপপ্রবাহ, খরা, দাবানল, অতিবৃষ্টি ও বন্যার ঝুঁকি বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে কৃষি উৎপাদন এবং বৈশ্বিক খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

    বিজ্ঞাপন
    এনভায়রনমেন্ট কানাডার পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, ২০২৬ সালে বৈশ্বিক তাপমাত্রা শিল্পবিপ্লব-পূর্ব সময়ের তুলনায় ১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি থাকবে, যা টানা ১৩তম বছর হতে যাচ্ছে। একই ধরনের পূর্বাভাস দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা সংস্থা বার্কলে আর্থ।

     

  • দেশজুড়ে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে প্রাণঘাতী ভাইরাস, যেভাবে ঘটছে বিস্তার

    দেশজুড়ে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে প্রাণঘাতী ভাইরাস, যেভাবে ঘটছে বিস্তার

    শীত আসতেই দেশজুড়ে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে প্রাণঘাতী নিপাহ ভাইরাস; আক্রান্ত হলেই মৃত্যু প্রায় অবধারিত। এরই মধ্যে দেশের ৩৫ জেলায় শনাক্ত হয়েছে এই ভাইরাস। ভয়ংকর এ ভাইরাসটির বিস্তার ও সংক্রমণের ধরনও পরিবর্তন হচ্ছে উদ্বেগজনক হারে।

    বিজ্ঞাপন

    এমনই উদ্বগজনক তথ্য বেরিয়ে এসেছে দেশের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) সাম্প্রতিক এক পর্যবেক্ষণে।

    সংস্থাটি জানিয়েছে, গত বছর (২০২৫) রেকর্ড করা চারটি কেসের সবকটিতেই ১০০ শতাংশ মৃত্যুর পাশাপাশি প্রথমবারের মতো একটি ‘অ-মৌসুমি কেস’ পাওয়া গেছে।

    বিজ্ঞাপন
    Video Player is loading.

    বুধবার (৭ জানুয়ারি) দুপুরে আইইডিসিআরের মিলনায়তনে ‘নিপাহ ভাইরাসের বিস্তার ও ঝুঁকি বিষয়ে মতবিনিময়’ শীর্ষক সভায় উপস্থাপিত প্রবন্ধে এ তথ্য জানান সংস্থাটির বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা শারমিন সুলতানা ।

    জানা গেছে, গত বছর এ ভাইরাসে আক্রান্ত ৪ জনের সবাই মারা গেছেন (মৃত্যুর হার ১০০ শতাংশ)। আর বিশ্বব্যাপী নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্তদের গড় মৃত্যুহার প্রায় ৭২ শতাংশ। এখনও কার্যকর কোনো ভ্যাকসিন বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা আবিষ্কৃত হয়নি এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে, যা একে করে তোলে আরও ভয়ঙ্কর।

    বিজ্ঞাপন

    আরও পড়ুন

    ১৬ লাখ টাকা আয় কীভাবে হলো, ব্যাখ্যা করলেন নাহিদ
    নিপাহ ভাইরাসের প্রধান বাহক হলো ফলখেকো বাদুড়। বাদুড়ের লালা বা প্রস্রাব দিয়ে দূষিত হয় খেজুরের কাঁচা রস। খেজুরের সেই দূষিত কাঁচা রস খেলে সংক্রমিত হয় মানুষ। এছাড়া নেশাজাতীয় পানীয় ‘তাড়ি’ও এই ভাইরাস ছড়ানোর মাধ্যম হতে পারে। সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখা গেছে, একজন মায়ের বুকের দুধেও এই ভাইরাস পাওয়া গেছে, যা এক বিরল ও উদ্বেগজনক ঘটনা।

    নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হলে সাধারণত ৫-৭ দিনের মধ্যে জ্বর, মাথা ব্যথা, গলা ব্যথা, পেশীতে ব্যথা, ঘুমঘুম ভাব, বমি, ঝিমুনি ও অচেতনতার মতো লক্ষণ দেখা দেয়। রোগী মস্তিষ্কে প্রদাহ এবং শ্বাসতন্ত্রের সমস্যায় ভুগতে পারে, যা শেষ পর্যন্ত প্রাণঘাতী পর্যায়ে পৌঁছে যায়।

    বুধবার (৭ জানুয়ারি) আইইডিসিআরের উপস্থাপিত প্রবন্ধে দেখা যায়, ২০২৫ সালে নওগাঁ, ভোলা, রাজবাড়ী ও নীলফামারী— এই চার জেলায় চারজন নিপাহ রোগী শনাক্ত হন এবং প্রত্যেকেই মৃত্যুবরণ করেন। এদের মধ্যে নওগাঁর ৮ বছরের এক শিশুর ঘটনাটি ছিল দেশে প্রথম ‘অ-মৌসুমি নিপাহ কেস’, যা শীতকাল ছাড়াই আগস্ট মাসে শনাক্ত হয়। ওই শিশুর সংক্রমণের উৎস ছিল বাদুড়ের আধা-খাওয়া ফল (কালোজাম, খেজুর, আম) খাওয়া, যা নিপাহ ছড়ানোর একটি নতুন ও এলার্মিং হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

    নিপাহ ভাইরাসের ব্যাপক বিস্তার ঘটছে উল্লেখ করে বলা হয়, দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৩৫টিতেই নিপাহ ভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। ফরিদপুর, রাজবাড়ী, নওগাঁ ও লালমনিরহাটে সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার তুলনামূলকভাবে বেশি।

    প্রবন্ধে আরও বলা হয়, ঐতিহাসিকভাবে খেজুরের কাঁচা রসকে প্রধান উৎস মনে করা হলেও ২০২৫ সালে নওগাঁর কেস প্রমাণ করে, বাদুড়ের লালা বা মূত্রে দূষিত যে কোনো আধা-খাওয়া ফল সরাসরি খাওয়ার মাধ্যমেও সংক্রমণ ঘটতে পারে এবং সারা বছরই তা সম্ভব। মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমণ ঘটে উল্লেখ করে আরও বলা হয়, প্রায় ২৮ শতাংশ ক্ষেত্রে নিপাহ আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে সরাসরি অন্য ব্যক্তিতে সংক্রমণ ছড়ায়, যা স্বাস্থ্যকর্মী ও পরিবারের সদস্যদের জন্য উচ্চ ঝুঁকি তৈরি করে।

    আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. তাহমিনা শিরীন বলেন, ‘২০২৫ সালের অ-মৌসুমি কেস এবং নতুন সংক্রমণ পথ আমাদের জন্য একটি বড় ওয়ার্নিং সিগন্যাল। নিপাহ এখন শুধু শীত বা খেজুরের রসের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এটা একটি সারা বছরের এবং বহুমুখী সংক্রমণের হুমকিতে পরিণত হচ্ছে।’

    সতর্কতা ও প্রতিরোধ: খেজুরের কাঁচা রস একেবারেই পান করা যাবে না, কারণ মশারি দিয়ে খেজুর গাছ ঢেকে রাখার পদ্ধতি ‘নিরাপদ’ নয়। খেজুরের রস থেকে নিরাপদ বিকল্প হলো খেজুরের গুড় তৈরি ও ব্যবহার করা। ফলমূল ভালোভাবে ধুয়ে খেতে হবে, বিশেষ করে টমেটো, পেয়ারা, বরই জাতীয় ফলগুলো। গাছের নিচে পড়ে থাকা বা ফাটা ফল অবশ্যই এড়িয়ে চলতে হবে। শিশু ও বয়স্কদের জন্য বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।

    নিপাহ ভাইরাস একটি মারাত্মক ও প্রাণঘাতী ভাইরাস, যা বাদুড় থেকে মানুষে ছড়ায়। বর্তমানে এর বিরুদ্ধে কোনো ভ্যাকসিন বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই, তাই এ থেকে রক্ষা পেতে হলে শীতকালে খেজুরের কাঁচা রস থেকে দূরে থাকা অত্যন্ত জরুরি। সেইসঙ্গে আধা খাওয়া ফলও পরিহার করা উচিত। পাশাপাশি সঠিক স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা ও সচেতনতা বজায় রাখা প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব।