Category: লাইফস্টাইল

লাইফস্টাইল

  • রাতে এই ৫ উপসর্গ দেখা দিলেই সতর্ক হোন, হতে পারে কি’ডনি রো’গের ইঙ্গিত!

    রাতে এই ৫ উপসর্গ দেখা দিলেই সতর্ক হোন, হতে পারে কি’ডনি রো’গের ইঙ্গিত!

    কিডনি আমাদের শরীরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ, যা রক্ত পরিশোধন থেকে শুরু করে অতিরিক্ত পানি ও বর্জ্য অপসারণে মুখ্য ভূমিকা পালন করে। তবে দুঃখজনক হলেও সত্য, কিডনি রোগ অনেক সময় নিরবেই শরীরে বাসা বাঁধে। বিশেষ করে রাতে কিছু নির্দিষ্ট উপসর্গ দেখা দিলে তা হতে পারে কিডনি সমস্যার প্রাথমিক ইঙ্গিত।

    চিকিৎসকদের মতে, কিডনির কার্যক্ষমতা কমে গেলে শরীর বিভিন্ন উপায়ে সংকেত দেয়, যার অনেকগুলোই রাতে বেশি প্রকট হয়। নিচে উল্লেখ করা হলো এমন ৫টি উপসর্গ, যা রাতে দেখা দিলে অবশ্যই সতর্ক হওয়া উচিত—

    ১. ঘন ঘন প্রস্রাব
    রাতে ঘুম ভেঙে বারবার প্রস্রাবের বেগ অনুভব কিডনি রোগের অন্যতম প্রধান লক্ষণ হতে পারে। সাধারণত কিডনি ঠিকভাবে ফিল্টারিং করতে না পারলে শরীরে অতিরিক্ত বর্জ্য জমা হয়, যা বেশি প্রস্রাবের মাধ্যমে শরীর থেকে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।

    ২. পা ও গাঁটে ফুলে ওঠা
    রাতে ঘুমানোর সময় অনেকেই পা বা গোড়ালিতে ফোলা অনুভব করেন। এটি শরীরে অতিরিক্ত তরল জমে থাকার লক্ষণ হতে পারে, যা কিডনির অকার্যকারিতার ফল। কিডনি সঠিকভাবে তরল অপসারণে ব্যর্থ হলে এমনটি ঘটে।

    ৩. নিশ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া
    রাতে হঠাৎ নিশ্বাসের কষ্ট কিংবা শ্বাস নিতে অসুবিধা হওয়া কিডনির কার্যক্ষমতা হ্রাসের পরোক্ষ ইঙ্গিত হতে পারে। কিডনি দুর্বল হলে শরীরে তরল জমে গিয়ে ফুসফুসে প্রভাব ফেলতে পারে, যার ফলে নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হয়।

    ৪. অস্থিরতা ও অনিদ্রা
    কিডনি সঠিকভাবে বর্জ্য অপসারণ না করলে ইউরিয়া ও টক্সিন রক্তে জমে গিয়ে রাতে ঘুমে বিঘ্ন ঘটায়। ঘন ঘন জাগা, অস্থিরতা বা অনিদ্রা এই সমস্যা বাড়িয়ে তোলে।

    ৫. পেশিতে টান ও ব্যথা
    রাতের বেলায় পেশিতে টান ধরা বা ব্যথা অনুভব করা অনেক সময় ইলেক্ট্রোলাইট ভারসাম্যহীনতার ফল, যা কিডনির অকার্যকারিতার কারণে হয়। ক্যালসিয়াম, ফসফরাস বা পটাশিয়ামের অনিয়ম কিডনি রোগে সাধারণ।

    করণীয় কী?
    এই উপসর্গগুলোর যেকোনো একটি বা একাধিক নিয়মিতভাবে দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। পাশাপাশি রক্তে ক্রিয়েটিনিন ও ইউরিয়া পরীক্ষা, প্রস্রাব পরীক্ষা ও আল্ট্রাসনোগ্রাফির মাধ্যমে কিডনির অবস্থা যাচাই করা যায়।

    প্রতিরোধে যা করবেন:
    পর্যাপ্ত পানি পান করুন

    অতিরিক্ত লবণ ও প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলুন

    ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখুন

    নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করান

    কিডনি রোগ নিরব ঘাতক হিসেবে পরিচিত। তাই রাতে শরীরের দেওয়া সতর্ক সংকেতগুলো অবহেলা না করে সচেতন হলেই প্রতিরোধ করা সম্ভব হতে পারে এই মারাত্মক সমস্যা।

  • দ্রুত ছড়াচ্ছে যৌনাঙ্গ আক্রান্তকারী পরজীবী, বিজ্ঞানীদের সতর্কতা

    দ্রুত ছড়াচ্ছে যৌনাঙ্গ আক্রান্তকারী পরজীবী, বিজ্ঞানীদের সতর্কতা

    দ্রুত ছড়িয়ে পড়া এক পরজীবীর সংক্রমণ নিয়ে সতর্ক করেছেন বিজ্ঞানীরা। তাঁরা বলছেন, ‘স্নেইল’ বা শামুকের মাধ্যমে ছড়ানো এই পরজীবীর সংক্রমণে হতে পারে ‘স্নেইল ফিভার’ নামের এক রোগ। এই সংক্রমণ এত দ্রুত ছড়াচ্ছে যে ভবিষ্যতে এটি নিয়ন্ত্রণ করা বেশ কঠিন হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন তাঁরা।

     ছবি: সংগৃহীতরোগটির প্রভাবে মানুষের যৌনাঙ্গে ক্ষত, বন্ধ্যত্ব এবং এইচআইভি সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে।

    ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি বলছে, বছরে প্রায় ২৫ কোটি মানুষ স্নেইল ফিভারের চিকিৎসা নেন। এদের বেশির ভাগের বাস আফ্রিকা মহাদেশে। তবে সম্প্রতি বিশ্বের ৭৮টি দেশে এই রোগের সংক্রমণের খবর জানা গেছে। এর মধ্যে আছে চীন, ভেনেজুয়েলা ও ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশ।

    পরজীবীটি ত্বকের ভেতর দিয়ে শরীরে ঢোকে এবং রক্তে ঘাপটি মেরে লুকিয়ে থাকে। এরপর নীরবেই ডিম পাড়ে; আর এই ডিম জমা হয় মানবদেহের লিভার, ফুসফুস ও যৌনাঙ্গে। দীর্ঘ সময় মানুষের শরীরে এর উপস্থিতি থাকলেও তা ধরা নাও পড়তে পারে। উদ্বেগের বিষয় হলো, এই পরজীবীর সংক্রমণে হওয়া রোগটির ধরন ক্রমেই শক্তিশালী হচ্ছে।

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও (ডব্লিউএইচও) এই রোগটিকে ‘বৈশ্বিক উদ্বেগের কারণ’ বলে মনে করছে। সাম্প্রতিক গবেষণাগুলো বলছে, পরজীবীটির গঠন ও বৈশিষ্ট্যে বেশ পরিবর্তন এসেছে। এর ফলে এটি নতুন নতুন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

    স্নেইল ফিভার যেভাবে ছড়ায়

    যে পরজীবীর কারণে স্নেইল ফিভার রোগটি হয়, সেটির বাহক মূলত একটি বিশেষ ধরনের শামুক। এই শামুক যে পানিতে থাকে, সেখানে এই পরজীবীর লার্ভা পানিতে ছড়িয়ে পড়ে। যদি কোনো মানুষ বা প্রাণী এই পানির সংস্পর্শে আসে, তবে তার স্নেইল ফিভার হতে পারে।

    লার্ভাগুলো ত্বকের ভেতর দিয়ে শরীরে প্রবেশ করে। এরপর এগুলো ধীরে ধীরে মানুষের শরীরের ভেতরে বড় হয়ে পূর্ণবয়স্ক কৃমিতে পরিণত হয় এবং রক্তনালিতে বসবাস শুরু করে। স্ত্রী কৃমিগুলো ডিম পাড়ে। এই ডিমের কিছু অংশ মল বা প্রস্রাবের সঙ্গে শরীর থেকে বেরিয়ে যায়। তবে অনেক ডিমই শরীরের ভেতরে আটকে যায়। পরে তা শরীরের রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা ধ্বংস করতে গিয়ে আশপাশের সুস্থ টিস্যুকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে। এর ফলে বিভিন্ন অঙ্গের ক্ষতি হতে পারে।

    কিছু ডিম তলপেট ও যৌনাঙ্গের আশপাশে আটকে যায়। এই অবস্থাকে বলা হয় ‘ইউরোজেনিটাল স্কিস্টোসোমিয়াসিস’। এই রোগে পেটব্যথা থেকে শুরু করে ক্যানসার পর্যন্ত হতে পারে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে রোগীর মৃত্যুও হতে পারে।

    স্নেইল ফিভার সাধারণত অ্যান্টি-প্যারাসাইটিক ওষুধে সেরে যায়। তবে মালাউই লিভারপুল ওয়েলকাম ক্লিনিক্যাল রিসার্চ প্রোগ্রামের সহযোগী পরিচালক অধ্যাপক জানেলিসা মুসায়াসহ অন্যান্য বিজ্ঞানী বলছেন, এই পরজীবীর নতুন কিছু ধরন পাওয়া গেছে, যেগুলো বর্তমানে প্রচলিত চিকিৎসা পদ্ধতিতে ধরা নাও পড়তে পারে।

    যেভাবে সংকট গভীর হচ্ছে গবেষণায় দেখা গেছে, মানুষের শরীরে থাকা পরজীবী আর প্রাণীর শরীরে থাকা পরজীবী একে অপরের সঙ্গে মিলে নতুন এক ‘হাইব্রিড’ তৈরি করছে। এগুলো মানুষ ও প্রাণী উভয়কেই আক্রান্ত করতে পারে। ফলে রোগের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করা দিন দিন কঠিন হচ্ছে।

    গবেষণায় আরও দেখা গেছে, এই হাইব্রিড পরজীবীগুলো মানুষের যৌনাঙ্গেও সংক্রমণ ঘটাচ্ছে। তবে স্নেইল ফিভার শনাক্ত করা কঠিন হয়ে যাচ্ছে। কারণ, এদের ডিম মাইক্রোস্কোপে সাধারণ পরজীবীর মতো দেখায় না। অনেক সময় স্বাস্থ্যকর্মীরা এর উপসর্গগুলোকে যৌনবাহিত রোগ ভেবে ভুল করতে পারেন।

    চিকিৎসা না হলে ইউরোজেনিটাল স্কিস্টোসোমিয়াসিস থেকে যৌনাঙ্গে ক্ষত, বন্ধ্যত্ব এবং এইচআইভি সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। নারীদের ক্ষেত্রে এই রোগের শারীরিক, সামাজিক ও সন্তান ধারণসংক্রান্ত প্রভাব আরও বেশি গুরুতর বলে মনে করা হচ্ছে।

    জলবায়ু পরিবর্তন, ভ্রমণ এবং মানুষের অভিবাসনের কারণে স্নেইল ফিভার ছড়াতে পারে। আর হাইব্রিড পরজীবী থাকলে এই রোগ নিয়ন্ত্রণ করা আরও কঠিন। ইতোমধ্যে দক্ষিণ ইউরোপের কিছু এলাকায় এমন হাইব্রিড সংক্রমণের খবর পাওয়া গেছে।

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার স্কিস্টোসোমিয়াসিস নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির প্রধান ডা. আমাদু গারবা জিরমে বলেন, ‘এটা এখন বৈশ্বিক উদ্বেগ। কিছু দেশে মানুষের মধ্যে এই রোগের সংক্রমণ নেই, কিন্তু প্রাণীদের শরীরে পরজীবীটি রয়ে গেছে। ভবিষ্যতে সেটাই মানুষের জন্য ঝুঁকি হয়ে উঠতে পারে।’

  • বিভিন্ন দেশে ছড়াতে পারে যৌনাঙ্গ আক্রান্তকারী পরজীবী, সতর্ক করলেন বিজ্ঞানীরা

    বিভিন্ন দেশে ছড়াতে পারে যৌনাঙ্গ আক্রান্তকারী পরজীবী, সতর্ক করলেন বিজ্ঞানীরা

    ‘স্নেইল ফিভার’, এটি এমন এক পরজীবী, যেটি ত্বকের ভেতর দিয়ে শরীরে প্রবেশ করে এবং রক্তে নীরবে লুকিয়ে থাকে। এরপর সেখানে নীরবেই ডিম পাড়ে, যা জমা হয় শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ লিভার, ফুসফুস ও যৌনাঙ্গে। আশঙ্কার বিষয় হচ্ছে―পরজীবীটি দীর্ঘ সময় নিয়ে বছরের পর বছর শরীরে থাকলেও এটি শনাক্ত না-ও হতে পারে। স্নেইল বা শামুক এই পরজীবী বহন করে বলে এর নামকরণ করা হয়েছে ‘স্নেইল ফিভার’।

    রোগটি সম্পর্কে খুব কম সংখ্যক মানুষই জানেন। উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে, এই পরজীবী সংক্রমিত রোগ ক্রমশ বদলাচ্ছে, কখনো কখনো শক্তিশালী হচ্ছে। এ ব্যাপারে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, স্নেইল ফিভার এখন বৈশ্বিক উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরজীবীটির গঠন ও বৈশিষ্ট্যে এমন কিছু পরিবর্তন এসেছে, যে কারণে নতুন নতুন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা থাকে এর। আর এ ব্যাপারে এমন সময় সতর্কবার্তা এসেছে, যখন ৩০ জানুয়ারি ওয়ার্ল্ড নেগলেক্টেড ট্রপিক্যাল ডিজিজ ডে পালন করছে ডব্লিউএইচও। দিবসটির লক্ষ্য হচ্ছে ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, পরজীবী ও ছত্রাকজনিত রোগগুলোর দিকে দৃষ্টি দেয়া। যেগুলো সাধারণত দরিদ্র অঞ্চলে বসবাসরত শত কোটিরও অধিক মানুষকে আক্রান্ত করে।

    স্নেইল ফিভার কী:
    পরজীবীটি বহন করে এক ধরনের শামুক। এই বিশেষ ধরনের শামুক যেখানে বা যে পানিতে বসবাস করে, সেখানে এর লার্ভা বা শিশু পরজীবী বিস্তার করে। এ অবস্থায় কোনো ব্যক্তি যদি কোনোভাবে ওই পানির সংস্পর্শে আসে বা গোসল করতে যায়, তখন ব্যক্তিটি এই ফিভারে আক্রান্ত হতে পারেন। পরজীবীটির লার্ভাগুলো চামড়া গলিয়ে ফেলার মতো এনজাইম বিস্তার করে এবং তা ত্বকের ভেতর দিয়ে মানবদেহে প্রবেশ করে।

    এরপর লার্ভাগুলো ধীরে ধীরে শরীরের ভেতর বড় হতে থাকে এবং তা পূর্ণবয়স্ক কৃমিতে পরিণত হয় ও পরবর্তীতে রক্তনালিতে বসবাস শুরু করে। আর স্ত্রী কৃমিগুলো ডিম পাড়তে থাকে। ডিমগুলোর কিছু কিছু মল বা প্রস্রাবের সঙ্গে শরীর থেকে নির্গত হয়। কিন্তু অনেক ডিম শরীরের ভেতরের টিস্যুতে আটকা থেকে যায়। ডিমগুলো আটকে গেলে শরীরের রোগ-প্রতিরোধ ব্যবস্থা সেসব ধ্বংস করতে গিয়ে আশপাশের এলাকার সুস্থ টিস্যুকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে। এ কারণে বিভিন্ন অঙ্গের ক্ষতি হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তবে কিছু ডিম তলপেট ও যৌনাঙ্গের আশপাশে আটকে থাকে। এই অবস্থাকে ইউরোজেনিটাল স্কিস্টোসোমিয়াসিস বলা হয়। এ ক্ষেত্রে পেটব্যথা থেকে শুরু করে মরণব্যাধী ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি থাকে এবং মারাত্মক ক্ষেত্রে মৃত্যুও হতে পারে।

    ফিভারটি সাধারণত অ্যান্টি-প্যারাসাইটিক ওষুধে ঠিক হয়ে যায়। ডব্লিউএইচও ঝুঁকিপূর্ণ মানুষদের যেমন- ছোট ছোট শিশু, কৃষিশ্রমিক ও জেলেদের এ ব্যাপারে গত কয়েক বছর ধরে পরামর্শ দিয়ে আসছেন, তারা যেন প্রতি বছরই এই ওষুধ খান। কিন্তু মালাউই লিভারপুল ওয়েলকাম ক্লিনিক্যাল রিসার্চ প্রোগ্রামের সহযোগী পরিচালক অধ্যাপক জানেলিসা মুসায়াসহ অন্যান্য বিজ্ঞানীরা বলছেন, স্নেইল ফিভারের নতুন কিছু ধরন পাওয়া গেছে, যেগুলো প্রচলিত চিকিৎসা পদ্ধতিতে শনাক্ত না-ও হতে পারে।

     

    গভীরে সংকট:
    এখন প্রশ্ন হচ্ছে, বারবার একই জায়গায় ছড়াচ্ছে কেন এই রোগ? গবেষণায় দেখা গেছে, মানুষের শরীরে বসবাসরত পরজীবী আর প্রাণীর শরীরে উপস্থিত পরজীবী একে অপরের সঙ্গে মিলিত হয়ে নতুন ‘হাইব্রিড’ (মিশ্র) ধরন তৈরি করছে। আর হাইব্রিড পরজীবীগুলো মানুষ ও প্রাণী উভয়কেই আক্রান্ত করতে পারে। এ কারণে রোগের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়ছে।

    এ ব্যাপারে আগে থেকে বিজ্ঞানীরা জানতেন যে, মানুষ ও প্রাণীর শরীরের পরজীবীগুলো একে অপরের সঙ্গে প্রজনন করছে। তবে তারা নিশ্চিত ছিলেন না, এই হাইব্রিড ডিমগুলো শরীরের বাইরে বেঁচে থাকতে পারে কিনা। এটি প্রমাণ করার জন্য গবেষকরা মালাউইর কিছু নির্দিষ্ট এলাকার মানুষ ও প্রাণীর কাছ থেকে নমুনা সংগ্রহ করেন। তারা দেখতে পান, এসব পরজীবীর সাত শতাংশই ছিল পরিবর্তিত হাইব্রিড, যা ছিল তাদের ধারণার থেকেও অনেক বেশি। অর্থাৎ―নতুন পরজীবীগুলো সফলভাবে বংশবিস্তার করছে এবং যা ভবিষ্যতে অধিকতর ছড়িয়ে পড়বে।

    অধ্যাপক মুসায়া বলেন, এভাবে যদি প্রকৃতিতে সংক্রমণ চলতেই থাকে, তাহলে সংখ্যাটা এক সময় বেশ বড় হয়ে যাবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, গবেষণা যেহেতু নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় করা হয়েছে, এ জন্য এটি হয়তো হিমশৈলের চূড়া মাত্র। কিন্তু মূল সমস্যা অনেক বড় হতে পারে। বিশেষ করে অনেক সময় যখন সংক্রমণটি পরীক্ষায় শনাক্তই হচ্ছে না। ভবিষ্যতে হাইব্রিড পরজীবীগুলো পুরনোদের হারিয়ে দিতে পারে বলে মনে করছেন।

    তিনি বলেন, এটি একসময় বড় সমস্যা হতে পারে। কেননা, এখনো চিকিৎসকরা নিশ্চিত নন যে, এই হাইব্রিড পরজীবী বহন করা রোগীদের ঠিক কীভাবে চিকিৎসা প্রদান করতে হবে। নীতিনির্ধারকদের প্রতি আমাদের সতর্কবার্তা যে, সচেতন হোন। সমস্যাটি বড় হওয়ার আগেই দ্রুত কিছু করা যায় কিনা।

    পরীক্ষায় যৌনাঙ্গের সংক্রমণ শনাক্ত হচ্ছে না:
    গবেষণায় দেখা গেছে, হাইব্রিড পরজীবীগুলো মানুষের যৌনাঙ্গেও সংক্রমণ ঘটাচ্ছে। কিন্তু তা শনাক্ত করা কঠিন। কেননা, হাইব্রিড স্নেইল ফিভারের ডিম মাইক্রোস্কোপে সাধারণ পরজীবীর ডিমের মতো দেখায় না। কখনো কখনো স্বাস্থ্যকর্মীরা উপসর্গগুলোকে যৌনবাহিত রোগ মনে করে ভুল করতে পারেন। চিকিৎসা না হলে ইউরোজেনিটাল স্কিস্টোসোমিয়াসিস থেকে যৌনাঙ্গে ক্ষত, বন্ধ্যত্ব এবং এইচআইভি সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আর নারীদের ক্ষেত্রে রোগটির শারীরিক, সামাজিক ও সন্তান ধারণসংক্রান্ত প্রভাব অধিক গুরুতর বলে মনে করা হয়।

    অধ্যাপক মুসায়া বলেন, ভাবুন তো, কোনো নারী যদি সন্তান ধারণ করতে না পারেন… আমাদের সংস্কৃতিতে সন্তান হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। সন্তান না হলে ওই নারীকে নানাভাবে কটূক্তি করেন মানুষরা। যা খারাপ এবং খুবই কষ্টের একটি রোগ।

     

    চাপের মুখে অগ্রগতি:
    বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, হাইব্রিড পরজীবীগুলো নতুন নতুন এলাকায় স্নেইল ফিভার ছড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তন, ভ্রমণ ও মানুষের অভিবাসনের জন্য ছড়াতে পারে ফিভারটি। আর হাইব্রিড পরজীবী থাকলে রোগটি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। এরইমধ্যে দক্ষিণ ইউরোপের কিছু অঞ্চলে এ ধরনের হাইব্রিড সংক্রমণের খবর পাওয়া গেছে।

    ডব্লিউএইচও’র স্কিস্টোসোমিয়াসিস নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির প্রধান ডা. আমাদু গারবা জিরমে বলেছেন, রোগটি একটি বৈশ্বিক উদ্বেগ। সংস্থাটি আশঙ্কা করছে, এর কারণে রোগ নির্মূলের লক্ষ্য ব্যাহত হতে পারে। তিনি বলেন, কিছু দেশে অবশ্য মানুষের মধ্যে রোগটির সংক্রমণ নেই। তবে প্রাণীদের শরীরে রয়ে গেছে পরজীবীটি। ভবিষ্যতে সেটাই ঝুঁকির কারণ হতে পারে মানুষের জন্য।

    এদিকে নতুন হুমকি মোকাবিলার জন্য নিজেদের কৌশল বদলাচ্ছে ডব্লিউএইচও। সংস্থাটি চলতি বছর প্রাণীদের মধ্যে রোগ নিয়ন্ত্রণের জন্য কিছু নতুন নির্দেশনা দেবে। এরইমধ্যে বিভিন্ন দেশকে হাইব্রিড পরজীবী নিয়ে আন্তর্জাতিক সতর্কবার্তাও দেয়া হয়েছে। বিশাল আকারে অ্যান্টি-প্যারাসাইটিক ওষুধ বিতরণ কর্মসূচির জন্য ২০০৬ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ফিভারটির সংক্রমণ ৬০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। আর অগ্রগতিটি ধরে রাখার জন্য নিয়মিত অর্থায়ন প্রয়োজন। সংস্থাটি আরও বলছে, ২০১৮ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে উপেক্ষিত ট্রপিক্যাল রোগ খাতে সহায়তার পরিমাণ ৪১ শতাংশ কমেছে, যা এক ধরনের হুমকি।

     

  • কমলো ৮০ হাজার টাকা, স্বর্ণের দামে বিশাল পতন

    কমলো ৮০ হাজার টাকা, স্বর্ণের দামে বিশাল পতন

    আন্তর্জাতিক বাজারে টানা ঊর্ধ্বগতির পর হঠাৎ বড় দরপতন দেখা গেছে স্বর্ণের দামে। একদিনেই বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমেছে প্রায় ৮ দশমিক ২২ শতাংশ, যা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে অন্যতম বড় পতন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

    বাংলাদেশ সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) দিবাগত রাত ২টা ৩০ মিনিটে স্পট গোল্ডের দাম নেমে আসে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৮৯০ ডলারে। এর আগের দিন প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ছিল প্রায় ৫ হাজার ২০০ ডলার। এমনকি বৃহস্পতিবার সকালে স্বর্ণের দাম ৫ হাজার ৫৫০ ডলারের ওপরে উঠে বিশ্ববাজারে ইতিহাসের সর্বোচ্চ রেকর্ড গড়ে।

    রেকর্ড দামে পৌঁছানোর মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে বিশ্ববাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম কমেছে প্রায় ৬৬০ ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ ৮০ হাজার ৫০০ টাকারও বেশি। স্বল্প সময়ের মধ্যে এমন বড় দরপতন বিশ্ব স্বর্ণবাজারে অস্থিরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

    খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর মধ্যে গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে টানাপোড়েন, ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং সামগ্রিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে সাম্প্রতিক সময়ে স্বর্ণের দাম দ্রুত বেড়ে রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছিল। তবে সেই উচ্চতা স্পর্শ করার পর গত দুই দিন ধরেই দরপতনের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

    বিশ্লেষকেরা বলছেন, বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার সময়ে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা বাড়ে এবং এতে দাম দ্রুত বাড়তে থাকে। কিন্তু স্বল্প সময়ে উল্লেখযোগ্য মুনাফা হওয়ায় অনেক বিনিয়োগকারী এখন লাভ তুলে নিতে শুরু করেছেন। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের ডলার শক্তিশালী হওয়া এবং সুদের হার দীর্ঘ সময় উচ্চ থাকতে পারে—এমন ইঙ্গিতও স্বর্ণের দামে চাপ সৃষ্টি করছে। এসবের সঙ্গে স্বাভাবিক মূল্য সংশোধন যুক্ত হয়ে সাম্প্রতিক দরপতন ঘটেছে।

    বিশ্ববাজারে এই বড় দরপতনের প্রভাব দ্রুতই দেশের বাজারে পড়েছে। ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই স্বর্ণের দামে বড় ধরনের ওঠানামা দেখা যাচ্ছে।

    গত বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সকালে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) এক ধাপে ভরিপ্রতি স্বর্ণের দাম ১৬ হাজার ২১৩ টাকা বাড়ায়। এতে ভালো মানের এক ভরি স্বর্ণের দাম দাঁড়ায় ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকা, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। তবে ২৪ ঘণ্টা না যেতেই দাম কমানোর ঘোষণা দেয় সংস্থাটি। শুক্রবার সকালে ভরিপ্রতি সর্বোচ্চ ১৪ হাজার ৬০০ টাকা কমানো হলে ভালো মানের স্বর্ণের দাম নেমে আসে ২ লাখ ৭১ হাজার টাকায়। নতুন এই দাম শুক্রবার সকাল ১০টা ৪৫ মিনিট থেকে কার্যকর হয়।

    বাজুসের সর্বশেষ তালিকা অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৭১ হাজার ৩৬৩ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৫৯ হাজার টাকা, ১৮ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২২ হাজার ২৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৮২ হাজার ৮৩৩ টাকা।

    রুপার দামও নতুন করে নির্ধারণ করা হয়েছে। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৭ হাজার ৭৫৭ টাকা, ২১ ক্যারেটের রুপা ৭ হাজার ৪০৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের রুপা ৬ হাজার ৩৫৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম ৪ হাজার ৭৮২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।