Category: লাইফস্টাইল

লাইফস্টাইল

  • এই সাধারণ অভ্যাসগুলোর কারণে পিত্তথলিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে!

    এই সাধারণ অভ্যাসগুলোর কারণে পিত্তথলিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে!

    পিত্তথলিতে পাথর বা গলস্টোন অনেক সময় কোনো উপসর্গ ছাড়াই তৈরি হতে পারে। তবে পিত্তনালিতে আটকে গেলে এটি তীব্র ব্যথা, বমি, বদহজম এবং অন্যান্য জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিছু খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপনের কারণে অজান্তেই গলস্টোনের ঝুঁকি বেড়ে যায়। ম্যানিপাল হাসপাতালের সার্জিক্যাল গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট ডা. অনিকেত পায়াগুডে হিন্দুস্তান টাইমসকে জানিয়েছেন, গলস্টোন বাড়াতে পারে এমন পাঁচটি সাধারণ অভ্যাস—

    ১. খাবার ঘন ঘন না খাওয়া: খাবার বাদ দিলে পিত্ত দীর্ঘসময় পিত্তথলিতে জমে থাকে। স্থির পিত্তে কলেস্টেরল সহজে জমে পাথর তৈরি করতে পারে। তাই নিয়মিত সময়ে খাবার খাওয়া জরুরি।

    ২. অতিরিক্ত ভাজা বা চর্বিযুক্ত খাবার: ভাজা খাবার, অস্বাস্থ্যকর চর্বি ও প্রসেসড কার্বোহাইড্রেট পিত্তে কলেস্টেরলের মাত্রা বাড়ায়। দীর্ঘদিন এ ধরনের খাবার খেলে গলস্টোনের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

    ৩. অলস জীবনযাপন: শারীরিক নড়াচড়া কম থাকলে বিপাক ধীর হয় এবং পিত্ত সঞ্চালনও কমে যায়। স্থূলতা গলস্টোনের বড় কারণ। নিয়মিত ব্যায়াম ও ওজন নিয়ন্ত্রণ এতে সাহায্য করে।

    ৪. দ্রুত ওজন কমানো বা ক্র্যাশ ডায়েট: হঠাৎ দ্রুত ওজন কমালে লিভার অতিরিক্ত কলেস্টেরল তৈরি করে, যা পিত্তে অস্থিরতা সৃষ্টি করে। ধীরে ও নিরাপদ উপায়ে ওজন কমানো ভালো।

    ৫. খাদ্যে ফাইবার ও পানির ঘাটতি: ফাইবার ও পানি কম হলে হজম দুর্বল হয় এবং পিত্তের প্রবাহ কমে যায়। পর্যাপ্ত ফল, শাকসবজি ও হোলগ্রেন খাবার গলস্টোন প্রতিরোধে সহায়ক।

    সব গলস্টোনই সার্জারির প্রয়োজন হয় না। কিন্তু যদি ঘন ঘন ব্যথা, সংক্রমণ, প্যানক্রিয়াটাইটিস বা পিত্তনালীতে বাধা দেখা দেয়, তবে ল্যাপারোস্কোপিক কোলেসিস্টেকটমি সবচেয়ে নিরাপদ সমাধান। জটিল ক্ষেত্রে ওপেন সার্জারিও প্রয়োজন হতে পারে।

    সুষম খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম, পর্যাপ্ত পানি পান এবং ক্র্যাশ ডায়েট এড়িয়ে চললে গলস্টোনের ঝুঁকি কমানো সম্ভব। দীর্ঘদিন পেটব্যথা বা হজমের সমস্যা থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত, এতে জটিলতা কমে এবং জরুরি সার্জারির প্রয়োজনও এড়ানো যায়।

  • যে রক্তের গ্রুপে স্ট্রোকের ঝুঁকি বেশি! নতুন গবেষণায় চমকপ্রদ তথ্য

    যে রক্তের গ্রুপে স্ট্রোকের ঝুঁকি বেশি! নতুন গবেষণায় চমকপ্রদ তথ্য

    স্ট্রোক বিশ্বজুড়ে মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, ধূমপান বা অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাত্রার পাশাপাশি এবার রক্তের গ্রুপকেও স্ট্রোকের ঝুঁকির সঙ্গে যুক্ত করেছেন গবেষকরা। সাম্প্রতিক এক আন্তর্জাতিক গবেষণায় দেখা গেছে, কিছু নির্দিষ্ট রক্তের গ্রুপের মানুষের মধ্যে তুলনামূলকভাবে স্ট্রোক হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

    গবেষণার ফলাফল

    বিজ্ঞানীরা প্রায় কয়েক হাজার মানুষের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখেছেন—

    • ‘এ’ গ্রুপের রক্তের ব্যক্তিদের মধ্যে স্ট্রোকের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি।
    • বিশেষ করে ৬০ বছরের নিচের মানুষদের মধ্যে এই ঝুঁকি আরও বেশি দেখা যায়।

    গবেষণায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বি বা ও গ্রুপের তুলনায় এ গ্রুপের রক্তধারীদের ক্ষেত্রে মস্তিষ্কে রক্ত জমাট বাঁধার প্রবণতা বেশি থাকে।

    কেন বাড়ে ঝুঁকি?

    গবেষকদের মতে, এ গ্রুপের রক্তে কিছু নির্দিষ্ট প্রোটিনের মাত্রা অন্যদের তুলনায় বেশি থাকে, যা রক্ত জমাট বাঁধার প্রবণতা বাড়ায়। এর ফলে হঠাৎ করে মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহ বন্ধ হয়ে যেতে পারে এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি তৈরি হয়।

    বিশেষজ্ঞের পরামর্শ

    চিকিৎসকরা বলছেন, শুধু রক্তের গ্রুপ নয়, বরং জীবনযাত্রার ধরনই স্ট্রোকের মূল কারণ। তাই ঝুঁকি কমাতে—

    • নিয়মিত রক্তচাপ ও শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখা,
    • ধূমপান ও মদ্যপান থেকে বিরত থাকা,
    • পর্যাপ্ত ঘুম ও মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করা,
    • প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা বা ব্যায়াম করা জরুরি।

    গবেষণার তথ্য চমকপ্রদ হলেও, আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন জীবনযাপন করলেই স্ট্রোকের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

  • যেসব কারণে শীতে স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে,না জানলেই বিপদ

    যেসব কারণে শীতে স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে,না জানলেই বিপদ

    শীতকাল মানেই লেপ-কম্বলের উষ্ণতা। তবে এ পরিবেশের আড়ালে লুকিয়ে রয়েছে এক নীরব ঘাতক— ব্রেন স্ট্রোক। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, শীতকালে স্ট্রোকের (Brain Stroke) প্রকোপ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। বয়স্ক এবং উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি আরও প্রবল। প্রশ্ন হল, ঠান্ডা আবহাওয়া কেন স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়?

    শীতে স্ট্রোক বাড়ার প্রধান কারণসমূহ

    বিজ্ঞান ও চিকিৎসাবিদ্যার দৃষ্টিকোণ থেকে শীতকালে শরীরের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ার পেছনে বেশ কিছু জোরালো কারণ রয়েছে:

    রক্তনালীর সংকোচন (Vasoconstriction): শীতের ঠান্ডার সঙ্গে মানিয়ে নিতে শরীর তার তাপমাত্রা ধরে রাখার চেষ্টা করে। এর ফলে রক্তনালীগুলো সংকুচিত হয়ে যায়। রক্তনালী সরু হয়ে যাওয়ার কারণে রক্তের প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয় এবং রক্তচাপ (Blood Pressure) দ্রুত বেড়ে যায়। এ অতিরিক্ত রক্তচাপের চাপে মস্তিষ্কের সরু ধমনী ফেটে যেতে পারে অথবা রক্ত জমাট বাঁধতে পারে।

    রক্তের ঘনত্ব বৃদ্ধি: ঠান্ডা আবহাওয়ায় মানুষের রক্ত কিছুটা ঘন বা চটচটে হয়ে যাওয়ার প্রবণতা দেখায়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় রক্তের ‘সান্দ্রতা’ বৃদ্ধি। রক্ত ঘন হয়ে গেলে ধমনীর ভেতরে ক্লট বা চাকা হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়, যা মস্তিষ্কে রক্ত চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়।

    শারীরিক পরিশ্রমের অভাব: শীতকালে অলসতা বা ঠান্ডার কারণে মানুষের শারীরিক পরিশ্রম এবং ব্যায়ামের মাত্রা কমে যায়। এর ফলে শরীরের বিপাকীয় হার কমে এবং রক্তে কোলেস্টেরল ও শর্করার মাত্রা বেড়ে যেতে পারে, যা পরোক্ষভাবে স্ট্রোকের জন্য দায়ী।

    ডিহাইড্রেশন বা পানিশূন্যতা: শীতকালে তৃষ্ণা কম পাওয়ার কারণে অনেকেই পর্যাপ্ত পানি পান করেন না। শরীরে জলের অভাব ঘটলে রক্ত আরও ঘন হয়ে যায় এবং রক্তচাপের ভারসাম্য বিঘ্নিত হয়।

    লবণের ব্যবহার বৃদ্ধি: শীতকালীন বিভিন্ন মুখরোচক খাবারে লবণের ব্যবহার বেশি হয়। অতিরিক্ত সোডিয়াম শরীরে পানি ধরে রাখে এবং রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয়, যা স্ট্রোকের ঝুঁকি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়।

    স্ট্রোকের আগাম লক্ষণ (FAST পদ্ধতি): স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে এর লক্ষণগুলো দ্রুত চেনা জরুরি। চিকিৎসকরা একে FAST পদ্ধতির মাধ্যমে মনে রাখার পরামর্শ দেন:

    F (Face): মুখ একদিকে বেঁকে যাওয়া বা হাসতে গেলে অসামঞ্জস্য দেখা দেওয়া।

    A (Arms): হাত অবশ হয়ে আসা বা হাত উপরে তুলতে সমস্যা হওয়া।

    S (Speech): কথা জড়িয়ে যাওয়া বা স্পষ্ট করে কথা বলতে না পারা।

    T (Time): এই লক্ষণগুলো দেখা মাত্র সময় নষ্ট না করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া।

    স্ট্রোক থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায়

    পর্যাপ্ত উষ্ণতা: শরীরকে সবসময় গরম রাখার চেষ্টা করুন, বিশেষ করে মাথা এবং কান ঢেকে রাখুন।

    রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ: নিয়মিত রক্তচাপ মাপুন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন করুন।

    হালকা ব্যায়াম: ঘরের ভেতরেই নিয়মিত হালকা যোগব্যায়াম বা হাঁটাহাঁটি বজায় রাখুন।

    সঠিক খাদ্যাভ্যাস: অতিরিক্ত লবণ ও চর্বিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন এবং পর্যাপ্ত পানি পান করুন।

    মনে রাখুন

    শীতকাল মানেই কেবল উৎসব নয়, এটি শরীরের প্রতি বাড়তি যত্ন নেওয়ার সময়। সামান্য অসাবধানতা জীবনঘাতী হতে পারে। বিশেষ করে যারা আগে থেকেই উচ্চ রক্তচাপ বা হৃদরোগে ভুগছেন, তাদের জন্য শীতের প্রতিটি দিন সতর্ক থাকা জরুরি।

  • কানে চুল গজানো কীসের ইঙ্গিত? জানলে চমকে যাবেন

    কানে চুল গজানো কীসের ইঙ্গিত? জানলে চমকে যাবেন

    বয়ঃসন্ধির পর হরমোনের পরিবর্তনের সঙ্গে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে পরিবর্তন আসতে শুরু করে। এই সময়ে কানের লোমকূপ সক্রিয় হতে পারে, ফলে কানে চুল গজাতে পারে। যদিও এটি বাইরের ধূলিকণা ও জীবাণু থেকে কানকে রক্ষা করতেও সাহায্য করে।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে।

    যেমন ডায়াবেটিস বা উচ্চ টেস্টোস্টেরন লেভেলের সঙ্গে এর যোগ থাকতে পারে। 

    নাকের ভেতরে চুল থাকা যদিও স্বাভাবিক। কিন্তু বাইরের পাশে হঠাৎ চুল মানে হরমোনের সমস্যা হতে পারে। অনেক বিশেষজ্ঞ বলেন, নাকের চারপাশে বেশি চুল গজালে লিভার ফাংশন দুর্বল হতে পারে।

     

    হাতে পায়ে হঠাৎ প্রচুর চুল গজানো পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিনড্রোমের (পিসিওএস) ইঙ্গিত হতে পারে। পুরুষদের ক্ষেত্রে এটা সাধারণ, তবে হঠাৎ গজালে হরমোন বা থাইরয়েড সমস্যা হতে পারে।

    ভাতের মাড় থেকে ফুটন্ত গরম পানি—সব কিছুই সিংকে ঢালেন? এতেই হতে পারে বড় ক্ষতি

     

    তবে হঠাৎ ঘন বা মোটা চুল গজালে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। চুল গজানোর সঙ্গে অতিরিক্ত ঘাম, ওজন বেড়ে যাওয়া, ব্রণ–এগুলো হলে গুরুত্ব দিন।