Category: লাইফস্টাইল

লাইফস্টাইল

  • শরীরে ক্যান্সার হওয়ার এক বছর আগেই যে সংকেত দেয়

    শরীরে ক্যান্সার হওয়ার এক বছর আগেই যে সংকেত দেয়

    শরীরে ক্যান্সার হওয়ার এক বছর আগেই যে সংকেত দেয়
    ক্যান্সার—বিশ্বজুড়ে মৃত্যুর প্রধান কারণগুলোর একটি। তবে সাম্প্রতিক গবেষণাগুলো বলছে, ক্যান্সার যতটা হঠাৎ ধরা পড়ে বলে মনে হয়, বাস্তবে তা নয়। শরীর ক্যান্সার শুরুর প্রায় এক বছর আগেই বিভিন্ন ধরনের সতর্ক সংকেত পাঠাতে থাকে—যা অবহেলা করলেই বিপদ!

    ইউকে-ভিত্তিক নতুন গবেষণার আলোকে ও একাধিক গবেষণা, জার্নাল যেমন The Lancet Oncology এবং BMJ সম্প্রতি রিপোর্ট করেছে যে, ডায়াগনোসিসের প্রায় ৮-১২ মাস আগেই কিছু রোগী নানা অসামঞ্জস্যপূর্ণ উপসর্গের মুখোমুখি হন—যেমন অকারণে ওজন হ্রাস, দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি, হজমের সমস্যা বা রাতের ঘাম।

    রক্তের পরিবর্তন:

    কোনো উপসর্গ ছাড়াই রক্তে হালকা রকম অস্বাভাবিকতা (যেমন, হিমোগ্লোবিন হ্রাস, সাদা রক্তকণিকার পরিবর্তন) দেখা যেতে পারে, যা কিছু ধরনের ক্যান্সারের প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে।
    হজমে সমস্যা:

    দীর্ঘমেয়াদি অম্বল, বদহজম বা পেটের ব্যথা (বিশেষ করে প্যানক্রিয়াস বা পাকস্থলীর ক্যান্সারে) কয়েক মাস বা এক বছর আগেই শুরু হতে পারে।
    ওজন হ্রাস:

    অযথা ওজন কমে যাওয়া বা ক্ষুধা কমে যাওয়া শরীরে কোনো বড় সমস্যা, বিশেষ করে ক্যান্সারের সূচনাপর্ব নির্দেশ করতে পারে।
    অসাধারণ ক্লান্তি বা দুর্বলতা:

    ঘুম, বিশ্রাম বা খাবার খাওয়ার পরেও ক্লান্তি না কমা—বিশেষ করে রক্তাল্পতা ছাড়া ক্লান্তি হলে সেটা কোলন ক্যান্সারের ইঙ্গিত হতে পারে।
    ত্বকে পরিবর্তন:

    ত্বকে হঠাৎ দাগ, মোল বা কালো চিহ্ন বড় হয়ে যাওয়া (স্কিন ক্যান্সারের সম্ভাবনা), বা চোখের সাদা অংশে হলদে ভাব (লিভার সমস্যা) ইত্যাদি লক্ষণ শরীরের ভেতরের সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে।
    অতিরিক্ত ঘাম বা রাতে ঘাম:

    রাতে অতিরিক্ত ঘাম হওয়া (night sweats) বা অস্বাভাবিক জ্বর (বিশেষ করে টিউমার থেকে সৃষ্ট) অনেক সময় লিম্ফোমার পূর্ব সংকেত।
    গবেষকেরা বলছেন, অনেক সময় রক্ত পরীক্ষা বা ইউরিন টেস্টেও সূক্ষ্ম কিছু পরিবর্তন ধরা পড়ে, যা পরবর্তীতে ক্যান্সার হিসেবে ধরা পড়ে।

    উপসর্গ যেগুলোর দিকে নজর দেওয়া জরুরি:

    অকারণে ওজন হ্রাস
    অতিরিক্ত ক্লান্তি বা দুর্বলতা
    দীর্ঘদিন ধরে চলা হজমের সমস্যা বা বুক জ্বালা
    রাতের বেলা অতিরিক্ত ঘাম বা জ্বর
    ত্বকে অস্বাভাবিক দাগ, মোল বড় হয়ে যাওয়া
    বাত বা পেশিতে ব্যথা যেটি সহজে সারছে না
    বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উপসর্গগুলো যে সবসময় ক্যান্সারের ইঙ্গিত, তা নয়; তবে অবহেলা করাও ঠিক নয়।

    ভবিষ্যতের প্রযুক্তি আশা দিচ্ছে ,স্বিডিশ গবেষকরা সম্প্রতি একটি রক্ত পরীক্ষার প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন, যেটি রক্তের “শর্করার ধরণ” বা glycosaminoglycan পরিমাপ করে ১৪ ধরনের ক্যান্সার প্রথম ধাপেই শনাক্ত করতে সক্ষম হচ্ছে। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে ভবিষ্যতে আরও আগেভাগেই ক্যান্সার ধরা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন চিকিৎসকেরা।

    ক্যান্সার ‘নীরব ঘাতক’, কিন্তু নীরব নয়। শরীর সময় থাকতেই সতর্ক করে, শুধু আমাদের সেই সংকেত বুঝতে শিখতে হবে। প্রাথমিক উপসর্গগুলোকে গুরুত্ব দিন, প্রয়োজনে ডাক্তারের পরামর্শ নিন। আগেভাগে সচেতনতা মানেই—জীবনের নিরাপত্তা!

  • পায়খানায় এই ৪টি লক্ষণ দেখলেই সতর্ক হোন, হতে পারে কোলোরেক্টাল ক্যান্সার!

    পায়খানায় এই ৪টি লক্ষণ দেখলেই সতর্ক হোন, হতে পারে কোলোরেক্টাল ক্যান্সার!

    কোলোরেক্টাল ক্যান্সার এখন বিশ্বব্যাপী দ্রুত বাড়তে থাকা এক জনস্বাস্থ্য সংকট। শুধু বয়স্ক নয়, তরুণদের মধ্যেও এ রোগের আক্রান্তের হার উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। সমস্যাটি আরও জটিল হয় কারণ শুরুর পর্যায়ে এই ক্যান্সার সাধারণত নিঃশব্দে থাকে, কিংবা এমন কিছু হজমজনিত পরিবর্তন দেখা দেয় যা সহজেই অন্য সাধারণ অসুস্থতার সঙ্গে মিলে যায়। জেএএমএ নেটওয়ার্ক–এ প্রকাশিত গবেষণায় দেখা যায়, কিছু উপসর্গ বিশেষভাবে প্রাথমিক পর্যায়ের কোলোরেক্টাল ক্যান্সারের সঙ্গে সম্পর্কিত।

    নিচে এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংকেত তুলে ধরা হলো, যেগুলো মলের মাধ্যমেই শরীর আগে থেকেই জানান দেয়।

    কেন আগেভাগে শনাক্ত করা এত গুরুত্বপূর্ণ?

    আমেরিকান ক্যান্সার সোসাইটির তথ্যে দেখা যায়, কোলোরেক্টাল ক্যান্সার যদি রোগ ছড়িয়ে পড়ার আগেই ধরা পড়ে, তাহলে ৫ বছরের সার্ভাইভাল রেট প্রায় ৯০ শতাংশ। কিন্তু রোগ ছড়িয়ে পড়লে এ হার কমে দাঁড়ায় আঞ্চলিক পর্যায়ে প্রায় ৭৩ শতাংশ এবং দূরবর্তী অঙ্গ আক্রান্ত হলে মাত্র ১৩ শতাংশে নেমে আসে।

    অর্থাৎ সময়ের আগেই শনাক্ত করতে পারলেই চিকিৎসা সফলতার সম্ভাবনা বহুগুণ বাড়ে এবং সম্পূর্ণ সেরে ওঠার সুযোগও তৈরি হয়।

    মলে দেখা দিলে যেগুলো হতে পারে কোলোরেক্টাল ক্যান্সারের প্রাথমিক সংকেত
    ১. পেন্সিলের মতো সরু বা ফিতা-আকৃতির মল

    হঠাৎ এবং স্থায়ীভাবে মল সরু, ফিতার মতো বা পেন্সিলের মতো পাতলা হয়ে গেলে তা সতর্কতার কারণ। আমেরিকান ক্যান্সার সোসাইটি জানায়, কয়েক দিনের বেশি এমন পরিবর্তন থাকলে তা অন্ত্রের ভেতরে টিউমারের কারণে পথ সংকুচিত হওয়ার ইঙ্গিত হতে পারে। মেও ক্লিনিকের তথ্যমতে, কোলন বা রেকটামের ভেতর দেয়ালে টিউমার বড় হতে থাকলে মলের স্বাভাবিক পথ সঙ্কুচিত হয়, ফলে মল স্বাভাবিক আকৃতি হারায়।

    ২. মলে অতিরিক্ত শ্লেষ্মা

    অন্ত্র স্বাভাবিকভাবেই অল্প পরিমাণ শ্লেষ্মা উৎপন্ন করে যা কোলনের ভেতরকার অংশ লুব্রিকেট করতে সাহায্য করে। কিন্তু মলে চোখে পড়ার মতো পরিমাণে শ্লেষ্মা দেখা গেলে তা অন্ত্রের সমস্যার সংকেত হতে পারে। এনসিবিআই এর মেডিকেল নির্দেশনায় বলা হয়েছে, মলদ্বার দিয়ে রক্তপাত বা অতিরিক্ত শ্লেষ্মা নিঃসরণ হতে থাকলে তা গুরুত্ব দিয়ে পর্যবেক্ষণ করা উচিত।

    ৩. মলে রক্ত

    উজ্জ্বল লাল বা গাঢ় তারের মতো রক্ত উভয়ই কোলোরেক্টাল ক্যান্সারের অন্যতম প্রাথমিক উপসর্গ। গবেষণা বলছে, প্রাথমিক পর্যায়ের ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ রোগীর ক্ষেত্রেই কোনো না কোনোভাবে রেকটাল ব্লিডিং দেখা যায়।

    হেমোরয়েড, অ্যানাল ফিশার বা হজমজনিত সংক্রমণের কারণেও রক্ত দেখা দিতে পারে, তবে রক্তপাত যদি বারবার ঘটে বা অন্য সতর্ক লক্ষণও দেখা দেয়, তবে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

    ৪. দীর্ঘদিনের ডায়রিয়া বা কোষ্ঠকাঠিন্য

    বারবার ডায়রিয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য, বা কখনো ডায়রিয়া আবার কখনো কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো পরিবর্তন কোলোরেক্টাল ক্যান্সারের শুরুতে দেখা দিতে পারে। মোফিট ক্যান্সার সেন্টারের তথ্যমতে, বিশেষ করে ৫০ বছরের বেশি বয়সী ব্যক্তিদের এ ধরনের স্থায়ী মলত্যাগের পরিবর্তনকে আরও গুরুত্বসহকারে দেখা প্রয়োজন।

    যদিও খাদ্যাভ্যাস, সংক্রমণ বা আইবিএস অনেক বেশি সাধারণ কারণ, তবুও উপসর্গ দীর্ঘস্থায়ী হলে কোলোনোস্কোপির মতো পরীক্ষার প্রয়োজন হয়।

    তরুণদের মধ্যেও বাড়ছে কোলন ক্যান্সারের ঝুঁকি

    দ্য লানসেট অনকোলজি–তে প্রকাশিত বড় ধরনের গবেষণায় দেখা গেছে, ২৫ থেকে ৪৯ বছর বয়সী মানুষের মধ্যে ৫০টি দেশের মধ্যে অন্তত ২৭টি দেশে প্রাথমিক পর্যায়ের কোলোরেক্টাল ক্যান্সারের হার বাড়ছে। জীবনযাপনও এই ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে। এমডিপিআই এর গবেষণায় বলা হয়েছে, অল্প বয়সে অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ, অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়া এবং স্থূলতা প্রধান ঝুঁকির কারণ হিসেবে উঠে এসেছে। গবেষকদের আশঙ্কা, খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন, শারীরিক কার্যক্রম কমে যাওয়া এবং মেটাবলিক রোগ বাড়তে থাকলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সচেতনতা, আগেভাগে স্ক্রিনিং এবং জীবনযাপনে পরিবর্তন আনলেই এই ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।

    মলে ছোট ছোট পরিবর্তনও অনেক সময় বড় রোগের বার্তা দেয়। অবহেলা না করে সতর্ক থাকা, নিয়মিত স্বাস্থ্যপরীক্ষা করা এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়াই কোলোরেক্টাল ক্যান্সার প্রতিরোধ ও প্রাথমিক শনাক্তকরণের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

  • যাদের ঠিক মত বাথরুম হয় না বাঁচতে হলে জেনে রাখুন

    যাদের ঠিক মত বাথরুম হয় না বাঁচতে হলে জেনে রাখুন

    আজকাল প্রায় সব টয়লেটে হাই কমোড ব্যবহৃত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার ক্ষেত্রে হাই কমোডের চেয়ে লো প্যান উপকারী। লো প্যানে যেভাবে বসতে হয়, চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় সেটিকে বলে ‘স্কোয়াটিং পজিশন’ বা আসন করে বসা। মলত্যাগের সময় এভাবে বসা উপকারী। এতে পেটে জমে থাকা মল ভালোভাবে বের হয়ে যায়, পেট থাকে পরিষ্কার। কিন্তু বাড়িতে কোনো টয়লেটেই লো প্যানের ব্যবস্থা না থাকলে কী করা যায়? এ ক্ষেত্রে সমাধান হলো টয়লেট টুল। এই টুল কমোডে বসার সময় পা রাখার জন্য ব্যবহার করা হয়। এ ধরনের টুল আজকাল অনলাইনে কেনা যায়। তবে টয়লেট টুল না পাওয়া গেলে সাধারণ একটি প্লাস্টিকের টুল হতে পারে এর বিকল্প। চাইলে কাঠ দিয়ে বানিয়েও নিতে পারেন। কমোডে বসা অবস্থায় পা দুটি টুলের ওপর রাখলে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যার কিছুটা উন্নতি হতে পারে। বিশেষ করে শিশু, যাদের পা কমোডে বসা অবস্থায় ঝুলে থাকে, তাদের জন্য এই ব্যবস্থা বেশ উপকারী।

    ২. হাঁটুন
    বিশেষজ্ঞরা বলেন, সকালে হাঁটাহাঁটি করলে বিষণ্নতার ঝুঁকি কমে আসে

    বিশেষজ্ঞরা বলেন, সকালে হাঁটাহাঁটি করলে বিষণ্নতার ঝুঁকি কমে আসে। ২০১৯ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, বিষণ্নতার সঙ্গে কোষ্ঠকাঠিন্যের সম্পর্ক আছে। প্রতিদিন ১০ থেকে ২০ মিনিট বাইরে হাঁটাহাঁটি করলে নির্মল বাতাস ও আলো আপনার মস্তিষ্কে পোঁছায়। আপনার শরীরের গতিবিধি মস্তিষ্কও অনুভব করতে পারে। আর এতে বিষণ্নতার মতো মানসিক সংকট কমে যায় অনেকাংশে, যা কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে রাখে কার্যকর ভূমিকা।

    ৩. প্রোবায়োটিক ক্যাপসুল খান

    আজকাল অনেকেই কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে প্রোবায়োটিক ক্যাপসুল খান। হার্ভার্ড হেলথের মতে, যাঁরা কোষ্ঠকাঠিন্যের জন্য দায়ী ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোমে (আইবিএস) ভুগছেন, তাঁদের জন্য প্রোবায়োটিক ক্যাপসুল বিশেষ উপকারী। প্রোবায়োটিক ক্যাপসুলকে তুলনা করা যেতে পারে খুব ঘন টক দইয়ের সঙ্গে। এসব ক্যাপসুল স্বাস্থ্যকর ব্যাকটেরিয়া দিয়ে পরিপূর্ণ, যা আপনার পরিপাকতন্ত্রকে সুস্থ রাখে।

    আজকাল অনেকেই কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে প্রোবায়োটিক ক্যাপসুল খানছবি: পিক্সাবে
    ৪. ম্যাগনেশিয়াম সাপ্লিমেন্ট খান

    ম্যাগনেশিয়াম শুধু হাড়ের জন্যই উপকারী নয়। এটি কোষ্ঠকাঠিন্য সারাতে আপনার পরিপাকতন্ত্রে কাজ করে দারুণভাবে। হেলথলাইনের প্রতিবেদন অনুসারে, ম্যাগনেশিয়াম সাইট্রেট অন্ত্রে পানি টেনে আনে বলে অন্ত্র শিথিল হয়। আর এতে মলত্যাগও হয় সহজ। আরও কিছু ভিটামিন আছে যেগুলো কোষ্ঠকাঠিন্য সারাতে উপকারী, যেমন ভিটামিন সি, ভিটামিন বি৫, ভিটামিন বি১২ ও ভিটামিন বি১।

    জিরা-পানির কী গুণ

    ৫. অপ্রয়োজনীয় কার্বোহাইড্রেট গ্রহণ কমান

    বড় এক প্যাকেট আলুর চিপস আপনার পরিপাকতন্ত্রের ওপর ভীষণ ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। তাই এ ধরনের খাবার না খেয়ে স্বাস্থ্যকর খাবার খান। শাকসবজি, শস্যজাতীয় খাবার, উপকারী মনো ও পলিস্যাচুরেটেড ফ্যাট ইত্যাদি বেশি পরিমাণে গ্রহণ করুন। ওয়েবএমডির মতে, জলপাই তেলে থাকে উপকারী চর্বি। অন্ত্রে এই চর্বির একটি আস্তরণ সৃষ্টি হলে খাদ্য সহজে চলাচল করতে পারে। আর অন্ত্রের মধ্য দিয়ে খাদ্য সহজে চলাচল করা মানেই কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে মুক্তি।

    ৬. কিছুটা সময় দাঁড়িয়ে থাকুন

    আপনাকে হয়তো দিনমান চেয়ারে বসেই কাজ করতে হয়। কিন্তু মাঝেমধ্যে উঠে দাঁড়ান। এই অভ্যাস আপনার পরিপাকতন্ত্রকে ভালো রাখবে, কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে মুক্তি পাবেন। মার্কিন বিজ্ঞানবিষয়ক ম্যাগাজিন স্মিথসোনিয়ানের মতে, কাজের মধ্যে নিয়মিত বিরতিতে উঠে দাঁড়ালে মুটিয়ে যাওয়া, ক্যানসার, রক্তসংবহনতন্ত্রের বিভিন্ন রোগ ও বিপাকের বিভিন্ন সমস্যার আশঙ্কা কমে যায়।

    রোজ সকালে এক গ্লাস ঠান্ডা পানিতে লেবুর রস মিশিয়ে খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়ছবি: পেক্সেলস
    ৭. সকালে লেবু-পানি খান

    রোজ সকালে এক গ্লাস ঠান্ডা পানিতে লেবুর রস মিশিয়ে খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়। ঠান্ডা পানি ও লেবুতে থাকা সাইট্রাস একত্র হয়ে আপনার পরিপাকতন্ত্রের কার্যকারিতা বাড়ায়, কোষ্ঠকাঠিন্য সারিয়ে তোলে। এই পানীয় দিনে দুবার খেতে পারেন, পেটের ভেতরের ‘গাড়িঘোড়া’ দ্রুতগামী হবে এবং ‘যানজট’ও হবে দূর।

  • রাতে ঘনঘন প্রস্রাব হয় কেন? জানেন কোন রোগের লক্ষণ

    রাতে ঘনঘন প্রস্রাব হয় কেন? জানেন কোন রোগের লক্ষণ

    ঘন ঘন প্রস্রাব করা (24 ঘন্টার মধ্যে সাত বারের বেশি প্রস্রাব করা প্রয়োজন) ক্রমাগত পূর্ণ মূত্রাশয়ের একটি ব্যাঘাতমূলক, অসুবিধাজনক এবং প্রায়ই চাপযুক্ত ফলাফল। ডায়াবেটিস থেকে শুরু করে মূত্রনালীর সংক্রমণ বা অত্যধিক তরল গ্রহণের কারণ হতে পারে।

    মূত্রাশয় পূর্ণ থাকলে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটতে পারে কারণ আপনাকে প্রস্রাব করার জন্য বারবার জেগে উঠতে হবে, যাকে নকটুরিয়া বলা হয়। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই ঘন ঘন প্রস্রাবের চিকিৎসা করা সম্ভব।

    প্রকারভেদ

    ঘন ঘন প্রস্রাবকে অন্তর্নিহিত কারণ অনুসারে শ্রেণিবদ্ধ করা যেতে পারে, উদাহরণস্বরূপ, সংক্রমণ, রোগ বা মূত্রাশয়ের আঘাত। যেসব রোগ ও অবস্থার কারণে প্রায়ই ঘন ঘন প্রস্রাব হয় তার মধ্যে রয়েছে উদ্বেগজনিত ব্যাধি, সৌম্য প্রোস্ট্যাটিক হাইপারপ্লাসিয়া (BPH), মূত্রাশয়ের পাথর এবং ডায়াবেটিস।

    লক্ষণগুলি

    ঘন ঘন প্রস্রাবের সাথে ব্যথা, অস্বস্তি, ঠান্ডা লাগা, ক্ষুধা বা তৃষ্ণা বৃদ্ধি, ক্লান্তি, প্রস্রাবের সময় অসুবিধা, মূত্রাশয়ের নিয়ন্ত্রণ হারানো এবং রক্তাক্ত বা মেঘলা প্রস্রাব হতে পারে।

    ঘন ঘন প্রস্রাবের কারণ

    এখানে কিছু কারণ আছে:

    • মূত্রনালীর সংক্রমণ
    • উচ্চরক্তচাপ
    • মূত্রাশয়ের সমস্যা (ইন্টারস্টিশিয়াল সিস্টাইটিস এবং ওভারঅ্যাকটিভ ব্লাডার সিন্ড্রোম)
    • মূত্রাশয় ক্যান্সার
    • গর্ভাবস্থা
    • টাইপ 1 এবং টাইপ 2 ডায়াবেটিস
    • হাইপারক্যালসেমিয়া (রক্তে ক্যালসিয়ামের স্বাভাবিক পরিমাণের উপরে)
    • প্রোস্টেট সমস্যা (বর্ধিত প্রোস্টেট বা BPH)
    • স্ট্রোক
    • পেলভিক টিউমার
    • Diuretics
    •  যোনিতে প্রদাহ
    • অত্যধিক অ্যালকোহল বা ক্যাফেইন পান করা
    যখন একজন ডাক্তার দেখবেন

    আপনি যদি লক্ষ্য করেন যে আপনি দিনে সাতবারের বেশি প্রস্রাব করছেন বা প্রস্রাব করার জন্য রাতে জেগে উঠছেন, বা জ্বর, বমি, পিঠের নীচের অংশে ব্যথা, বিশেষ করে কিডনি অঞ্চলের কাছাকাছি, প্রস্রাবে রক্ত ​​​​বা লিঙ্গ বা যোনি থেকে স্রাব হচ্ছে, আপনি একটি সঙ্গে পরামর্শ করতে হবে

    কিছু শর্ত আপনাকে ঘন ঘন প্রস্রাবের ঝুঁকিতে রাখে

    • উদ্বেগ রোগ
    • টাইপ 1 এবং 2 ডায়াবেটিস
    •  কিডনির অবস্থা, যেমন কিডনি সংক্রমণ এবং কিডনিতে পাথর
    • অগ্রসর বয়স (মধ্যবয়সী বা বয়স্ক)
    •  গর্ভাবস্থা
    •  বিবর্ধিত প্রোস্টেট
    সম্ভাব্য জটিলতা

    ঘন ঘন প্রস্রাবের ফলে কিডনি, মূত্রাশয়, প্রোস্টেট বা মূত্রনালীর জটিলতা দেখা দিতে পারে।

    প্রতিরোধ

    লাইফস্টাইল পরিবর্তন যা ঘন ঘন প্রস্রাব নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে তার মধ্যে রয়েছে:

    • রাতে তরল এড়িয়ে চলুন
    • ক্যাফেইন সীমিত করা
    •  Kegel ব্যায়াম
    ঘন ঘন প্রস্রাবের জন্য চিকিত্সা

    আপনার ডাক্তার পরীক্ষার আদেশ দিতে পারে যেমন:

    •  কিডনির কার্যকারিতা, ইলেক্ট্রোলাইটস এবং রক্তে শর্করার জন্য রক্ত ​​পরীক্ষা
    •  প্রস্রাবের মধ্য দিয়ে যায় এমন যৌগগুলি সনাক্ত করতে ইউরিনালাইসিস
    • সিস্টোমেট্রি এবং বা সিস্টোস্কোপি মূত্রাশয় পরীক্ষা করতে
    • স্নায়ুর ব্যাধি নির্ধারণের জন্য স্নায়বিক পরীক্ষা
    • আলট্রাসনোগ্রাফি
    ঘন ঘন প্রস্রাবের চিকিত্সার মধ্যে রয়েছে:
    • রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা
    • অতিরিক্ত সক্রিয় মূত্রাশয়ের কারণে প্রস্রাব হলে মূত্রাশয় পুনরায় প্রশিক্ষণ
    • মূত্রাশয়কে জ্বালাতন করে বা মূত্রবর্ধক (ক্যাফিন, অ্যালকোহল) হিসাবে কাজ করে এমন খাবার এড়াতে ডায়েট পরিবর্তন
    • Kegel ব্যায়াম
    • ওষুধ যেমন ড্যারিফেনাসিন, মিরাবেগ্রন, ইমিপ্রামাইন, অক্সিবিউটিনিন এবং ট্রস্পিয়াম এক্সটেন্ডেড-রিলিজ
    • বোটক্সকে মূত্রাশয়ের মধ্যে ইনজেকশন দেওয়া যেতে পারে যাতে এটির স্টোরেজ ক্ষমতা বাড়ানো যায়
    •  ন্যূনতম আক্রমণাত্মক অস্ত্রোপচার
    •  ফুটো এড়াতে একটি প্রতিরক্ষামূলক প্যাড বা অন্তর্বাস পরা

    উপসংহার ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়াকে বলা হয় যখন আপনি ২৪ ঘন্টার মধ্যে সাত বারের বেশি প্রস্রাব করেন। কারণগুলি অত্যধিক ক্যাফেইন এবং তরল গ্রহণ থেকে শুরু করে ডায়াবেটিস বা মূত্রনালীর সংক্রমণ পর্যন্ত হতে পারে। সঠিক চিকিৎসা পদ্ধতি গ্রহণ করা গুরুত্বপূর্ণ।