Category: লাইফস্টাইল

লাইফস্টাইল

  • পেঁপে বীজ খাওয়ার আশ্চর্যজনক ৬ স্বাস্থ্য উপকারিতা, রইল খাওয়ার নিয়ম

    পেঁপে বীজ খাওয়ার আশ্চর্যজনক ৬ স্বাস্থ্য উপকারিতা, রইল খাওয়ার নিয়ম

    আধ-পাকা বা পাকা পেঁপে সাধারণত মিষ্টি স্বাদের হয়ে থাকে। এমন উজ্জ্বল কমলা রঙের পেঁপে থাকলে তা না খেয়ে থাকা মুশকিল। গ্রীষ্ম-বর্ষা বা শীত, যে মৌসুমই হোক না কেন, পাকা পেঁপের স্বাদই অন্যরকম হয়ে থাকে। কেউ কেউ আবার খাদ্যতালিকার নিয়মিত অংশ করে ফেলেন এই পেঁপেকে।

    পেঁপের রকমারি উপকারিতার বিষয় সবার জানা থাকায় এটি নিয়মিত খাওয়া হয়। খেয়াল করলে দেখবেন, পেঁপে কাটার সময় এর বীজগুলো ফেলে দেয়া হয়। কিন্তু জানেন কি, এর বীজের স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে। এ ব্যাপারে  একটি প্রতিবেদনে পেঁপে বীজের স্বাস্থ্য উপকারিতা তুলে ধরেছে। সেসব তাহলে জেনে নেয়া যাক-

    পেঁপে বীজ কি সত্যিই স্বাস্থ্যকর:
    স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ বিধি চাওলা বলেন, সাধারণত পেঁপে বীজ ফেলে দেয়া হয় বা উপেক্ষা করা হয়। তবে এসব অত্যন্ত পুষ্টিকর, এতে ফাইবার, স্বাস্থ্যকর চর্বি ও প্রোটিন রয়েছে। পাশাপাশি জিঙ্ক, ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়ামের মতো গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিন ও খনিজ উপাদান রয়েছে। এসব অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে সমৃদ্ধ, বিশেষ করে পলিফেনল ও ফ্ল্যাভোনয়েড, যা স্বাস্থ্যের উন্নতি করতে সহায়তা করতে পারে।

    ১. ওজন কমাতে সহযোগী পেঁপে বীজ:
    আপনি যদি স্বাস্থ্য কমানোর চেষ্টা করেন, তাহলে পেঁপে বীজ খাদ্যতালিকার অংশ করতে পারেন। বীজগুলো খাদ্যতালিকার ফাইবারের একটি সমৃদ্ধ উৎস, যা হজমে সহায়তা করে। এসব পেট ফাঁপা রোধ করে এবং নিয়মিত মলত্যাগের গতি বৃদ্ধি করে পাচনতন্ত্রকে সুষ্ঠুভাবে সচল রাখতে সহায়তা করে। এছাড়া পেঁপের বীজে থাকা ফাইবার আপনাকে দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা বোধ করতে সহায়তা করতে পারে। এতে লোভনীয় খাবার প্রতিরোধ করা ও ক্যালোরি গ্রহণ নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হয়।

    গবেষণায় দেখা গেছে, পেঁপের বীজ খাওয়া হলে ফাইবারযুক্ত খাবার স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখার সঙ্গে সম্পর্কিত। এ জন্য স্বাস্থ্য কমাতে পেঁপের বীজ খাদ্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা বুদ্ধিমানের কাজ।

    ২. অন্ত্রের স্বাস্থ্যে অবদান:
    অন্ত্রের স্বাস্থ্যের কথা উল্লেখ না করে স্বাস্থ্যগত উপকারিতা নিয়ে কিছু বলা যায় না। অন্ত্রে অসংখ্য অণুজীব রয়েছে, যা সামগ্রিক সুস্থতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পেঁপের বীজে কার্পেইন নামক সক্রিয় যৌগ থাকে, যা ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া ও অন্ত্রের কৃমি দূর করার ক্ষমতার জন্য পরিচিত। অন্ত্রের সামগ্রিক উন্নতি করে এবং সুষম মাইক্রোবায়োম তৈরি করে কোষ্ঠ্যকাঠিন্য কমাতে ও হজমের সমস্যা প্রতিরোধে সহায়তা করে এই বীজ।

    ৩. কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ:
    হৃদরোগের স্বাস্থ্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। খাবারের সময় কী খাওয়া হলো, তা কোলেস্টেরলের মাত্রার ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলে। এ ক্ষেত্রে পেঁপের বীজ অত্যন্ত উপকারী। এই বীজ ফাইবার সমৃদ্ধ হওয়ার কারণে খারাপ কোলেস্টেরল (এলডিএল) কমাতে সহায়তা করে এবং ভালো কোলেস্টেরল (এইচডিএল) বজায় রাখতে ভূমিকা রাখে। এছাড়া ওলিক অ্যাসিড সমৃদ্ধ হওয়ায় বীজগুলো লিপিড প্রোফাইলকে ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত করতে পারে, যা শেষ পর্যন্ত হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাস করে। খাদ্যতালিকায় এক টেবিল চামচ পেঁপের বীজ অন্তর্ভুক্ত করা স্বাস্থ্যকর কোলেস্টেরলের মাত্রা বজায় রাখার সহজ কার্যকর উপায় হতে পারে।

    ৪. ক্যানসার প্রতিরোধী:
    প্রচলিত রয়েছে―একটি আপেল ডাক্তারকে দূরে রাখে। তবে ক্যানসার প্রতিরোধের ক্ষেত্রে পেঁপে বীজ শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হতে পারে। এসবে প্রচুর পরিমাণ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে, যা অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের বিরুদ্ধে লড়াই করে, যা কোষের ক্ষতি করতে পারে। জার্নাল অব ক্যানসার মেটাস্ট্যাসিস অ্যান্ড ট্রিটমেন্টে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, পেঁপে বীজের পলিফেনল শরীরকে বিভিন্ন ধরনের ক্যানসার থেকে রক্ষা করতে পারে। তাদের প্রতিরক্ষামূলক বৈশিষ্টগুলো কাজে লাগানোর জন্য পাঁচ থেকে ছয়টি বীজ পিষে খাবারে বা রসে মিশিয়ে খাওয়ার অভ্যাস করুন।

    ৫. প্রাকৃতিকভাবে প্রদাহ প্রশমিত করে:
    দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহে ভুগলে যেমন- আর্থ্রাইটিস, জয়েন্টে ব্যথা বা বাত ব্যথা কিংবা অন্য কোনো প্রদাহজনিত রোগ থাকলে পেঁপে বীজ প্রাকৃতিক প্রতিকার হতে পারে। এই বীজ ভিটামিন সি এবং অন্যান্য প্রদাহবিরোধী যৌগ সমৃদ্ধ। পুষ্টি উপাদানগুলো প্রদাহ কমাতে এবং জয়েন্টের স্বাস্থ্য ভালো করতে কাজ করে। এ জন্য শুধু ওষুধের ওপর নির্ভর না করে খাদ্যতালিকায় পেঁপে বীজ অন্তর্ভুক্ত করলে প্রদাহ রোধে উপকার পেতে পারেন।

     

    ৬. নারীদের মাসিক চক্রের সমস্যায়:
    অনেক নারীদের ক্ষেত্রে মাসিক চক্রের সমস্যা অস্বস্তি ও ব্যথার কারণ হতে পারে। এ সমস্যায় পেঁপের বীজ প্রাকৃতিক সমাধান হতে পারে। পেঁপে বীজ ক্যারোটিনয়েড সমৃদ্ধ, যা ইস্ট্রোজেন উৎপাদনকে প্রভাবিত করতে পারে। ফলে বীজগুলো নারীদের মাসিক চক্র নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে। তবে উপাখ্যানমূলক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব মাসিকের ব্যথা কমাতে পারে। যদিও এ ক্ষেত্রে প্রমাণভিত্তিক পরিপূরক ও বিকল্প চিকিৎসার ওপর অধিকতর বৈজ্ঞানিক গবেষণার প্রয়োজন।

    পেঁপে বীজ খাওয়ার সঠিক উপায়:
    পেঁপে বীজের অসংখ্য উপকারিতা জানা থাকলেও হয়তো ভাবছেন, কীভাবে খাদ্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত করবেন। এটি বহুমুখী বলা যায়। এই বীজ শুকিয়ে পিষে সালাদে ছিটিয়ে দিতে পারেন, চাইলে স্মুদিদে মিশিয়ে দিতে পারেন বা দইয়ের সঙ্গে মিশিয়ে খেতে পারেন। অপ্রত্যাশিত স্বাস্থ্যকর প্রভাবের জন্য সস বা ডিপের সঙ্গে মিশিয়েও খাওয়ার চেষ্টা করতে পারেন। তবে পরিমিত পরিমাণ খেতে হবে, দিনে এক টেবিল চামচ পরিমাণ খাওয়া ভালো। অতিরিক্ত খেলে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা থাকতে পারে।

  • যেসব কারণে শীতে স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে,না জানলেই বিপদ

    যেসব কারণে শীতে স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে,না জানলেই বিপদ

    শীতকাল মানেই লেপ-কম্বলের উষ্ণতা। তবে এ পরিবেশের আড়ালে লুকিয়ে রয়েছে এক নীরব ঘাতক— ব্রেন স্ট্রোক। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, শীতকালে স্ট্রোকের (Brain Stroke) প্রকোপ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। বয়স্ক এবং উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি আরও প্রবল। প্রশ্ন হল, ঠান্ডা আবহাওয়া কেন স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়?

    শীতে স্ট্রোক বাড়ার প্রধান কারণসমূহ

    বিজ্ঞান ও চিকিৎসাবিদ্যার দৃষ্টিকোণ থেকে শীতকালে শরীরের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ার পেছনে বেশ কিছু জোরালো কারণ রয়েছে:

    রক্তনালীর সংকোচন (Vasoconstriction): শীতের ঠান্ডার সঙ্গে মানিয়ে নিতে শরীর তার তাপমাত্রা ধরে রাখার চেষ্টা করে। এর ফলে রক্তনালীগুলো সংকুচিত হয়ে যায়। রক্তনালী সরু হয়ে যাওয়ার কারণে রক্তের প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয় এবং রক্তচাপ (Blood Pressure) দ্রুত বেড়ে যায়। এ অতিরিক্ত রক্তচাপের চাপে মস্তিষ্কের সরু ধমনী ফেটে যেতে পারে অথবা রক্ত জমাট বাঁধতে পারে।

    রক্তের ঘনত্ব বৃদ্ধি: ঠান্ডা আবহাওয়ায় মানুষের রক্ত কিছুটা ঘন বা চটচটে হয়ে যাওয়ার প্রবণতা দেখায়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় রক্তের ‘সান্দ্রতা’ বৃদ্ধি। রক্ত ঘন হয়ে গেলে ধমনীর ভেতরে ক্লট বা চাকা হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়, যা মস্তিষ্কে রক্ত চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়।

    শারীরিক পরিশ্রমের অভাব: শীতকালে অলসতা বা ঠান্ডার কারণে মানুষের শারীরিক পরিশ্রম এবং ব্যায়ামের মাত্রা কমে যায়। এর ফলে শরীরের বিপাকীয় হার কমে এবং রক্তে কোলেস্টেরল ও শর্করার মাত্রা বেড়ে যেতে পারে, যা পরোক্ষভাবে স্ট্রোকের জন্য দায়ী।

    ডিহাইড্রেশন বা পানিশূন্যতা: শীতকালে তৃষ্ণা কম পাওয়ার কারণে অনেকেই পর্যাপ্ত পানি পান করেন না। শরীরে জলের অভাব ঘটলে রক্ত আরও ঘন হয়ে যায় এবং রক্তচাপের ভারসাম্য বিঘ্নিত হয়।

    লবণের ব্যবহার বৃদ্ধি: শীতকালীন বিভিন্ন মুখরোচক খাবারে লবণের ব্যবহার বেশি হয়। অতিরিক্ত সোডিয়াম শরীরে পানি ধরে রাখে এবং রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয়, যা স্ট্রোকের ঝুঁকি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়।

    স্ট্রোকের আগাম লক্ষণ (FAST পদ্ধতি): স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে এর লক্ষণগুলো দ্রুত চেনা জরুরি। চিকিৎসকরা একে FAST পদ্ধতির মাধ্যমে মনে রাখার পরামর্শ দেন:

    F (Face): মুখ একদিকে বেঁকে যাওয়া বা হাসতে গেলে অসামঞ্জস্য দেখা দেওয়া।

    A (Arms): হাত অবশ হয়ে আসা বা হাত উপরে তুলতে সমস্যা হওয়া।

    S (Speech): কথা জড়িয়ে যাওয়া বা স্পষ্ট করে কথা বলতে না পারা।

    T (Time): এই লক্ষণগুলো দেখা মাত্র সময় নষ্ট না করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া।

    স্ট্রোক থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায়

    পর্যাপ্ত উষ্ণতা: শরীরকে সবসময় গরম রাখার চেষ্টা করুন, বিশেষ করে মাথা এবং কান ঢেকে রাখুন।

    রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ: নিয়মিত রক্তচাপ মাপুন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন করুন।

    হালকা ব্যায়াম: ঘরের ভেতরেই নিয়মিত হালকা যোগব্যায়াম বা হাঁটাহাঁটি বজায় রাখুন।

    সঠিক খাদ্যাভ্যাস: অতিরিক্ত লবণ ও চর্বিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন এবং পর্যাপ্ত পানি পান করুন।

    মনে রাখুন

    শীতকাল মানেই কেবল উৎসব নয়, এটি শরীরের প্রতি বাড়তি যত্ন নেওয়ার সময়। সামান্য অসাবধানতা জীবনঘাতী হতে পারে। বিশেষ করে যারা আগে থেকেই উচ্চ রক্তচাপ বা হৃদরোগে ভুগছেন, তাদের জন্য শীতের প্রতিটি দিন সতর্ক থাকা জরুরি।

  • মেয়েদের যে আট ভুলের কারনে হচ্ছে স্তন ক্যান্সার!

    মেয়েদের যে আট ভুলের কারনে হচ্ছে স্তন ক্যান্সার!

    বর্তমানে সারা বিশ্বের মহিলাদের কাছেই স্তন ক্যান্সার একটি আতঙ্কের নাম। আর এর প্রকোপ দিন দিন বেড়েই চলেছে। ইদানীং ক্যানসারের প্রচলিত ওষুধে কাজ হচ্ছে না। প্রচলিত বেশির ভাগ কেমোথেরাপিও এই রোগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না। তাই স্তন ক্যান্সার দিনে দিনে আরও চিন্তা বাড়াচ্ছে চিকিৎসকদের।

    কিন্তু জানেন কি? দৈনন্দিন কিছু অভ্যাসের ভুলে স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি অনেকটাই বেড়ে যায়? আসুন জেনে নেওয়া যাক তেমনই ৮টি খারাপ অভ্যাসের কথা, যেগুলো স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি অনেকটাই বাড়িয়ে দেয়।

    ১। স্তনের আকার অনুযায়ী সঠিক মাপের ব্রা ব্যবহার না করা স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি অনেকটাই বাড়িয়ে দেয়।

    স্তনের আকারের চেয়ে বড় মাপের বক্ষবন্ধনী স্তনের টিস্যুগুলোকে ঠিকমত সাপোর্ট দিতে পারে না আবার অতিরিক্ত ছোট বা টাইট ব্রা স্তনের তরলবাহী লসিকাগুলি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

    ২। সারাক্ষণ ব্রা পরে থাকার কারণে ঘাম হবার অসুবিধে, আর্দ্রতা জমে থাকা, সব মিলে স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি অনেকটাই বাড়িয়ে দেয়। ঘরে থাকার সময় টুকুতে ব্রা ব্যবহার না করার চেষ্টা করুন।

    ৩। প্লাস্টিকের বক্সে খাবার রাখা এবং বিশেষত সেটিতেই ওভেনে গরম করা স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়াতে প্রত্যক্ষ ভূমিকা নিতে পারে। এর চেয়ে কাঁচের পাত্র ব্যবহার করুন। আর প্লাস্টিক ব্যবহার করতে চাইলে তা ফুড গ্রেড কিনা নিশ্চিত হয়ে নিন।

    ৪। ঘামের দূর্গন্ধ এড়াতে ডিওডোরেন্ট ব্যবহার করেন প্রায় সবাই! কিন্তু এই ডিওডোরেন্ট কেনার সময় খেয়াল রাখুন কী কী উপাদান আছে এতে। এলুমিনাম বেসড উপাদান থাকলে তা স্তন ক্যান্সারের ঝুকি অনেকটাই বাড়িয়ে দেয়। ডিওডোরেন্ট যেহেতু আপনি প্রতিদিন ব্যবহার করেন, তাই এ বিষয়ে সতর্ক হওয়া বিশেষ জরুরি।

    ৫। চুল পেকে যাওয়া বা হাল ফ্যাশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে চুলে নানা রঙের ব্যবহার, যেটিই হোক না কেন, দোকান থেকে সস্তার চুলের রং কিনে আনবেন না। এতে চুল তো পড়ে যেতে পারেই, সেই সঙ্গে এতে ব্যবহৃত ক্ষতিকর রাসায়নিকের কারণে হতে পারে স্তন ক্যান্সারও। তাই ভালও ব্র্যান্ডের ভেষজ চুলের রং ব্যবহার করুন।

    আর সবচেয়ে ভাল হয় মেহেন্দি ব্যবহার করতে পারলে। মেহেন্দি একদিকে যেমন চুলের জন্যে ভাল, সেই সঙ্গে এতে কোনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও নেই।

    ৬। ঘরের দূর্গন্ধ দূর করতে এয়ার ফ্রেশনারের ব্যবহার দিন দিন জনপ্রিয় হচ্ছে। কিন্তু এতে থাকা প্যাথালেট নামক প্লাস্টিসাইজিং রাসায়নিক যা সুগন্ধকে দীর্ঘস্থায়ী করতে সাহায্য করে, তার সঙ্গে স্তন ক্যান্সারের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে।

    এর চেয়ে ফুটন্ত জলেতে এক টুকরো দারচিনি ফেলে দিন। এবার দেখুন, ঘরময় কি সুগন্ধই না ছড়াচ্ছে! আলমারির কাপড়চোপড় পোকামাকড়ের হাত থেকে বাঁচাতে নেপথলিন তো আমরা ব্যবহার করেই থাকি। অনেকে আবার বাথরুমের দুর্গন্ধ এড়াতে বেসিনে, সিঙ্কেও নেপথলিন ফেলে রাখেন।

    কিন্তু এটি পুরোটাই ক্ষতিকর কেমিকেল দিয়ে তৈরী, যা কেবল পোকামাকড়কে দূরেই রাখে না, বরং আপনার স্তন ক্যান্সারের ঝুকিও বাড়িয়ে দেয় বহুগুণে। এর চেয়ে নিমপাতা শুকিয়ে কাগজে মুড়িয়ে রেখে দিন। একই উপকার পাবেন।

    রান্নাঘরের সিঙ্ক বা কেবিনেট যে রঙিন তরল ক্লিনার দিয়ে আপনি পরিস্কার করছেন, তাতে থাকা কেমিকেল কেবল আপনার স্তন ক্যান্সারই নয়, মাইগ্রেন ও অ্যালার্জির প্রকোপও বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই কেমিকেলযুক্ত এই ক্লিনার ব্যবহার না করে ভিনেগার বা বেকিং সোডা দিয়ে পরিস্কার করতে পারেন।

  • পায়খানায় এই ৪টি লক্ষণ দেখলেই সতর্ক হোন, হতে পারে কোলোরেক্টাল ক্যান্সার!

    পায়খানায় এই ৪টি লক্ষণ দেখলেই সতর্ক হোন, হতে পারে কোলোরেক্টাল ক্যান্সার!

    কোলোরেক্টাল ক্যান্সার এখন বিশ্বব্যাপী দ্রুত বাড়তে থাকা এক জনস্বাস্থ্য সংকট। শুধু বয়স্ক নয়, তরুণদের মধ্যেও এ রোগের আক্রান্তের হার উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। সমস্যাটি আরও জটিল হয় কারণ শুরুর পর্যায়ে এই ক্যান্সার সাধারণত নিঃশব্দে থাকে, কিংবা এমন কিছু হজমজনিত পরিবর্তন দেখা দেয় যা সহজেই অন্য সাধারণ অসুস্থতার সঙ্গে মিলে যায়। জেএএমএ নেটওয়ার্ক–এ প্রকাশিত গবেষণায় দেখা যায়, কিছু উপসর্গ বিশেষভাবে প্রাথমিক পর্যায়ের কোলোরেক্টাল ক্যান্সারের সঙ্গে সম্পর্কিত।

    নিচে এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংকেত তুলে ধরা হলো, যেগুলো মলের মাধ্যমেই শরীর আগে থেকেই জানান দেয়।

    কেন আগেভাগে শনাক্ত করা এত গুরুত্বপূর্ণ?

    আমেরিকান ক্যান্সার সোসাইটির তথ্যে দেখা যায়, কোলোরেক্টাল ক্যান্সার যদি রোগ ছড়িয়ে পড়ার আগেই ধরা পড়ে, তাহলে ৫ বছরের সার্ভাইভাল রেট প্রায় ৯০ শতাংশ। কিন্তু রোগ ছড়িয়ে পড়লে এ হার কমে দাঁড়ায় আঞ্চলিক পর্যায়ে প্রায় ৭৩ শতাংশ এবং দূরবর্তী অঙ্গ আক্রান্ত হলে মাত্র ১৩ শতাংশে নেমে আসে।

    অর্থাৎ সময়ের আগেই শনাক্ত করতে পারলেই চিকিৎসা সফলতার সম্ভাবনা বহুগুণ বাড়ে এবং সম্পূর্ণ সেরে ওঠার সুযোগও তৈরি হয়।

    মলে দেখা দিলে যেগুলো হতে পারে কোলোরেক্টাল ক্যান্সারের প্রাথমিক সংকেত
    ১. পেন্সিলের মতো সরু বা ফিতা-আকৃতির মল

    হঠাৎ এবং স্থায়ীভাবে মল সরু, ফিতার মতো বা পেন্সিলের মতো পাতলা হয়ে গেলে তা সতর্কতার কারণ। আমেরিকান ক্যান্সার সোসাইটি জানায়, কয়েক দিনের বেশি এমন পরিবর্তন থাকলে তা অন্ত্রের ভেতরে টিউমারের কারণে পথ সংকুচিত হওয়ার ইঙ্গিত হতে পারে। মেও ক্লিনিকের তথ্যমতে, কোলন বা রেকটামের ভেতর দেয়ালে টিউমার বড় হতে থাকলে মলের স্বাভাবিক পথ সঙ্কুচিত হয়, ফলে মল স্বাভাবিক আকৃতি হারায়।

    ২. মলে অতিরিক্ত শ্লেষ্মা

    অন্ত্র স্বাভাবিকভাবেই অল্প পরিমাণ শ্লেষ্মা উৎপন্ন করে যা কোলনের ভেতরকার অংশ লুব্রিকেট করতে সাহায্য করে। কিন্তু মলে চোখে পড়ার মতো পরিমাণে শ্লেষ্মা দেখা গেলে তা অন্ত্রের সমস্যার সংকেত হতে পারে। এনসিবিআই এর মেডিকেল নির্দেশনায় বলা হয়েছে, মলদ্বার দিয়ে রক্তপাত বা অতিরিক্ত শ্লেষ্মা নিঃসরণ হতে থাকলে তা গুরুত্ব দিয়ে পর্যবেক্ষণ করা উচিত।

    ৩. মলে রক্ত

    উজ্জ্বল লাল বা গাঢ় তারের মতো রক্ত উভয়ই কোলোরেক্টাল ক্যান্সারের অন্যতম প্রাথমিক উপসর্গ। গবেষণা বলছে, প্রাথমিক পর্যায়ের ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ রোগীর ক্ষেত্রেই কোনো না কোনোভাবে রেকটাল ব্লিডিং দেখা যায়।

    হেমোরয়েড, অ্যানাল ফিশার বা হজমজনিত সংক্রমণের কারণেও রক্ত দেখা দিতে পারে, তবে রক্তপাত যদি বারবার ঘটে বা অন্য সতর্ক লক্ষণও দেখা দেয়, তবে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

    ৪. দীর্ঘদিনের ডায়রিয়া বা কোষ্ঠকাঠিন্য

    বারবার ডায়রিয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য, বা কখনো ডায়রিয়া আবার কখনো কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো পরিবর্তন কোলোরেক্টাল ক্যান্সারের শুরুতে দেখা দিতে পারে। মোফিট ক্যান্সার সেন্টারের তথ্যমতে, বিশেষ করে ৫০ বছরের বেশি বয়সী ব্যক্তিদের এ ধরনের স্থায়ী মলত্যাগের পরিবর্তনকে আরও গুরুত্বসহকারে দেখা প্রয়োজন।

    যদিও খাদ্যাভ্যাস, সংক্রমণ বা আইবিএস অনেক বেশি সাধারণ কারণ, তবুও উপসর্গ দীর্ঘস্থায়ী হলে কোলোনোস্কোপির মতো পরীক্ষার প্রয়োজন হয়।

    তরুণদের মধ্যেও বাড়ছে কোলন ক্যান্সারের ঝুঁকি

    দ্য লানসেট অনকোলজি–তে প্রকাশিত বড় ধরনের গবেষণায় দেখা গেছে, ২৫ থেকে ৪৯ বছর বয়সী মানুষের মধ্যে ৫০টি দেশের মধ্যে অন্তত ২৭টি দেশে প্রাথমিক পর্যায়ের কোলোরেক্টাল ক্যান্সারের হার বাড়ছে। জীবনযাপনও এই ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে। এমডিপিআই এর গবেষণায় বলা হয়েছে, অল্প বয়সে অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ, অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়া এবং স্থূলতা প্রধান ঝুঁকির কারণ হিসেবে উঠে এসেছে। গবেষকদের আশঙ্কা, খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন, শারীরিক কার্যক্রম কমে যাওয়া এবং মেটাবলিক রোগ বাড়তে থাকলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সচেতনতা, আগেভাগে স্ক্রিনিং এবং জীবনযাপনে পরিবর্তন আনলেই এই ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।

    মলে ছোট ছোট পরিবর্তনও অনেক সময় বড় রোগের বার্তা দেয়। অবহেলা না করে সতর্ক থাকা, নিয়মিত স্বাস্থ্যপরীক্ষা করা এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়াই কোলোরেক্টাল ক্যান্সার প্রতিরোধ ও প্রাথমিক শনাক্তকরণের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।