Category: লাইফস্টাইল

লাইফস্টাইল

  • তরুণদের মলদ্বারে বাসা বাঁধছে কোলোরেক্টাল ক্যান্সার! জেনে নিন ৫ সতর্কবার্তা

    তরুণদের মলদ্বারে বাসা বাঁধছে কোলোরেক্টাল ক্যান্সার! জেনে নিন ৫ সতর্কবার্তা

    সাম্প্রতিক গবেষণা দেখিয়েছে, ৫০ বছরের কম বয়সীদের মধ্যে কোলোরেক্টাল ক্যান্সারের (Colorectal Cancer) হার দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। আগে এটি মূলত মধ্যবয়সী বা বৃদ্ধদের রোগ হিসেবে ধরা হতো। তবে আধুনিক জীবনধারা, অস্বাস্থ্যকর খাবার, কম শারীরিক কার্যকলাপ ও মানসিক চাপ তরুণদেরও ঝুঁকিতে ফেলছে।

    এই ৫ লক্ষণ দেখলে সতর্ক হোন
    1. মলদ্বারে রক্ত বা অস্বাভাবিক পদার্থ দেখা
    রক্তমিশ্রিত মল, কালচে বা পাথুরে পদার্থ দেখা মানে প্রাথমিক সতর্ক সংকেত।

    2. দীর্ঘমেয়াদী পেটের ব্যথা বা ফোলা
    ক্রমাগত পেট ফোলা, খিঁচুনি বা ব্যথা থাকলে গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্টের সঙ্গে পরামর্শ করুন।

    3.হঠাৎ ও অপ্রত্যাশিত ওজন কমা
    খাবার ঠিক মতো খাওয়ার পরও ওজন কমছে? এটি ক্যান্সারের প্রাথমিক উপসর্গ হতে পারে।

    4. পেটের চলাচলে পরিবর্তন
    দীর্ঘমেয়াদি ডায়রিয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য বা মলমুক্তিতে অসামঞ্জস্য দেখা দিলে পরীক্ষা করা উচিত।

    5.ধীরগতিতে ক্লান্তি ও দুর্বলতা
    অকারণ ক্লান্তি, দুর্বলতা বা ঘুমানুরোধী অবস্থা ক্যান্সারের ইঙ্গিত হতে পারে।

    বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
    গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্টরা বলছেন, যদি এই কোনো লক্ষণ দেখা দেয়, তবে ডাক্তারি পরীক্ষা দ্রুত করানো প্রয়োজন। প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা গেলে কোলোরেক্টাল ক্যান্সার সম্পূর্ণভাবে চিকিৎসাযোগ্য।

  • যাদের ঠিক মত বাথরুম হয় না বাঁচতে হলে জেনে রাখুন

    যাদের ঠিক মত বাথরুম হয় না বাঁচতে হলে জেনে রাখুন

    আজকাল প্রায় সব টয়লেটে হাই কমোড ব্যবহৃত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার ক্ষেত্রে হাই কমোডের চেয়ে লো প্যান উপকারী। লো প্যানে যেভাবে বসতে হয়, চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় সেটিকে বলে ‘স্কোয়াটিং পজিশন’ বা আসন করে বসা। মলত্যাগের সময় এভাবে বসা উপকারী। এতে পেটে জমে থাকা মল ভালোভাবে বের হয়ে যায়, পেট থাকে পরিষ্কার। কিন্তু বাড়িতে কোনো টয়লেটেই লো প্যানের ব্যবস্থা না থাকলে কী করা যায়? এ ক্ষেত্রে সমাধান হলো টয়লেট টুল। এই টুল কমোডে বসার সময় পা রাখার জন্য ব্যবহার করা হয়। এ ধরনের টুল আজকাল অনলাইনে কেনা যায়। তবে টয়লেট টুল না পাওয়া গেলে সাধারণ একটি প্লাস্টিকের টুল হতে পারে এর বিকল্প। চাইলে কাঠ দিয়ে বানিয়েও নিতে পারেন। কমোডে বসা অবস্থায় পা দুটি টুলের ওপর রাখলে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যার কিছুটা উন্নতি হতে পারে। বিশেষ করে শিশু, যাদের পা কমোডে বসা অবস্থায় ঝুলে থাকে, তাদের জন্য এই ব্যবস্থা বেশ উপকারী।

    ২. হাঁটুন
    বিশেষজ্ঞরা বলেন, সকালে হাঁটাহাঁটি করলে বিষণ্নতার ঝুঁকি কমে আসে

    বিশেষজ্ঞরা বলেন, সকালে হাঁটাহাঁটি করলে বিষণ্নতার ঝুঁকি কমে আসে। ২০১৯ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, বিষণ্নতার সঙ্গে কোষ্ঠকাঠিন্যের সম্পর্ক আছে। প্রতিদিন ১০ থেকে ২০ মিনিট বাইরে হাঁটাহাঁটি করলে নির্মল বাতাস ও আলো আপনার মস্তিষ্কে পোঁছায়। আপনার শরীরের গতিবিধি মস্তিষ্কও অনুভব করতে পারে। আর এতে বিষণ্নতার মতো মানসিক সংকট কমে যায় অনেকাংশে, যা কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে রাখে কার্যকর ভূমিকা।

    ৩. প্রোবায়োটিক ক্যাপসুল খান

    আজকাল অনেকেই কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে প্রোবায়োটিক ক্যাপসুল খান। হার্ভার্ড হেলথের মতে, যাঁরা কোষ্ঠকাঠিন্যের জন্য দায়ী ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোমে (আইবিএস) ভুগছেন, তাঁদের জন্য প্রোবায়োটিক ক্যাপসুল বিশেষ উপকারী। প্রোবায়োটিক ক্যাপসুলকে তুলনা করা যেতে পারে খুব ঘন টক দইয়ের সঙ্গে। এসব ক্যাপসুল স্বাস্থ্যকর ব্যাকটেরিয়া দিয়ে পরিপূর্ণ, যা আপনার পরিপাকতন্ত্রকে সুস্থ রাখে।

    আজকাল অনেকেই কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে প্রোবায়োটিক ক্যাপসুল খানছবি: পিক্সাবে
    ৪. ম্যাগনেশিয়াম সাপ্লিমেন্ট খান

    ম্যাগনেশিয়াম শুধু হাড়ের জন্যই উপকারী নয়। এটি কোষ্ঠকাঠিন্য সারাতে আপনার পরিপাকতন্ত্রে কাজ করে দারুণভাবে। হেলথলাইনের প্রতিবেদন অনুসারে, ম্যাগনেশিয়াম সাইট্রেট অন্ত্রে পানি টেনে আনে বলে অন্ত্র শিথিল হয়। আর এতে মলত্যাগও হয় সহজ। আরও কিছু ভিটামিন আছে যেগুলো কোষ্ঠকাঠিন্য সারাতে উপকারী, যেমন ভিটামিন সি, ভিটামিন বি৫, ভিটামিন বি১২ ও ভিটামিন বি১।

    জিরা-পানির কী গুণ

    ৫. অপ্রয়োজনীয় কার্বোহাইড্রেট গ্রহণ কমান

    বড় এক প্যাকেট আলুর চিপস আপনার পরিপাকতন্ত্রের ওপর ভীষণ ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। তাই এ ধরনের খাবার না খেয়ে স্বাস্থ্যকর খাবার খান। শাকসবজি, শস্যজাতীয় খাবার, উপকারী মনো ও পলিস্যাচুরেটেড ফ্যাট ইত্যাদি বেশি পরিমাণে গ্রহণ করুন। ওয়েবএমডির মতে, জলপাই তেলে থাকে উপকারী চর্বি। অন্ত্রে এই চর্বির একটি আস্তরণ সৃষ্টি হলে খাদ্য সহজে চলাচল করতে পারে। আর অন্ত্রের মধ্য দিয়ে খাদ্য সহজে চলাচল করা মানেই কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে মুক্তি।

    ৬. কিছুটা সময় দাঁড়িয়ে থাকুন

    আপনাকে হয়তো দিনমান চেয়ারে বসেই কাজ করতে হয়। কিন্তু মাঝেমধ্যে উঠে দাঁড়ান। এই অভ্যাস আপনার পরিপাকতন্ত্রকে ভালো রাখবে, কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে মুক্তি পাবেন। মার্কিন বিজ্ঞানবিষয়ক ম্যাগাজিন স্মিথসোনিয়ানের মতে, কাজের মধ্যে নিয়মিত বিরতিতে উঠে দাঁড়ালে মুটিয়ে যাওয়া, ক্যানসার, রক্তসংবহনতন্ত্রের বিভিন্ন রোগ ও বিপাকের বিভিন্ন সমস্যার আশঙ্কা কমে যায়।

    রোজ সকালে এক গ্লাস ঠান্ডা পানিতে লেবুর রস মিশিয়ে খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়ছবি: পেক্সেলস
    ৭. সকালে লেবু-পানি খান

    রোজ সকালে এক গ্লাস ঠান্ডা পানিতে লেবুর রস মিশিয়ে খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়। ঠান্ডা পানি ও লেবুতে থাকা সাইট্রাস একত্র হয়ে আপনার পরিপাকতন্ত্রের কার্যকারিতা বাড়ায়, কোষ্ঠকাঠিন্য সারিয়ে তোলে। এই পানীয় দিনে দুবার খেতে পারেন, পেটের ভেতরের ‘গাড়িঘোড়া’ দ্রুতগামী হবে এবং ‘যানজট’ও হবে দূর।

    সূত্র: দ্য হেলদি ডটকম

  • ওষুধ ছাড়াই কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণের ৭টি প্রাকৃতিক কৌশল

    ওষুধ ছাড়াই কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণের ৭টি প্রাকৃতিক কৌশল

    হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোক হঠাৎ ঘটে না তার আগে অনেক সময় ধরে শরীরে কোলেস্টেরলের ক্ষুদ্র কিন্তু বিপজ্জনক স্তর জমতে থাকে। আর এই গোপন ঝুঁকি কমানোর জন্য শুধু ওষুধের উপর নির্ভর করা বাধ্যতামূলক নয়। বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিনের খাদ্য ও জীবনযাত্রায় ছোট ছোট পরিবর্তন কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত কার্যকর।
    উচ্চ কোলেস্টেরল এখন বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্য উদ্বেগের এক পরিচিত বিষয়। কোলেস্টেরল শরীরের জন্য প্রয়োজনীয়—সেল তৈরি, হরমোন উৎপাদন এবং ভিটামিন ডি সংশ্লেষণে এটি গুরুত্বপূর্ণ। তবে অতিরিক্ত LDL রক্তনালীতে জমে হার্টের রক্ত প্রবাহ বাধাগ্রস্ত করে বিপদ ডেকে আনে। তাই LDL কমানো এবং ভালো HDL বাড়ানোই মূল লক্ষ্য।
    এখানে ওষুধ ছাড়াই প্রাকৃতিকভাবে কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণের ৭টি কার্যকর উপায় দেওয়া হলো:
    ১. ধনে বীজ
    ধনে বীজ বা তার এক্সট্র্যাক্ট LDL কমাতে এবং HDL বাড়াতে সাহায্য করে। এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট চর্বি প্রক্রিয়াকরণে সহায়ক। সকালে ধনে বীজের পানি পান করা বা রান্নায় ধনে ব্যবহার কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে কার্যকর।
    ২. ফ্ল্যাক্সসিড (আলসের বীজ)
    ফ্ল্যাক্সসিডে থাকা ফাইবার কোলেস্টেরল শোষণ কমায়, আর ALA (ওমেগা-৩) প্রদাহ কমিয়ে হার্টকে সুরক্ষা দেয়। পিষে স্মুদি, সেরিয়াল বা দইতে মেশালে LDL উল্লেখযোগ্যভাবে কমতে পারে।
    ৩. আঙুর বীজ এক্সট্র্যাক্ট
    আঙুর বীজের পলিফেনল রক্তনালীকে সুরক্ষা দেয় এবং কোলেস্টেরলের অক্সিডেশন কমায়। নিয়মিত গ্রহণ করলে LDL কমে এবং ধমনী সুস্থ থাকে। সাপ্লিমেন্ট হিসেবে এটি অনেকের কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সহায়ক।
    ৪. গ্রিন টি (সবুজ চা)
    গ্রিন টিতে থাকা ক্যাটেচিন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট LDL হ্রাসে কার্যকর। প্রতিদিন কয়েক কাপ চিনি ছাড়া গ্রিন টি খেলে মোট কোলেস্টেরল কমে এবং হার্টের ঝুঁকি কমে।
    ৫. দারচিনি
    দারচিনি স্বাদই বাড়ায় না, কোলেস্টেরল ও ট্রাইগ্লিসারাইড কমাতেও সাহায্য করে। দিনে সর্বোচ্চ ২ গ্রাম দারচিনি গ্রহণ LDL কমাতে এবং HDL কিছুটা বাড়াতে সহায়ক।
    ৬. হলুদ (কুরকুমিন)
    হলুদে থাকা কুরকুমিন প্রদাহ কমায় এবং লিভারের কার্যকারিতা বাড়ায়। খাদ্যে নিয়মিত হলুদ ব্যবহার বা কুরকুমিন গ্রহণ LDL ও মোট কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে। তবে সাপ্লিমেন্ট নেওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
    ৭. কাঁচা রসুন
    গবেষণায় দেখা গেছে, দুই মাস নিয়মিত কাঁচা রসুন খেলে মোট কোলেস্টেরল প্রায় ১৭ mg/dL এবং LDL প্রায় ৯ mg/dL কমে। হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকিও কমে। রসুনের কোয়া চেপে কিছুক্ষণ রেখে খেলে উপকারিতা আরও বাড়ে।
    প্রাকৃতিক এই উপায়গুলো বৈজ্ঞানিকভাবে কার্যকর হলেও, কোনো সাপ্লিমেন্ট নেওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। সঠিক জীবনযাত্রা, স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্যাভ্যাস এবং নিয়মিত চিকিৎসার সঙ্গে মিলিয়ে এদের সর্বোচ্চ ফল পাওয়া যায়।

  • যে রক্তের গ্রুপের মানুষদের পাকস্থলীর ক্যান্সারের ঝুঁকি বেশি? গবেষণায় মিলছে সতর্কবার্তা

    যে রক্তের গ্রুপের মানুষদের পাকস্থলীর ক্যান্সারের ঝুঁকি বেশি? গবেষণায় মিলছে সতর্কবার্তা

    রক্তের গ্রুপ সাধারণত আমাদের দৈনন্দিন জীবনে খুব একটা গুরুত্ব পায় না। হাসপাতালের কাগজপত্রে বা রক্তদানের সময় একবার লেখা হয়ে গেলে, অনেকের কাছেই বিষয়টি আর মাথায় থাকে না। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, এই সাধারণ তথ্যের মধ্যেই লুকিয়ে থাকতে পারে বড় স্বাস্থ্যঝুঁকির ইঙ্গিত। বিশেষ করে পাকস্থলীর ক্যান্সারের ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট রক্তের গ্রুপ বারবার গবেষকদের নজরে এসেছে। সেটি হলো রক্তের গ্রুপ ‘এ’।
    এই তথ্য হঠাৎ করে সামনে আসেনি। বিভিন্ন দেশ, বিভিন্ন হাসপাতাল এবং দীর্ঘ সময়ের স্বাস্থ্যতথ্য বিশ্লেষণ করে ধীরে ধীরে এই সম্পর্ক স্পষ্ট হয়েছে। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন জার্নাল ‘নেচার’-এ প্রকাশিত একটি বড় পরিসরের পিয়ার-রিভিউড গবেষণায় দেখা গেছে, রক্তের গ্রুপ এ-এর মানুষদের পাকস্থলীর ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার হার অন্য রক্তের গ্রুপের তুলনায় তুলনামূলকভাবে বেশি, বিশেষ করে রক্তের গ্রুপ ও-এর তুলনায়। গবেষকদের ধারণা, এর পেছনে রয়েছে রক্তের গ্রুপ এ-এর অ্যান্টিজেন পাকস্থলীর ভেতরে দীর্ঘ সময় ধরে যেভাবে আচরণ করে, তার জৈবিক প্রভাব।
    পাকস্থলীর ক্যান্সার সাধারণত একক কোনো কারণে হয় না। খাদ্যাভ্যাস, ধূমপান, সংক্রমণ, পরিবেশগত প্রভাব সবই এতে ভূমিকা রাখে। তবুও গবেষণায় এসব বিষয় সমন্বয় করে বিশ্লেষণ করার পরও দেখা গেছে, রক্তের গ্রুপ এ একটি সূক্ষ্ম কিন্তু ধারাবাহিক ঝুঁকির উপাদান হিসেবে থেকে যাচ্ছে। ঝুঁকিটি হঠাৎ বা অতিমাত্রায় নয়, বরং দীর্ঘ সময় ধরে ধীরে ধীরে কাজ করে। বিজ্ঞানীদের মতে, যখন কোনো সম্পর্ক বারবার প্রমাণিত হয়, তখন সেটিকে কাকতালীয় বলা যায় না।
    অনেকেই জানেন না, রক্তের গ্রুপের অ্যান্টিজেন শুধু রক্তেই সীমাবদ্ধ নয়। পাকস্থলীর কোষের পৃষ্ঠেও এই অ্যান্টিজেন উপস্থিত থাকে। রক্তের গ্রুপ এ-এর ক্ষেত্রে এই অ্যান্টিজেনের গঠন পাকস্থলীর কোষগুলোর আচরণে সামান্য পরিবর্তন আনতে পারে। অ্যাসিডের প্রভাব, জ্বালা বা বারবার ক্ষতির মুখে পড়লে এই কোষগুলোর নিজেকে ঠিক করার প্রক্রিয়ায় সমস্যা দেখা দিতে পারে। বছরের পর বছর ধরে এই ক্ষতি ও মেরামতের চক্র চলতে থাকলে কোষে ত্রুটি জমা হওয়ার আশঙ্কা বাড়ে, যা শেষ পর্যন্ত অনিয়ন্ত্রিত কোষ বৃদ্ধির দিকে ঠেলে দিতে পারে।
    পাকস্থলীর ক্যান্সারের সবচেয়ে শক্তিশালী ঝুঁকিপূর্ণ কারণগুলোর একটি হলো হেলিকোব্যাকটার পাইলোরি সংক্রমণ। বহু মানুষ এই ব্যাকটেরিয়া শরীরে বহন করলেও কোনো উপসর্গ টের পান না। গবেষণায় দেখা গেছে, রক্তের গ্রুপ এ-এর মানুষের পাকস্থলীর কোষে এই ব্যাকটেরিয়া তুলনামূলকভাবে সহজে লেগে থাকতে পারে। ফলে শরীরের পক্ষে সংক্রমণ দূর করা কঠিন হয়ে পড়ে এবং বছরের পর বছর ধরে নিঃশব্দ প্রদাহ চলতে থাকে।
    অন্যদিকে, জনসংখ্যাভিত্তিক গবেষণায় রক্তের গ্রুপ ও-এর মানুষের মধ্যে পাকস্থলীর ক্যান্সারের হার তুলনামূলকভাবে কম দেখা গেছে। পাকস্থলীর কোষে এ বা বি অ্যান্টিজেন না থাকায় ব্যাকটেরিয়ার সংযুক্তি ও প্রদাহের ধরন ভিন্ন হতে পারে বলে গবেষকদের ধারণা। যদিও এটি সম্পূর্ণ সুরক্ষা নিশ্চিত করে না, তবুও ঝুঁকির পার্থক্য ব্যাখ্যা করতে সাহায্য করে।
    তবে চিকিৎসকেরা স্পষ্ট করে বলছেন, রক্তের গ্রুপ কখনোই একা নির্ধারণ করে না কে ক্যান্সারে আক্রান্ত হবেন আর কে হবেন না। রক্তের গ্রুপ এ-এর অনেক মানুষ সারা জীবন কোনো সমস্যা ছাড়াই কাটান, আবার অন্য রক্তের গ্রুপের মানুষও এই রোগে আক্রান্ত হতে পারেন। ধূমপান, অতিরিক্ত লবণযুক্ত খাবার, মদ্যপান, দীর্ঘদিনের অনিরাময়যোগ্য সংক্রমণ এবং পারিবারিক ইতিহাস ঝুঁকির ক্ষেত্রে অনেক বড় ভূমিকা রাখে।
    বিশেষজ্ঞদের মতে, এই তথ্য জানার উদ্দেশ্য আতঙ্ক তৈরি করা নয়। বরং সচেতনতা বাড়ানোই মূল লক্ষ্য। রক্তের গ্রুপ এ-এর মানুষদের জন্য এটি একটি সতর্ক সংকেত হতে পারে, যাতে দীর্ঘদিনের হজমের সমস্যা, পেটব্যথা বা অস্বস্তিকে অবহেলা না করা হয়। সময়মতো হেলিকোব্যাকটার পাইলোরি পরীক্ষা ও চিকিৎসা নিলে ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
    গবেষণার সারকথা হলো, রক্তের গ্রুপ এ-এর সঙ্গে পাকস্থলীর ক্যান্সারের ঝুঁকির একটি ধারাবাহিক সম্পর্ক পাওয়া যাচ্ছে, বিশেষ করে রক্তের গ্রুপ ও-এর তুলনায়। এই সম্পর্কের পেছনে রয়েছে অ্যান্টিজেনের ভূমিকা, দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ এবং সংক্রমণ। রক্তের গ্রুপ ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে না, তবে সঠিকভাবে বোঝা গেলে এটি রোগ প্রতিরোধ ও দ্রুত চিকিৎসার পথে গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক হতে পারে।