Category: এক্সক্লুসিভ সংবাদ

এক্সক্লুসিভ সংবাদ

  • সচিবালয়ের ভেতরে ঢুকে পড়া শিক্ষার্থীদের লাঠিচার্জ

    সচিবালয়ের ভেতরে ঢুকে পড়া শিক্ষার্থীদের লাঠিচার্জ

    শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সি আর আবরার এবং শিক্ষাসচিব সিদ্দিক জোবায়েরের পদত্যাগসহ বেশকিছু দাবিতে সচিবালয়ে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। একপর্যায়ে তারা সচিবালয়ের ভেতরে ঢুকে পড়েন। সচিবালয়ের ভেতর থেকে শিক্ষার্থীদের বের করতে লাঠিচার্জ করেন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর।

    শিক্ষার্থীরা যেন সচিবালয়ে ঢুকতে না পাড়েন, সেজন্য সচিবালয়ে প্রবেশের সবগুলো গেট বন্ধ করে দেওয়ার পাশাপাশি নিরাপত্তা জোরদারে সেনা সদস্যদের মোতায়েন করা হয়। শিক্ষার্থীরা সেসব উপেক্ষা করেই ভেতরে সচিবালয়ের ভেতরে ঢুকে পরে। তবে, তারা পুলিশের কাছ থেকে কোনো বাধার মুখে পরেনি।

    শিক্ষার্থীরা ভেতরে ঢুকে পড়ার কিছু সময় পর আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা লাঠিচার্জ  করে তাদের বের করে দেন। এ সময় অন্তত ১৫ শিক্ষার্থী আহত হন।

    শিক্ষার্থীরা সচিবালয়ের এক নম্বর গেটের সামনে অবস্থান নিয়েছিল। এরই মধ্যে হাইকোর্ট থেকে জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সচিবালয়ের পশ্চিম পাশের সংযোগ সড়কটি বন্ধ আছে।

    আজ মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা কলেজ, সিটি কলেজ, আইডিয়াল কলেজসহ ধানমন্ডি এলাকার পাঁচটি কলেজের শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেন। এ সময় তারা শিক্ষা উপদেষ্টা ও শিক্ষাসচিবের পদত্যাগের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

    ঢাকা সিটি কলেজের শিক্ষার্থী সুদীপ্ত প্রত্যয় সেন দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘আমরা এ বছর এইচএসসি পরীক্ষা দিচ্ছি। গতকাল মাইলস্টোন কলেজে একটি বিমান দুর্ঘটনা ঘটেছে। সেই পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের দাবি ছিল, অন্তত মরদেহের সঠিক হিসাবটা যেন দেওয়া হয়। গতকাল কারো ভাই মারা গেছে, কারো বোন মারা গেছে, এক পরীক্ষার্থীর মা মারা গেছেন। এজন্য আমরা চেয়েছিলাম, অন্তত আজকের পরীক্ষা যেন স্থগিত করা হয়। অথচ আমাদের সেই দাবি তারা প্রথমে মানেননি।’

    তিনি আরও বলেন, ‘পরবর্তীতে যখন বিষয়টি নেট দুনিয়ায় উত্তাল হয়, তখন রাত ৩টার দিতে তারা ঘোষণা দেন—আজকের এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত। আমাদের কথা হলো, তারা সিদ্ধান্তটা আগে নিলেন না কেন। কোন হিসেবে রাত ৩টার দিকে সেটা জানালেন।’

    দ্য ডেইলি স্টারের আলোকচিত্রী পলাশ খান ঘটনাস্থল থেকে জানান, শিক্ষার্থীরা প্রথমে মিছিল নিয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের সামনে এবং এরপর সচিবালের দিকে যান। শিক্ষা ভবনের সামনে তাদের আটকানোর চেষ্টা করা হলে শিক্ষার্থীরা ব্যারিকেড ভেঙে সচিবালয়ের সামনে জড়ো হন।

    শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালিদ মনসুর দ্য ডেইলি স্টারকে নিশ্চিত করেছেন, এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা সচিবালয়ের সামনে বিক্ষোভ করছেন।

    এর আগে শিক্ষা উপদেষ্টা সি আর আবরার ঘোষণা দেন, আগামী ২৪ জুলাই অনুষ্ঠিতব্য এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে এবং এর তারিখ নিয়মিত পরীক্ষা শেষে ঘোষণা করা হবে।

    আজ দুপুরে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসে উপস্থিত হয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলার পর সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান শিক্ষা উপদেষ্টা।

    আজকের এইচএসসি পরীক্ষাও স্থাগিত করা হয়েছিল। রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন কলেজে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় সারা দেশে আজ মঙ্গলবারের নির্ধারিত এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে।

    বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির পক্ষ থেকে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিমান দুর্ঘটনার কারণে কলেজের শিক্ষার্থীদের জান-মালের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জাতীয় শোক দিবস ঘোষণা করা হয়।

    ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. খন্দোকার এহসানুল কবিরের সই করা এই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সরকার জাতীয় শোক দিবস ঘোষণা করায় মঙ্গলবারের অনুষ্ঠিতব্য সকল শিক্ষা বোর্ডের অধীন এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা স্থগিত করা হলো।

    স্থগিত হওয়া পরীক্ষার পরিবর্তিত সময়সূচি পরবর্তীতে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

  • জরুরি অবস্থা প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছায় নয়, লাগবে মন্ত্রিসভার অনুমোদন

    জরুরি অবস্থা প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছায় নয়, লাগবে মন্ত্রিসভার অনুমোদন

    জরুরি অবস্থা প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছায় নয়, লাগবে মন্ত্রিসভার অনুমোদন
    জরুরি অবস্থা যেন আর রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার না হয়, সে লক্ষ্যে নতুন বিধান সংযোজনের বিষয়ে একমতে পৌঁছেছে রাজনৈতিক দলগুলো। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, জরুরি অবস্থা ঘোষণার জন্য মন্ত্রিসভার অনুমোদন লাগবে। 

    রোববার (১৩ জুলাই) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে দ্বিতীয় ধাপের সংলাপের ১২তম দিনে এ বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছায় দলগুলো।

    জরুরি অবস্থা ঘোষণার বিষয়ে সংবিধানের ১৪১ অনুচ্ছেদ সংশোধনের প্রস্তাব করে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। সেখানে বলা হয়েছে, ‘১৪১ এর ‘ক’ এর ‘১’ ধারা মতে রাষ্ট্রপতির নিকট যদি সন্তোষজনকভাবে প্রতীয়মান হয় যে, এমন জরুরি-অবস্থা বিদ্যমান রয়েছে, যা যুদ্ধ বা বহিরাক্রমণ বা অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহের দ্বারা বাংলাদেশ বা উহার যেকোনো অংশের নিরাপত্তার বা অর্থনৈতিক জীবন বিপদের সম্মুখীন, তাহা হলে তিনি অনধিক নব্বই দিনের জন্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করিতে পারবেন। তবে শর্ত থাকে যে, অনুরূপ ঘোষণার বৈধতার জন্য ঘোষণার পূর্বেই মন্ত্রিসভার লিখিত অনুমোদনের প্রয়োজন হবে।’

    বিদ্যমান সংবিধানে ১২০ দিনের কথা বলা আছে। একই সঙ্গে জরুরি অবস্থা ঘোষণার বৈধতার জন্য ঘোষণার পূর্বেই প্রধানমন্ত্রীর প্রতি স্বাক্ষর প্রয়োজন হবে।

    জরুরি অবস্থা নিয়ে গত ৭ ও ১০ জুলাই আলোচনা হয়। তার প্রেক্ষিতে রোববারের আলোচনায় বলা হয়, বিদ্যমান ১৪১ (ক) সংশোধনের সময় অভ্যন্তরীণ গোলযোগের শব্দগুলোর পরিবর্তে রাষ্ট্রীয় স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, রাষ্ট্রীয় অখণ্ডতার প্রতি হুমকি বা মহামারি বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ শব্দগুলো প্রতিস্থাপন হবে। জরুরি অবস্থা ঘোষণার জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি স্বাক্ষরের পরিবর্তে মন্ত্রিসভার অনুমোদনের বিধান যুক্ত করা। ওই সময়ে নাগরিকের দুটো অধিকার অলঙ্ঘনীয় করার লক্ষ্যে সংবিধানের ৪৭ (৩) এর বিধান সাপেক্ষে কোনো নাগরিকের জীবন অধিকার, নির্যাতন ও নিষ্ঠুর, অমানবিক বা মর্যাদাহানিকর আচরণ বা শাস্তি হইতে রক্ষা পাইবার অধিকার খর্ব করা যাবে না।

    সংলাপে জরুরি অবস্থা ঘোষণার জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি স্বাক্ষরের পরিবর্তে মন্ত্রিসভার অনুমোদনের বিধান যুক্ত করা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে দ্বিমত দেখা যায়।

    বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক মন্ত্রিসভার পরিবর্তে সর্বদলীয় বৈঠক হতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রস্তাব করেন। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের আহমদ আবদুল কাদের মন্ত্রিসভার সঙ্গে বিরোধীদলকে যুক্ত করা প্রস্তাব দেন। আলোচনার একপর্যায়ে জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের জরুরি অবস্থা নিয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিরোধীদলীয় নেতা বা নেত্রীর উপস্থিতি নিশ্চিতের প্রস্তাব করেন। যাতে সমর্থন জানান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ। পরে ইসলামী আন্দোলনের প্রেসিডিয়াম সদস্য আশরাফ আলী আকন বিরোধীদলীয় নেতা না থাকলে কে উপস্থিত থাকবেন তা নিয়ে কথা বলেন। তিনি সে সুযোগ রাখার প্রস্তাব করেন। এ সময় প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার জানান, বিরোধীদলীয় উপনেতাও মন্ত্রী পদমর্যাদার।

    সবশেষে সিদ্ধান্ত হয়, জরুরি অবস্থা ঘোষণার জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি স্বাক্ষরের পরিবর্তে মন্ত্রিসভার অনুমোদনের বিধান যুক্ত করা। মন্ত্রিসভার বৈঠকে সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা বা নেত্রী বা তার অনুপস্থিতিতে বিরোধীদলীয় উপনেতা উপস্থিত থাকবেন।

  • সরকার পতন আন্দোলনের ঘোষণা দিল আওয়ামী লীগ!

    সরকার পতন আন্দোলনের ঘোষণা দিল আওয়ামী লীগ!

    জুলাই অভ্যুত্থানে পতনের পরও থেমে নেই আওয়ামী লীগের ষড়যন্ত্র। নানাভাবে দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টায় লিপ্ত দলটি। ফেব্রুয়ারি মাসে হরতাল অবরোধসহ নানা কর্মসূচি দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে তারা। এ ব্যাপারে ১৪ দলসহ বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর সঙ্গে গোপনে আলোচনা চলছে। দেশের বেসরকারি একটি টেলিভিশনকে এসব কথা জানালেন দলটির পলাতক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আফম বাহাউদ্দিন নাসিম।

    গণহত্যার দায় মাথায় নিয়ে বেশিরভাগ নেতা কর্মী পালিয়ে থাকায় সরকারবিরোধী এই কর্মসূচি কীভাবে সফল হবে এমন প্রশ্নের জবাবে জনগণ তাদের সঙ্গে রয়েছে বলে দাবি করেন নাসিম। তবে তাঁর বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাইলে তাতে তিনি অপারগতা জানান।

    জুলাইয়ের ছাত্রজনতার আন্দোলন দমনে ঝাঁপিয়ে পড়ে আওয়ামী লীগের দলীয় ক্যাডার এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অনুগত সদস্যরা। প্রাণ হারান প্রায় দুই হাজার ছাত্রজনতা। আহত হন হাজার হাজার মানুষ। দেড় দশকের সীমাহীন লুটপাট, দুর্নীতি, গুম, খুন আর নানা অপকর্মের পর ছাত্র জনতার অভ্যুত্থানের মুখে গত পাঁচ আগস্ট দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান স্বৈরাচার শেখ হাসিনা। সেই সঙ্গে দলটির বিভিন্ন স্তরের অসংখ্য নেতা কর্মী ভারতসহ বিভিন্ন দেশে পালিয়ে যায়। যারা দেশের ভেতরে আছেন তাদের অনেককে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    এখনো গা ঢাকা দিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন দলটির নেতা কর্মীরা। নিষিদ্ধ করা হয়েছে ছাত্রলীগকে। চৌদ্দ দলের নেতাদেরও নেই কোনো হদিস। এমন বাস্তবতায় আগামী ফেব্রুয়ারিতে দেশব্যাপী হরতাল, অবরোধসহ নানা কর্মসূচি পালনের চিন্তা করছে দলটি।

    এ বিষয়ে বাহাউদ্দিন নাসিম বলেন, আমরা কর্মসূচি তৈরি করেছি, আলাপ আলোচনার জন্য। দল সহ অন্যান্য জেলায় বিভিন্ন স্টেকহোল্ডার আছে। ছাত্র, যুবক, শ্রমজীবী, মেহনতি মানুষ, শ্রেণি পেশা আছে। তাদের সাথে আমাদের এই কমিউনিকেশন হচ্ছে একুশে ফেব্রুয়ারিকে সামনে রেখেই। আগেই আমরা কর্মসূচিগুলো একে একে পালন করি এবং একপর্যায়ে আমরা সর্বাত্মক হরতালের আহ্বান জানাব দেশবাসীকে।

    এ কল দিয়ে বাহাউদ্দিন নাসিম দাবি করেন, আওয়ামী লীগের যুগ ছিল দেশের স্বর্ণযুগ। বর্তমানে দেশের মানুষ অনেক কষ্টে আছে বলে মনে করেন দলটির পলাতক এই নেতা। তবে পালিয়ে থাকা নেতা কর্মীরা কীভাবে আন্দোলন সফল করবে সেই প্রশ্ন ছিল তাঁর কাছে।

    যে কর্মসূচি নিয়ে আসবেন তো মাঠে তো কর্মীদেরকে থাকতে হবে কর্মসূচি বাস্তবায়নে। সেটি কীভাবে করবেন প্রশ্নের জবাবে নাসিব বলেন,জনগণের অংশগ্রহণ থাকবে। জনগণের অংশগ্রহণেই হবে।

    গণঅভ্যুত্থানে ছাত্রজনতার উপর চালানো হত্যাযজ্ঞের সঙ্গে আওয়ামী লীগের সম্পৃক্ততার বিষয়টি নাকচ করে দিয়ে নাসিম আরো বলেন, কীভাবে এদেরকে হত্যা হয়েছে তার জন্য তো তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়েছিল। তো আন্তর্জাতিকভাবে আসার জন্য জাতিসংঘকে আহ্বান জানানো হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা করেছিলেন তাদেরকে সহযোগিতা করার কথা। আসার জন্য সব কাজই তো সম্পন্ন করার পরও। এমনকি বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন করা হয়েছে সেগুলোকে কারা বাদ দিয়েছে? কেন বাদ দেওয়া হয়েছে?

    ক্ষমতাচ্যুত হয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে বলে দম্ভোক্তি করেন এই নেতা। তবে দেশে এসে বিচারের মুখোমুখি হবেন কি না সেই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখনকার যে পরিস্থিতি, এই পরিস্থিতি থেকে উনি ফিরে আসবেন?

    জবাবে নাসিম বলেন, গরিব মানুষের, কর্মজীবী মানুষের, তৃণমূলের, মানুষের, কৃষক স্বার্থ আজকে সংরক্ষিত হচ্ছে। এরাই দেশরত্ন শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের মর্যাদার সাথে ফিরিয়ে নিয়ে যাবে।

    এই মুহূর্তে তিনি দেশে নাকি দেশের বাইরে আছেন জানতে চাইলে এভাবেই তার জবাব দেন।আমরা আত্মগোপনে আছি। সেই পাঁচ তারিখ থেকে শুরু হয়েছে নিধন, হত্যা, গণগ্রেফতার, মিথ্যা মামলা, শত শত মামলা। আমার বিপক্ষে কতগুলো মামলা দেওয়া হয়েছে।

    দেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগ আবারও একদিন ফিরে আসবে বলে দাবি করেন সাবেক এই এমপি।

  • শেখ হাসিনা সহ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না যারা

    শেখ হাসিনা সহ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না যারা

    জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে নতুন শর্ত আরোপের সুপারিশ করেছে নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশন। বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম, গুরুতর দুর্নীতি, অর্থ পাচার বা আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে অভিযোগিত ব্যক্তিরা প্রার্থী হতে পারবেন না। এমনকি এসব ব্যক্তি কোনো রাজনৈতিক দলের সাধারণ সদস্য বা নেতৃত্বে থাকার সুযোগও পাবেন না।

    বুধবার অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে জমা দেওয়া কমিশনের প্রতিবেদনে এই সুপারিশ করা হয়েছে। এতে সংবিধানের ৬৬(২)(ছ) অনুচ্ছেদের অধীনে একটি বিশেষ আইন প্রণয়নের প্রস্তাব করা হয়েছে।

    কাদের জন্য প্রার্থীতা নিষিদ্ধ?
    প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম, অমানবিক নির্যাতন, দুর্নীতি বা মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো অপরাধে অভিযুক্ত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। আদালতে চার্জশিট গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গেই তারা নির্বাচনের জন্য অযোগ্য বিবেচিত হবেন।

    এছাড়া আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত, দুর্নীতি দমন কমিশন বা গুম কমিশন কর্তৃক অভিযুক্ত হলেও তাদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করার বিধান চালুর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

    শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মামলার অবস্থা
    বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে গুম-খুন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলোর জন্য শেখ হাসিনাসহ দলটির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত এবং স্থানীয় আদালতগুলোতে মামলা হয়েছে। এসব মামলার চার্জশিট আদালত গ্রহণ করলেই অভিযুক্তরা নির্বাচনে অযোগ্য হবেন।

    নির্বাচনী সংস্কারের গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব
    নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কারে প্রতিবেদনে আরও উল্লেখযোগ্য কিছু প্রস্তাব তুলে ধরা হয়েছে:

    ‘না’ ভোটের বিধান চালু: কোনো প্রার্থী ৪০% ভোট না পেলে পুনর্নির্বাচনের ব্যবস্থা চালু হবে।
    বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় নিষিদ্ধ: কোনো প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে পারবেন না।
    প্রবাসীদের ভোটাধিকার: অনলাইন ভোটিং এবং পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে প্রবাসীদের ভোট দেওয়ার সুযোগ তৈরি করা।
    একাধিক আসনে প্রার্থীতা বন্ধ: একজন ব্যক্তি একাধিক আসনে প্রার্থী হতে পারবেন না।
    নির্বাচন কমিশনের দায়বদ্ধতা: সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে কমিশনকে শাস্তির আওতায় আনার বিধান।

    ইভিএম বাতিল ও প্রতিরক্ষা বিভাগ অন্তর্ভুক্তি
    ইভিএম ব্যবহারের বিধান বাতিল করে, নির্বাচনকালীন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সংজ্ঞায় প্রতিরক্ষা বিভাগকে অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে।

    দলীয় প্রধান ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা সীমিতকরণ
    একই ব্যক্তি দলীয় প্রধান, প্রধানমন্ত্রী এবং সংসদনেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না। এছাড়া একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ দুইবার প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন।

    উচ্চকক্ষ গঠনের প্রস্তাব
    সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে ১০০ আসনের সংসদের উচ্চকক্ষ গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ভোটের হারের ভিত্তিতে আসন বণ্টন এবং সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

    সংসদ সদস্যদের সুবিধা কমানো
    সংসদ সদস্যদের শুল্কমুক্ত গাড়ি, আবাসন সুবিধা, প্রটোকল এবং ভাতা পর্যালোচনা করে তা কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংসদ সদস্যদের জন্য আচরণবিধি প্রণয়নের সুপারিশও করা হয়েছে।

    সংবাদ সম্মেলনে কমিশনের বক্তব্য
    সংবাদ সম্মেলনে কমিশনের প্রধান ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, “গত কয়েকটি নির্বাচনে যারা নির্বাচনব্যবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করা প্রয়োজন। আমাদের লক্ষ্য ছিল একটি স্বচ্ছ, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং জবাবদিহিমূলক নির্বাচনব্যবস্থা গড়ে তোলা।”

    তিনি আরও বলেন, “ইসির স্বাধীনতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের ক্ষমতায়িত ও দায়বদ্ধ করার বিধান রাখার চেষ্টা করেছি। গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য রাজনৈতিক দলগুলোতে গণতন্ত্র নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।”

    নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের এসব সুপারিশ বাস্তবায়ন হলে নির্বাচনী ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসবে। তবে এসব প্রস্তাব কার্যকর করতে রাজনৈতিক ইচ্ছা ও দৃঢ় পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ।