Author: News Live

  • দুই বেসরকারি কলেজের নাম পরিবর্তন করল সরকার

    দুই বেসরকারি কলেজের নাম পরিবর্তন করল সরকার

    নওগাঁর মান্দা কারিগরি ও কৃষি কলেজ এবং ফরিদপুরের ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশারফ হোসেন কলেজের নাম পরিবর্তনের অনুমতি দিয়েছে সরকার। এ ছাড়া তিনটি কলেজের নাম পরিবর্তনের বিষয়ে মতামত চাওয়া হয়েছে।

    বিজ্ঞাপন
    মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভিন্ন দুটি চিঠিতে এ তথ্য জানা যায়। কলেজের নাম পরিবর্তনের অনুমতির জন্য চিঠি ঢাকা ও রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো হয়েছে।

    আরও পড়ুন

    তারেক রহমানের রাষ্ট্রনায়ক হয়ে ওঠার পথপরিক্রমা
    চিঠিতে বলা হয়েছে, নওগাঁর মান্দা কারিগরি ও কৃষি কলেজের নাম পরিবর্তন করে মান্দা মডেল কলেজ করা হয়েছে। ফরিদপুরের ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশারফ হোসেন কলেজের নাম পরিবর্তন করে ফরিদপুর মহাবিদ্যালয় রাখা হয়েছে।

    বিজ্ঞাপন

    এদিকে নাম পরিবর্তনের বিষয়ে মতামত চাওয়া চিঠিতে বলা হয়েছে, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তনের বিষয়ে পুনরায় যাচাই সাপেক্ষে নামকরণের যৌক্তিকতা উল্লেখ করে মতামত বা সুপারিশ মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগে পাঠাতে বলা হয়। চিঠিটি ঢাকা, যশোর, বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বোর্ডে পাঠানো হয়েছে।

    সাতক্ষীরা বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর মোস্তাক আহমেদ রবি আদর্শ কলেজের নাম পরিবর্তন করে দাঁতভাঙ্গা আদর্শ কলেজ, জনতা বাজার কলেজের নাম পরিবর্তন করে জনতা বাজার শহীদ জিয়াউর রহমান কলেজ ও ভার্সেটাইল মডেল কলেজের নাম পরিবর্তন করে ভিক্টোরিয়া মডেল কলেজ নামকরণের সুপারিশ করা হয়েছে।

     

     

  • হঠাৎ ঢাকার বাসিন্দাদের জন্য বড় দুঃসংবাদ

    হঠাৎ ঢাকার বাসিন্দাদের জন্য বড় দুঃসংবাদ

    জলবায়ু পরিবর্তনসহ বিভিন্ন কারণে বিশ্বব্যাপী বাড়ছে বায়ুদূষণ। প্রতিদিনই একটু একটু করে বাসযোগ্যতা হারাচ্ছে মেগাসিটিগুলো। আর এ তালিকায় সামনের দিকের এক নাম ঢাকা। বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার বায়ুমান উদ্বেগ ছড়াচ্ছে বেশ কয়েক বছর ধরেই। মাঝে একটু নিয়ন্ত্রণে এলেও শহরটিতে আবারও ভয়াবহ আকার ধারণ করছে বায়ুদূষণ।

    এই ধারাবাহিকতায় আজ শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) ‘বিপর্যয়কর’ অবস্থায় চলে গেছে ঢাকার বাতাস। এদিন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শহরটির এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) স্কোর দেখা গেছে ৩২২।

    একই সময়ে ঢাকা থেকে বায়ুদূষণে ওপরে ছিল শুধুমাত্র পাকিস্তানের লাহোর। বিশ্বের দূষিত বাতাসের শহরের তালিকায় প্রথম স্থানে অবস্থান করা শহরটির স্কোর ৪০৪।

    আরও পড়ুনঃ  NID Correction Activities Resume After Suspension

    এদিকে, তালিকার তৃতীয় অবস্থানে থাকা ভারতের কলকাতার একিউআই স্কোর ২১২। তালিকার চতুর্থ স্থানে আছে ভারতেরই আরেক শহর দিল্লি; বায়ুমান স্কোর ২০৮। এছাড়া, ১৬৯ স্কোর নিয়ে পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে কাতারের দোহার। স্কোরের বিচারে এই তিন শহরের বায়ুমান খুব অস্বাস্থ্যকর।

    একটি শহরের বাতাস কতটা নির্মল বা দূষিত, তার লাইভ বা তাৎক্ষণিক সূচক জানিয়ে থাকে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আইকিউ এয়ার। প্রতিষ্ঠানটির মানদণ্ড অনুযায়ী, স্কোর শূন্য থেকে ৫০-এর মধ্যে থাকলে বায়ুর মান ভালো বলে বিবেচিত হয়।

    আর একিউআই স্কোর ৫১ থেকে ১০০ হলে সেটাকে মাঝারি হিসেবে গণ্য করা হয়। সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর হিসেবে বিবেচিত হয় ১০১ থেকে ১৫০ স্কোর। স্কোর ১৫১ থেকে ২০০ হলে তাকে ‘অস্বাস্থ্যকর’ বায়ু বলে মনে করা হয়।

    আরও পড়ুনঃ  Good News for Bangladesh from ICC

    ২০১ থেকে ৩০০-এর মধ্যে থাকা একিউআই স্কোরকে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ বলা হয়। এ অবস্থায় শিশু, প্রবীণ এবং অসুস্থ রোগীদের বাড়ির ভেতরে এবং অন্যদের বাড়ির বাইরের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখার পরামর্শ দেয়া হয়ে থাকে। এ ছাড়া ৩০১ থেকে ৪০০-এর মধ্যে থাকা একিউআই ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ বলে বিবেচিত হয়, যা নগরের বাসিন্দাদের জন্য গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে।

    ঢাকার বর্তমান একিউআই স্কোর ৩২২ হওয়ায় নগরবাসীর জন্য তা চরম অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে ভোরে যারা প্রাতঃভ্রমণে বের হন অথবা কর্মস্থলে যাওয়ার জন্য রাস্তায় নামেন, তাঁদের শ্বাসপ্রশ্বাসের মাধ্যমে বিষাক্ত ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কণা ফুসফুসে প্রবেশের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

    আরও পড়ুনঃ  যে ৩ কেন্দ্রে হেরে গেলেন তারেক রহমান

    পরিবেশবিদরা বলছেন, শুষ্ক মৌসুমে নির্মাণকাজের ধুলোবালি, যানবাহনের কালো ধোঁয়া এবং চারপাশের ইটভাটার দূষণ ঢাকার বাতাসকে এমন বিষাক্ত করে তুলছে। বর্তমানের এই ‘বিপর্যয়কর’ পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাড়ির বাইরে মাস্ক ব্যবহারের কোনো বিকল্প নেই। শহরের বায়ুমান উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হলে সামনের দিনগুলোতে দূষণের এই রেকর্ড আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

  • ফ্যামিলি কার্ড কী, কীভাবে পাবেন; আবেদন করতে যা যা লাগবে

    ফ্যামিলি কার্ড কী, কীভাবে পাবেন; আবেদন করতে যা যা লাগবে

    ফ্যামিলি কার্ড কি? ফ্যামিলি কার্ড হলো বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের একটি যুগান্তকারী সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি। এর মাধ্যমে দেশের বেকার, দরিদ্র ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোকে সরাসরি আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে। ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এই কার্ডের সম্পূর্ণ আর্থিক ভাতার পরিমাণ প্রচলিত অন্যান্য ভাতার চেয়ে অন্তত দ্বিগুণ হবে এবং এই টাকা সরাসরি পরিবারের গৃহকর্ত্রীর (নারী) হাতে তুলে দেওয়া হবে। আগামী ঈদের আগেই পাইলট প্রকল্প হিসেবে এর বাস্তবায়ন শুরু হচ্ছে।

    আপনি যদি এই নতুন ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা, আবেদন প্রক্রিয়া এবং আজকের সর্বশেষ আপডেট সম্পর্কে সঠিক তথ্য খুঁজছেন, তবে নিচের গাইডলাইনটি আপনার জন্য।

    ফ্যামিলি কার্ড: নতুন সরকারের এই উদ্যোগটি আসলে কী?

    ফ্যামিলি কার্ড বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান একটি নির্বাচনী ওয়াদা ছিল, যা এখন বাস্তবায়নের পথে। সমাজকল্যাণমন্ত্রী জেডএম জাহিদ হোসেনের দেওয়া তথ্যমতে, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় মিলে একটি উপকমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি আগামী মঙ্গলবারের মধ্যে তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেবে, যেখানে ভাতার সুনির্দিষ্ট পরিমাণ উল্লেখ থাকবে। সরকার আগামী ৩ থেকে ৬ মাসের মধ্যে দেশের ৫০ শতাংশের বেশি যোগ্য পরিবারকে এই কার্ডের আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।

    ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা

    নতুন এই ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে দেশের প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন। এর প্রধান সুবিধাগুলো হলো:

    ভাতার পরিমাণ দ্বিগুণ: বর্তমানে প্রচলিত বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা বা অন্যান্য ভাতার তুলনায় এই কার্ডের আর্থিক সহায়তার পরিমাণ অন্তত দ্বিগুণ হবে।

    নারীর ক্ষমতায়ন: কার্ডের অর্থ সরাসরি পরিবারের নারী বা গৃহকর্ত্রীর কাছে পৌঁছাবে। এতে নারীদের আর্থিক স্বাধীনতা ও সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে।

    দ্রুত বাস্তবায়ন: দীর্ঘসূত্রিতা এড়াতে আগামী ঈদের আগেই পাইলট প্রকল্প আকারে কয়েকটি নির্দিষ্ট এলাকায় এর কার্যক্রম শুরু হচ্ছে।

    পারিবারিক নিরাপত্তা: বেকার বা আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া পরিবারগুলো এই নিয়মিত ভাতার মাধ্যমে তাদের দৈনন্দিন মৌলিক চাহিদা সহজেই পূরণ করতে পারবে।

    কিলিয়ান এমবাপে: বয়স, ধর্ম, বেতন এবং ক্যারিয়ার

    ফ্যামিলি কার্ড কিভাবে পাবো এবং ফ্যামিলি কার্ড করার নিয়ম

    অনেকেরই প্রধান প্রশ্ন হলো, নতুন এই ফ্যামিলি কার্ড কিভাবে পাবো বা এর ফ্যামিলি কার্ড করার নিয়ম কী হবে? যেহেতু এটি একেবারে নতুন একটি উদ্যোগ, তাই এর আবেদন প্রক্রিয়া ধাপে ধাপে সম্পন্ন হবে:

    উপকমিটির চূড়ান্ত রূপরেখা: আগামী মঙ্গলবার সরকারের উপকমিটি তাদের প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর আবেদন প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত নীতিমালা প্রকাশ করা হবে।

    পাইলট প্রকল্প ও তালিকাভুক্তি: ঈদের আগে পাইলট প্রজেক্ট শুরু হলে, স্থানীয় প্রশাসন (যেমন: উপজেলা নির্বাহী অফিস) ও জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে প্রকৃত অভাবগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করা হবে।
    এলাকাভিত্তিক সম্প্রসারণ : পাইলট প্রকল্প সফল হওয়ার পর, মাদারীপুরের শিবচরসহ দেশের প্রতিটি উপজেলা, ইউনিয়ন এবং ওয়ার্ড পর্যায়ে এর কার্যক্রম ধাপে ধাপে সম্প্রসারিত হবে। আপনার এলাকার মেম্বার বা কাউন্সিলরের কার্যালয় থেকে তখন সরাসরি ফর্ম সংগ্রহ করা যাবে।

    ফ্যামিলি কার্ডের আবেদন ও ফ্যামিলি কার্ড অনলাইন প্রক্রিয়া

    ডিজিটাল বাংলাদেশের ধারাবাহিকতায় এই কার্ডের আবেদন প্রক্রিয়াটিকে সহজ ও দুর্নীতিমুক্ত করতে সরকার ফ্যামিলি কার্ড অনলাইন পোর্টাল চালুর পরিকল্পনা করছে।

    অনলাইন ডেটাবেস: যোগ্য পরিবারগুলোর জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) ব্যবহার করে অনলাইনে ডেটাবেস তৈরি করা হবে, যাতে কেউ দ্বৈত সুবিধা নিতে না পারে।

    আবেদন প্রক্রিয়া: সরকার যখনই ডেডিকেটেড ওয়েবসাইট বা অ্যাপ উন্মুক্ত করবে, তখন ঘরে বসেই স্মার্টফোনের মাধ্যমে ফ্যামিলি কার্ডের আবেদন করা সম্ভব হবে। আপাতত স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ বা পৌরসভা কার্যালয়ে যোগাযোগ রাখাই সবচেয়ে উত্তম মাধ্যম।

    সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর

    ১. ফ্যামিলি কার্ড কি?

    ফ্যামিলি কার্ড হলো বর্তমান সরকারের একটি বিশেষ উদ্যোগ, যার মাধ্যমে দেশের দরিদ্র ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর নারীদের (গৃহকর্ত্রী) সরাসরি মাসিক আর্থিক ভাতা প্রদান করা হবে।

    ২. ফ্যামিলি কার্ড তারেক রহমান সরকারের কবে থেকে চালু হবে?

    সচিবালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আগামী ঈদের আগেই পাইলট প্রকল্প হিসেবে এর কার্যক্রম শুরু করার কড়া নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

    ৩. ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা কে পাবেন?

    পরিবারের প্রধান হিসেবে গৃহকর্ত্রী বা নারীরা এই সুবিধা পাবেন। মূলত দরিদ্র, বেকার এবং আর্থিক সহায়তার প্রয়োজন এমন পরিবারগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

    ৪. ফ্যামিলি কার্ড অনলাইন আবেদন কি শুরু হয়েছে?

    এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মুক্ত পোর্টাল চালু হয়নি। আগামী মঙ্গলবারের পর সরকারের চূড়ান্ত রূপরেখা প্রকাশ পেলে অনলাইন বা অফলাইন আবেদনের সুনির্দিষ্ট নিয়ম জানা যাবে।

    ৫. ফ্যামিলি কার্ডের ভাতার পরিমাণ কত হবে?

    সুনির্দিষ্ট অংক এখনো ঘোষণা করা না হলেও, সমাজকল্যাণমন্ত্রী জানিয়েছেন এই ভাতার পরিমাণ বর্তমানে প্রচলিত যেকোনো ভাতার চেয়ে অন্তত দ্বিগুণ হবে।

    শেষকথা
    ফ্যামিলি কার্ড দেশের সাধারণ ও খেটে খাওয়া মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হতে যাচ্ছে। বিশেষ করে পরিবারের নারীদের হাতে সরাসরি অর্থ পৌঁছালে তা পুরো পরিবারের পুষ্টি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। নতুন নিয়মাবলি ও অনলাইন আবেদনের লিংক প্রকাশ হওয়া মাত্রই আমরা এই আর্টিকেলটি আপডেট করে দেব। তাই সঠিক তথ্যের জন্য নিয়মিত খোঁজ রাখুন।

  • ‘ফ্যামিলি কার্ডে’ পাওয়া যাবে নগদ টাকা, প্রথমে পাবেন যারা

    ‘ফ্যামিলি কার্ডে’ পাওয়া যাবে নগদ টাকা, প্রথমে পাবেন যারা

    দেশে পাঁচ কোটি পরিবারকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নবনির্বাচিত বিএনপি সরকার। বৃহস্পতিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে এক আন্ত মন্ত্রণালয় সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠকের পর এ তথ্য জানান তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দীন স্বপন।

    বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান নির্বাচনের আগে ‘মানবিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র’ বিনির্মাণের প্রতিশ্রুতিতে ৯টি বিষয়ে অগ্রাধিকার দিয়ে ইশতেহার দেন।

    সেখানে অন্যতম ছিল ‘ফ্যামিলি কার্ড’।

    সে সময় বিএনপির তরফ থেকে জানানো হয়, প্রান্তিক ও নিম্নআয়ের পরিবারকে সুরক্ষা দিতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করা হবে। এর মাধ্যমে প্রতি মাসে ২৫০০ টাকা অথবা সমমূল্যের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। অর্থ ও পণ্য-সেবার পরিমাণ পর্যায়ক্রমে বাড়ানো হবে বলেও জানানো হয়।

    সভায় কৃষিমিন্ত্রী আমিন উর রশিদ বলেন, ‘এখন পর্যন্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে ফ্যামিলি কার্ড হিসেবে নগদ টাকা দেওয়া হবে। এটি পাওয়ার ক্ষেত্রে হতদরিদ্র এবং নারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।’

    ধাপে ধাপে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে জানিয়ে পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু জানান, ঈদের আগেই পাইলট প্রকল্প হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড চালু হবে। হতদরিদ্র পরিবার সবার আগে ফ্যামিলি কার্ড পাবে।

    এরপর দরিদ্র পরিবার পাবে।

    তিনি আরো জানান, নির্বাচনী ইশতেহারে ফ্যামিলি কার্ডের ইস্যু নিয়ে বিস্তারিত উল্লেখ আছে। এটা কার্যকর কিভাবে করবে, সেটা নিয়ে আজ আলোচনা হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে, এটা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

    এদিকে, বিএনপি সরকারের ১৮০ দিনের কর্মসূচির মধ্যেও প্রত্যেক পরিবারকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেওয়ার বিষয়টি রয়েছে।

    সবচেয়ে আগে এতে হতদরিদ্ররা অন্তর্ভুক্ত হবেন।

    জানা গেছে, ইতিমধ্যে ১৫ সদস্যের ‘ফ্যামিলি কার্ড প্রদানসংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি’ গঠিত হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রজ্ঞাপনে এই কমিটি গঠনের কথা জানানো হয়। কমিটি ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নের একটি উপযুক্ত ডিজাইন ও সুবিধাভোগী নির্বাচন পদ্ধতি প্রণয়ন করবে।

    এ কমিটির কাজের মধ্যে আরো আছে প্রাথমিক পর্যায়ে দেশের আটটি বিভাগের প্রতিটিতে একটি উপজেলায় ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর ব্যবস্থা, নারীদের জন্য বিদ্যমান অন্য কোনো কর্মসূচিকে ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করা যায় কি না পর্যালোচনা, সুবিধাভোগীদের তথ্যভাণ্ডার প্রণয়নের লক্ষ্যে জাতীয় পরিচয়পত্র ও জাতীয় খানার তথ্যভাণ্ডার আন্ত যোগাযোগ স্থাপনের ডিজিটাল এমআইএস প্রণয়নের সুপারিশ এবং আসন্ন ঈদুল ফিতরের আগে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ করার লক্ষ্যে আগামী মঙ্গলবারের (২৪ ফেব্রুয়ারি) মধ্যে প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রণয়ন করা।

    সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়কমন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন জানান, রাজনৈতিক বিবেচনায় এই ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রদান করা হবে না। ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের ক্ষেত্রে কোনো মধ্যস্বত্বভোগীও থাকবে না। এই কার্ড সরাসরি পরিবারের নারী সদস্যদের কাছে পৌঁছে যাবে। এটি দেওয়া হলেও চলমান ভাতাগুলো অব্যাহত থাকবে।

    ‘ফ্যামিলি কার্ড প্রদানসংক্রান্ত মন্ত্রিসভা’ কমিটিতে অর্থমন্ত্রীকে সভাপতি করা হয়েছে। এর অন্য সদস্যরা হলেন মহিলা ও শিশু এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী, মহিলা ও শিশু এবং সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা মাহদী আমিন ও রেহান আসিফ আসাদ, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সচিব, অর্থ বিভাগের সচিব, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগের সচিব, স্থানীয় সরকার সচিব, পরিকল্পনা সচিব ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব।