হঠাৎ প্রস্রাবে ফেনা লক্ষ করলে কী করা উচিত? কেন হয় এমনটা? তাহলে কি অজান্তেই শরীরে বাসা বাঁধছে কোনও মারণ রোগ? কী বলছেন চিকিৎসক প্রতিম সেনগুপ্ত?
Forthy Urine: প্রস্রাব করলে বেশি ফেনা হচ্ছে? সাবধান, বড় বিপদের ইঙ্গিত হতে পারে
ধরুন আপনি সকালে ঘুম থেকে উঠে বাথরুমে গিয়েছেন। সেখানে গিয়ে টয়লেট করতে গিয়ে হয়তো দেখলেন একঝাঁক সাবানের ফেনার মতো সৃষ্টি হয়েছে। দিনের অন্য কোনও সময়েও এমনটা হতে পারে। এই রকম কিছু দেখলে স্বাভাবিক ভাবেই ভয় পেয়ে যান অনেকে। কেউ আবার বিষয়টিকে পাত্তাই দেন না। কেন হয় এমনটা? তাহলে কি অজান্তেই শরীরে বাসা বাঁধছে কোনও মারণ রোগ? হঠাৎ প্রস্রাবে ফেনা লক্ষ করলে কী করা উচিত? সব কিছু নিয়ে নিজের ইউটিউব চ্যানেলে বিস্তারিত জানিয়েছেন চিকিৎসক প্রতিম সেনগুপ্ত। কী বলছেন তিনি?
প্রতিম সেনগুপ্ত জানান, ইউরিন আমাদের শরীরের একটি সাধারণ বায়োলজিক্যাল প্রোডাক্ট। এর মধ্যে দিয়ে শরীরের বহু মেটাবলিক বর্জ্য পদার্থ বেরিয়ে যায়।
এই বর্জ্য পদার্থের মধ্যে নানা ধরনের উপাদান থাকে। যেমন – ইলেক্ট্রলাইটস, প্রোটিন ইত্যাদি। প্রতিম বাবু বলেন, “ইউরিনের সঙ্গে প্রোটিন বেরোনোর একটা নির্দিষ্ট মাপ রয়েছে। কিন্ত যদি দেখা যায় ইউরিন করার সময় অনেকটা ফেনা হচ্ছে এবং সেটা দীর্ঘক্ষণ থাকছে তাহলে বুঝতে হবে ইউরিনের মান এবং পরিমাপে সমস্যা রয়েছে।”
কেন ফেনা হয় প্রস্রাবে?
প্রস্রাবের মধ্যে থাকা নানা ধরনের উপাদান ফেনা উৎপাদনের জন্য দায়ী। সেই সব উপাদানের মধ্যে আছে প্রোটিন, ফসফেট, ইউরেট। প্রতিম বাবু বলেন, “যখন দেখা যায় এই রকম ফেনা হচ্ছে, হতে পারে কিডনির যতটা প্রোটিন ফিল্টার করা প্রয়োজন ছিল, তার থেকেও বেশি প্রোটিন ফিল্টার করছে। যত বেশি ফেনা হবে তার মানে তত বেশি প্রোটিন নির্গত হচ্ছে।”
কী হয় এর ফলে?
কিডনি ঠিক করে কাজ করছে না, এটা তারই পূর্ব লক্ষণ। প্রতিম বাবু জানান, ইউরিন বা ক্রিয়েটেনিন বাড়ার অনেক আগে আমাদের শরীরে প্রোটিন লিকেজ শুরু হয়।
কী করবেন?
এমন কিছু ঘটলে প্রথমে একজন নেফ্রোলজিস্টের পরামর্শ নিন। ফেনা হওয়ার আসল কারণ জানাটা সবার প্রথম জরুরি। হতে পারে প্রোটিন লিক ছাড়া অন্য কোনও কারণে ফেনা হচ্ছে। কিছু টেস্ট করে আগে সেটা দেখা প্রয়োজন। প্রতিম বাবু বলেন, “যদি দেখা যায় প্রোটিনের পরিমাণ প্রস্রাবে ঠিক আছে, কিন্তু ফেনা হচ্ছে তাহলে খুব একটা চিন্তার কারণ নেই। যদি রিপোর্টে দেখা যায় মাত্রাতরিক্ত প্রোটিন নির্গত হচ্ছে তাহলে ভাবতে হবে।”
কেন প্রস্রাবের সঙ্গে প্রোটিন নির্গত হয়?
প্রস্রাবের সঙ্গে প্রোটিন নির্গত হওয়ার অনেকগুলি কারণ থাকতে পারে।
১। গ্লোমেরুলার ডিজিজ – গ্লোমেরুলার অসুখ বা অন্য কোনও কারণে গ্লোমেরুলার ইমপ্যাক্টের কারণে হতে পারে। গ্লোমেরুলাইটিস যদি হয় তাহলে তা গ্লোমেরুলাস বা কিডনির ঝিল্লির উপরে প্রভাব ফেলে। তখন স্বাভাবিক ভাবেই সঠিক ভাবে ফিল্টারেশন হওয়া শক্ত হয়ে পড়ে।
২। হাইপার টেনশনের কারণে প্রোটিন লিকেজ হতে পারে।
৩। যদি ডায়াবেটিসের সমস্যা থাকে তাহলেও এই সমস্যা দেখা যায়। সেক্ষেত্রে সুগার কমানোর ব্যবস্থা করতে হবে। ভারতে মূলত এই সমস্যাটি সবচেয়ে বেশি।
প্রতিদিনের জীবনে কী পরিবর্তন আনতে হবে?
কেবল ওষুধ খেলেই হবে না। তার সঙ্গে নিজের জীবনধারার দিকেও নজর দিতে হবে।
১। বিশেষ করে মাথায় রাখতে হবে ঘুম ভালো হচ্ছে কিনা। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে, সিমপ্যাথেটিক এবং প্যারাসিমপ্যাথেটিক নার্ভাস সিস্টেমের সামঞ্জস্য তৈরিতে একটা সমস্যা হয়। এতে কিডনির ঝিল্লিতে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয় ফলে, প্রোটিন লিকেজ বেড়ে যায়। অন্তত ৮ ঘন্টা ঘুমোতেই হবে।
২। ব্লাড প্রেশারকে নিয়ন্ত্রণে রাখতেই হবে। নাহলে প্রোটিন লিকেজ বন্ধ হবে না।
৩। যদি নুন খুব বেশি পরিমাণে খান, তাহলে এটা গ্লোমেরুলা টক্সিক প্রোটিন লিকেজ বাড়িয়ে দেয়। এই অভ্যাস শরীরে জল শোষণ বাড়িয়ে দেয় ফলে হাত-পা ফুলে যাওয়া থেকে শুরু করে কিডনির ক্ষতি হয়।
সুতরাং, মনে রাখবেন ইউরিনে ফেনা হওয়াটা কিন্তু ভালো লক্ষণ নয়। তাই এমন কিছু হলে অবহেলা করবেন না। চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। নাহলে অচিরেই নিজের আরও বড় বিপদ ডেকে আনতে পারেন।
থাকবে একটা গোটা ইউনিট। কিন্তু, ডায়েরিটা খুলেই চোখ কপালে উঠে গিয়েছিল এক পুলিশ কর্তার। সেখানে পাতার পর পাতায় তালিকার মতো করে লেখা বিভিন্ন চরিত্রের নাম। যেমন অফিসের বস-সেক্রেটারি, জামাই-শাশুড়ি, শালি-জামাইবাবু, হানিমুন কাপল। আর চরিত্রের নীচে সে সম্পর্কে অল্প কয়েকটি শব্দে ছোট করে নোট। দেখে বোঝার উপায় নেই, সেগুলি আসলে এক একটা স্ক্রিপ্ট।
ডায়েরি লেখক এক জন চলচ্চিত্র পরিচালক। পুলিশ কর্মকর্তার প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, তাঁরই নির্দেশনায় ওই স্ক্রিপ্ট থেকে শুটিং চলছিল।
কোথায় চলছিল শুটিং? কলকাতার সল্টলেকে। অতি পরিচিত এক বিয়েবাড়ি ভাড়া করে।
বাড়ির মালিক-সহ গোটা টিমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। কারণ, যে সে ছবি নয় ওঁরা পর্ন ছবির শুটিং করছিলেন।
সল্টলেকে নীল ছবি? অবাক হবেন না।
শুধু সল্টলেক নয়, কলকাতা শহরের বিভিন্ন জায়গাতে এমন ছবির শুটিং হওয়াটা নাকি নিয়মিত ঘটনা।
শুধু কলকাতা নয়, রাজ্যের বেশ কিছু জায়গাতেই হয় এমন শুটিং। পুলিশ কর্তাদের একাংশের এমনই দাবি।
কেমন ভাবে তৈরি হয় পর্ন ছবি?
আর পাঁচটা ছবির মতো করেই তৈরি হয় পর্ণ চিত্র। শুরুটা হয় লোকেশন নির্বাচনের কাজ দিয়ে।
কোনও বাড়িতে বা রিসর্টে এর মূল কাজটা হয়। কাজ শুরুর আগে পরিচালক গোটা এলাকাটা রেকি করে আসেন।
যেখানে শুটিং হবে, তার আশপাশের বাড়ি-ঘরদোর এমনকী মানুষ জনের কাজের ধরণও জরিপের মধ্যেই পড়ে।
খুব শব্দপ্রবণ এলাকায় শুটিং করা চাপের হয়। কারণ, রেকর্ডিং-এর সময় ‘অবাঞ্ছিত’ আওয়াজ শিল্পীদের, মূলত অভিনেতা-অভিনেত্রীদের মনোসংযোগে ব্যাঘাত ঘটায়।
পাশাপাশি প্রতিবেশীরা যদি শুটিং-এর ব্যাপারে খুব উত্সাহী হয়ে পড়েন তবে মূল কাজটিই তো হবে না।
সুতরাং অতি ব্যস্ত অথবা এক্কেবারে নির্জন এলাকার বাড়ি-রিসোর্ট নির্বাচন হয়। সল্টলেক সব দিক থেকেই নিরাপদ।
শুধু সল্টলেক নয়, রাজারহাট, নিউটাউনের পাশাপাশি কলকাতারও কিছু এলাকা নীল ছবির ইউনিটের কাছে প্রিয় তার স্বভাবের কারণেই।
অভিনেতা-অভিনেত্রীরা কোথা থেকে আসেন?
অনেকেরই ধারণা, এই ছবিতে যারা কাজ করেন তাঁরা পেশায় যৌ*ন কর্মী। কিন্তু, এটা বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই সত্যি নয়।
পুলিশ সূত্র জানাচ্ছে, কলকাতার বিভিন্ন জায়গায় যারা নীল ছবিতে কাজ করেন তাঁদের সকলেরই অন্য পেশা রয়েছে।
গৃহবধূ থেকে কলেজ পড়ুয়া, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট থেকে কল সেন্টার কর্মী, এমনকী থিয়েটার শিল্পীও— নানা পেশার ভিড় জমেছে এখন পর্ন ছবির দুনিয়ায়।
বয়স যত কম, নির্মাতাদের কাছে তাঁর চাহিদা তত বেশি।
দেখতে সুন্দর হওয়ার পাশাপাশি আবেদনের উন্নত মাত্রাবোধও এ ক্ষেত্রে বিচার্য। কাজ পাওয়ার জন্য এগুলি অগ্রাধিকার পায়।
শুধু কাজ পাওয়া নয়, পারিশ্রমিকও সেই হিসেব করেই হয়। বয়স কিন্তু তাদের ১৮ থেকে ৩০এর মধ্যেই।
নীল ছবির শুটিং-এ গ্রেপ্তার হওয়া এক তরুণী পুলিশের কাছে জানিয়েছেন, তিনি পেশায় থিয়েটার কর্মী।
মফস্বলের একটি নাট্যদলে অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি সিনেমাতেও কাজ করতে চেয়েছিলেন।
খোঁজখবর করতে করতে যোগাযোগ হয় এক জনের সঙ্গে। তিনিই সিনেমার নাম করে পর্ন ছবিতে নামান ওই তরুণীকে।
টাকাপয়সা মন্দ নয়। প্রতি দিনের হিসেবে কাজ করলে প্রায় হাজার আড়াই টাকা পারিশ্রমিক মেলে।
আর ঘণ্টাকয়েকের কাজ শেষে ফিরে যাওয়া যায় থিয়েটারের আশ্রয়ে।