- ওরাল ইনসুলিন (Oral Insulin): গবেষকরা ইনসুলিন পিল বা ট্যাবলেট তৈরির চেষ্টা করছেন, যা ইনজেকশনের বিকল্প হতে পারে। ইসরায়েলি ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি ওরামড (Oramed) এই ধরনের ক্লিনিকাল ট্রায়াল পরিচালনা করেছে [1]।
- ইনসুলিন পাম্প (Insulin Pumps): অনেকে ইনজেকশনের পরিবর্তে ইনসুলিন পাম্প ব্যবহার করেন, যা ত্বকের নিচে একটি ছোট টিউবের মাধ্যমে সারাদিন ধরে অল্প অল্প করে ইনসুলিন সরবরাহ করে।
- গ্লুকোজ-সেনসিং প্যাচ (Glucose-Sensing Patches): কিছু পরিধানযোগ্য ডিভাইস বা প্যাচ তৈরি হচ্ছে যা রক্তে শর্করার মাত্রা নিরীক্ষণ করে এবং প্রয়োজনে ইনসুলিন সরবরাহ করতে পারে, যদিও এগুলো এখনও ব্যাপকভাবে প্রচলিত নয় [1]।
প্রাপ্ত বয়স্ক নারী-পুরুষের বিয়ের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে যারা বিবাহহীন, তাদের বিয়ে সম্পাদন করে দাও এবং তোমাদের দাস ও দাসীদের মধ্যে যারা সৎকর্মপরায়ন, তাদেরও। তারা যদি নিঃস্ব হয়, তবে আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদের সচ্ছল করে দেবেন। আল্লাহ প্রাচুর্যময়, সর্বজ্ঞ। যারা বিয়েতে সামর্থ্য নয়, তারা যেন সংযম অবলম্বন করে— যে পর্যন্ত না আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদের অভাবমুক্ত করে দেন। (সুরা নুর, আয়াত : ৩২-৩৩)
রাসুল (সা.) আরও বলেন, ‘যখন বান্দা বিয়ে করে, তখন সে তার দ্বীনের অর্ধেক পূরণ করে। অতএব, বাকি অর্ধেকাংশে সে যেন আল্লাহকে ভয় করে।’ (সহিহ আল-জামিউস সাগির ওয়া জিয়াদাতুহু, হাদিস : ৬১৪৮; তাবরানি, হাদিস : ৯৭২; মুসতাদরাক হাকিম, হাদিস : ২৭২৮)
পবিত্র কোরআনে দাম্পত্য জীবনকে আল্লাহর অনুগ্রহ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (স.) বিদায় হজের ভাষণে ইরশাদ করেছেন,
أَلَا إِنَّ لَكُمْ عَلَى نِسَائِكُمْ حَقًّا , وَلِنِسَائِكُمْ عَلَيْكُمْ حَقًّا
‘জেনে রাখবে, নিশ্চয়ই তোমাদের নারীদের উপর তোমাদের অধিকার রয়েছে, আর তোমাদের উপরও তোমাদের নারীদের অধিকার রয়েছে।’ পুরুষদেরকে উদ্দেশ্য করে অন্য হাদিসে প্রিয়নবী (স.) বলেন, ‘সাবধান, তোমরা নারীদের কল্যাণকামী হও..’ ( তিরমিজি: ৩০৮৭)
স্ত্রীর প্রতি অবহেলায় আল্লাহর কাঠগড়ায় জবাবদিহিতা
সুতরাং মুমিন পুরুষদের উচিত দাম্পত্য জীবনের ব্যাপারে সতর্ক ও যত্নবান হওয়া। এতে কোনও ধরনের অসৌজন্যতা ও খেয়ানত যেন না হয় সে বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া। কারণ, স্ত্রীর হক ঠিকমতো আদায় না করলে বা অবহেলা করলে স্বামীকে আল্লাহর কাঠগড়ায় জবাবদিহিতার মুখোমুখি হতে হবে।
হাদিসে এসেছে, হজরত ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনো করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘জেনে রাখ! তোমাদের প্রত্যেকেই একজন দায়িত্বশীল এবং প্রত্যেকেই তার অধীনস্থদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে। একজন পুরুষ তার পরিবার (স্ত্রী-সন্তানদের) উপর দায়িত্বশীল। সে তাদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে।’ (মুসলিম, ৩০০৫)
এক হাদিসে হজরত মুয়াবিয়া ইবনে হায়দা (রা.) বলেন, ‘আমি জিজ্ঞাসা করলাম, হে আল্লাহর রাসুল, আমাদের প্রতি আমাদের স্ত্রীদের কী অধিকার আছে? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, তোমরা যখন খাবে তাদেরও খাওয়াবে, যখন খাবে তাদেরও খাওয়াবে, যখন তোমরা কাপড় পরবে তাদেরও পরতে দেবে। তাদের চেহারায় মারবে না, গালগন্দ করবে না। তাদের তোমাদের ঘরেই থাকতে দেবে, অন্য কোথাও না। ’ (সুনানে আবি দাউদ, হাদিস : ২১৪২)।
বিয়ের পর স্বামী-স্ত্রী সর্বদা কাছাকাছি থাকবে, এটাই স্বাভাবিক ধারা ও ইসলামী শরীয়তে এমনটাই কামনা করা হয়। তবে জীবিকার প্রয়োজন ও বিভিন্ন কারণে যদি (যেমন, জেহাদে যাওয়া কিংবা জীবিকা অর্জনের জন্য প্রবাসে যাওয়া) স্বামী দূরে কোথাও যায় তাহলে চার মাসের মধ্যে একবার হলেও স্ত্রীর কাছে ফিরে আসতে হবে।
এমন মতামই দিয়ে থাকেন ইসলামী আইন ও ফেকাহশাস্ত্রবিদরা। কারণ নারীরা সাধারণত তাদের স্বামী থেকে চার মাস দূরে থাকতে পারে।