Author: News Live

  • ৯ জেলায় খুলল আ.লীগ কার্যালয়

    ৯ জেলায় খুলল আ.লীগ কার্যালয়

    দীর্ঘ ১৮ মাস পর কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনার ছবি টাঙানোর ঘটনা ঘটেছে দেশের প্রায় ৯ জেলায়। নোয়াখালী, বরগুনা, কুড়িগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ, শরীয়তপুর, হবিগঞ্জ, রাজবাড়ী চট্টগ্রাম এবং দিনাজপুরের পার্বতীপুরে উপস্থিতি জানান দিয়েছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ।

    গতকাল বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) এসব জেলায় দলটির পরিত্যক্ত কার্যালয়ের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে, জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনার ছবি টানানোর ঘটনা ঘটে।

    গত সোমবার চার জেলা এবং গত রোববার ছয় জেলায় নেতাকর্মীরা উপস্থিতি জানান দেন। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের সময় এসব কার্যালয় ভাঙচুর ও বন্ধ করে দেওয়া হয়।

    কোথাও কোথাও ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশও করা হয়। তবে কর্মসূচি পালনের পরপরই পুলিশ কয়েকজনকে আটক করেছে। হবিগঞ্জে কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।

    নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের তালা ভেঙে প্রধান ফটকে ব্যানার ঝুলিয়েছেন ছাত্রলীগ-যুবলীগ নেতাকর্মীরা। কিছুক্ষণ পর ব্যানারটি সরিয়ে নেওয়া হয়। গতকাল সকাল ৮টার দিকে মাইজদীর টাউন হল মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। জড়িত অভিযোগে পাঁচজনকে আটক করেছে পুলিশ। সুধারাম থানার ওসি মো. তৌহিদুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

    বরগুনা জেলা কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনার ছবি টানানো হয়েছে। গত বুধবার সকালে শহরের শেরেবাংলা সড়কে অবস্থিত আওয়ামী লীগের জেলা কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলিত অবস্থায় দেখা যায়। বরগুনা সদর থানার ওসি মোহাম্মদ আবদুল আলীম বলেন, জড়িতদের শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে।

    কুড়িগ্রামে ১৮ মাস পর জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও ব্যানার টানানো হয়েছে। গতকাল সকালে জেলা শহরের শাপলা চত্বরসংলগ্ন আওয়ামী লীগের পরিত্যক্ত কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. মাসুদ রানা বলেন, ‘ঘটনা জানার পর পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে।’

    নারায়ণগঞ্জ নগরীর দুই নম্বর রেলগেটে জেলা ও মহানগর কার্যালয়ের সামনে গতকাল দুপুর ২টায় দলীয় স্লোগান দিয়েছেন পাঁচ কর্মী। ঘটনার ভিডিও ধারণ করেছেন স্থানীয় সাংবাদিকরা। ভিডিওতে দেখা যায়, আওয়ামী লীগ কর্মীরা মহানগর দলীয় কার্যালয়ে ব্যানার টানাচ্ছেন। তারা স্লোগান দেন। এই দলটির নেতৃত্ব দেন মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক মানব ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সৈয়দ সাদিম আহমেদ।

    শরীয়তপুরে স্লোগান দিয়ে জেলা কার্যালয় খুলেছেন নেতাকর্মীরা। এ সময় শরীয়তপুর পালং বাজারে কার্যালয়ের ভেতরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও দলীয় প্রধান শেখ হাসিনার ছবি টানানো হয়। গত বুধবার ভোরে কার্যালয়টি খুলে দেওয়া হয় বলে স্থানীয়রা জানান। এ ঘটনার প্রায় এক মিনিটের একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। জানতে চাইলে পালং মডেল থানার ওসি শাহ আলম বলেন, ‘বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখব।’

    হবিগঞ্জ জেলা কার্যালয় খোলার কয়েক ঘণ্টা পর আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল সকালে শহরের টাউন হল এলাকায় জেলা কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে দুপুরে হঠাৎ করে ভবনের ভেতরে আগুন জ্বলতে দেখা যায়। স্থানীয়রা ধোঁয়া দেখতে পেয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। এ বিষয়ে ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ জানান, আগুন লাগার বিষয়টি তাদের জানা নেই।

    রাজবাড়ী জেলা কার্যালয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি টানানো হয়েছে এবং ব্যানার ঝুলতে দেখা গেছে। ব্যানারে জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ সোহেল রানা টিপুর ছবি সংযুক্ত রয়েছে। রাজবাড়ীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তাপস কুমার পাল বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

    দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে দলীয় ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেছে আওয়ামী লীগ। বেলা ১১টার দিকে উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে আসা অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী কার্যালয়ে সমবেত হন। খবর পেয়ে পুলিশ অভিযান চালিয়ে পাঁচ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করে। পার্বতীপুর মডেল থানার ওসি এম এ ফারুক বলেন, ওই পাঁচজনকে এর আগের একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

    এ ছাড়া চট্টগ্রাম মহানগর কার্যালয়ে পরিচিতি ফলক লাগানো হয়েছে। নগরের নিউমার্কেট এলাকার দারুল ফজল মার্কেটে এ ঘটনা ঘটে। গতকাল নতুন ফলক লাগানোর দুটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। কোতোয়ালি থানার ওসি মো. আফতাব উদ্দিন বলেন, পুলিশ গিয়ে কাউকে পায়নি।

  • উপনির্বাচনে বিএনপির প্রার্থিতার আলোচনায় যারা

    উপনির্বাচনে বিএনপির প্রার্থিতার আলোচনায় যারা

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারেক রহমান বগুড়া-৬ ও ঢাকা-১৭—দুই আসনেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে নির্বাচিত হন। আইন অনুযায়ী একাধিক আসনে জয়ী হলে একটি আসন রাখার সুযোগ থাকায় তিনি বগুড়া-৬ (সদর) ছেড়ে দিয়ে ঢাকা-১৭ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন।

    নির্বাচন কমিশন বগুড়া-৬ আসনটি শূন্য ঘোষণা করার পর থেকেই উপনির্বাচন ঘিরে বগুড়া শহরজুড়ে আলোচনা তুঙ্গে। দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের বড় অংশ চান, জিয়া পরিবারের কেউ—ডা. জোবাইদা রহমান, শর্মিলা রহমান সিঁথি কিংবা জাইমা রহমান—এই আসনে প্রার্থী হোন।

    জিয়া পরিবারের বাইরে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন বিএনপির মিডিয়া সেলের সভাপতি ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা, সাবেক সভাপতি অ্যাড. এ কে এম মাহবুবুর রহমান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন চাঁন, আলী আজগর তালুকদার হেনা এবং সাবেক সংসদ সদস্য হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু।

    দলীয় সূত্রের দাবি, সদ্য সমাপ্ত জাতীয় নির্বাচনে বগুড়া-৬ আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী উল্লেখযোগ্য ভোট পাওয়ায় জিয়া পরিবারের বাইরে কাউকে মনোনয়ন দিলে জয় কঠিন হতে পারে। এ কারণে তৃণমূল নেতাকর্মীদের বড় অংশই চান, জিয়া পরিবারের একজনকে প্রার্থী করা হোক।

    বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) বগুড়া জেলা শাখার সভাপতি ডা. আফসারুল হাবীব বলেন, আসনটি ধরে রাখতে জিয়া পরিবারের সদস্যই সবচেয়ে উপযুক্ত।

    তবে তা সম্ভব না হলে, দলের দুর্দিনে তথ্য ও যোগাযোগ সহায়তা দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা বিএনপির মিডিয়া সেলের সভাপতি ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেলকে মনোনয়ন দেওয়া যেতে পারে বলে মত দেন তিনি। তার মতে, সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে তাকে বিপুল ভোটে জয়ী করা সম্ভব।

  • মন্ত্রী হিসেবে ডাক পেলেন যারা

    মন্ত্রী হিসেবে ডাক পেলেন যারা

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথগ্রহণের মধ্য দিয়ে দেশের নতুন সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আজ মঙ্গলবার বিকেলে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন। একই অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদেরও শপথ পড়াবেন।

    দলের দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, নতুন মন্ত্রিসভার আকার ৩৫ থেকে ৪০ জনের মধ্যে হতে পারে, যেখানে ২৬–২৭ জন পূর্ণমন্ত্রী এবং ১০–১২ জন প্রতিমন্ত্রী হতে পারেন। শেষ মুহূর্তে আরও একজন বা দুজনের যোগ হতে পারে।

    মন্ত্রিসভা গঠনে দলের শীর্ষ ও অভিজ্ঞ নেতাদের নাম রয়েছে বলে জানা গেছে, তারা হলেন- মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, সালাহউদ্দিন আহমদ, মির্জা আব্বাস, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, নজরুল ইসলাম খান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহ্মদ।

    দলের সূত্র জানায়, অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের মধ্যে ফজলুর রহমান, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, আবদুল আউয়াল মিন্টু, এহসানুল হক মিলন, নিতাই রায় চৌধুরী, আফরোজা খান রিতা, জহির উদ্দিন স্বপন, রুহুল কবীর রিজভী আহমেদ, শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, ইসমাঈল জবিউল্লাহ আছেন।

    এছাড়া টেকনোক্র্যাটদের মধ্যে ড. হুমায়ুন কবির, ড. মাহদী আমিন, ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার, এবং স্থানীয় ও গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের মধ্যে মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান, রকিবুল ইসলাম বকুল, ফরিদুল কবির তালুকদার, দিপেন দেওয়ান, শামা ওবায়েদ, ফারজানা রহমান পুতুল, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, আলী আজগর লবী, মজিবুর রহমান (গাজীপুর), মীর শাহে আলম (বগুড়া), আরিফুল হক চৌধুরী, খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, ওয়ারেস আলী মামুন (ময়মনসিংহ), ড. রেজা কিবরিয়া, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত রয়েছেন।

  • সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে টানা ৫ দিনের ছুটি

    সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে টানা ৫ দিনের ছুটি

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে টানা পাঁচ দিনের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ১১ থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শ্রেণিকক্ষের কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।

    শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, নির্বাচন উপলক্ষে সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটি এবং সাপ্তাহিক ও ধর্মীয় ছুটি মিলিয়ে এই পাঁচ দিনের ছুটি নিশ্চিত হয়েছে। এর মধ্যে ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এরপর ১৩ ও ১৪ ফেব্রুয়ারি যথাক্রমে শুক্রবার ও শনিবার হওয়ায় সাপ্তাহিক ছুটি পড়ছে। পাশাপাশি ১৫ ফেব্রুয়ারি শ্রী শ্রী শিবরাত্রি ব্রত উপলক্ষে ধর্মীয় ছুটি থাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে টানা পাঁচ দিনের ছুটি কার্যকর হবে।

    এটি চলতি বছরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর প্রথম বড় ছুটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বার্ষিক ছুটির তালিকা অনুযায়ী, এটি হবে চলতি বছরের পঞ্চম ছুটি।

    অন্যদিকে, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ১১ ফেব্রুয়ারি সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি নির্বাচনের আগের দিন অর্থাৎ ১০ ফেব্রুয়ারি শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকদের জন্যও সাধারণ ছুটি থাকবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

    শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই ছুটি একদিকে নির্বাচন প্রক্রিয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেওয়া হয়েছে, অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্রাম ও পাঠ প্রস্তুতির সুযোগ তৈরি করবে।